"আমার বাংলা ব্লগ" প্রতিযোগিতা -৩৮: নকশী হাতের এমব্রয়ডারি ওয়ালমেট তৈরি।
হ্যালো বন্ধুরা,
সবাই কেমন আছেন। আশা করি আল্লাহর রহমতে সবাই ভাল আছেন। আলহামদুলিল্লাহ আমিও আল্লাহর রহমতে ভালো আছি। আজকে আপনাদেরকে অন্যরকম একটি জিনিস তৈরি করে দেখাবো। এইজন্য সবার প্রথমে আমাদের প্রিয় দাদাকে জানাই অনেক অনেক ধন্যবাদ। এবার দ্বিতীয় বর্ষ উপলক্ষে আমাদের মাঝে এত সুন্দর একটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করার জন্য। হাতের কাজ করতে বরাবরই আমার ভীষণ ভালো লাগে। এজন্য আমি হাতের কাজ করতে খুবই পছন্দ করি। যখন প্রতিযোগিতা দেওয়া হয়েছে তখনই ভেবে নিয়েছিলাম আমি নকশী কাজের মত হাতের এমব্রয়ডারি করব। এই কাজটা করা কিন্তু খুবই কঠিন। কারণ আমরা অনেকেই হাতে সেলাই করার কাজটা কম পারি। কিন্তু এই কাজটা আমার ভীষণ প্রিয়। আমি এর আগে হাতে অনেক কিছুই সেলাই করেছি। কিন্তু এবার আমার জন্য কাজটা করা খুবই কঠিন হয়ে পড়েছিল। যেহেতু মাইসুন খুবই ছোট। সেজন্য হাতের কাজ করাটা ও বেশি কঠিন। কিন্তু তারপরেও আমি প্রথম দিন থেকেই চিন্তা ভাবনা করে কাজটা হাতে নিয়েছি। যদিও এটা একদিনে করা কখনোই সম্ভব না। তার জন্য আমি প্রতিদিন সময় করে একটু একটু করে পুরো কাজটা সম্পূর্ণ করি। এখানে আমি মূলত আমার বাংলা ব্লগের একটি লোগো এঁকেছি। তার ভিতরে আমার বাংলা ব্লগের দ্বিতীয় বর্ষ উদযাপন লিখলাম। আর তার সাথে একটা মেয়ে উৎসব পালন করছে এইরকম ভাবে আঁকলাম। তার সাথে আবার কয়েকটা বেলুন এবং একটা ইমোজি এর মত এঁকে নিলাম। একটু একটু করে হাতে সেলাই এর কাজটা করতে আমার প্রায় চার দিনের মত সময় লেগেছিল। কিন্তু পুরো কাজটা সম্পন্ন করতে পেরে আমার কাছে ভীষণই ভালো লেগেছে। সেলাই করার পর এটাকে ওয়ালমেটে তৈরি করলাম। আশা করি আমার হাতে তৈরি নকশি এমব্রয়ডারি ওয়ালমেট আপনাদের ভালো লাগবে।
উপকরণ
✓ সাদা কাপড়
✓ সুঁই
✓ সুতা
✓ কাঁচি
✓ কলম
✓ লেচ
✓ কার্ডবোর্ড
বিবরণ :
ধাপ - ১ :
প্রথমে আমি একটি সাদা কাপড় নিলাম। তারপরে কলমের সাহায্যে একটা লোগো এঁকে নিলাম। এরপর লোগোটির ভেতরে দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি লেখাটি লিখে নিলাম। এরপর উপরের অংশে আমার বাংলা ব্লগ লেখাটি ইংরেজিতে লিখলাম।
ধাপ - ২ :
দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি লেখাটির নিচে উদযাপন লেখাটি লিখে নিলাম। তার পাশে ছোট্ট একটা মেয়ে এঁকে নিলাম। লোগোটির একপাশে তিনটি বেলুন এঁকে নিলাম।
ধাপ - ৩ :
এরপর সুঁই এবং কালো সুতা নিলাম। সুঁই, সুতার সাহায্যে বেলুনের দড়ি সেলাই করে নিলাম।
ধাপ - ৪ :
তারপরে সবুজ রঙের সুতা নিলাম। এরপর লোগোটির একপাশ সবুজ রঙের সুতার সাহায্যে সেলাই করে নিলাম।
ধাপ - ৫ :
তারপরে নিজের অংশে থাকা লোগোর আরেকটা চিহ্নের ভেতরে সবুজ রঙের সুতা দিয়ে সেলাই করতে লাগলাম
ধাপ - ৬ :
এভাবে সবুজ রঙের সুতার সাহায্যে খুব সুন্দরভাবে সেলাই করে নিয়েছি।
ধাপ - ৭ :
তারপরে উপরের অংশে থাকা লোগোর পাতাটির ভেতরে সবুজ রঙের সুতার সাহায্যে সুন্দর করে এপাশ ওপাশ সেলাই করে নিলাম।
ধাপ - ৮ :
তারপরে গোলাপি রংয়ের উল সুতা দিয়ে দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি লেখাটির ভেতরে সেলাই করে নিলাম।
ধাপ - ৯ :
এরপর উদযাপন লেখাটির ভেতরে সেলাই করে নিলাম। তারপরে মেয়েটির শরীরের উপরের অংশে লাল রঙের সুতা দিয়ে সেলাই করে নিলাম। এরপর কালো রঙের সুতা দিয়ে মেয়েটির চুল সেলাই করে নিলাম। তারপরে জামার নিচের অংশে লেচ লাগিয়ে সেলাই করলাম।
ধাপ - ১০ :
তারপর দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি লেখাটির উপরের অংশে একটা ফুল সেলাই করে নিলাম।
ধাপ - ১১ :
তারপরে ফুলের দুই পাশে সবুজ রং করে নিলাম। এরপর ইংরেজিতে আমার বাংলা ব্লগ লেখাটির ভেতরে সেলাই করে নিলাম ভিন্ন রকমের সুতা দিয়ে। লেখাটির চারপাশে কলম দিয়ে দাগ দিয়ে দিলাম। এরপর উপরের অংশে ডিজাইন করে সেলাই করলাম।
ধাপ - ১২ :
এরপর বেলুন গুলোর ভেতরে বিভিন্ন রং এর সুতা দিয়ে সেলাই করে নিলাম। এরপর একটা কার্ড বোর্ডের উপরে ব্লু গান লাগিয়ে কাপড়টি জোড়া লাগিয়ে নিলাম।
শেষ ধাপ :
আমার নাম আকলিমা আক্তার মুনিয়া। আর আমার ইউজার নাম @bdwomen। আমি বাংলাদেশে বসবাস করি। বাংলা ভাষা হল আমাদের মাতৃভাষা আর আমি মাতৃভাষা বলতে পারি বলেই অনেক গর্বিত। আমি বিভিন্ন ধরনের ছবি এবং পেইন্টিং আঁকতে খুবই পছন্দ করি। আমি প্রায় সময় বিভিন্ন ধরনের পেইন্টিং এঁকে থাকি। আবার রঙিন পেপার এবং বিভিন্ন রকমের জিনিস দিয়ে নানা ধরনের কারুকাজ তৈরি করতে আমার খুবই ভালো লাগে। আবার নিজের বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে ছবি তুলতে খুবই ভালো লাগে। আমি চেষ্টা করি সব ধরনের জিনিস কখনো না কখনো একবার করে করার জন্য। আবার বিভিন্ন ধরনের আইডিয়া মাথায় আসলে সেগুলো ও করার চেষ্টা করি।
কাপড়ের ওপর রঙিন সুতা দিয়ে এই ধরনের জিনিসগুলো তৈরি করলে সেটা দেখতে সত্যিই অনেক সুন্দর দেখায়। কিন্তু এই ধরনের জিনিসগুলো তৈরি করার জন্য প্রচুর পরিমাণে পরিশ্রমের প্রয়োজন হয়।
চেষ্টা করেছি শুধু দিয়ে সুন্দরভাবে নকশি করে প্রতিযোগিতায় আপনাদের সাথে শেয়ার করার জন্য।
https://twitter.com/bdwomen2/status/1666784204385038336?t=ImgS4eRHv_G7cm7dhahsfg&s=19
আপনার এই কাজটা আমার কাছে অনেক বেশি ভালো লেগেছে। সুঁই সুতা ব্যবহার করে খুব সুন্দর করে এই কাজটা সম্পূর্ণ করেছেন আপনি। মেয়েটার জামার মধ্যে লেচ দেওয়ার কারণে একটু বেশি সুন্দর লাগছে দেখতে। দেখে বুঝতে পারছি অনেক সময়ের প্রয়োজন হয়েছে এই কাজটা করতে। স্টিমিট লোগো টা খুবই সুন্দরভাবে সম্পূর্ণটা সেলাই করেছেন। অনেক দক্ষতার প্রয়োজন হয় এরকম কাজগুলো করতে। সত্যি আপনার দক্ষতার প্রশংসা তো অবশ্যই করতে হয়।
আমার নিজের কাছেও মেয়েটাকে তৈরি করার পরে অনেক ভালো লেগেছে। আপনার মন্তব্য পড়ে খুবই উৎসাহিত হলাম।
বাহ আপু দেখে তো মুগ্ধ হয়ে গেছি আপনি তো অনেক সুন্দর একটি ওয়ালমেট তৈরি করলেন হাতে এমব্রয়ডারি করে অসাধারণ হয়েছে। আসলে এমন সুন্দর প্রতিযোগিতার আয়োজন করলে বেশ ভালো লাগে প্রতিনিয়ত সুন্দর কিছু দেখতে পাই। অনেক শুভকামনা রইল আপনার জন্য প্রতিযোগিতা অংশগ্রহণ করার জন্য।
চেষ্টা করেছি প্রতিযোগিতায় আপনাদের সাথে সুন্দর ভাবে অংশগ্রহণ করার জন্য।
অসাধারণ সুন্দর একটি ডাই প্রজেক্ট তৈরি করেছেন আপনি। আপনার তৈরি নকশী হাতের এমব্রয়ডারি ওয়ালমেটটি দেখতে অসাধারণ সুন্দর লাগছে।এমব্রয়ডারি ওয়ালমেটটির ডিজাইন আমার কাছে সব চাইতে বেশি ভালো লেগেছে। একই সাথে উলের ব্যবহারটা আমার কাছে আরও বেশি ভালো লেগেছে। চমৎকার একটি ডাই পোস্ট আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
আমার ডাই প্রজেক্ট আপনার কাছে অনেক ভালো লেগেছে জেনে খুশি হলাম।
প্রথমেই আপনাকে অভিনন্দন জানাচ্ছি এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করার জন্য। নকশী হাতের এমব্রয়ডারি ওয়ালমেট দেখে তো মুগ্ধ হয়ে গিয়েছি আপু। আপনার দক্ষতার প্রশংসা না করে পারলাম না। এই ধরনের কাজে সৃজনশীলতার প্রকাশ ঘটে। অত্যন্ত নিখুঁত একটি কাজ আমাদেরকে উপহার দিয়েছেন। সেজন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে। আপনার জন্য শুভকামনা রইল।
আমার নকশী হাতের এমব্রয়ডারি ওয়ালমেট দেখে মুগ্ধ হয়েছেন শুনে খুশি হলাম ধন্যবাদ আপনাকে।
প্রথম আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই আপু। খুব সুন্দর ভাবে কাপড়ের উপর রঙিন সুতা দিয়ে আপনি দারুন একটি ডাই পোস্ট তৈরি করেছেন। আপনার এত সুন্দর পোস্ট তৈরি করা দেখে আমার অনেক ভালো লেগেছে। প্রত্যেকটা পর্যায় ছিল অসাধারণভাবে উপস্থাপনা।
আপনার অসাধারণ মন্তব্য শুনে ভালো লাগলো তাই আপনাকে ধন্যবাদ।
প্রথমত প্রতিযোগিতা অংশগ্রহণ করার জন্য আপনাকে অনেক অনেক অভিনন্দন আপু। আসলে এই ধরনের হাতের কাজগুলো করতে অনেকটাই সময় লাগে আর চার দিন ধৈর্য ধরে করার মত ধৈর্য আমার নেই, এক্ষেত্রে আপনি প্রশংসার যোগ্য।তবে দেখতেও কিন্তু বেশ ভালো লাগছে। শুভকামনা রইল আপনার জন্য।
ধৈর্য ধরে করলে কিছু তার সুফল পাওয়া যায়। অনেক সুন্দর মন্তব্য করাই ধন্যবাদ আপনাকে।