খিরা চাষ পদ্ধতি ।
বিসমিল্লাহি রহমানের রাহিম
আসসালামু আলাইকুম
শ্রদ্ধেয় প্রিয় ভাই ও বোনেরা,
আপনারা সবাই কেমন আছেন ? সৃষ্টিকর্তার কৃপায় আশা করি ভাল আছেন । আমিও সৃষ্টিকর্তার রহমতে ভালো আছি ।
প্রিয় , আমার বাংলা ব্লগ কমিটির সদস্যরা
আপনাদের মাঝে আবার এসে হাজির হলাম।
আজ আপনাদের মাঝে কৃষি সম্পর্কিত একটি বিষয় নিয়ে হাজির হয়েছি। আমি আপনাদের আমার নিজে হাতে চাষকৃত খিরা জমি থেকে তোলার অনুভূতি সম্পর্কে বলতে চাই। আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে। আপনারা আপনাদের মূল্যবান সময় নষ্ট করে পুরো পোস্টটি দেখবেন আশা করি।
খিরা আমাদের সবার নিকট অতি পরিচিত । খিরা সাধারণত শীতকালে বেশি উৎপাদন হয়ে থাকে। মানব স্বাস্থ্যের জন্য খিরা খুব সুস্বাদু এবং পুষ্টিকর খাবার । খিরা খেতে পছন্দ করে না এমন মানুষ পাওয়া যায় না। শিশু থেকে বৃদ্ধ সব বয়সের লোকজন খিরা খেতে খুবই পছন্দ করে। যেকোনো খাবারে খিরা বা, শসা পরিবেশন করা হয়ে থাকে। সালাত তৈরির অন্যতম উপাদান হলো খিরা। যে কোন খাবারের সময় খিরা খেলে খাওয়ার রুচি আরো বেড়ে যায়। আপনারা সকলে জানেন আমি প্রায় সময় বিভিন্ন ফসল উৎপাদন আপনাদের মাঝে উপস্থাপন করে থাকে।
আজ আমি খিরা চাষ পদ্ধতি উপস্থাপন করছি। খিরা চাষ আমি খুব শখ করে করে থাকি। যদিও অন্যান্য ফসল আত্মীয় স্বজন বন্ধু-বান্ধবদের দেওয়া এবং উৎপাদন বেশি হলে বাইরে বিক্রি করার উদ্দেশ্যে চাষ করা থাকি। খিরা চাষ করা যেমন খুব আনন্দ হয় ঠিক তেমনি অনেক দুঃখ হয়ে থাকে কারণ এবারে খিরা চাষ করে মোট ফসলের চার ভাগের এক অংশ মাত্র নিজে সংগ্রহ করতে পেরেছি। আর তিন ভাগ এলাকার পোলাপাইন নিয়ে গেছে। পোলাপাইন নিয়ে গিয়েছে এতে দুঃখ নাই। দুঃখ হলো পোলাপাইন তাড়াহুড়া করে খিরা সংগ্রহ করতে গিয়ে অনেক গাছ নষ্ট করে ফেলেছে। পরবর্তীতে গাছগুলো মারা গিয়েছে।
আসুন শুরু করি
খিরা চাষাবাদ করতে আমার যে উপকরণ সমূহ প্রয়োজন হয়েছে তা হলো:-
১ - জমি
২ - বীজ
৩ -কোদাল
৪ -রাসায়নিক সার (ইউরিয়া, টিএসপি,এমপি বা পটাশ, ফসফেট)।
৫ -জৈব সার (গরুর গোবর, হাঁস-মুরগির বিষ্ঠা, তরু তরকারী কাটার পর অবশিষ্ট অংশ, ছারি)
৬ -লাঠি (মাটির বড় অংশ ভাঙ্গার জন্য)।
৭-পানি
৯ - বালতি এবং জগ ইত্যাদি
আমি যেভাবে খিরা উৎপাদন করেছি তার বিবরণ :-
↘️ধাপ :- ১↙️
- প্রথমে খিরা চাষের জমির মধ্যে তিন ফুট গোলাকার করে মাটির স্তুপ তৈরি করি। খিরা চাষের জন্য নির্দিষ্ট জায়গা নির্ধারণ করি। মাটির স্তুপ কে আমাদের আঞ্চলিক ভাষায় মুয়া বলা হয়ে থাকে। এভাবে আমি পাঁচটি মুয়া তৈরি করি। তারপর মাটি গুলোকে খুব ভালো করে ঝুরঝুল করে নিলাম।
↘️ধাপ :- ২↙️
- এই পর্যায়ে আমি মুয়ার মধ্যে পরিমাণ মতো রাসায়নিক সার ব্যবহার করেছি। আমি রাসায়নিক সার এর মধ্যে (ইউরিয়া, টিএসপি,এমপি বা পটাশ, ফসফেট সার ইত্যাদি জমিতে প্রয়োগ করি।
আমি সার গুলোকে পরিমাণ মতো একটি পাত্রে একসাথে নিলাম । তারপর এগুলো মিশ্রন করি এবং জমিতে সমানভাবে ছিটিয়ে প্রয়োগ করি।
↘️ধাপ :- ৩↙️
- এই ধাপে আমি জৈব সার প্রয়োগ করছি (গরুর গোবর, হাঁস-মুরগির বিষ্ঠা, তরু তরকারী কাটার পর অবশিষ্ট অংশ, ছারি)। আমি জৈব সার জমিতে সমান ভাবে ছিটিয়ে প্রয়োগ করি। জমি নির্বাচন শেষ হয়েছে।
↘️ধাপ :- ৪↙️
এখন খিরার বীজ গুলো বপন করা দুই দিন আগে রোদে শুকিয়ে নিলাম।
এই পর্যায়ে আমি খিরার বীজ গুলোকে ১২ ঘন্টা যাবত পানিতে ভিজিয়ে রাখি। অর্থাৎ সন্ধ্যা ছয়টা পানিতে রাখলাম এবং পরদিন সকাল ছয়টা পানি থেকে উঠিয়ে নিলাম। পানিতে ভিজিয়ে রাখার কারণ হলো তাড়াতাড়ি বীজ থেকে অঙ্কুরোদ্গম বের হওয়া। কারণ মাটি শুষ্ক থাকলে বীজের অঙ্কুরোদগম বের হতে অনেক দিন সময় লাগবে।
- প্রতি মুয়াতে চারটি করে বীজ বপন করেছি।
↘️ধাপ :- ৫↙️
৮ থেকে ১০ দিন পর খিরার চারা উঠলো। আমার কাঙ্ক্ষিত চারাগুলো সতেজ হয়ে উঠতে দেখে আমি খুব খুশি হয়।
↘️ধাপ :- ৬↙️
- আমি খিরার চারা আশেপাশের আগাছা ভালো করে পরিষ্কার করে নিয়েছি। তারপর উপরের অংশের মাটি ঝুরঝুল করে নিলাম ।
↘️ধাপ :- ৭↙️
জমিতে চারা উঠার ৫ থেকে ৬ দিন পর মাটির আদ্রতা কমে গেছে অর্থাৎ মাটি শুকিয়ে গেছে। তাই আমি মুয়াতে মটর দিয়ে প্রতি সপ্তাহ দুইবার পানি দিয়েছি। ধীরে ধীরে আমার খিরা গাছ গুলো বড় হতে লাগল
↘️ধাপ :- ৮↙️
আমি খিরা ক্ষেতে ফ্লোরা নাইট্রোবেনজিন ১০ লিটার পানির সাথে ২০ মি.লি মিশিয়ে ভালো করে স্প্রে করি।
ফ্লোরা নাইট্রোবেনজিন ব্যবহারের ফলে গাছের শিকড় কান্ড পাতার খাদ্য সঞ্চালন ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। উদ্ভিদের ফুল এবং ফল এর পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। ফুল ঝরে পড়া রোধ হয়। এবং অধিক পরিমাণ ফসল উৎপাদন হয়। এভাবে আমি জমিতে ২ সপ্তাহ পর পর তিন বার স্প্রে করি।
↘️ধাপ :- ৯↙️
খিরা গাছে ফুল আসতেছে খিরা ধরতেছে। খিরা গাছে যখন ফুল আসলো তা দেখে আমার কাছে খুব ভালো লাগলো।
- খিরা ফুলে সমস্ত ক্ষেত ভরে গেলো। খিরা ফুলের দৃশ্য দেখার পর হৃদয় জুড়ে যায়।
↘️ধাপ :- ১০↙️
জমিতে প্রচুর পরিমাণে খিরা ধরতেছে আলহামদুলিল্লাহ। সমস্ত ক্ষেতে খিরাই সাদা এবং হালকা সবুজ বর্ন দেখাচ্ছে তখন বেশ ভালো লাগছে দেখতে।
↘️সর্বশেষ ধাপ↙️ :-
কয়েকদিনের মধ্যে খিরা পরিপক্ক হয়ে গেছে।
নিজের জমিতে চাষকৃত খিরা তোলার অনুভূতি অন্যরকম মনে হচ্ছে। কারণে এই গুলো একদম সতেজ এবং নিজের হাতে উৎপাদন করা। নিজের হাতে তৈরি করার যে কোন জিনিসের গুরুত্ব খুব বেশি হয়ে থাকে।
আজকের এই মুহুর্তের জন্য সাড়ে দুই মাস অপেক্ষা করতে হয়েছে আমায়। আজকে মনে হচ্ছে যেন এতদিনের পরিশ্রম সার্থক হয়েছে। কারণ আমি খুব দ্বিধা দ্বন্দের মধ্যে ছিলাম যে খিরা উৎপাদন ঠিকমতো হবে কি না। কারণ বিভিন্ন সময় দেখা যায় বিভিন্ন প্রাকৃতিক কারণে বা,চারা নষ্ট হয়ে গেলে ।ঠিকমতো ফসল উৎপাদন হয় না। তাই আমার কাছে অন্যান্য দিনের তুলনায় আজকের দিনটি খুব অন্যরকম ছিল। সত্যিই আজকের দিনটা আমার কাছে খুব আনন্দের। সতেজ তরতাজা খিরা খেতে বেশ ভালো লাগছে।
পোস্টটির কোথায় ভুল ত্রুটি হলে সুন্দর ক্ষমা দৃষ্টিতে দেখবেন।
পোস্ট বিবরণ :-
| শ্রেণী | কৃষি (শাকসবজি উৎপাদন) |
|---|---|
| ক্যামেরা | Redmi note 7 |
| পোস্ট তৈরি | @ah-agim |
| লোকেশন | ফেনী, বাংলাদেশ |
এতক্ষণ আপনাদের মূল্যবান সময় দিয়ে আমার পোস্টটি শেষ পর্যন্ত দেখার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।আপনাদের উৎসাহ এবং অনুপ্রেরণা পেলে। আমি এই ধরনের কৃষি সম্পর্কিত পোস্ট আপনাদের মাঝে উপস্থাপন করবো, ইনশাআল্লাহ।
- অন্য সময়ে আবার অন্য কোন বিষয় নিয়ে কথা হবে।সে পর্যন্ত সবাই ভাল থাকবেন। সুস্থ থাকবেন, নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি যত্ন নিবেন ।এই আশাবাদ ব্যক্ত করে আপনাদের কাছ থেকে বিদায় নিচ্ছি।
সবাইকে শুভ রাত্রি
আপনারা সবাই ভালো থাকবেন।
আপনাদের সকলকে আমার পক্ষ থেকে ভালোবাসা 💜💙 এবং অভিনন্দন রইলো ।
আমার পরিচিতি
আমি আওলাদ হোসেন আজিম ।আর আমার ইউজার নাম @ah-agim আমি একজন বাংলাদেশী। মাতৃভাষা বাংলায় বলে - আমি খুব গর্বিত। আমার মনে ভাষা বাংলা এর প্রকাশ করতে খুব ভালো লাগে। আমি আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটিকে ভালোবাসি। আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটির সন্মানীত এডমিন মডারেটর সহ সকল সদস্যদের প্রতি আমার অফুরন্ত ভালোবাসা বিরাজমান। আমি বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণ করতে ভালোবাসি। সৃষ্টিকর্তার দেওয়া প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে আমার কাছে খুব বেশি ভালো লাগে। তাছাড়া আমি বিভিন্ন ধরনের কাগজের ( কারুকাজ ) এবং বিভিন্ন রকমের রান্না ( রেসিপি ) করতে পছন্দ করি। আমি ফটোগ্রাফি করে থাকি। ফটোগ্রাফি করতে আমার কাছে অনেক অনেক বেশি ভালো লাগে।বিশেষ করে সৃষ্টিকর্তার দেওয়ায় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দৃশ্য সমূহ ফটোগ্রাফি করতে আমার কাছে ভালো লাগে।


https://x.com/MdAgim17/status/1825830489720332479?t=gktEKNJZzrMXlx0hPAuTPg&s=19
আপনি নানা সময়ে নানা রকমের সবজি চাষের পদ্ধতি আমাদের মাঝে শেয়ার করেন।আপনার শেয়ার করা নানা রকমের চাষ পদ্ধতি জেনে ভালো লাগে ভাইয়া।আর তাছাড়া নিজের হাতে লাগানো গাছের সবজি খাওয়ার মজাই অন্য রকম।তবে গ্রামের ছেলেমেয়েরা খিরা নিতে এসে তাড়াহুড়ায় গাছ নষ্ট করে ফেলার কারনে সত্যি ই অনেক কষ্ট ই লাগে।ধন্যবাদ জানাই চমৎকার ভাবে ধাপে ধাপে খিরা চাষ পদ্ধতিটি আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ আপু, এতো সুন্দর মন্তব্য শেয়ার করার জন্য।
বেশ দারুণ একটি পদ্ধতি আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন ভাইজান। এ জাতীয় পোস্টগুলো দেখলে আমার খুব ভালো লাগে। কারণ কৃষি কাজে অন্যরকম নিজের প্রাণ খুঁজে পাওয়া যায়। তাই আমি অনেক অনেক পছন্দ করি। বেশ মন ছুয়ে যাওয়ার মত ছিল আপনার এই পোস্ট।
জি ভাই, কৃষি কাজে অন্যরকম নিজের প্রাণ খুঁজে পাওয়া যায়। ধন্যবাদ আপনাকে ভাই।
সবজি চাষের অনেক সুন্দর একটি পদ্ধতি আমাদের মাঝে দেখিয়েছেন আপনি। আমাদের বাড়িতে এই গাছ লাগানো হয়। তবে মাঠে কিভাবে লাগানো হয় সেটা জানা ছিল না। আপনার আজকের এই পোষ্টের মধ্য দিয়ে বেশ অনেক কিছু জানার সুযোগ হলো।
ধন্যবাদ আপনাকে এতো সুন্দর মন্তব্য করার জন্য।
শসা এবং খিরা আমাদের সবারই অনেক পছন্দের। নিজের বাড়িতে যদি এরকম চাষ করা হয় তাহলে খেতে অনেক বেশি ভালো লাগবে। ভাইয়া আপনি অনেক সুন্দর করে চাষের পদ্ধতি উপস্থাপন করেছেন। অনেক ভালো লাগলো আপনার এই ব্যতিক্রম ধরনের পোস্ট দেখে। ধন্যবাদ আপনাকে।
জি আপু, শসা এবং খিরা আমাদের সবারই অনেক পছন্দের। ধন্যবাদ আপনাকে আপু।
কিরে চাষ করলে এমনই হয় ভাইয়া নিজের থেকে বেশি খায় বাইরের মানুষ। আপনাকে আর কি বলবো ভাই আমরাই তো মাঝে মাঝে মাঠে ঘুরতে গেলে যদি খিরা চাষ দেখি তাহলে সেখানে গিয়ে খিরা তুলে খায়। তবে পোলাপাইনরা এমনভাবে তুলেছে যে গাছ গুলোই মারা গেছে। যাই হোক আপনি আগেও অনেক সুন্দর ভাবে পুঁইশাক চাষ পদ্ধতি আমাদের সাথে শেয়ার করেছিলেন। আজকে খিরা চাষ পদ্ধতি খুবই সুন্দরভাবে শেয়ার করেছেন। খিরা গুলো দেখতে অনেক সুন্দর হয়েছে। ধন্যবাদ ভাইয়া এত সুন্দর ভাবে খিরা চাষ পদ্ধতি আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য।
আপনার মন্তব্য দেখে বেশ ভালো লাগলো। ধন্যবাদ আপনাকে আপু।
প্রথমে ধন্যবাদ জানাচ্ছি ভাই অনেক সুন্দর একটি পোস্ট আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য। আজকের পোস্টটি পড়ে আমার মনে হয় অনেকেই উপকৃত হবেন। আপনি বেশ দারুন ভাবে ধাপে ধাপে খিরা চাষের পদ্ধতি আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন। আমার দেখা এইটা একটা অসাধারণ পোস্ট ছিলো। ধন্যবাদ ভাই।
আপনাকেও অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই ভাই।
শুকরিয়া জানাচ্ছি ভাই ভালো থাকবেন।
ভাইয়া আপনার শেয়ার করা পোস্টটি দেখে খুবই ভালো লাগলো। কেননা আপনি এখানে খুবই সুন্দর করে একটা পদ্ধতি আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন। আসলে কিভাবে খিরা চাষ করতে হবে সে বিষয়ে দারুণভাবে আপনি বিষয়টি তুলে ধরেছেন। সত্যিই আপনার এই পদ্ধতি প্রণালী জানতে পেরে ভালো লাগলো। এটা অনেকটা চাষ করলে সহযোগিতা হবে। ধন্যবাদ ভাইয়া শেয়ার করার জন্য।
খিরা চাষ দেখে এতো সুন্দর মন্তব্য করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই ভাই।