আমার বাংলা ব্লগ প্রতিযোগিতা-৩৪ |"চিড়ার শরবত"|
"হ্যালো বন্ধুরা"
সবাইকে আমার নমস্কার,আদাব।আশাকরি আপনারা সকলেই ভালো আছেন,সুস্থ আছেন?ঈশ্বরের অশেষ কৃপায় আমিও পরিবারের সবাইকে সাথে নিয়ে ভালো আছি,সুস্থ আছি।
প্রথমেই সবাইকে জানাই পবিত্র মাহে রমজান এর শুভেচ্ছা। রমজান মানে সংযম। সারাদিন পানাহার ব্যতীত থাকার পর ইফতারে আমাদের প্রয়োজন হয় রিফ্রেশিং কোন শরবত। এই প্রয়োজনীয়তা খেয়াল রেখেই আমাদের বিজ্ঞ ফাউন্ডার, অ্যাডমিন ও মডারেটর মহাশয় গণ একটি সময়োপযোগী প্রতিযোগীতার আয়োজন করেছেন।
এই প্রতিযোগীতার ঘোষণা দেখার পরেই ভাবতে বসলাম কি বানানো যায়।তখন মনে পড়ল স্যালাইন আবিষ্কারের আগে শরীরের পানিশূণ্যতা পূরণের জন্য রোগীকে চিড়া খাওয়ানো হত,সেই সাথে চিড়ার পানি।তাই ভাবলাম চিড়া দিয়ে কিছু বানানো যাক। কারন সারাদিন পানি পান না কররার ফলে শরীরে এমনি পানির ঘাটতি থাকে।তাই আমি আপনাদের মাঝে নিয়ে আসলাম চিড়া দিয়ে বানানো শরবত। যা শরীরকে রিফ্রেশ করার সাথে সাথে শরীরের পানির ঘাটতি পূরণ করে।
| উপকরণ | পরিমাণ |
|---|---|
| চিড়া | ১ কাপ |
| টকদই | ১ কাপ |
| পাকা কলা | ২ টা |
| কাজুবাদাম | ৬-৮ টা |
| কাঠবাদাম | ৬-৮ টা |
| কিসমিস | ১০-১৫ টা |
| চিনি | স্বাদমতো |
| ঠান্ডা জল | হাফ লিটার |
| লবণ | স্বাদমতো |
ধাপ-১
এক কাপ চিড়া একটা বাটিতে নিয়ে ভালো করে ধুয়ে সামান্য পরিমাণে জল দিয়ে ভিজিয়ে রেখেছি।
ধাপ-২
কাজুবাদাম,কাঠবাদাম,খেজুর,কিসমিস গুলো একটা বাটিতে নিয়ে ভালো করে ধুয়ে নিয়ে সামান্য পরিমাণে জল দিয়ে ভিজিয়ে রেখেছি কয়েক ঘন্টার জন্য।
ধাপ-৩
বাদাম গুলো জল ঝড়িয়ে নিয়ে কুঁচি কুঁচি করে কেটে নিয়েছি খেজুরের বিচি ফেলে দিয়ে তার মধ্যে সামান্য পরিমাণে টকদই দিয়ে ব্লেন্ড করে নিয়েছি।
ধাপ-৪
এবার কলা খোসা ছাড়িয়ে নিয়েছি তারপর ছোট ছোট টুকরো করে কেটে নিয়ে ব্লেন্ড করা বাদাম গুলোর মধ্যে দিয়ে ভালো করে ব্লেন্ড করে নিয়েছি।
ধাপ-৫
এবার ভেজানো চিড়া অল্প অল্প করে নিয়ে সবগুলো ব্লেন্ড করে নিয়েছি।
ধাপ-৬
এবার বাকি টকদই,চিনি স্বাদমতো লবণ দিয়ে সবগুলো উপকরণ ভালো ব্লেন্ড করে নিয়েছি।
ধাপ-৭
এবার হাফ লিটার পরিমাণ ফ্রিজেের ঠান্ডা জল দিয়ে সবগুলো উপকরণ ভালো ভাবে ব্লেন্ড করে মিশিয়ে নিয়েছি।
ধাপ-৮
এবার সার্ভিং গ্লাসে শরবত ঢেলে নিয়েছি।
ধাপ-৯
একটা বেদানা নিয়ে কিছু পরিমাণে দানা বের করে নিয়েছি।তারপর কাজুবাদাম,কাঠবাদাম কুঁচি কুঁচি করে কেটে নিয়েছি সাজানোর জন্য।
ধাপ-১০
শরবত এর গ্লাস দুটো একটা ট্রের উপরে বসিয়ে নিয়েছি,তারপর শরবত এর উপর দিয়ে বেদানার দানা ও বাদাম কুঁচি ছড়িয়ে দিয়ে একটা পুদিনা পাতা ও শসা স্লাইস করে কেটে নিয়ে সাইডে বসিয়ে দিয়ে সাজিয়ে নিয়েছি।তারপর দুটো ট্র শরবত এর মাঝে বসিয়ে দিয়েছি।ট্রের দুপাশে কিছু বাদাম কুঁচি আনাড়ের দানা ছড়িয়ে সাজিয়ে নিয়েছি।
পরিবেশন
আজ হিরা ভাবি,রিতু ভাবি,বৃত্ত আমরা সবাই মিলে আমার বাসায় ইফতার পার্টির আয়োজন করা হয়েছিলো তাই শরবত টি বানিয়ে সবাই মিলে অনেক মজা করে খেলাম।
এই ছিলো আমার আজকের আয়োজন,আশাকরি আপনাদের সবার অনেক ভালো লাগবে।সবাই ভালো থাকবেন,সুস্থ থাকবেন এই প্রত্যাশা করে আমি আমার আজকের ব্লগ টি শেষ করছি।
ধন্যবাদ সবাইকে।
VOTE @bangla.witness as witness
OR SET @rme as your proxy
আমি অতসী চাকী (বৃষ্টি) । নতুন নতুন রেসিপি বানিয়ে সবাইকে খাওয়াতে আমার ভাল লাগে। আর ভাল লাগে নতুন নতুন জায়গা ভ্রমণ করতে। আমি "ভাল কাজের, ভাল ফল কথাটাতে" মনে প্রাণে বিশ্বাস করি এবং মেনে চলার চেষ্টা করি।
OR
চিড়া এবং বিভিন্ন ধরনের পুষ্টিকর খাবারের মিশ্রণে অনেক মজাদার একটি শরবত প্রস্তুত করেছেন দেখেই তো লোভ হচ্ছে খুব করে।।
বিশেষ করে খেজুর কিসমিস কাজুবাদাম মিশ্রণে এমনভাবে কখনো শরবত প্রস্তুত করে আমার খাওয়া হয়নি প্রথমবার আপনার কাছ থেকে এত সুন্দর আইডিয়া পেলাম তবে আমার কাছে খুবই খুবই ভালো লেগেছে।।
খেতে যে খুব মজাদার হয়েছিল এ আর বলার অপেক্ষা রাখে না।।
অনেক গুলো পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ উপকরণ এর সমন্বয়ে চিড়ার শরবত টি তৈরি করা হয়েছে তাই খেতে যেমন সুস্বাদু হয়েছে সেই সাথে স্বাস্থ্যের জন্যও বেশ উপকারী।ধন্যবাদ ভাইয়া।
দারুন দেখলাম দিদি ভাই একদম ইউনিক শরবত রেসেপি ৷ চিড়া দিয়ে সাথে অনেক ফলমুল একসাথে ভালো লাগলো ৷ শেষে দেখলাম বৃত্ত ভাই , হীরা আপু আপনার পরিবার সহ সবাই মিলে এনজয় ৷ সবমিলে বেশ ভালোই লাগলো এমন সুন্দর শরবত রেসেপি দেখে ৷
হ্যাঁ ভাই আজকে আমরা সবাই মিলে ইফতার পার্টির আয়োজন করেছিলাম তাই সবাই একসাথে। সুন্দর মন্তব্য করার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ ভাই।
চিড়ার শরবত দেখে খুবি সুস্বাদু মনে হচ্ছে। আপনার রেসিপি পরিবেশন দেখে ইউনিক লেগেছে। ধাপে ধাপে শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ আপু।
সুন্দর মন্তব্য করেছেন তার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই ভাইয়া।
গতকাল থেকে আমাদের মাঝে একটি কনটেস্ট শুরু হয়েছে আপু। কনটেস্ট শুরু হওয়ার সাথে সাথে আপনি দেখছি দারুন একটি পোস্ট শেয়ার করেছেন প্রতিযোগিতার। সত্যি আপনি ইউনিক একটি শরবতে রেসিপি তৈরি করেছেন। আসলে আগে আমি কখনো দেখিনি চিড়ার শরবতের রেসিপি এই প্রথম দেখলাম। ধন্যবাদ আপনাকে এত সুন্দর একটি পোস্ট তৈরি করে শেয়ার করার জন্য।
জ্বি ভাইয়া গতকাল কনটেন্ট এর ঘোষণা দেখার পরেই ভাবলাম চিড়ার শরবত বানিয়ে সবাইকে খাওয়াবো এবং সেই রেসিপি টি শেয়ার করবো। ধন্যবাদ ভাইয়া।
জুসটা খেতে অনেক মজা হয়েছিল আমি খেয়েছি। আর খুব তৃপ্তি পেয়েছি। যাইহোক সবাই মিলে বেশ ভালো সময় কেটেছে। মাঝেমধ্যে এমন সময় কাটালে বেশ ভালোই লাগে। ধন্যবাদ বৌদি সুন্দর একটি জুস তৈরি করে আমাদের কে খাওয়ানোর জন্য।
ঠিক বলেছেন ভাবি মাঝে মধ্যে এরকম সবাই মিলে খাওয়াদাওয়া করলে অনেক ভালো লাগে।আপনাকেও অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই ভাবি আমার শরবত এর প্রশংসা করার জন্য।
প্রথমেই বলব আইডিয়াটা একদম পুরোপুরি ইউনিক। কখনো চিন্তা করিনি যে চিড়া দিয়ে ও শরবত তৈরি করা যায়। সবাই মিলে একসাথে ইফতার করার সময় এই শরবতের টেস্ট বোধহয় ভালই উপভোগ করেছেন।
জ্বি ভাইয়া সবাই মিলে একসাথে বসে ইফতার করার সময় চিড়ার শরবত টি অনেক মজা করে খেয়েছিলাম।সুন্দর মন্তব্য করার জন্য অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া।
প্রথমে আপনাকে জানাই অনেক অনেক শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করার জন্য। আপনি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছেন দেখে ভীষণ ভালো লেগেছে। হীরা ভাবি, রিতু ভাবি, বৃত্ত আপনারা সবাই ইফতার পার্টিরা আয়োজন করেছিলেন এবং সেখানে এই শরবত বানিয়ে খেয়েছিলেন সবাই মিলে বেশ মজা করে দেখে বুঝতে পারছি। যাইহোক ভালো লাগলো আপনার ইউনিক শরবতের রেসিপি।
অনেক দিন ধরেই ভাবছিলাম সবাই মিলে একসাথে ইফতার পার্টি করবো,আজকে তাই করেই ফেললাম। ভাবলাম রোজার দিনে সবাইকে এমন একটা শরবত বানিয়ে খাওয়াই যাতে করে সবার ভালো লাগে এবং সেই সাথে সকলের শরীরের ক্লান্তিও দূর হয়ে যায়। ধন্যবাদ ভাইয়া।
যদিও আমার কখনো এই ধরনের খাবার খাওয়া হয়নি। তবে খাবারটি চেয়ে অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর সেটা বোঝা যাচ্ছে। আসলে ঠিক বলেছেন। সারাদিন রোজা থাকার পর শরীরের পানির ঘাটতি পূরণের জন্য এই ধরনের একটি ড্রিঙ্কস হলে মন্দ হয় না। দারুন হয়েছে আপনার রেসিপিটি। ধন্যবাদ আপনাকে।
একদম ঠিক বলেছেন ভাইয়া এই শরবত টি খেতে যেমন সুস্বাদু সেই সাথে স্বাস্থ্যকরও বটে।যেকোনো কিছু খাওয়ার আগে সেই খাবারের স্বাস্থ্য উপকারিতা এবং স্বাদের কথা চিন্তা করে তৈরি করা উচিত বলে আমি মনে করি ভাইয়া।তাতে করে আমার দুদিক থেকেই লাভবান হতে পারি,যেমন সুস্বাদু খাবার খেতে পারছি এবং সেই সাথে স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে শরীরের ক্লান্তিও দূর করতে পারছি।এসব চিন্তা মাথায় রেখে আমি আমার আজকের চিড়ার শরবত টি তৈরি করেছিলাম ভাইয়া।অনেক অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া।
আপনি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহন করেছেন জেনে খুব ভাল লাগছে। ঠিক বলেছেন সারাদিন রোজা রেখে রিফ্রেশিং কোন শরবত না হলে ক্লান্তি ভাবটা যায় না। আপনি আজ খুবই মজাদার এবং পুষ্টি যুক্ত শরবত বানিয়ে আমাদের সাথে শেয়ার করেছেন। শরবত বানাতে যা যা উপাদান ব্যবহার করেছেন সাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। সবাই এভাবে একসাথে ইফতার করছেন দেখে খুবই ভাল লাগছে। শ্যাম ভাইকে দেখে বেশি ভাল লাগছে।
জ্বি ভাইয়া,সারাদিন রোজা রাখার পর যদি ভালো কিছু না খাওয়া যায় তাতে করে শরীরের ক্লান্তি কোনভাবেই পূরণ করা যায় না।তাই সকলের উচিত রোজা থেকে দিন শেষে পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যসম্মত কিছু খাবার খাওয়া। হ্যাঁ সবাই মিলে ইফতার করতে পেরে আমাদেও অনেক ভালো লেগেছে। ধন্যবাদ ভাইয়া।
দারুন একটি শরবত তৈরি করেছেন আপু চিড়ার তৈরি অসাধারণ হয়েছে দেখতে। যে জুস এত সুন্দর তৈরি সেটা না জানি কত মজার হয়েছে। ঠিক বলছেন সারাদিন রোজা রেখে অনেক তৃষ্ণা লাগে কিন্তু ইফতারের সময় যদি এমন মজাদার শরবত থাকে তাহলে তো একদম ঠান্ডা হয়ে যাবে পুরো শরীর। সাথে জুস বানানো একই সাথে ইফতারের পার্টি দারুন একটি সময় কাটিয়েছেন। প্রতিযোগিতার অংশগ্রহণ করার জন্য অনেক ধন্যবাদ।
জ্বি আপু দেখতে যেমন সুন্দর হয়েছে খেতেও ঠিক তেমনই সুস্বাদু হয়েছিলো চিড়ার শরবত টি।সারাদিন পর যদি এরকম এক গ্লাস শরবত পান করা যায় তাহলে শরীর ও মন দুই ভালো হয়ে যাবে। সবাই মিলে অনেক মজা করে ইফতার পার্টি করেছি আপু।অনেক অনেক ধন্যবাদ আপু।