"আমার বাংলা ব্লগ " রচনা প্রতিযোগিতা - ◆ নিজের প্রিয় গ্রাম◆
ভূমিকা :
বাস্তবে দিগন্ত ফসলের মাঠ গ্রামের মানুষের হাতছানি দিয়ে ডাকতে থাকে। গ্রামের মায়াময় ,ছায়াময়, সবুজের সমারোহ ঘেরা ফসলের মাঠ গ্রামকে এক স্বর্গীয় রূপময় করে তোলে।পাখির সুমধুর কিচিরমিচির ডাকে, সকালে মোরগ ডাকার শব্দে গ্রামের মানুষের ঘুম ভেঙ্গে যায়। এই পরম্পরা যেন অনাদি কাল থেকে গ্রামের জীবনযাত্রায় মধ্যে সরলতায় মুড়ে দেয়। সারাটা দিন ধরে কৃষকের জমি চাষ, সন্ধ্যায় ধূলি উড়িয়ে গরুর পাল নিয়ে রাখালেরা ঘরে ফেরে।এভাবেই গ্রামের মানুষের জীবন যাত্রা অবিরাম গতিতে চলতে থাকে।
নাম ও অবস্থান :
আমাদের গ্রামটি সবুজের সমারোহ বেষ্টিত বিরাট আকারের ফসলের মাঠ নিয়ে গ্রামটা মোড়ানো রয়েছে। আমার গ্রামকে আমি হৃদয় দিয়ে ভালোবাসি। আমার গ্রাম ভারতবর্ষের পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যের পূর্ব বর্ধমান জেলার মেমারি থানায় অবস্থিত। আমার গ্রামের নাম পালসিট, খাড়গ্রাম।
গ্রামের মানুষের পেশা:
গ্রামের অধিকাংশ মানুষ কৃষি কাজ করে থাকে। তাঁরা কৃষি কাজ করেই জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। আমাদের পূর্ব বর্ধমান জেলাটি কৃষির জন্য বিখ্যাত। ধান উৎপাদনে বর্ধমান সবচেয়ে এগিয়ে থাকার কারণে বর্ধমান কে ধানের গোলা বলা হয়। গ্রামের মানুষ কৃষি কাজ বলতে ধান আলু চাষ করে থাকে। এছাড়াও প্রচুর মানুষ গরু পোষে। গরুর দুধ বিক্রি করেও তারা জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। আমার গ্রামের মানুষের জীবন যাত্রা বড্ড বেশি সরলতায় মোড়ানো। গ্রামের মানুষ খুব সাধারণ জীবন যাপন করতে অভ্যস্ত। এভাবেই গ্রামের মানুষ তাদের দিন কাটিয়ে দিচ্ছে।
আয়তন ও মানুষজন:
আমাদের গ্রামটি খুব বেশি এলাকা নিয়ে নয়। গ্রামে 4 হাজারের বেশি মানুষ বসবাস করে থাকে।
প্রাকৃতিক দৃশ্য :
গ্রামের প্রকৃতি আলোচনা করতে গেলে স্বর্গীয় রূপের কথা না বলে পারা যায় না। তাঁর কারণ যখন পালসিট স্টেশন হয়ে 1 কিলোমিটার দূরে আমাদের গ্রামে যাবে তার আগে গ্রামের রাস্তায় দুই পাশে ফাঁকা সবুজের ফসলের বিরাট মাঠ। যা দেখে চোখ জুড়িয়ে যায়। বাড়ি ঘর খুব পাতলা হওয়ার প্রকৃতির রূপ রসের আভা বেশি পাওয়া যায়।বৃষ্টির সময়ই গ্রামের ফসলের মাঠে শোভা আরও বেড়ে যায়।
যোগাযোগ ব্যবস্থা :
আধুনিক যুগে মানুষের মুখে মুখে একটাই কথা যে গ্রামে বাস করা ভালো কিন্তু শহর মুখি গ্রামে বসবাস করা ভালো তার কারণ। গ্রামে যে সকল পরিষেবা পাওয়া যায় না সেটা যাতে খুব সহজে দ্রুতই পাওয়া যায় সেই জন্য শহরের কাছাকাছি গ্রামে বসবাস করা খুবই ভালো। এই দিক থেকে আমি খুব ভাগ্যবান ।তারকারণ আমার গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই উন্নত। আমার বাড়ির কাছাকছি দিয়ে বাস চলা রাস্তা। এ ছাড়া এক কিলোমিটার দূরে পালসিট স্টেশন। স্টেশনের একদম গায়ে রয়েছে পালসিট জাতীয় সড়ক। মাত্র আধ ঘন্টা গাড়িতে গেলেই বর্ধমান শহর। ট্রেন 15 মিনিট গেলেই বর্ধমান শহর। আবার পালসিট থেকে পূর্ব দিকে মেমারি শহর। আমার গ্রামের পাশেই শক্তিগড় এ বিখ্যাত ল্যাংচা পাওয়া সেই দামোদর নদী কাছ দিয়া ঘেরা শক্তিগড় খুব কাছেই অবস্থিত।
বিনোদনের উৎস:
শহরের কর্ম ব্যস্ততা থেকে বেরিয়ে শহরের মানুষ প্রকৃতির কাছাকছি যেতে চায়। স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলার জন্য। তেমনি ই প্রকৃতি ঘেরা আমার গ্রাম খানি ।
আমার বাড়ির আশেপাশে :
আমার বাড়ির সামনে একটা ক্যানাল রয়েছে । যে ক্যানালে বারোমাস মাছ পাওয়া যায়। দূর দুরন্ত থেকে মানুষ এসে আমাদের এই ক্যানাল থেকে মাছ ধরে নিয়ে যায়।বাড়ির কাছাকাছি বিরাট তাল বাগান রয়েছে । ঘরের পেছনে বিরাট ফসলের মাঠ আছে ।
প্রতিষ্ঠান:
আমাদের গ্রাম দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং একটি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এছাড়া বিশাল বড় একটা খেলার মাঠ রয়েছে। এমনকি সরকারি ব্যাংক "ব্যাংক অব ইন্ডিয়া" রয়েছে।
কারখানা :
আমাদের গ্রামে মুড়ির কল রয়েছে। এছাড়াও ধান ভাঙানোর কল রয়েছে। ইট ভাটাও রয়েছে।
উৎপন্ন দ্রব্য:
আমাদের গ্রামে প্রধান উৎপন্ন দ্রব্য ধান, আলু ,সরিষা । এছাড়াও পুকুরে মাছ চাষ করে থাকে।
গ্রামের হাট:
গ্রামে হাট বাজার একটা উৎসবের মত। প্রতি সপ্তাহে দুই দিন করে হাট হয়। গ্রামের মানুষের মধ্যে এই হাটের দ্বারাই একটা মেলবন্ধন তৈরি হয়।
গ্রামের সাংস্কৃতিক জীবন :
গ্রাম বাংলার পূজা পার্বণের ঐতিহ্য রয়েছে। আমাদের গ্রামে দুর্গা পূজা ,মনসা পূজা ,স্বরস্বতী পূজা হয়ে থাকে। এমনকি প্রতি বছর যজ্ঞ হয়ে থাকে।
উপসংহার :
ছায়া সবুজে মোড়ানো শান্তির নীড় আমার ছোট্ট গ্রাম খানি। ফসলের মাঠে সবুজে যেমন ফসলের মাঠ মুড়ে যায় তেমনি ধান পাকলে সোনালী ধানে ফসলের মাঠ ভরে যায়। তখন গ্রামের মানুষের সুখের অন্ত থাকে না। তাই বলবো সহজ সরল দূষণ মুক্ত এবং কোলাহল মুক্ত আমার গ্রাম খানি আমার কাছে প্রানের চেয়ে প্রিয়। আমি আমার গ্রামকে অন্তর দিয়ে ভালোবাসি
"সবাইকে আমার গ্রামে ঘুরতে আসার আমন্ত্রণ রইলো।
।
অসংখ্য ধন্যবাদ সকলকে।
বিশেষত "আমার বাংলা ব্লগ"কমিউনিটিতে অসংখ্য ধন্যবাদ। কারন তাদের সুন্দর রচনা প্রতিযোগিতার জন্যই আমি আমার গ্রামের সমস্ত কিছু তুলে ধরতে পারলাম।
Cc:-
@amarbanglablog
@rme
@blacks
@steemitblog
@steemcurator01
@steemcurator02
@stephenkendal
ফোন ক্যামেরার নাম : Redmi 4 ,Redmi note 10 pro max , Mi A1
রেগার্ডস @simaroy
খুব সুন্দর গ্রামের দৃশ্যগুলি।ধন্যবাদ দাদা।
ধন্যবাদ তোমাকে
দৃশ্যগুলো বেশ দারুন হয়েছে, আপনাদের গ্রামটি বেশ সবুজ ও সুন্দর। বিস্তৃর্ণ সবুজ কৃষি জমি দেখতে বেশ ভালো লাগছে। শুভ কামনা রইল আপনার জন্য।
অনেক ধন্যবাদ দাদা। এভাবেই উৎসাহ দেবেন এবং পাশে থাকবেন।
প্রথমেই ধন্যবাদ আমাদের প্রতিযোগিতায় আপনি যুক্ত হয়েছেন এজন্য এবং আপনি খুব সুন্দর করে উপস্থাপন করেছেন নিজের এলাকাকে যাইহোক শুভেচ্ছা রইল ।
অসংখ্য ধন্যবাদ ভাইয়া
সবুজ আর সবুজ, চারিদিক সবুজে মোড়া তোমার গ্রামখানি , অনবদ্য :)
একদম ঠিক বলেছেন। অসংখ্য ধন্যবাদ দাদা