বড়দের সাথে ঘটে যাওয়া কিছু মুহূর্ত
আসসালামুআলাইকুম বন্ধুরা। আশা করি সবাই ভাল আছেন। আমিও আল্লাহর রহমতে অনেক ভালোবাসি। কালকে আমার সাথে ঘটে যাওয়া একটা কাহিনী আপনাদের সাথে শেয়ার করতে যাচ্ছি।
কালকের দিনটা সকাল থেকে মোটামুটি ভালো কাটছিল। সকাল বেলায় ঘুম থেকে উঠে ,ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করে , অনলাইনে ইসরাত জাহান ম্যাডামের ক্লাস ছিল দশটার সময় ইলেকট্রিক্যাল সার্কিট -২। ম্যাডামের ক্লাসে হাজির হলাম। খুব ভালোভাবেই মজার করে পড়ালেন ম্যাডাম। ম্যাডামের ক্লাস শেষ হতে না হতেই অন্য ক্লাস আরম্ভ হলো। অনলাইনে ক্লাস করতে করতে দুইটা বাজে গেল । হায়রে কি কপাল! ক্যাম্পাসে স্যার ম্যাডামদের সরাসরি খেলা সেই কিছু কিছু বোঝা যায় না। আবার অনলাইনে ক্লাসে কি বুঝবো। জীবনটা বেদনার। ক্লাসে হাজিরা না দিলেও স্যার ম্যাডামদের বিভিন্ন গালাগালি করে । তাই প্রতিদিন উপস্থিত থাকতে হয়।
যাইহোক , ক্লাস শেষে গোসল করে দুপুরে খাওয়া-দাওয়া করে একটু বাইরে বের হলাম। বাইরের আবহাওয়া নেওয়ার জন্য ।ঘরে বসে বিরক্ত হয়ে গেছি। কিছুক্ষণ পর সাগর ফোন দিয়ে বলল চল একটু পার্বতীপুর থেকে ঘুরে আসি। আমাকেও বাসায় আর ভালো লাগতেছে না, ভাবলাম ভালোই হলো। সাগরকে বললাম চল ঘুরে আসি।
ভাবলাম একটু ঘুরতে যাচ্ছি একাই যাবো ,অন্য বন্ধুদের কেও ফোন দিলাম । তা ওরা নাকি সবাই কাজে ব্যস্ত। তাই ওরা আজকে যাইতে পারবে না। আমাকে বলল তোর আজকে যা। তারপর সাগর আর আমি রেডি হলাম যাওয়ার জন্য। তৎক্ষণাৎ সাগরের বড় ভাই সংগ্রাম মামা আমাদের সাথে যাওয়ার জন্য আত্মপ্রকাশ করলো। ভাবলাম ভালোই হলো , একজন বড় পারসন বা গার্জিয়ান পাশে পাওয়া গেল।
অবশেষে পার্বতীপুরে উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। একটু ঘোরাঘুরি করলাম। ঘুরাঘুরি করতে করতে পেটে খিদা লেগে গেল। তাই সাগরকে বললাম চল খাওয়া-দাওয়া করতে হবে । তারপর সংগ্রাম মামাকে বললাম, মামা কি খাবেন বলেন, মামা নাকি গ্রিরিল খাবে । অবশেষে আমাদের পার্বতীপুরের শাহ হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট এ গ্রিল খাওয়ার জন্য গেলাম ।
হোটেলেই ঢুকেই দেখি ইসরাত জাহান ম্যাডাম বসে আছেন। ম্যাডাম দেখে ,আমাকে ডাক দিল। আমি ম্যাডাম কে সালাম দিলাম। ভালো-মন্দ কথা হলো। ম্যাডাম আর ম্যাডামের স্বামীকে নিয়ে এসেছেন। তাদের সাথে আমাদের বসতে বলল। কি আর করার, অবশেষে ম্যাডামের সাথে বসলাম।
ম্যাডাম আমাকে বলল কি খাবি। ম্যাডামকে বললাম ,আপনার ইচ্ছা। ম্যাডাম বলল আমরা তো গ্রিল খেতে এসেছি । ভাবলাম মিলে গেলো ।
ম্যাডাম আমাকে স্টুডেন্ট হিসেবে অনেক ভালোবাসেন। তাই ম্যাডামের সাথে দেখা হলে ,ম্যাডাম আমাকে বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন করেন। ম্যাডাম বলল অনলাইনে ক্লাস কেমন লাগতিছে ইব্রাহিম। আমি বললাম, ম্যাডাম ভালই লাগতেছে। ম্যাডাম বলল আমাকে কিন্তু ভালো লাগতেছে না অনলাইনে ক্লাস নিতে। ম্যাডামকে বললাম কেন ? ম্যাডাম ভালো না লাগার অনেক উদাহরণ দিলেন।
তারপর ম্যাডামের স্বামী বললো ইব্রাহিম আমি একটা প্রশ্ন করি।
আমি বললাম জ্বী স্যার বলেন। স্যার বলল, একটা মানুষের সবচেয়ে দামি দুটো অঙ্গের এর নাম বলো ?
আমি উত্তরে বললাম জিব্বা আর কলব।
আবার বলল, সবচেয়ে নিকৃষ্ট দুইটি অঙ্গের নাম বলো?
আমি আবারও উত্তরে বললাম জিব্বা আর কলব ।
স্যার বলল ,ও ইব্রাহিম কিছু বুঝলাম না। সবচেয়ে ভালো দুইটি অঙ্গের কথা জিজ্ঞাসা করলাম জিব্বা আর কলব বললা। আবার সবচেয়ে নিকৃষ্ট 2 টি অঙ্গের কথা বললাম তবুও জিব্বা আর কলব বললা । ঘটনাটা কি?
আমি বললাম স্যার, জিব্বা যদি ভাল হয় এর চেয়ে ভাল অঙ্গ আর হয় না। আবার জিব্বা যদি খারাপ হয় এর চেয়ে খারাপ অঙ্গ আর হয় না। কারণ, এই জিব্বা দিয়ে যদি সত্য কথা বলেন, এই জিব্বা দিয়ে যদি ভালো ভালো কথা বলেন। তাহলেই এই জীবনটাই হলো সেরা অঙ্গ।
আবার, এই জিব্বা দিয়ে যদি মিথ্যা কথা বলেন, মানুষের গীবত করেন, চোগলখুরী করেন, ওয়াদার খেলাপ করেন, তাহলে এই জিব্বাহ চেয়ে খারাপ কোন অঙ্গ হতে পারে না।
এবার কলবের কথায় আসা যাক,
এই কলব যদি ভাল হয় এর চেয়ে ভাল অঙ্গ আর হয় না। এই কলব যদি খারাপ হয় এর চেয়ে খারাপ অঙ্গ আর হয় না।
যেমন , এই কলব দিয়ে যদি রবের জিকির করেন ।সবার প্রতি ভালোবাসা পুষে রাখেন। কারো প্রতি ঘৃন্না না থাকে, তাহলেই কলবের চেয়ে দামি কোন অঙ্গ হতে পারে না। আবার এই কলবে যদি খারাপ চিন্তা ভাবনা জমা রাখেন, কারো প্রতি ঘৃণা পুষে রাখেন, তাহলে এই কলবের চেয়ে খারাপ কোন অঙ্গ হতে পারে না।
স্যার শুনে অবাক লাগলো। আমাকে বলল ইব্রাহিম, এই উত্তর কেমন করে তোমার মাথায় আসলো। আসলেই তুমি ঠিক কথাই বলেছো। এটাই হবে আসল উত্তর।
তো বন্ধুরা সবাই সত্য পথে চলি। মিথ্যা কথা থেকে দূরে থাকি। কারণ , মিথ্যা কথার কোন ভ্যালু নেই, আর সত্য কখনো চাপা থাকেনা । আর অন্তরে কারো জন্য ঘৃনা পুষে রাখবেন না। সবাইকে ভালোবাসবেন। মানুষ কোন কিছু ভুল করতে পারে। তাকে মাফ করে দেওয়া উচিত।
আমি মোঃ ইব্রাহিম ইসলাম নাহিদ। আমাকে সবাই নাহিদ বলেই ডাকে। আমি বাংলাদেশী । আমি একজন ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। বই পড়তে , লিখতে ও নতুন কিছু সৃষ্টি করতে ভালোবাসি।নিজের মত প্রকাশের এবং অন্যের মতামতকে মূল্যায়নের চেষ্টা করি।
মুহূর্তগুলো অনেক সুন্দর ছিল
ধন্যবাদ আপনাকে ভাইয়া।
ধন্যবাদ তোমার সুন্দর মূহুর্ত আমাদের সঙ্গে শেয়ার করার জন্য। শুভেচ্ছা রইল তোমার জন্য।
ধন্যবাদ ভাইয়া!