যার মৃত্যু যেখানে লেখা আছে, যে কোন উপায়ে সেখানে তাকে যেতেই হবে।
হ্যালো আমার প্রিয় বন্ধুরা,কেমন আছেন সবাই। আশা করছি সবাই অনেক ভাল আছেন। আজকে আমি আপনাদের সাথে নতুন একটি ব্লগ নিয়ে হাজির হয়েছি। আজকে যেহেতো শনিবার,তাই অফিসে একটু ব্যস্ততা বেশি ছিল। যার কারনে পোষ্ট করতে একটু দেরি হয়েছে। আজকে একটি মর্মান্তিক ঘটনা শেয়ার করবো।
গত বোধবার বিকাল চারটার সময় আমাদের অফিসে আমার তত্বাবধানে যে সুপারভাইজার কাজ করে সে কান্না করতে করতে আমাদের রুমে প্রবেশ করলো। তার নাম হুমায়ূন কবির। হঠাৎ হমায়ূনের চোখে পানি দেখে আমরা ভয় পেয়ে গেলাম। তার কোন দূর্ঘটনা হলো না কি। সে ক্রন্দনরত অবস্থায় আমাদের ম্যানাজার স্যারকে বললো যে কাচঁপুর এলাকায় রোড এক্সিডেন্টে তার বোনের ভাসর মারা গেছে। (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন) মৃত্যুর সংবাদ শোনার সাথে সাথে আমরা উক্ত দোয়াটি পড়লাম। আমাদের দিকে বোনের হাসবেন্ডর বড় ভাইকে ভাসর বলে সংবোধন করে। এলাকা ভিত্তিক বিভিন্ন শব্দ ব্যবহার হতে পারে।
স্যার জিঙ্গেস করলো তার বাড়ি কোথায়। সে জানালো তার বাড়ি উত্তর বঙ্গের দিনাজপুরে বর্ডার এলাকায়। তো সে এখানে আসলো কিভাবে। তথ্য নিয়ে জানা যায় ভদ্রলোক একজন ফার্মাসিস্ট। সে প্রায় সময় ঢাকার মিরপুরে আসে ঔষুধ নেওয়ার জন্য। তার আপন শালিকা কাচঁপুর একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে চাকরি করে। শালিকা তার দুলাভাইকে প্রায় সময় ফোন করে বলতো, সে ঢাকায় আসলে কাচঁপুর এসে যেন তাকে একবার দেখে যায়। তো ভদ্রলোক গত বোধবার মিরপুর আসে ঔষধ নিতে। সেখান থেকে দুপুরের দিকে শালিকার আবদার রাখতে নারায়গঞ্জের কাচঁপুর আসে। ঐদিন দুপুর তিনটার দিকে প্রচন্ড রোদ ছিল। গাড়ি থেকে নেমে রাস্তার পারাপার হওয়ার সময় চট্রগ্রামগামি ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে।
স্যার বললো ঠিক আছে, দিনারজপুর যাবা নাকি। সে বললো না দিনাজপুর যাবে না। কাচঁপুর থেকে দেখেই চলে আসবে। হুমায়ূন পরেরদিন অফিসে এসে জানায়,যে গাড়ির নিচে চাপা পড়েছে সেই গাড়ি চলে গেছে। কেউ আটকানোর চেষ্টা করে নাই। মারা যাওয়ার কিছুক্ষন পরে পুলিশ এসে লাশ কাচঁপুর পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যায়। পুলিশ জানায় আপনারা যদি সেই গাড়ির নামে ডায়রি করেন বা মামলা করেন তাহলে আমরা সেই গাড়ি ও ড্রাইভারকে খুঁজে বের করবো এবং তাদেরকে আইনের আওতায় এনে বিচার করবো। আর উক্ত কাজ গুলো না করলে বেওয়ারিশ লাশ হিসাবে আপনারা নিয়ে যেতে পারেন। ভদ্রলোকের শালিকা খবর পেয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে আসে। কিন্তুু দুলাভাইকে এই অবস্থায় দেখে তার জবান বন্ধ হয়ে গেছে। তার মুখ দিয়ে কোন কথা বের হচ্ছে না। প্রবাদ আছে “অতি শোকে মানুষ পাথর হয়ে যায়”। উনার শালিকার ক্ষেত্রে এমনই হয়েছে। ভদ্রলোক শালিকাকে দেখতে এসে নিজেই লাশ হয়ে গেল।
বিষয়টা চিন্তা করা যায়....। উনার বাড়ি হলো সেই দিনাজপুর, এখান থেকে ৫০০/৬০০ কিলোমিটার দুরে। কাচঁপুর আসার কোন চিন্তাই থাকার কথা না। শালিকার উসিলায় কাচঁপুর আসতে হলো। সকাল বেলা নিজের পায়ে বের হলো রাতের বেলা অন্যের পায়ে বাড়ি ফিরলো। মূলত মৃত্যুই তাকে এখানে ডেকে নিয়ে এসেছে। কত হাজার হাজার লাখ লাখ মানুষ রাস্তাপারাপার হচ্ছে,আসা যাওয়ার করছে। কিন্তুু ভদ্রলোকের সাথেই এমন ঘটনাটা ঘটলো।
উনিতো দিনাজপুর থেকে কাচঁপুর আসলেন। আর কত মানুষ নিজ দেশ থেকে বিদেশে গিয়ে মারা যায়। কত মানুষ সাগর সমাধি হয়ে যায়। কত মানুষ মাছের পেটে চলে যায়। কত মানুষ জীব জন্তুুর পেটে চলে যায়। কত মানুষ শখের বসে এভারেস্ট জয় করতে গিয়ে বরফের নিচে ঢাকা পড়ে যায়। কত মানুষের লাশই খুঁজে পাওয়া যায় না। মূল কথা হলো মানুষ মরনশীল। তাকে মৃত্যুবরন করতেই হবে। যেখানে যার মৃত্যু লেখা আছে, যে কোন উপায়ে তাকে সেখানে যেতেই হবে। এটাই ভাগ্যের লিখন বা প্রকৃতির নিয়ম।
সবাইকে ধন্যবাদ। আল্লাহ হাফেজ।।
আমি একজন বাংলাদেশের সাধারন নাগরিক। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাতে আমার বসবাস। সিম্পল আমার স্বপ্ন সিম্পল আমার জীবন। স্টিমিট আমার জীবনের একটি অংশ, আমার বাংলা ব্লগ আমার পরিবার। বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া বলতে আমি স্টিমিটকেই চিনি। ভ্রমন করা, ফটেগ্রাফি করা,ডিজাইন করা আর বই পড়া আমার স্বপ্ন। আমি বিশ্বাস করি মানুষের জীবনে উত্তান পতন আছেই। সর্বপরি কাজ করতে হবে লেগে থাকতে হবে, তাহলেই একদিন সফলতা আসবে,এটাই আমি বিশ্বাস করি। সবাইকে ধন্যবাদ।।
Bangla Witness কে সাপোর্ট করতে এখানে ক্লিক করুন
এখানে ক্লিক করো ডিসকর্ড চ্যানেলে জয়েন করার জন্য
Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power
250 SP 500 SP 1000 SP 2000 SP 5000 SP
Click Here For Join Heroism Discord Server
প্রকৃতির নিয়ম কেউ পাল্টাতে পারে না তেমনি মৃত্যুতে ও কারো হাত থাকে না।এক্সিডেন্টের ঘটনাগুলি আসলেই মর্মান্তিক।যদি লোকটি শালিকার আবদার রাখতে নারায়গঞ্জের কাচঁপুরে না আসতো তাহলে হয়তো এমন ঘটনা ঘটতো না।এতে শালিকার বেশিই শোকাহত হওয়ারই কথা।ঘটনাটি পড়ে খারাপ লাগলো, যাইহোক মৃত ব্যক্তির আত্মার শান্তি কামনা করি।
জী আপু মৃত্যুই তাকে সেখানে নিয়ে গেছে। ধন্যবাদ।
Thank you, friend!


I'm @steem.history, who is steem witness.
Thank you for witnessvoting for me.
please click it!
(Go to https://steemit.com/~witnesses and type fbslo at the bottom of the page)
The weight is reduced because of the lack of Voting Power. If you vote for me as a witness, you can get my little vote.
আসলে ভাইয়া জীব মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে। আর যার মৃত্যু যেখানে যেভাবে আছে সেখানে সেই ভাবে মৃত্যু বরণ করতে হবে।আসলে এমন শোকে পাথর না হয়ে কোন উপায় থাকে না। দোয়া করি আল্লাহতাল্লাহ উনাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন । আমিন।
জী আপু সবাই বলবে শালিকার বাসায় গিয়ে মারা গেছে। সেই জন্য শোকে পাথর হয়ে গেছে। ধন্যবাদ।
পৃথিবীতে আমাদের চোখের সামনে যা কিছু আছে সবকিছুই মিথ্যা, আর সব থেকে বড় সত্য হলো মৃত্যু। জন্ম নিলে মৃত্যুবরণ করতেই হবে। আপনার জন্ম কোথায় হবে সেটা জন্মের পর আপনি বুঝতে পারেন কিন্তু আপনার মৃত্যু কোথায় হবে সেটা আপনি কখনই জানতে পারবেন না। জন্ম মৃত্যু সৃষ্টিকর্তার হাতে। আর প্রত্যেকটা জীবের জন্য মৃত্যু অপরিহার্য।
জী ভাইয়া ঠিক বলেছেন। কার মৃত্যু কখন কোথায় হবে কেউ জানে না। ধন্যবাদ।
খুবই মর্মাহত হলাম অনেক খারাপ একটি খবর। আসলে জন্ম ও মৃত্যুর মধ্যে কারো হাত নেই। কে কোথায় গিয়ে মৃত্যুবরণ করবেন সেটা একমাত্র সৃষ্টিকর্তা নির্দিষ্ট করে রেখেছেন। যার জন্য মৃত্যু যেখানে লেখা থাকে ঠিক সেখানেই যেতে হবে। তবে ঘটনাটি খুব খারাপ অবস্থায় হল। এমন মৃত্যু যেন সৃষ্টিকর্তা আর কাউকে না দেয় সেই দোয়া করি।
জী আপু ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক। ধন্যবাদ।
ভাই আপনি আজকে আমাদের মাঝে দারুন একটি পোস্ট লিখে শেয়ার করেছেন। আপনি একদম ঠিক বলেছেন ভাই যার মৃত্যু যেখানে লেখা আছে যে কোন উপায়ে সেখানেই হবে এটা একদম সত্যি। যে প্রাণী জন্মগ্রহণ করে তার অবশ্যই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতেই হবে। ঘটনাটি শেষ পর্যন্ত পড়ে আমার কাছে বেশ খারাপ লেগেছে ভাই। আসলে এমন মর্মান্তিক মৃত্যু যেন সৃষ্টিকর্তা কাউকে না দেয় এই দোয়াই করি। ধন্যবাদ ভাই পোস্টটি শেয়ার করার জন্য।
জী ভাইয়া ঘটনাটি পড়ে আমার নিজের কাছেও খুব খারাপ লেগেছে। ধন্যবাদ।
আসলেই ভাই, ব্যাপার টা আমিও মানি। যার মরণ যেখানে লেখা থাকবে, সেখানে সঠিক সময়ে সে এসে উপস্থিত হবেই। এর কোন অন্যথায় হবে না। আমি বিশ্বাস করি, জন্ম, মৃত্যু আর বিয়ে এই বিষয় গুলো পূর্ব নির্ধারিত । আমরা যতই যা চিন্তা করি, প্ল্যান করি না কেন, আল্টিমেটলি সেটাই হবে যা উপরওয়ালা চিন্তা করে রেখেছেন। এবং তিনিই বেস্ট প্ল্যানার...
জী অপু ঠিক বলেছেন। আমরা যতই লাফালাফি করি না কেন,সৃষ্টিকর্তার ইশারা ছাড়া কিছু হয় না। ধন্যবাদ।
অতন্ত্য মর্মান্তিক একটি ঘটনা পড়লাম ভাই। খুবই খারাপ লাগছে ঘটনাটি পড়ে। আসলেই মানুষ মরণশীল, একদিন না একদিন সবাইকেই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করতে হবে। যার মৃত্যু যেখানে লেখা সেইখানেই হবে ,নাহলে কেনোই বা উনি সেদিনই শালিকার সাথে দেখা করতে যাবেন আর কেনোই বা ওনার অ্যাকসিডেন্ট হবে।
জী আপু কত দুর থেকে এসেছে। কোথাও তো এক্সিডেন্ট করে নাই। সেখানেই কেন করলো। সবই ভাগ্য। ধন্যবাদ।
পৃথিবীর বুকে সবথেকে কঠিন এবং সত্য কথা হলো মৃত্যু। মৃত্যু অনিবার্য, যা প্রাণ আছে তাকে মৃত্যুবরণ করতে হবে। আর হ্যাঁ যে যেখানে মরবে তাকে ঠিক সেখানেই তার ভাগ্য নিয়ে যাবে। তাই আমাদের উচিত মৃত্যুকে আপন করে নেওয়া।
জী ভাইয়া তাকে ভাগ্যই সেখানে নিয়ে গেছে। ধন্যবাদ।
যার মৃত্যু যেখানে লেখা আছে যে কোন উপায়ে তাকে সেখানে যেতেই হবে এই কথাটি একদম চিরন্তন সত্য। মানুষের জন্ম এবং মৃত্যু দুটোই সৃষ্টিকর্তার হাতে। আমাদের জন্মের আগেই আমাদের মৃত্যুর সময় লেখা হয়ে গেছে। যেখানে আমাদের মৃত্যু লেখা রয়েছে সেখানে সেই মুহূর্তে আমরা কোন না কোন ভাবে পৌঁছেই যাই। এবং এই দুনিয়াতে আমাদের সময় ফুরিয়ে আসলে আমাদেরকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতেই হবে। এটাই প্রকৃতির নিয়ম, সৃষ্টিকর্তার নিয়ম।
প্রকৃতির নিয়ম কেউ পাল্টাতে পারে না। মৃত্যু তার কাছে ধরা দিবেই। এটাই নিয়ম। ধন্যবাদ।