"আমার বাংলা ব্লগ" প্রতিযোগিতা- ৩৩।। মাছ, মাংস, চিংড়ি, আলু ও কুমড়া ফুলের চপের রেসিপি।।
হ্যালো বন্ধুরা,
আপনারা সবাই কেমন আছেন ?আশা করি,আপনারা সবাই ভাল আছেন সুস্থ আছেন।আজ আমি "আমার বাংলা ব্লগ" প্রতিযোগিতা ৩৩ ইউনিক রিজিপি মাছ, মাংস,চিংড়ি,আলু ও কুমড়া ফুলের সুন্দর একটি রেসিপি সবার মাঝে উপস্থাপন করছি ।আশা করি,সবার ভালো লাগবে তাই বিলম্ব না করে আমার পোস্ট লেখাতে শুরু করছি।
আমি প্রথমে ধন্যবাদ জানাতে চাই আমার বাংলা ব্লগে সকল সদস্যদের ।ধন্যবাদ জানাতে চাই এডমিন ভাইয়া ও আপুদের এত সুন্দর একটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করার জন্য ।সামনে রোজার মাস আর তাই এই মাসে আমরা বিভিন্ন ধরনের চপ বাড়িতে ও দোকান থেকে কিনে খেয়ে থাকি ।সারাদিন রোজা রেখে সন্ধ্যায় ইফতারের সময় নানা ফল নানা ধরনের চপ খেয়ে থাকি। চপের একটি আইটেম ছাড়া ইফতার যেন সম্পন্ন হয় না। আমার কাছে রোজার মাসটা খুব ভালো লাগে কারণ এই সময়টিতে রাস্তার ধারে অনেক দোকানে নানান ধরনের চপ পাওয়া যায় যা অন্য কোন সময় কিন্তু পাওয়া যায় না।
আমি এই প্রথম কোন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করছি। আজ আমি মাছ, মাংস, চিংড়ি,আলু ও কুমড়া ফুলের চপ তৈরি করছি ।মাঝে মাঝে আমি বাড়িতে নানান ধরনের চপ বানিয়ে থাকি কিন্তু এই প্রথম এই রেসিপি তৈরি করছি ।প্রথমে একটু ভয়ে ছিলাম কেমন খেতে লাগবে কিন্তু তৈরি করার পরে খেয়ে দেখি খুব ভালো লেগেছে ।নিজের তৈরি রেসিপি বলে বলছি না সত্যিই খুব ভালো খেতে হয়েছে। যাই হোক কথা না বাড়িয়ে মূল পড়বে চলে যাই।
চলুন এক নজরে দেখে নেই আজ আমাদের রেসিপিটি তৈরি করতে কি কি লেগেছে।
১.মাছ : ২ পিস
২.মাংস : ২০০ গ্রাম
৩.চিংড়ি : ১০০ গ্রাম
৪.আলু : ২টি
৫.কুমড়া ফুল: ১০টি
৬.বেসনের গুঁড়া: ২ চা কাপ
৭.তেল: পরিমাণ মতো
৮.শুকনা মরিচের গুঁড়া: ২ চা চামচ
৯.জিরার গুঁড়া:১ চা চামচ
১০.গরম মসলার গুঁড়া:১ চা চামচ
১১.হলুদের গুঁড়া:১ চা চামচ
১২.রসুন বাটা:১/২ চা চামচ
১৩.লবণ: পরিমাণ মতো
১: আমি একটি পাত্রে দুটি মাছের পিস, মাংস, চিংড়ি নিয়ে নিলাম।
২: এরপরে মাংস ও আলু গুলো একসাথে সিদ্ধ করার জন্য গ্যাসের চুলাটি জ্বালিয়ে নিলাম পরে একটি কড়াইতে পরিমাণ মতন জল নিয়ে ১৫ মিনিট সিদ্ধ করার জন্য রেখে দিলাম।
৩: মাংসগুলো ১৫ মিনিট সিদ্ধ হওয়ার মাঝে আমি মাছ ও চিংড়ি গুলো ভাজির জন্য প্রথমে কিছু হলুদ মাখিয়ে নিলাম।
৪: এগুলো ভাজির জন্য পাশে একটি চুলাতে কড়াই দিয়ে তাতে ভাজির জন্য পরিমাণ মতো তেল দিয়ে গরম করলাম।
৫: তেলটি গরম হয়ে গেলে আমি মাছের পিস দুটি ছেড়ে দিলাম। মাছগুলি ভাজি হয়ে গেলে আমি একটি পাত্রে সেগুলো উঠিয়ে রাখলাম।
৬: মাছগুলো উঠিয়ে রাখার পর একই তেলে চিংড়ি মাছ গুলো ছেড়ে দিয়ে ভালোভাবে কিছুক্ষণ চিংড়ি মাছগুলো ভাজি করে নিলাম। চিংড়ি মাছগুলো ভাজি হয়ে গেলে একটি পাত্রে উঠিয়ে রাখলাম। অন্যদিকে খেল করলাম মাংস ও আলু গুলো ও সিদ্ধ হয়ে গেছে তাই সেটিকে ও পাত্রে উঠিয়ে রাখলাম।
৭: এরপরে সিদ্ধ মাংস, ভাজি মাছ ও চিংড়ি ভালোভাবে বেছে নিলাম যেন কোন মাছের কাটা এবং মাংসে হাড় না থাকে।
৮: এরপরে সেগুলিকে একটি ব্লেন্ডারের সাহায্যে ভালোভাবে মাখিয়ে নিলাম যাতে সবগুলো উপাদান গুলো ভালোভাবে মিশে যেতে পারে।
৯: এরপরে সবগুলি উপাদান গুলো একসাথে মিশিয়ে ভাজির জন্য একটি কড়াইতে পরিমাণ মতো তেল নিয়ে নিলাম। তেলটি একটু গরম হয়ে গেলে তাতে জিরাও রসুন বাটা দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিলাম।
১০: ভালোভাবে মিশে যাওয়ার পর মাছ, মাংস, চিংড়ি বাটা গুলো দিয়ে দিলাম।
১১: এগুলির সাথে পরিমাণ মতো লবণ, হলুদ , জিরার গুঁড়, গরম মসলার গুঁড়া, শুকনা মরিচের গুঁড়া এই সবগুলি উপাদান দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিলাম।যাতে উপাদানগুলো ভালোভাবে মিশে যেতে পারে ১৫ মিনিট ভাজি করার পরে উপাদান গুলো ভালো ভাবে মিশে গেলে এটিকে নামিয়ে একটি পাত্রে রেখে দিলাম।
১২:এরপর পরবর্তীতে আমি একটি পাত্রে বেসন এর গুঁড়া নিয়ে নিলাম ওর সাথে কিছু মরিচের গুঁড়া,হলুদের গুঁড়া, জিরার গুঁড়া,পরিমাণ মতন লবণ, পরিমাণ মতন জল নিয়ে উপাদান গুলো ভালোভাবে মিশিয়ে নিলাম।
১৩: এরপরে কুমড়ার ফুলগুলো একটি পাত্রে নিয়ে নিলাম
১৪: কুমড়ার ফুলগুলোতে ভাজি করা মাংস, মাছ,চিংড়ি এইগুলিকে ভালোভাবে ফুলের ভেতর ঢুকিয়ে ফুলের মুখগুলো আটকে দিলাম যাতে কোনো উপাদান বের হয়ে যেতে না পারে।
১৫:এমন করে সবগুলো ফুল তৈরি করে ভাজির জন্য একটি পাত্রে রেখে দিলাম।
১৬: ভাজির জন্য পরিমাণ মতন কড়াইতে তেল নিয়ে নিলাম।
১৭: তেলটি গরম হয়ে যাওয়ার সাথে সাথে ফুলগুলো ভাজির জন্য বেসনের পেস্ট ভালোভাবে ফুলগুলোতে মিশিয়ে নিলাম ।
১৮:এরপরে ভাজির জন্য একটি একটি করে সবগুলো ফুল কড়াই এর মাঝে ভাজির জন্য দিয়ে দিলাম।
১৯: সবগুলো ভাজি তৈরি হওয়ার পরে আমি একটি পাত্রের সেগুলিকে উঠিয়ে রাখলাম।
২০: ভাজি গুলো সুন্দরভাবে পরিবেশন করার জন্য বিভিন্ন ধরনের ফল দিয়ে সাজিয়ে তুললাম এবং কিছু ফটোগ্রাফি করে নিলাম।
খুব লোভনীও একটি রেসিপি শেয়ার করেছেন ভাইয়া। মাছ ,মাংস, চিংড়ি ,আলু ও কুমড়ো ফুলের চপ আগে কখনো খাইনি। তবে আপনার রেসিপিটি দেখেই বোঝা যাচ্ছে খেতে অনেক সুস্বাদু হয়েছে। আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ সুন্দর একটি পোস্ট আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য। আপনার জন্য অনেক অনেক শুভকামনা রইল।
ধন্যবাদ আপু
খুবই ইউনিক ধরনের একটি চপের রেসিপি তৈরি করে আপনি আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন সেইসাথে চলমান প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছেন দেখে খুবই ভালো লাগলো। মনে ধরনের চপের রেসিপি এই কমিউনিটিতে দেখেছি তবে আপনার মত করে এরকম ভাবে একত্রে আমিষ জাতীয় খাদ্য দিয়ে চপের রেসিপি দেখা হয়নি। মজাদার এই রেসিপিটি শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।
আপনাকেও ধন্যবাদ ভাইয়া
আসলেই রমজান মাস আসলে আমরা বিভিন্ন ধরনের চপ রেসিপি তৈরি করে খেয়ে থাকি। রমজান মাস উপলক্ষে সুন্দর একটা প্রতিযোগিতা আয়োজনের মাধ্যমে সবাই চেষ্টা করছি ইউনিকভাবে রেসিপি তৈরি করে শেয়ার করার। আপনি মাছ মাংস দিয়ে খুব সুন্দর করে চপ রেসিপি করেছেন দারুন লেগেছে আমার কাছে।
অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে আমার পোস্টটি দেখার জন্য
এভাবে যে চপ বানানো যায় সেটা আগে জানা ছিল না। আপনি সত্যিই মাছ-মাংস চিংড়ি আলু ও কুমড়ার ফুল দিয়ে একটি ইউনিট চপ বানানোর রেসিপি শেয়ার করেছেন। দেখে মনে হচ্ছে খেতে বেশি সুস্বাদু লাগবে। যাইহোক প্রতিযোগিতার জন্য শুভকামনা রইল ধন্যবাদ।
ধন্যবাদ ভাইয়া
প্রথমে আপনাকে এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করার জন্য অনেক ধন্যবাদ জানাই। আপনি আজ এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য খুবই ইউনিক চপ রেসিপি নিয়ে হাজির হয়েছে। এতগুলো উপকরণ দিয়ে খুবই সুস্বাদু ও মজাদার কুমড়া ফুলের চপ বানিয়েছেন। তবে আপনার প্রফাইলের পিক পরিবর্তন করে ফাইনাল ছবি সেখানে দিয়ে দেবেন। যাই হোক আমি খুব মনযোগ সহকারে আপনার রেসিপির ধাপগুলো দেখছিলাম। নিশ্চয়ই খেতে অনেক সুস্বাদু হয়েছিল। ধন্যবাদ ইউনিক ও মজাদার চপ রেসিপি শেয়ার করার জন্য।
আপনাকেও ধন্যবাদ আপু সময় করে আমার পোস্টটি দেখার জন্য
আপনার তৈরি করা এই রেসিপি এক কথায় অসাধারণ হয়েছে। তবে ফাইনাল ছবি উপরে দিতে হয় সবসময়। মিষ্টি কুমড়ার ফুল আমার ভীষণ প্রিয়। মাছ মাংস একসাথে এভাবে মিষ্টি কুমড়ার ফুল দিয়ে কখনো বড়া তৈরি করা হয়নি। সত্যি ভাইয়া আপনার রেসিপি আমার কাছে ভীষণ ভালো লেগেছে।
ধন্যবাদ আপু
খুবই ইউনিক একটি রেসিপি শেয়ার করেছেন ভাইয়া। মাছ মাংস চিংড়ি মাছ এবং কুমড়ো ফুল দিয়ে এত চমৎকার চপ তৈরি আমি এই প্রথম দেখেছি। আপনি এই রেসিপি তৈরি করতে নিশ্চয়ই অনেক সময় লেগেছে। কারণ অনেকগুলো ধাপ শেষ করা লাগছে। খেতেও নিশ্চয়ই খুব মজা হয়েছে। এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করার জন্য ধন্যবাদ।
হ্যাঁ আপু অনেকটা সময় লেগেছিল একটু সময় করে না তৈরি করলে খাবারটাও তো সুস্বাদু হবে না যাই হোক ধন্যবাদ আপু।
শুরুতেই আপনাকে অনেক অনেক অভিনন্দন জানাই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করার জন্য। মাছ,মাংস,চিংড়ি ও কুমড়ো ফুলের চপ রেসিপি টি আমার কাছে একেবারে নতুন একটি রেসিপি মনে হলো এবং দেখতে অসাধারণ লেগেছে। এইরকম করে কোনদিন চপ খাওয়া হয়নি। আশাকরি আপনার মতো করে একদিন বাসায় ট্রাই করে দেখবো খেতে কেমন লাগে।অসাধারণ চপের রেসিপি টি শেয়ার করার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া।
হ্যাঁ আপু আপনিও বাসায় তৈরি করে দেখুন আমার বিশ্বাস অনেক সুস্বাদু লাগবে খেতে। ধন্যবাদ আপু আমার পোস্টটি দেখার জন্য।
মাছ, মাংস, চিংড়ি, আলু আর কুমড়ো ফুল এতো গুলো উপকরণ একসঙ্গে মিশিয়ে চপ সত্যিই দারুণ আইডিয়া।আর আপনার চপ রেসিপি দেখতে ও অনেক ভালো হয়েছে দাদা। আর সাজানো অনেক সুন্দর। খেতেও খুব ভালো হয়েছিল।
নিজের তৈরি রেসিপি বলে বলছি না সত্যিই অনেক দারুন লেগেছিল খেতে ধন্যবাদ আপু আমার পোস্টটি দেখার জন্য।