"আমার বাংলা ব্লগ প্রতিযোগিতা-৪৫" শেয়ার করাও তোমার প্রিয় শাকের রেসিপি
হ্যাল্লো বন্ধুরা
প্রিয় আমার বাংলা ব্লগবাসী, সবাইকে আমার নমষ্কার /আদাব। আশা করছি আপনারা সকলে ভালো আছেন এবং সুস্থ আছেন। আমিও মহান সৃষ্টিকর্তার আশির্বাদে ভালো আছি।আজকের হেডলাইন দেখেই বুঝে ফেলেছেন আমি আজ আপনাদের সাথে আমার বাংলা ব্লগ প্রতিযোগিতা -৪৫ শেয়ার করো তোমার প্রিয় শাকের সেরা রেসিপি " এর অংশগ্রহণ পোষ্ট নিয়ে হাজির হয়েছি।
মূল রেসিপি শুরু করার আগে আমি ধন্যবাদ জানাতে চাই প্রিয় আমার বাংলা ব্লগের সম্মানিত প্রতিষ্ঠাতা, এডমিন ও মডারেটরগণদের। তারা প্রতিবারেই দারুণ দারুণ বিষয় নিয়ে প্রতিযোগিতার আয়োজন করে থাকেন। আমিও জয়েন করার পর থেকেই চেষ্টা করে যাচ্ছি প্রতিটি প্রতিযোগিতায় যতটুকু পারি, ততটুকু নিয়েই অংশগ্রহণ করার। এতে বেশ অন্যরকম ভালো -লাগা কাজ করে। আর বাকি সদস্যদের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ এর পোস্ট গুলো থেকেও দারুণ কিছু তো বরাবরই জানতে এবং শিখতে পাই। আমি আজকে যে রেসিপিটি শেয়ার করতে চলেছি তা হলো মাছের মাথা ও পুঁই শাক দিয়ে মজাদার সবজি রেসিপি। শাকের রেসিপি গুলোর মধ্যে এটি আমার খুব প্রিয় একটি খাবার। তাই এবারের প্রতিযোগিতায় এই সহজ কিন্তু মজাদার রেসিপি টি নিয়েই অংশগ্রহণ করলাম। আশা করবো আপনাদের সবার ভালো লাগবে।
| উপকরণ সমূহঃ |
|---|
| পুই শাক |
| কাতল মাছের মাথা |
| মিষ্টি কুমড়া |
| আলু |
| পটল |
| পেয়াজ কুচি |
| কাচা মরিচ |
| আদা-রসুন বাটা |
| লবণ |
| সয়াবিন তেল |
| চিনি |
| পাচফোঁড়ন |
| শুকনো লঙ্কা |
| তেজপাতা |
| জিরা গুড়া |
| ধনিয়া গুড়া |
| হলুদ গুড়া |
| লাল মরিচের গুড়া |
নোট: আমি পরিমাণ উল্লেখ করি নি কারণ সবকিছুর পরিমাণ নির্ভর করবে মাছের মাথা কত টুকু ব্যবহার করছি, তার উপর।
রন্ধনপ্রণালীঃ
ধাপ-১ :
প্রথমে চুলায় কড়াই বসিয়ে দিয়ে বেশি করে তেল দিয়ে দিবো মাছের মাথা ভেজে নেয়ার জন্য। মাছের মাথাটা লবণ-হলুদ দিয়ে মাখিয়ে গরম তেলে দিয়ে ভালো করে উলটে পালটে লাল করে ভেজে নিবো, যেন কাচা গন্ধ না থাকে। ভালোভাবে ভাজা হয়ে গেলে তুলে রেখে দিবো।
ধাপ-২ :
এবারে একই তেলে প্রথমে পাচফোঁড়ন, শুকনো মরিচ আর তেজপাতা দিয়ে কিছুক্ষণ ভেজে নিবো। তারপর পেয়াজ কুচি এড করে ভেজে নিবো। এরপর তেলে আদা-রসুন বাটা দিয়ে ভালো করে ভেজে নিবো। আদা-রসুন বাটা ভালো করে ভাজা হলে এর মধ্যে প্রথমে আলু গুলো দিয়ে দিবো কারণ এই তরকারিতে ব্যবহার করা সব্জিগুলোর মধ্যে আলুটাই হতে বেশি সময় লাগে।
ধাপ-৩ :
মিনিট পাঁচেকের মতোন আলুটা ভাজা হলে এবারে এর মধ্যে পটল এবং মিষ্টিকুমড়া দিয়ে ভেজে নিবো। একটু ভেজে চুলার আঁচ কমিয়ে ঢাকনা দিয়ে ঢেকে দিবো যেন সবজি গুলো কম আঁচে ভালো মতোন সেদ্ধ হতে পারে।এই রান্নায় আমি এডিশোনাল কোন জল ব্যবহার করবো না।
ধাপ-৪ :
সবজি গুলো মোটামুটি সিদ্ধ হয়ে এলে এর মধ্যে গুড়া মসলা গুলো দিয়ে ভালো করে কষিয়ে নিবো।
ধাপ-৫ :
এবারে পুঁই শাকের ডাটা আর বেগুন যোগ করে আবারো কম আচে ঢেঁকে দিবো অল্প কিছুক্ষণের জন্য। তারপর পুঁই এর পাতা গুলো যোগ করে ঢেকে দিবো। এপর্যায়ে সব সবজি এঁটে এলে পরিমাণ মতো লবণ যোগ করে দিবো।
ধাপ-৫ :
পুঁই শাক এর পাতা দিয়ে যে জল বের হবে তা দিয়েই ডাটাসহ সবজি গুলো ভালো মতোই সেদ্ধ হয়ে যাবে। এই পর্যায়ে একটু জল থাকা অবস্থাতেই কাতল মাছের মাথা টা দিয়ে দিবো। এবং খুন্তি দিয়ে নেড়ে নেড়ে মাথা টা কিছুটা ভেঙে মিশিয়ে দিবো।
প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করার জন্য প্রথমেই আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাতে চাই আপু। আপনি আপনার প্রিয় শাকের রেসিপি আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন এটা জেনে খুবই ভালো লাগলো। রেসিপিটা তৈরি করতে দেখছি আপনি অনেক ধরনের উপকরণ ব্যবহার করেছেন।
ধন্যবাদ ভাই। অনেক উপকরণ, তবে সবগুলোই হাতের কাছের উপকরণ আর কি।
এখন চারিদিকে পুইশাক পাওয়া যায় আর পুইশাক খুবই দারুন একটি সবজি।অবশ্য এটা ঠান্ডা রোগিদের না খাওয়া ভাল৷ অনেক সুন্দর হয়েছে আপনার করা রেসিপি টা আপনার জন্য শুভ কামনা রইলো।
ঠান্ডার রোগীদের না খাওয়াই ভালো কেন ভাই? সমস্যা হয় বুঝি? আমার জানা নেই...।
পুঁইশাকের সাথে মাছের মাথা আর বিভিন্ন সবজি দিয়ে খুবই মজাদার রেসিপি তৈরি করেছেন। আপনার রেসিপি দেখে মনে হচ্ছে খেতে খুবই সুস্বাদু হয়েছিল। এভাবে কখনো রেসিপি তৈরি করা হয়নি। আপনার উপস্থাপনা আরও বেশি সুন্দর হয়েছে। ধন্যবাদ ইউনিক রেসিপি শেয়ার করার জন্য। আপনার জন্য শুভকামনা রইল।
এভাবে বিভিন্ন সবজি দিয়ে পুইশাক খেতে আসলেই বেশ মজার আপু। আর সাথে মাথের মাথা সেই স্বাদ আরো বাড়িয়ে দেয়।
প্রতিযোগিতা অংশগ্রহণ করা দেখতে পেয়ে খুবই ভালো লাগলো। আপনি খুবই মজাদার শাকের রেসিপি তৈরি করেছেন। এই রেসিপি পরিবেশন ও অসাধারণ হয়েছে দেখে খুবই ভালো লাগলো।
ধন্যবাদ রায়হান ভাই।
দিদি রেসিপি কি খাওয়া শেষ? আমাকে একটু বললেই তো হতো অফিস থেকে আধ ঘন্টার ছুটি নিয়ে চলে আসতাম আপনার রেসিপিটি খেয়ে রিভিউ দেওয়ার জন্য। বেশ দারুন একটি রেসিপি নিয়ে আপনি অংশ গ্রহন করলেন। শুভ কামনা রইল আপনার জন্য।
রাতে আসেন আপু। আপনার জন্য রেখে দিয়েছি... 😃
আপনার প্রিয় শাকের কথা আমরা জানতে পেরে গেলাম এবং আপনার প্রিয় শাকের রেসিপিটিও শিখে নিলাম। আর আপনি এই রেসিপি তৈরির মাধ্যমে প্রতিযোগিতা অংশগ্রহণ করেছেন দেখে খুবই ভালো লাগলো।
ধন্যবাদ বিজয় ভাই।