আমার বাংলা ব্লগ - দ্বিতীয় প্রতিযোগিতা : বিষয় - "রচনা প্রতিযোগিতা- নিজের প্রিয় গ্রাম বা শহর", @isha.ish
নমস্কার বন্ধুরা। আশা করছি সকলে সুস্থ আছেন। এই কমিউনিটিতে এই প্রথমবার আমি পোস্ট করতে চলেছি। এত সুন্দর কনটেস্ট আয়োজন করার জন্য ধন্যবাদ @rme ।
আমার প্রিয় শহর আমার নিজের বাসস্থান কৃষ্ণনগর।
নিজের শহর কে নিয়ে বলার শেষ নেই। তবুও কিছুটা গুছিয়ে আপনাদের সাথে নিজের শহরকে শেয়ার করে নেব। আর এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে আমার এই পোস্টটি পড়ে ,হয়তো আপনারাও কল্পনায় আমার শহর একটু ঘুরে আসবেন।
আমার শহর - ' কৃষ্ণনগর '
আমি 'কৃষ্ণনগর' নামক শহরে বাস করি। এই শহরটি ভারতবর্ষের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের অন্তর্গত নদীয়া জেলার সদর শহর। আমার শহর জলঙ্গী নদীর দক্ষিণ পাড়ে অবস্থিত।
কৃষ্ণনগর ঐতিহ্যপূর্ণ শহর।রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়-এঁর নামানুসারে এই শহরের নামকরণ হয়। এখানে রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের রাজবাড়ী রয়েছে। তার রাজসভার নবরত্নের একজন ছিলেন বিখ্যাত গোপাল ভাঁড় , যার হাস্যকর গল্পের বই বিখ্যাত।
রাজবাড়ী
জলঙ্গী নদী
এই শহরের ঐতিহ্য হলো মাটির পুতুল এবং একধরনের মিষ্টি - সরপুরিয়া ও সরভাজা। যা পৃথিবী বিখ্যাত।
' ঘুর্ণী ' নামক জায়গায় এই মাটির পুতুল তৈরি হয়। পুতুলের প্রচুর দোকান আছে। শুধুমাত্র মাটির পুতুল নয় ,এখানে ফাইবার ,পিতল ও পাথরের বড় বড় মূর্তি তৈরি হয়। সকল শিল্পীদের নিজস্ব কারখানা আছে। দেশ বিদেশ থেকে মানুষ এখানে ঘুরতে আসে এবং এখানকার শিল্প নিয়ে যায়।
এই ঘুর্ণী হলো যোগীরাজ শ্যামাচরণ লাহিড়ী মহাশয়ের জন্মস্থান।
আমার বাবার তৈরি শিল্প
আমার শহরে বিখ্যাত ও জাগ্রত সিদ্ধেশ্বরী কালি মন্দির, মহামায়া মন্দির,বুড়িমা মণ্ডপ , মা আনন্দময়ী এবং আরো বিভিন্ন পুরনো মন্দির রয়েছে।
সবচেয়ে সুন্দর এবং শান্ত পরিবেশ হলো আমাদের শহরে অবস্থিত খ্রিস্টান ক্যাথলিক গির্জা ঘর । এই গির্জা বহু বছরের পুরোনো।
আমার শহরে বেশ কয়েকটি মসজিদও আছে।
সদর শহর হওয়ায় এই শহরের নিজস্ব থানা,রেল স্টেশন, বাসস্ট্যান্ড,স্টেডিয়াম,আদালত,হাসপাতাল,নার্সারি,স্কুল কলেজ রয়েছে ।রয়েছে বহু বড় বড় রেষ্টুরেন্ট,বড় মার্কেট।
কৃষ্ণনগর গভর্মেন্ট কলেজ
গীর্জা ঘর
আমার শহরে বহু বছর ধরে মা জগদ্ধাত্রী ঠাকুরের পুজো হয়ে আসছে। রাজা কৃষ্ণচন্দ্র প্রথম নিজ রাজবাড়ীতে মা জগদ্ধাত্রীর পুজো শুরু করেছিলেন । সে নিয়ে এক আলাদা কাহিনী আছে। তারপর থেকে কৃষ্ণনগরের প্রতি বারোয়ারী এবং ক্লাব ঘরে এই পুজো হয়।
শহরের প্রতিটি কোণের সাথে যেনো আমার মন জর্জরিত। আমি যদি এখানে জন্মগ্রহণ করিনি। কিন্তু আমার বয়স যখন তিন মাস , আমি এই শহরে পা রাখি। আমার ছোট থেকে বড় হয়ে ওঠা এই শহরের হাত ধরেই। আমি আমার শহর কে ভীষণ ভালোবাসি।
আর সবার মতনই নিজের শহরেই আমার বেশি শান্তি।
বহুদিন এই করোনা ভাইরাসের দুর্বিসহ পরিস্থিতির কারণে বাড়ির বাইরে বেরোনো হয়নি।এই পোস্টটি লিখতে গিয়ে বেশ মন খারাপ করছিল। আশা করছি সকল শহর ও গ্রাম সুস্থ হয়ে উঠবে খুব তাড়াতাড়ি। আশা করছি আমার শহর এর বর্ণনা আপনাদের মন ছুঁয়ে যাবে।
ভালো থাকবেন । নিজের এবং নিজের পরিবারের খেয়াল রাখবেন।
আপনাকে "আমার বাংলা ব্লগ" এ সুস্বাগতম । আশা করি আপনি চমৎকার কিছু সৃষ্টিশীলতা আমাদের উপহার দিতে পারবেন । ধন্যবাদ :)
ধন্যবাদ।
আমি চেষ্টা করবো ।❣️😊🙏