ভুট্টা বাগানে হামলা দেওয়ার গল্প 😁
হ্যালো আমার বাংলা ব্লগ পরিবার। আপনারা সবাই কেমন আছেন? পোস্টের টাইটেল দেখেই বুঝতে পারছেন ভুট্টা বাগানে আজ কি করা হয়েছে, হাহাহা। আজ আমার এক আন্টির বাসায় দাওয়াত ছিল সেখানেই দুপুরবেলা এসেছিলাম এবং আসার পর থেকেই বিভিন্ন ধরনের বিনোদনের সাক্ষী হচ্ছি, তেমনি কিছু বিনোদনের ঘটনা আপনাদের সাথে শেয়ার করব।
আমার মা-রা পাঁচ ভাই-বোন এবং ঈদের সময়ে এক এক করে দাওয়াত দেয় এবং সবার বাসা গুলো পাশে থাকায় কারণে খুব সহজে সেখানে গিয়ে আমরা দাওয়াত খেয়ে আসি। দাওয়াত খেতে গেলে সারাদিন সেখানে ইনজয় করে এছাড়াও আমাদের পরিবারের লোক সংখ্যা অনেক বেশি। যার কারণে কোথাও গেলে অনেক গল্পগুজব হয় এছাড়াও অনেক ধরনের মজ মাস্তি হয়।
যাই হোক, আজ যথা সময় আন্টির বাসায় দাওয়াত খেতে চলে আসলাম। দাওয়াত খাওয়ার পরে সবাই মিলে আলোচনা করছিলাম এবং আমাদের আন্টির বাসায় শহর থেকে একটু ভিতরে এবং আন্টির বাসার পাশেই প্রচুর ধরনের শস্য ক্ষেত্র রয়েছে। বিভিন্ন সময় সেখানে ধান ভুট্টা গম আরো অন্যান্য শস্য উৎপাদন করা হয়। ১১ জনের আমাদের একটি গ্যাং রয়েছে। যদিও সেই সংখ্যাটা এখন একটু কম কারন অনেকেই এখন বাসায় নেই। ঈদের ছুটি শেষে তারা আবার তাদের জায়গায় চলে গিয়েছে। যাইহোক আজ আমরা মোট সাতজন ছিলাম এবং বিকেল বেলা হাঁটতে বের হয়েছিলাম, তখনই আমার চোখ পরল ভুট্টা বাগানে।
তখন আমার সাথে ছিল ৫ বছরের একটি মামাতো ভাই এছাড়াও মামাতো খালাতো বোন ছিল, আমার ছোট ভাই ছিল। তো একসময় আমার মাথায় একটু বুদ্ধি নাড়া দিয়ে উঠল। কেন যেন ভুট্টা দেখে খেতে ইচ্ছে করছিল তবে এটা মানুষের ভুট্টা। তো কোন কিছুই বুঝে উঠতে পারছিলাম না। আশে পাশে কেউ ছিল না যাকে বলে ভুট্টাগুলো ছিড়ে নেব। তারপরে অনেকক্ষণ ঘোরাঘুরি করার পরে সেখানে কিছু ছবি তুললাম ছবি তোলার পরে পিচ্চিকে বললাম যে, তুই দুইটা আস্তে ২ টি ভুট্টা ছিরে নিয়েয়ে আয়। কেউ যদি দেখে পরে তোরে একটু বকা দিয়ে আবার ভুট্টাগুলো নিয়ে আসবো, হাহাহাহ।তখন আমরা ভেঁজে খাবো। এটাই হচ্ছে পরিকল্পনা কিন্তু পিচ্চি অনেক চালাক, সে একা যাবে না।
আমরা সবাই মিলে গল্প করছিলাম তখনই আম্মু চলে আসলো এবং বলল যে, কী খবর কী করতেছ! এখনে পরবর্তীতে জানতে পারলাম আম্মুর অনেক পরিচিত মানুষের এই এই ভুট্টা বাগানের মালিক। সংকোচ না করে একটা ভুট্টা ছিরে আমার পায়জামার পকেট এ রেখে দিলাম আস্তে করে। পরবর্তীতে আসার সময় দেখি আমার একটি খালাত বোন সেও একটি ভুট্টা চুরি করে চুপ করে নিয়ে এসে বাসায় ঢুকে পরল। হাহাহা।।
পরবর্তীতে কি আর সেই ভুট্টা গুলো ভেজে খাওয়া শুরু করলাম সবাই মিলে। আসলে এই বিষয়গুলো অনেক আনন্দ দেয়। আগে অনেক আম চুরি করতাম, ঝড় হলেই আম কুড়াতে বেরিয়ে পরতাম। কিন্তু আসলে যত বড় হচ্ছি ততই দিন গুলো কেমন যেন পানসে হয়ে যাচ্ছে। সব কিছুতেই কেন যেন একটা অনীহা কাজ করে। আনন্দ যেন কোথাও পাওয়া যায় না। তবে আজকের মুহূর্তগুলো অনেক ইনজয় করেছি। যদিও পরবর্তীতে যার ভুট্টা বাগান তাকে বলা হয়েছে।
এত বড় হয়েও ভুট্টা বাগানে আজ হামলা দিলাম ভাবতেই কেমন লাগছে, হাহাহা। তারপরও অনেক ইনজয় করেছি। আশা করছি আপনারা অনেক ইনজয় করেছেন। যাইহোক আজ আর বেশি কিছু লিখছি না। আজকের মত এখানেই শেষ করছি। সবাই ভাল থাকুন সুস্থ থাকুন ধন্যবাদ সবাইকে।
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
আমি আল সারজিল ইসলাম সিয়াম। আমি বাঙালি হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করি। আমি বর্তমানে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিএসসি-র ছাত্র। আমি স্বতন্ত্র স্বাধীনতা সমর্থন করি। আমি বই পড়তে এবং কবিতা লিখতে পছন্দ করি। আমি নিজের মতামত প্রকাশ করার এবং অন্যের মতামত মূল্যায়ন করার চেষ্টা করি। আমি অনেক ভ্রমণ পছন্দ করি। আমি আমার অতিরিক্ত সময় ভ্রমণ করি এবং নতুন মানুষের সাথে পরিচিত হতে ভালোবাসি। নতুন মানুষের সংস্কৃতি এবং তাদের জীবন চলার যে ধরন সেটি পর্যবেক্ষণ করতে ভালোবাসি। আমি সব সময় নতুন কিছু জানার চেষ্টা করে যখনই কোনো কিছু নতুন কিছু দেখতে পাই সেটার উপরে আকর্ষণটি আমার বেশি থাকে।
বিষয়: ভুট্টা বাগানে হামলা দেওয়ার গল্প
কমিউনিটি : আমার বাংলা ব্লগ
আন্তরিক ভাবে ধন্যবাদ জানাই এই কমিউনিটির সকল সদস্য কে, ধন্যবাদ.......
সব মিলিয়ে দারুণ একটা সময় পার করলাম আজ।সবাই বেশ মজা করেছে বিশেষ করে শিপু অনেক বেশি মজা করেছে।তবে ভুট্টা খেতে খুব মজার ছিল।যাইহোক ভুট্টা বাগানের মালিক কে আমি বলে দিয়েছিলাম।এবং তিনি আরও নিতে বলেছিল।খুব চমৎকার করে ভুট্টা ক্ষেতে হামলার বিবরণ দিয়েছো।♥♥
যাক খুব বেশি একটা ক্ষতি হয়নি দুই ভাই বোন দুটো নিয়ে নিয়েছেন এটা আর কি, তবে ভাইবোন মিলে যে একটা ইনজয় করেছেন ভালো একটা সময় কাটাইছেন এটাই অনেক, আর ভাই চুরি করা ভুট্টা টা খেতে কেমন ছিল হাহাহা? 😂😂
ভুট্টা দেখে তো খেতে ইচ্ছে করছে।ভুট্টা আমার খুব পছন্দ। ভুট্টা দেখলেই আমি একসাথে অনেক গুলো নিয়ে আসি।বিশেষ করে নিউ মার্কেটের সামনে থেকে।যাই হোক চুরি করে খাওয়া জিনিসের মজা অনেক বেশি, শুনেছি।আমি কখন ও এমন কিছু করিনি।খুব ভালো লাগলো আপনার হামলার অনুভূতি গুলো পড়ে। ধন্যবাদ ভাইয়া শেয়ার করার জন্য।
মাঝে মাঝে এরকম দুষ্টুমি করতেও ভালো লাগে। ভুট্টা বাগানে হামলা দিয়ে ভালোই করেছেন। আসলে এখন আমাদের জীবনের মজার স্মৃতিগুলো কেন জানি হারিয়ে যাচ্ছে। অন্যের গাছের ফল চুরি করে পেড়ে খাওয়া এখন আর হয়ে উঠে না। ভালো লাগলো ভাইয়া আপনার লেখাগুলো পড়ে।
কি ভাইয়া চুরি করেন নি তো ৷ তবে ছোট বেলায় অনেক কিছু খাওয়ার জিনিস চুরি করার সৃতি মনে পড়ে ৷ আসলে এখ এখন ভূট্টা এর সিজন ৷ প্রায় গ্রামের মানুষ ভূট্টা চাষ করে ৷ আর এর পোড়া খেতে দারুন লাগে ৷ ভালো লাগলো আপনাদের ভূট্টার পোড়া খাওযার অনুভুতি টা ৷
ভাইয়া, শেষ পর্যন্ত ভুট্টা চুরি করলেন?হা হা হা। আসলে ভাইয়া এ ধরনের হামলা করার মধ্যে বেশ আনন্দ আছে। তবে আজকাল পিচ্চিরা খুব চালাক হয়ে গেছে, সহজে বড়দের কথা শুনতে চায়না। যাহোক ভাইয়া, ছোটবেলায় আম চুরির অভিজ্ঞতা সকলেরই রয়েছে। আর আপনি আপনার সেই ছোটবেলার আম চুরির অভিজ্ঞতাটা আজ ভুট্টা ক্ষেতে খুব ভালোভাবেই কাজে লাগিয়েছেন। তবে ভাইয়া পুরানো ভুট্টা খেতে খুবই সুস্বাদু লাগে। আমার মনের মতো একটি পোস্ট শেয়ার করার জন্য প্রিয় ভাইয়া আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
ভাজা ভুট্টা টা দেখে তো আমার নিজেরই লোভ লাগছে। ভুট্টা বাগানটা কিন্তু বেশ সুন্দর। গাছে গাছে ভুট্টা গুলো ধরে রয়েছে। আর ফলনও বেশ ভালো হয়েছে মনে হচ্ছে। তবে যেহেতু আপনার আম্মুর পরিচিত এক লোকের ভুট্টা বাগান সেই হিসেবে আরো কয়েকটা নিলে মন্দ হতো না, তখন আমাদের জন্য পাঠিয়ে দিতে পারতেন,হাহাহা। যাই হোক যেহেতু আপনারা খালাতো মামাতো ভাই বোনরা সকলেই একসাথে হলে অনেক মজা হয় তবে ঈদের ছুটি শেষে সবাই চলে গিয়েছে। কিন্তু যারা রয়েছে তারা মিলেই তো বেশ আনন্দ করেছেন। তবে মাঝে মাঝে এরকম হামলা দেয়ার কাহিনী গুলো কিছুটা হলেও আনন্দদায়ক হয়।
এই ধরনের কাজগুলো সব সময় ভীষণ আনন্দ দেয় আমাদের সবাইকে। তবে ভাইয়া আমি এভাবে ভুট্টা পুড়িয়ে কখনো খাইনি। শুনেছি এরকম পোড়া ভুট্টাগুলা খেতে নাকি ভীষণ মজার হয় , সত্যিই কি তাই? আপনাদের গ্যাং টা কিন্তু বেশ বড়সড় ,, ১১ জন! কেউ সামনে দাড়াতে পারবে না একদম। হিহিহিহি।
ভুট্টা বাগানে হামলা দিয়ে তো খুব মজা করে ভুট্টা খেয়েছেন আপনারা। যেকোনো জিনিস এভাবে খেতে খুব ভালো লাগে। এই ছোট ছোট ব্যাপার গুলো সত্যিই খুব আনন্দদায়ক। আপনাদের গ্যাং তো বেশ ভালোই বড় তাহলে। একসাথে সবার ছবি দেখে বেশ ভালো লাগলো। যাইহোক এতো সুন্দর অনুভূতি আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।
ভাইয়া এ রকম আরও কত রকমের বাগানে হামলা দিয়েছেন সেটা জানতে চাই। ভাগ্যিস সাথী আপুর পরিচিত। তা না হলে খবর ছিল। যাই সবাই মিলে বেশ মজা করেই ভূট্রা আনলেন। আমাদের জন্য দুই একটা বেশী নিলে কি হতো।