প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ।। চিংড়ি মাছের কিমা দিয়ে মুচমুচে সমুচা বানানোর রেসিপি।
প্রিয় আমার বাংলা কমিউনিটির ভাইবোন বন্ধুরা,
আশা করি আপনারা সবাই ভাল আছেন আমি আল্লাহর অশেষ রহমতে ভালো আছি।
| উপকরণের নাম | পরিমাণ |
|---|---|
| চিংড়ি মাছ | ৮ টি |
| আটা | ১ কাপ |
| পিঁয়াজ | ৫ টি |
| কাঁচা মরিচ | ৮ টি |
| গুঁড়া মরিচ | ১ টেবিল চামচ |
| ধনেপাতা | পরিমাণ মতো |
| লবণ | স্বাদমতো |
| সয়াবিন তেল | পরিমাণ মতো |
| চাট মসলার গুঁড়া | ১ টেবিল চামচ |
| গরম মসলার গুঁড়া | ১ টেবিল চামচ |
| জিরা ও ধনিয়া গুঁড়া | ১ টেবিল চামচ |
| হলুদ | হাফ টেবিল চামচ |
| পানি | পরিমাণ মতো |
প্রথমে চিংড়ি মাছ গুলোকে কিমা বানিয়ে নিলো। এবং মরিচ,পেঁয়াজ ও ধনেপাতা গুলোকে কুঁচি কুঁচি করে কেটে নিলো।
| - | - |
এরপর এক কাপ আটা একটা পাত্রে নিয়ে, আটা গুলোকে লবণ ও পানি দিয়ে মাখিয়ে নিব। এবং আটা মাখানোর উপরে একটু সয়াবিন তেল দিয়ে সেগুলোকে ঢেকে রাখব।
এরপর চিংড়ির কিমা গুলোকে একটু লবণ ও হলুদ গুঁড়া মাখিয়ে সেগুলোকে ভেঁজে নিয়ে রেখে দেব।
এরপর আটাগুলোকে বেলার জন্য কয়েকটা টুকরো করে নিলো। এবং উপরে একটু তেল মাখিয়ে নিল।
এরপর আটার একটি টুকরোকে পরোটা আকৃতি করে বেলে নিব। এবং বাকিগুলোকে আবার ঢেকে রেখে দিল। এভাবে পরপর তিনটা বেলে নিল।
তারপর একটা পরোটা নিল। এবং তার ওপর একটু তেল এবং হালকা আটা মাখিয়ে নিলো, এবং এর ওপর আরেকটা পরোটা দিয়ে দিল। তারপর আবার প্রথমবারের মতো একটু তেল ও একটু আটা দিয়ে আরেকটা পরোটা বসিয়ে দিল।
এরপর তিনটা পরোটাকে একসাথে বেলে নিল। এভাবে বেলার একটাই কারণ যাতে রুটিগুলো পাতলা পাতলা হয়।
| - | - |
যাইহোক এরপরে রুটিগুলোকে আলাদা করার জন্য চুলাই একটা তাওয়া বসিয়ে একটু গরম করে নিল। তারপর লেগে থাকার তিনটা রুটি তাওয়ার উপর দিয়ে এপিঠ ওপিঠ গরম করে নিল। ব্যাস এভাবে গরম করে নেওয়াতে রুটিগুলো আলাদা হয়ে গেল।
এরপর সমুচা বানানোর জন্য এই রুটিগুলোকে চিত্র অনুরূপভাবে স্কয়ার আকারে কেটে নিতে হবে। এবং সেটাকে আবার মাঝখান থেকে কেটে সমুচার শীট বানিয়ে নিতে হবে। ব্যাস এবারে শিট গুলোকে সুন্দরভাবে ঢেকে রাখতে হবে।
এরপর সমুচার পুর বানানোর জন্য প্রথমে একটি পাত্রে ধনেপাতা, পিঁয়াজ কুঁচি,কাঁচা মরিচ কুঁচি, গুঁড়া মরিচ, গরম মসলার গুড়া,চাট মসলা গুঁড়া, ধনিয়া গুঁড়া ও জিরা গুঁড়া এবং লবণ একসাথে দিয়ে মিশিয়ে নিল।
এরপর রুটিগুলোর থেকে সমুচার জন্য স্কয়ার আকারে কেটে নেওয়া পর,যে অতিরিক্ত অংশগুলো ছিল সেগুলোকে ছোট ছোট টুকরো করে মাঝারি আঁচে মুচমুচে করে ভেজে নিব। সমুচার পুরের মধ্যে দেওয়ার জন্য।
এরপর ওই ছোট ছোট ভাজা গুলোকে এবারে গুঁড়ো করে নেব। এবং এগুলো সমুচার পুরের উপকরণ গুলোর সাথে মিশিয়ে নিব।
এরপরে ভেজে রাখা চিংড়ি গুলোকে এই উপকরণগুলোর সাথে দিয়ে মিশিয়ে নেব। ব্যাস হয়ে গেল আমাদের সমুচার পুর তৈরি।
এবারে একটি পাত্রে একটুখানি আটা গুলিয়ে নিতে হবে।
এবার শিট নিয়ে সেটাকে চিত্র অনুরূপভাবে ভাঁজ করে নিতে হবে। এবং ভাঁজ গুলোতে গুলানো আটা দিয়ে লাগিয়ে দিতে হবে।
এরপর ভাঁজের মাঝখানে সমুচার জন্য তৈরি পুর গুলা দিয়ে দিতে হবে (চিত্র অনুরুপভাবে)। এবং গুলিয়ে রাখা আটা দিয়ে মুখটা ভালোভাবে লাগিয়ে দিতে হবে। এমন ভাবে লাগাতে হবে যেন ভিতরে তেল ঢুকতে না পারে। ব্যাস এভাবে ভাঁজ নিলে হয়ে যাবে আপনাদের সমুচা বানানো কমপ্লিট।
এবারে সমুচা গুলোকে ভেঁজে নিতে হবে। এগুলোকে ভাঁজার জন্য প্রথমে একটি কড়াইতে তেল দিয়ে গরম করে নিতে হবে। তারপর মাঝারি আছে সমুচা গুলোকে উল্টেপাল্টে ভেজে নিতে হবে।
ব্যস্ত হয়ে গেল আমার চিংড়ির কিমা দিয়ে সমুচা বানানো কমপ্লিট। এবারে এটাকে একটু ডেকোরেশন করলাম। হয়তো অতটা ভালো পারিনি তবে আমরা আমাদের মত চেষ্টা করেছি।
তো প্রিয় আমার বাংলা কমিউনিটির ভাইবোন ও বন্ধুরা, এই ছিল আমার প্রতিযোগিতার জন্য চিংড়ি মাছের কিমা দিয়ে সমুচা বানানোর রেসিপি। আশা করি আপনাদের ভালই লেগেছে। আমরা আমাদের মত চেষ্টা করেছি,কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে আশা করি ক্ষমাস্বরূপ দৃষ্টিতে দেখবেন। যাইহোক আজকের মত এটুকুই আবারো খুব শীঘ্রই নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আপনাদের মাঝে ইনশা-আল্লাহ। ততক্ষণ সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন নিজের খেয়াল রাখবেন।
বেশ দুর্দান্ত একটা আইডিয়া শেয়ার করলেন। চিংড়ি মাছ দিয়ে যে কখনো সমুচা তৈরি করা যায় এটা সত্যি জানা ছিল না। তাছাড়া এমন ভাবে তৈরি করলেন দেখেই তো জিভে জল আসতেছে। আমি এমনিতেই সমুচা খেতে একটু বেশি পছন্দ করি। আপনার রেসিপিটা দেখে মনে হচ্ছে ভীষণ সাধু হয়েছে। ভাবছি কখনো সময় পেলে আপনার মত তৈরি করব। প্রতিযোগিতা আপনার জন্য শুভকামনা রইল।
আপনার সমুচা খেতে ভালো লাগে জেনে খুশি হলাম। ধন্যবাদ আপনাকে আমার পোস্টে এত সুন্দর মন্তব্য করার জন্য।
চিংড়ি মাছের কিমা দিয়ে, সমুচা তৈরির রেসিপিটা খুবই সুন্দর হয়েছে ভাইয়া। দেখেই বুঝা যাচ্ছে খেতেও, নিশ্চয়ই অনেক মজা হয়েছে। আপনি প্রতিটি ধাপের বর্ণনা, খুব সুন্দর ভাবে দিয়েছেন। অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে, রেসিপিটা আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য।
ধন্যবাদ ভাইয়া আপনাকে এত সুন্দর একটি মন্তব্য করার জন্য।
দারুন একটি রেসিপি আমাদের সঙ্গে শেয়ার করার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া।