মেঘনার চর ভ্রমণ (পর্ব -৩) || আমার বাংলা ব্লগ।
হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি আপনারা সবাই ভালো আছেন। আলহামদুলিল্লাহ আমিও আল্লাহর রহমতে ভালো আছি।সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে আমার পোস্ট শুরু করছি। আজকে আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করব মেঘনা নদীর চর ভ্রমণের কিছু প্রাকৃতিক দৃশ্য সমূহ এবং এখানকার মানুষের জীবনযাপন সম্পর্কে। আশা করি আপনাদের কাছে অনেক ভালো লাগবে।
বাংলাদেশের নদীর তীরে তীরে মানুষের বসতি, কৃষি, গ্রাম, নগর, বন্দর, সম্পদ, শিল্প-সাহিত্য সব কিছুর বিকাশ নদীর তীরে। বাংলাদেশের প্রধান নদী ধারা গুলোর একটি বিশেষত্ব হলো সব গুলো ধারাই হচ্ছে হিমালয় থেকে। অর্থাৎ আমরা জানি যে আমাদের সব নদীর উৎস হচ্ছে হিমালয় পর্বতমালায়। এই সব কারনের ফলে ঐ অঞ্চলের প্রকৃতিতে যেকোনো পরিবর্তনের প্রতিক্রিয়া প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে প্রভাব ফেলে আমাদের নদী গগুলোতে পুরো বাংলাদেশে। বাংলাদেশের যতগুলো বড় নদী রয়েছে এর মধ্যে মেঘনা একটি। যদিও বাংলাদেশের নদ-নদীর সংখ্যা অগনিত। কিন্তু কোনটাই বিচ্ছিন্ন নয়। একে অন্যের সাথে প্রাকৃতিক নিয়মে সুশৃঙ্খল ভাবে সংযোজিত।
যাইহোক, উপরের ছবিটিতে যে দৃশ্যগুলো দেখা যাচ্ছে, এটি একটি চরের ভিতরের দৃশ্য মেঘনা নদীর পাশেই অবস্থিত এবং এখানে রয়েছে অনেক বড় ফসলের মাঠ। এখানে দুই জন কৃষক মাঠ থেকে ফসল কেটে তারা মাথায় করে নিয়ে যাচ্ছে আটি বেঁধে।
এখানে উপরের দুটি ছবিগুলো যে দৃশ্য দেখা যাচ্ছে এটি চরের ভিতরে একটি দ্বীপের দৃশ্য। একটি ছোট ঘরের ভিতরে রয়েছে একটি পানি সেচের মোটর। এ পানির মোটর দিয়ে ফসলের যত জমিন রয়েছে এখানে, সব গুলো ফসলের জমিনের মধ্যে পানি সেচের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। যদিও মাঝে মাঝে যখন নদীর পানি বৃদ্ধি পায় তখন জোয়ারের সাথে কিছু পানি এসে ফসলের জমিতে ফসলের জমিনগুলোতে পানি সেচের ব্যাবস্থা হয়। একজন কৃষককে দেখা যাচ্ছে সে ফসলে জমিতে বসে ফসলের ভিতরে কিছু ঘাস কেটেছে গবাদি পশু জন্য। এই কৃষক প্রতিদিন ফসলের জমিগুলোতে ফসল গুলো দেখাশোনা করে এবং ফসলের বিভিন্ন সমস্যা থাকলে সমাধান করার জন্য ফসলের জমির পাশাপাশি থাকে।
উপরে যে দুটি ছবি দেখা যাচ্ছে এগুলো চরের ভিতর একটি দৃশ্য। এখানে একটি চরের মাঝখানে ছোট ঘর রয়েছে। এ ঘরের ভিতর কিছু কৃষক বসবাস করে। তারা চরের ভিতরে বিভিন্ন ফসল রয়েছে এগুলো দেখাশোনা করে। যেহেতু চর আঞ্চলের চোরের সংখ্যা অনেক বেশি। মাঝেমধ্যে কৃষকের ফসলের জমি থেকে ফসলগুলো চুরি করে কেটে নিয়ে যায়। পাশে আরেকটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে কয়েকজন কৃষক বসে বসে খাবার খাচ্ছিল। তারা অনেকক্ষণ সময় ধরে ফসলের মাঠে কাজ করতেছিল।এই কৃষক গুলোর সাথে আমরা ফসলের জমিন সম্পর্কে এবং চরের বিভিন্ন অবস্থা সম্পর্কে অনেক বিষয় আলোচনা করেছিলাম। তারা প্রতিদিন এ ফসলের জমিগুলোতে কাজ করে এবং বাড়ি থেকে আসার সময় খাবার নিয়ে আসে।
এখানে যে দৃশ্যটি দেখা যাচ্ছে ফসলের জমির পাশে রয়েছে নদী। নদীর ভিতরে রয়েছে অনেক নৌকা। কৃষকরা ফসল গুলো কেটে নদীতে থাকা নৌকাগুলো বোঝাই করতেছে।আমরা যখন চরের ভিতর প্রবেশ করেছিলাম এবং নদীর কাছাকাছি গিয়েছিলাম তখন ঐ মুহূর্তে ছবিগুলো তুলেছিলাম।আমরা এই কৃষক গুলোর সাথে ফসল সম্পর্কে আলোচনা করেছিলাম। এই ফসলগুলোর নাম কি ছিল? তা আমার জানা নেই।
উপরের দুটি ছবিতে যে দৃশ্যগুলো দেখা যাচ্ছে এটি চরের ভিতরের দৃশ্য। আমরা যখন এ জমিনগুলোর ভিতরে প্রবেশ করেছিলাম। আমরা লক্ষ্য করেছিলাম এ জমিনের পাশে রয়েছে একটি বাড়ি এবং বাড়ির পাশে রয়েছে একটি ঘোড়া।ঘোড়াটি এখানে ঘাস খাচ্ছিল। যদিও এ জমিনগুলোতে কোন ফসল ছিল না।পুরো জমিন নিয়ে ঘাসে ভরা। এরপর ধীরে ধীরে যখন আমরা আরো সামনে দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলাম। আমরা লক্ষ্য করেছিলাম এখানে রয়েছে অনেকগুলো ফসলের জমিন। যে জমিন গুলোতে এখনোও কনো ফসল ফলানো হয়নি। জমিনগুলোতে ফসল ফলানোর জন্য কৃষকরা মাঠে কাজ করতেছিল।
এটিও ছিল চরের ভেতরের একটি দৃশ্য। এখানে একজন কৃষক তার অনেকগুলো ছাগল ছিল। ছাগলগুলোকে জমিনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এখানে কিন্তু কোন ফসল নেই। ফসলগুলো ইতিমধ্যে কেটে ফেলা হয়েছে। আমি আগে বলেছিলাম চরের ভিতরে প্রত্যেকটি ফসলের জমিতে বিভিন্ন রকমের ফসল জন্মে। কোন কোন জায়গায় আমরা লক্ষ্য করেছি ফসলের জন্য কাজ করতেছিল কৃষকেরা। কিছু জায়গায় ফসল কেটে ফেলা হয়েছে। আবার কোন জায়গায় এখনোও ফসলের জন্য জমি প্রস্তুত করা হচ্ছে। যাইহোক, আজকের জন্য এখানে সমাপ্ত। পরবর্তী আবার অন্য কোন বিষয় নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হব। সে পর্যন্ত ভালো থাকবেন। সুস্থ থাকবেন, আল্লাহ হাফেজ।
ফোনের বিবরণ!
| ক্যামেরা | VIVO Y81i |
| ক্যমেরা মডেল | vivo 1812 |
| ক্যাপচার | @hanif3206 |
| অবস্থান | মেঘনার চর,সদর উপজেলা, নোয়াখালী |
share on x
https://x.com/HaniferMd/status/1813811022907711873?s=19
মেঘনার চর ভ্রমণের তৃতীয় পর্বটি পড়ে আমার অনেক ভালো লেগেছে। নদীর তীরে মানুষের বসতি কৃষি গ্রাম নগর বন্দর শিল্প সাহিত্য সবকিছুর সবকিছুর বিকাশ নদীর তীরে । নদীর তীরে বসতি মানুষের এবং নদীর তীরে চরের কিছু ফটোগ্রাফি আপনি আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন যা দেখে আমার কাছে অনেক ভালো লেগেছে বিশেষ করে নদীর চরের ভিতর একটা ঘোড়ার ফটোগ্রাফি দেখতে পেলাম যেটা আমার কাছে অনেক সুন্দর লেগেছে।