"আমার বাংলা ব্লগ" প্রতিযোগিতা - ২৫ || সুস্বাদু টক-ঝাল-মিষ্টি নারিকেলের আচার রেসিপি।
আচার নামটি শুনলেই যেন,
জিভে আসে জল।
নারিকেলের আচার নামটি শুনেছ কি?
বন্ধুরা সবাই বল।
আমি নিয়ে হাজির হলাম,
কেমন হলো, সবাই দেখে বল?
খেতে কিন্তু পারবেনাতো।
দেখতে শুধু, চলরে সবাই চল।
হ্যালো বন্ধুরা,
আসসালামু আলাইকুম, কেমন আছেন সবাই? আশা করি সবাই ভালো আছেন। আমিও আল্লাহর রহমতে ভালো আছি। প্রতিদিনের মত আজকেও আপনাদের সামনে এসে হাজির হলাম। আজকে আমি আপনাদের সাথে যে রেসিপিটি শেয়ার করব এটা আমার জন্য একদম স্পেশাল। কারণ আমাদের এবারের প্রতিযোগিতার বিষয় আমার কাছে অত্যন্ত ভালো লেগেছে। আর রেসিপি প্রতিযোগিতায় আমি খুব আনন্দের সাথে জয়েন করি। কেননা খুঁজে খুঁজে ইউনিক রেসিপি তৈরি করতে ভীষণ ভালোই লাগে। আর আচারের নাম শুনলে এমনিতেই জিভে জল। এখনো পর্যন্ত দেখলাম অনেকেই খুব সুন্দর সুন্দর আচারের রেসিপি করেছে। সবার রেসিপিগুলো দেখেই খেতে ইচ্ছা করছিল।
আজকে কয়েকদিন ধরে খুজতেছিলাম ইউনিক কি দিয়ে আচার তৈরি করা যায়। শুধুমাত্র কি রেসিপি তৈরি করব এটা খুঁজতেই দুই তিন দিন সময় লেগে গেল। পরবর্তীতে আমি নারিকেলের আচার রেসিপিটি দেখলাম। আমার কাছে এই রেসিপিটি অনেকটাই ইউনিক লেগেছে। কারন আমি এর আগে কখনো নারিকেলের আচার খাওয়া তো দূর নামও শুনিনি। জানিনা আপনারা কেউ খেয়েছেন কিনা ? হয়তোবা খেয়ে থাকবেন। আমি প্রথমে কনফিউজড ছিলাম যে এই আচার খেতে কি রকম হবে। কিন্তু পরবর্তীতে দেখলাম অসাধারণ হয়েছে। এইজন্য আমি এটাই তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিলাম। যেকোনো আচার তৈরি করতে প্রায় অনেকগুলো উপকরণের প্রয়োজন হয়। আর এই আচারের উপকরণ গুলো তৈরি করে নিতেই প্রায় অনেক পরিশ্রম লেগে গেল।
আমিও ছাড়ার পাত্রী নয় । যত কষ্টই হোক না কেন এটাই তৈরি করলাম। এমনকি প্রত্যেকটা উপকরণ অনেক ধৈর্য নিয়ে তৈরি করলাম। দেখলাম যে আমার রেসিপির প্রায় অনেকগুলো ছবি হয়ে গেল। কত বড় পোস্ট হবে বুঝতে পারছি না। এইজন্য উপকরণ তৈরি করার পদ্ধতি গুলো আলাদা আলাদা ভাবে দেখালাম। এরপরেও অনেক বড় হয়ে গিয়েছে। যাইহোক তারপরেও সম্পূর্ণ রেসিপিটি শেষ করলাম। শুধু এখানেই শেষ নয়। রেসিপিটি তৈরি করার পর কিভাবে পরিবেশন করব কিংবা ডেকোরেশন করব এটাই বুঝতে পারছিলাম না। কারণ আমার কাছে যে কোন রেসিপি তৈরি করার পর ডেকোরেশনটা অনেক বেশি প্রাধান্য পায়।
এজন্য আমি প্রায় অনেক রকম ভাবে ছবিটা তোলার চেষ্টা করলাম। কিভাবে আসলে দেখতে সুন্দর দেখায়। এইজন্য কয়েক রকম ভাবে রেসিপিটার ছবি তুললাম। কারণ এখন আমার কাছে ফটোগ্রাফি করতে সব থেকে বেশি ভালো লাগে। আর আমি মনে করি ফটোগ্রাফিটা সেরা হতে হবে। যেহেতু এটা কেউ খেয়ে দেখতে পারবে না সে ক্ষেত্রে দেখতে ভালো লাগতে হবে। আশা করব, এত সুন্দর এবং আকর্ষণীয় রেসিপিটি আপনাদের ভালো লাগবে। আর ভালো লাগলে অবশ্যই কমেন্টের মাধ্যমে উৎসাহিত করবেন। এমনকি নারিকেলের আচার কেউ খেয়েছেন কিনা এটাও জানাবেন।
প্রয়োজনীয় উপকরণ :
| উপকরণ | পরিমাণ |
|---|---|
| নারিকেল | ২ টা |
| তেঁতুল | ২ কাপ |
| গুড় | ২৫০ গ্রাম |
| পাঁচফোড়ন | ১ প্যাকেট |
| ভিনেগার | ২ টেবিল চামচ |
| সরিষার তেল | ২৫০ গ্রাম |
| বিট লবণ | ১ টেবিল চামচ |
| তেজপাতা | ৪ টা |
| দারুচিনি | ১ টুকরো |
| লবন | পরিমাণমতো |
| এলাচ | ৫ টা |
| শুকনা মরিচ | ৫/৬ টা |
রান্নার বিবরণ :
তেঁতুলের কাদ তৈরি করার পদ্ধতি :
ধাপ - ১ :
প্রথমে আমি একটি বাটিতে তেঁতুল গুলো নিয়ে নিলাম। এরপর এর মধ্যে কিছুটা পানি দিয়ে তেঁতুল ভিজিয়ে রাখলাম। এভাবে আমি প্রায় ১০-১৫ মিনিটের মতো তেতুলগুলোকে ভিজিয়ে রাখবো।
ধাপ - ২ :
ভেজানোর পরে আমি হাত দিয়ে একটু একটু করে তেঁতুলটাকে বের করে নিয়েছি।
ধাপ - ৩ :
এভাবে আমি সবগুলো তেতুলের আটি আলাদা করে নিলাম। এবং তেতুলের কাদ তৈরি করে নিলাম।
গুড়ের শিরা তৈরি করার পদ্ধতি :
ধাপ - ১ :
প্রথমে আমি বড় বড় টুকরো করা গুড় গুলোকে একটা গ্রেটারের সাহায্যে গ্রেট করে নিলাম।
ধাপ - ২ :
এরপর আমি চুলায় একটি ফ্রাইপ্যান বসিয়ে দিলাম। এরপর এরমধ্যে গ্রেট করা গুড় দিয়ে দিলাম।
ধাপ - ৩ :
এরপর গুড় আস্তে আস্তে গলতে শুরু করবে। কিছুটা গলে আসলে নেড়ে ছেড়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিব।
ধাপ - ৪ :
ভালোভাবে গলে গেলে এরপর চুলা থেকে নামিয়ে একটি বাটিতে নিয়ে নিলাম। এভাবে আমি গুড়ের শিরা তৈরি করে নিলাম।
মসলাগুলো তৈরি করার পদ্ধতি :
ধাপ - ১ :
প্রথমে আমি চুলায় একটি ফ্রাইপ্যান বসিয়ে দিলাম। এরপর এর মধ্যে পাঁচফোড়নের মসলাগুলো দিয়ে দিলাম। তার সাথে কয়েকটা শুকনো মরিচ, দারুচিনি, এলাচ দিয়ে দিলাম।
ধাপ - ২ :
এরপর আমি এই মসলাগুলোকে কিছুক্ষণ নেড়েচেড়ে ভেজে নিব। কিছুটা ভাজা হয়ে গেলে এরপর চুলা থেকে নামিয়ে নিলাম।
ধাপ - ৩ :
এরপর মসলাগুলো কিছুটা ঠান্ডা হয়ে গেলে একটা ব্লেন্ডারের জাগে নিয়ে নিলাম। এরপর আমি মসলাগুলোকে ব্লেন্ড করে একটু গুঁড়া করে নিলাম। আমি মসলাগুলোকে একেবারে মিহি গুঁড়া করিনি কিছুটা হালকাভাবে গুড়ো করলাম। এভাবে মসলাটা তৈরি করে নিলাম ।
আচাঁর তৈরি করার পদ্ধতি :
ধাপ - ১ :
প্রথমে আমি নারিকেল ভেঙে নিলাম। এরপর নারিকেল গুলোকে টুকরো টুকরো করে উঠিয়ে নিলাম। এরপরে আমি নারিকেলের পেছনের কালো অংশটা ফেলে দিয়ে ছোট ছোট টুকরো করে কেটে নিলাম।
ধাপ - ২ :
এরপরে আমি চুলায় একটি কড়াই বসিয়ে দিলাম। এরপর আমি এর মধ্যে সরিষার তেল দিয়ে দিলাম। এরপরে এর মধ্যে শুকনো মরিচ, তেজপাতা, এলাচ এবং দারুচিনি দিয়ে দিলাম।
ধাপ - ৩ :
এরপর এর মধ্যে নারিকেলের টুকরোগুলো দিয়ে দিলাম।
ধাপ - ৪ :
নারকেল গুলোকে নেড়ে ছেড়ে কিছুক্ষণ ভালোভাবে ভেঁজে নিব। নারিকেল গুলোকে একটু সময় নিয়ে ভেজে নিব।
ধাপ - ৫ :
নারিকেল ভাজা হয়ে গেলে এরপর এর মধ্যে তেতুলের কাদ দিয়ে দিলাম। এগুলো দিয়ে একটু নেড়ে চেড়ে মিশিয়ে নিলাম।
ধাপ - ৬ :
এরপরে এরমধ্যে গুড়ের শিরা দিয়ে দিলাম। এরপর অনবরত নাড়তে থাকবো।
ধাপ - ৭ :
এরপরে আমি এর মধ্যে গুড়ো করা মসলাগুলো দিয়ে দিলাম। এখানে আমি পাঁচফোড়নের প্যাকেট থেকে অর্ধেকটা মসলা ব্যবহার করেছি। তার সাথে আরও কিছুটা পরিমাণে পানি দিয়ে দিলাম। এরপরে ভালোভাবে নেড়ে ছেড়ে মিশিয়ে নিলাম।
ধাপ - ৮ :
এরপরে এরমধ্যে ভিনেগার এবং বিট লবণ দিয়ে দিলাম। তার সাথে একটু লবণ দিয়ে দিলাম। এরপর ভালোভাবে মিশিয়ে নিলাম।
ধাপ - ৯ :
এভাবে আর কিছুক্ষণ আচার গুলো নেড়েচেড়ে জাল করতে থাকবো।
ধাপ - ১০ :
একেবারে কিছুটা পরিমাণে শুকিয়ে আসলে তারপর চুলা থেকে নামিয়ে নেব।
শেষ ধাপ :
এরপর পরিবেশন করলাম। আশা করি আমার আজকের রেসিপি আপনাদের ভালো লাগবে। পরবর্তীতে আবারও দেখা হবে নতুন কিছু নিয়ে। সবাই ভালো থাকবেন।
পোস্ট বিবরণ
| শ্রেণী | রেসিপি |
|---|---|
| ডিভাইস | Redmi note 9 |
| ফটোগ্রাফার | @tasonya |
| লোকেশন | ফেনী |
আমার পরিচয়
আমার নাম তাসলিমা আক্তার সনিয়া। আমি বাংলাদেশী। বাংলা ভাষা আমাদের মাতৃভাষা বলে আমি অনেক গর্বিত। আমি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অনার্স ফাইনাল ইয়ারের একজন ছাত্রী। আমি ছবি আঁকতে ভালোবাসি। বিশেষ করে যে কোন ধরনের পেইন্টিং করতে পছন্দ করি। যখনই অবসর সময় পায় আমি ছবি আঁকতে বসে পড়ি। এছাড়াও আমি ভ্রমণ করতে পছন্দ করি। কিছুদিন পর পর বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণ করার চেষ্টা করি। এছাড়াও আমি বিভিন্ন ধরনের কারুকাজ করতে পছন্দ করি। রান্না করতেও আমার খুব ভালো লাগে। আমি বিভিন্ন ধরনের রেসিপি তৈরি করতে পছন্দ করি। আমি যখনই সময় পাই আমার পরিবারের সবাইকে বিভিন্ন ধরনের রেসিপি তৈরি করে খাওয়াই। আমি সব সময় নতুন নতুন কিছু করার চেষ্টা করি।
🎀 ধন্যবাদ সবাইকে 🎀 |
|---|

নিঃসন্দেহে তেতুলের টক টক স্বাদ এই আচার রেসিপিটার প্রধান আকর্ষণ হবে। তবে নারকেলের মধ্যে পরিবেশন দেখে একটু আশ্চর্য হয়েছি। আর আস্তো শুকনা মরিচ গুলো লোভনীয়তা বাড়িয়ে তুলেছে। ইউনিক এবং ভিন্ন ধরনের একটি আচার রেসিপি তৈরি করে আমাদের মাঝে উপস্থাপন করার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ আপু মনি 🥰
ঠিক বলেছেন ভাইয়া খাওয়ার সময় তেতুলের টকটক স্বাদ আর নারকেলের ফ্লেভার দুটোই বিষণ অসাধারণ লেগেছে।
Thank you, friend!


I'm @steem.history, who is steem witness.
Thank you for witnessvoting for me.
please click it!
(Go to https://steemit.com/~witnesses and type fbslo at the bottom of the page)
The weight is reduced because of the lack of Voting Power. If you vote for me as a witness, you can get my little vote.
আসলে আপু আপনার আচারের রেসিপিটা দেখে আমি অবাক হয়ে গেছি।আমার দেখা ইউনিক একটি রেসিপি করেছেন আমি আগে কখুনো দেখিনি এই রেসিপিটা খুবই সুন্দর হয়েছে আপু।আপনার জন্য অবশ্যই শুভ কামনা রইলো।
আপনি অবাক হয়ে গেছেন এটা শুনে খুবই ভালো লাগলো। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
ওয়াও! আপনার আজকের আচারের রেসিপিটি দেখতে অনেক ইউনিক লাগছে। নারিকেল দিয়ে আচার তৈরি খাওয়া তো দূরের কথা কখনো চিন্তাও করিনি। দেখে তো মনে হচ্ছে অনেক সুস্বাদু হবে খেতে। আপনি আচারের প্রতিযোগিতার জন্য খুবই ইউনিক একটি রেসিপি শেয়ার করেছেন এজন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। তবে হ্যাঁ অবশ্যই একদিন তৈরি করে দেখব খেতে কেমন হয়। ফটোগ্রাফি গুলো খুবই দুর্দান্ত হয়েছে আপনি ঠিকই বলেছেন এখানে তো আমরা খেতে পারবো না তাই ফটোগ্রাফিগুলোই আসল। প্রতিযোগিতার জন্য শুভকামনা রইল।
আপনার কাছে এই আচার ইউনিক লেগেছে শুনে খুবই ভালো লাগলো। অবশ্যই তৈরি করে দেখবেন।
আচার নামটি শুনতেই জিভে দল চলে আসে😋😋 এটা ঠিক কিন্তু আপনার কাছ থেকে এত ইউনিক এবং ভিন্ন ধরনের আচারের রেসিপি দেখতে পাবো আসলে আগে বুঝিনি।।
সম্পূর্ণ নতুন এবং ভিন্নধর্মী ছিল আপনার প্রস্তুত করা আচারের রেসিপিটি।। দেখতে যেমন লোভনীয় দেখাচ্ছে খেতেও মনে হচ্ছে তেমনি মজাদার হয়েছিল।।
এমন ভিন্নধর্মী আচার দেখে সত্যি অনেক লোভ হচ্ছে খাওয়ার জন্য।।
আসলে আমি অনেক খুঁজে এই ভিন্ন ধর্মী আচার রেসিপি বের করেছি। আপনার কাছে এত ভালো লেগেছে জেনে খুশি হলাম।
ঠিক বলেছেন লক্ষ্য স্থির থাকলে সবকিছু করা সম্ভব। আপনার কাছে ইউনিক লেগেছে যেন খুবই ভালো লাগলো
আপু আপনি খোঁজে খোজে আসলেই একেবারে একটা ইউনিক আচার তৈরি করেছেন।সত্যি কথা বলতে এর আগে আমি কখন নারিকেল আচার খাইনি, তবে কালার দেখে খুব খেতে ইচ্ছে করছে। আপনার জন্য শুভ কামনা রইলো আপু।ধন্যবাদ
ঠিক বলেছেন আপু অনেক বেশি খুঁজে খুঁজে বের করেছি। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
নারিকেলের টক ঝাল মিষ্টি আচার সত্যি আপু কখনও খাওয়া হয়নি আর নাম শুনি নি।আজ প্রথম শুনলাম। তবে আপনার উপস্থাপন অনেক সুন্দর ছিল।তেঁতুলের পাল্প ওদিয়েছেন। দেখতে অনেক লোভনীয় লাগছে। আপনার জন্য অনেক শুভকামনা রইল আপু।
যেহেতু আজকেই দেখেছেন এই জন্য ভীষণ ভালো লাগলো। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
https://twitter.com/TASonya5/status/1584785124151160833?t=ZbD8wDoQ5vFpTC6tIynH9w&s=19
আমার অভিজ্ঞতা আছে এই আচার খাওয়ার।নারিকেল আমার প্রিয় ফল তাই বান্ধবী বানিয়ে খাইয়েছিল।আমার অনেক ভাল লেগেছিল।তবে নারিকেল মিষ্টি হওয়ায় তেতুল এর পাল্প টা একটু বেশি দিতে হয়। আমি জানি আপনার আচার টি সুস্বাদু হয়েছে।শুভ কামনা রইল আপনার জন্য।
যাক অবশেষে একজন পেলাম যে কিনা নারিকেলের আচার খেয়েছে। আর তেতুল একটু বেশি দিতে হয়। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।