"আমার বাংলা ব্লগ" প্রতিযোগিতা - ১৪ || শেয়ার করো তোমার জীবনের মজার কোন - গ্রীস্মকালীন ফলের গল্প
- ১৩চৈত্র
- ১৪২৮ বঙ্গাব্দ।
- সোমবার
- সিজনাল ফল খাওয়ার গল্প
হেলো বন্ধুরা
সবাই কেমন আছেন আশা করছি সবাই অনেক বেশি ভালো আছেন যদিও বা গড়ম পরেছে বেশ তবু আমাদের কমিউনিটির কন্টেস্ট নিয়ে আমরা অনেক ভালোই আছি কারণ নিজের মজার মুহুর্ত বিশেষ করে সিজনাল ফল খাওয়ার গল্প গুলো শেয়ার করার সুযোগ পেয়ে সত্যি অনেক ভালো লাগছে।আমি @ashik333 বাংলাদেশ থেকে চলে এলাম কন্টেস্ট ব্লগ নিয়ে।
এটা হলো আমাদের সেই দল যাদের সাথে এক সময় এর ওর গাছের ডাব লিচু,আম, জাম কাঠাল পিয়ারা কতো কি চুরি করেছি।তবে এখন আমরা এগুলো করি না বড় হয়ে গেছি তো🥰🥰🥰
ছবিতে যখন আমরা সবাই একত্রে ছিলাম
৩ বছর আগের চিত্র
প্রথমেই ধন্যবাদ জানাই আমাদের বাংলা ব্লগ কমিউনিটির সকল এডমিন মোডারেটর এবং আমাদের প্রিয় দাদা কে।আমার বাংলা ব্লগ সব সময় ইউনিক কন্টেস্ট এর আয়োজন করে এবারো ব্যাতিক্রম নয়।এবারের কন্টেস্ট ছিল সিজনাল ফল খাওয়ার গল্প।চলুন শুরু করা যাক আমার জীবনের বাস্তব সিজনাল ফল খাওয়ার গল্প।
শৈশব সবারই রঙিন থাকে আর এই রঙিনে মোরানো শৈশব কে আরো বেশি রাঙিয়ে তোলে আমাদের মজার কর্মকান্ড গুলো।বিশেষ করে যারা গ্রামে বড় হয়েছেন তাদের শৈশব টা একটু বেশি রঙিন হয়ে থাকে।
আমার গল্প টি হলো আম এবং লিচু চুরির গল্প আসলে এগুলো এখন কাউকে বলতে গেলে শরম হাসি দুটোই পাই।🤣তবুও এগুলো মনে করে নিজের অসাধারন রঙিন শৈশব কে মনে করি খুব ভাল লাগে।আমি তখন পড়ি ক্লাস নাইনে নতুন উঠেছিলাম বন্ধুরা সব পুরোন কারণ একই স্কুলে সবাই পড়তাম আর বন্ধু বলতে সবাই বাসার পশাপাশি ভাই।👬
আমাদের গ্রামে আম এবং লিচু বাগান ছিল বেশ কয়েকটা তবে আমাদেরো ছিল অইজে একটা গ্রামের ভাষায় কথা আছে যে পরের গাছের আম মিঠা বেশি😁আমাদের বাশা থেকে একটু মাঠের ভেতরেই ছিল একটা আম বাগান আর পাশেই লিচু বাগান। আর অইসব বাগান এর পাশাপাশি ছিল আমাদের ছোট আম বাগান এবং লিচু বাগান।
আমি এবং আমার বন্ধুরা আমাদের বাগান পাহারা দিতাম রাত ভর লুডু খেলে জেগে থাকতাম পাশের আম বাগানে কয়েকটা আম গাছ ছিলো আম গুলো অনেক মিষ্টি যেটাকে আমরা কাচা মিঠা আম বলে থাকি।আমরা এক সাথে ৫-৬ জন থাকতাম।আসলে ওই বয়স টাতে মাথায় বদ বুদ্ধি বেশি আসতো এর ওর গাছের ডাব এবং আখ কতো খেয়েছি।
আমাদের বাগানের পাশেই লিচু বাগান লিচু বেশ পাকা পাকা ভাব হয়েছে আমাদের টার্গেট ছিল লিচু এবং আম দুটোই একদিনে পেরে খাওয়ার তবে ওই বাগানে আবার পাহারাও দিত।গ্রাম অঞ্চলে পাহারা দেওয়ার ব্যবস্থা করেন পশু পাখি তারানোর জন্য।কিভাবে লিচু খাব কিভাবে আম পারবো সবাই মিলে প্লানিং করতে থাকি।তো আমার মাথায় একটা বুদ্ধি এসেছিল বাগানের যেহেতু মাঝ খানে পাহারা দেওয়ার চৌকি বসানো এবং লোকটা সেখানেই থাকে।
আমরা এদিকে সংখ্যায় বেশি সবাইকে বললাম আমাদের আমরা সবাই একেক জন করে বাগানের একেক দিকে যাব এর পরে গাছের একদিক থেকে ঢিল মারবো লোকটা ঢিল মারার শব্দ পেয়ে খুজতে যাবে বা দেখতে যাবে সেটা। আর আমরা এইদিকে কাজ সেরে ফেলবো। বুদ্ধিটা পাকানো সেরে ফেললাম এবার কাজের পালা।পরের দিন রাত ৮ টা আমরা সবাই খাওয়া দাওয়া করে চলে যায় আমাদের বাগানে সবাই লুডু খেলতে থাকি এদিকে ঘরির কাটা ঘুরতে ঘুরতে ১১ টা বেজে যায়।আমাদের সময় ও চলে আসে।
পলিথিনে ভরে ঢিল নিয়ে একেক জন একে দিকে চলে যায়।আর দুই জন কে রেখে যায় আমাদের চৌকি তে যাতে কেউ ঠিক না পায় কাজটা আমরা করেছি।এরপরে আমাদের দলের সবের নামের একটা ছেলে ওকে আমি কুক দিয়ে ইশারা করি এবং সে তার কাজ শুরু করে।গাছে ঢিল মারতে থাকে একের পর এক অপর দিক থেকে আমরা প্রস্তুতি নিয়ে রয়েছি লোকটা গেলেই আমরা অপারেশন শুরু করবো।
লোকটা চৌকিতে বসেই হুস হুস করছে ভাবছে পাখি অথচ ঢিল সবের মেরেই যাচ্ছে। এরপরে লোকটা টর্চ লাইট নিয়ে ঢিল মারা গাছ টার দিকে এগোতে থাকে আর আমরা বাগানের মধ্যে প্রবেশ করি।লোকটা গাছের কাছে চলে যায় আর আমরা এদিকে ব্যাগ ভরে টপাটপ আম এবং লিচু পেরে ফেলি🤣🤣🤣এরপরে আমি আমাদের ছেলেদের নিয়ে চলে যায় মাঝ মাঠে কারণ এভাবে গেলে সবাই সন্দেহ করবে আর ওদিকে বেচারা সবের গমের জমিতে টাসকি মেরে শুয়ে আছে আর ওর আশ পাশ দিয়ে লোকটা ঘুরছে অথচ ওকে দেখছে না।
ওই আম আমরা এক গমের জমিতে ঢেকে রেখেছিলাম এবং পরের দিন ঘাস কাটার নাম করে বস্তা ভরে এনেছিলাম আর লিচু গুলো সেদিনি আমাদের বাগানে এনে খেয়েছিলাম।আসলে কাজ টা আমরা দুস্টামি করেই করেছিলাম।গ্রামে থাকি আর এমন দুষ্টামি যদি না করি তাহলে কিসের গ্রামে থাকা হলো হাহাহা।ছোট বেলা থেকেই প্রচুর দুষ্টু ছিলাম তবে এখন সব ছেড়ে শুধু শৈশব কে মনে করি।
পরিশেষে এটুকুই বলতে চায় আমার শৈশব এর এমন আরো অনেক মজার মজার গল্প রয়েছে যেগুলো অন্যদিন বলবো। সবাই ভুল ত্রুটি ক্ষমা করবেন।আসলে শৈশব মানেই মজা করার সময় অইদিন গুলো এখন মনে পরলে হা হয়ে ভাবতে থাকি।সবাই ভালো থাকবেন আবারো আপনাদের সাথে আসবো নতুন কোনো ব্লগ নিয়ে।
| সমস্ত ছবির | তথ্য |
|---|---|
| লোকেশন | বাংলাদেশ |
| ক্যামেরা | অপু এ৫এস |
| ক্যামেরাম্যান | @ashik333 |
| w3words | https://w3w.co/weariness.chuckling.ravish |
ভাইয়া আপনি খুব সুন্দর করে আপনার ছোটবেলার গল্প আমাদের সাথে শেয়ার করেছেন।আসলে সত্যি নিজের গাছের কোন কিছু ভাল লাগেনা পরের গাছের জিনিস খেতে অনেক মিষ্টি হয়। ছোটবেলায় সবারই এরকম অনেক গল্প থাকে। আমার জীবনে এমন অনেক গল্প আছে তবে আপনাদের মতো এতোটা না আমিও আপনাদের সাথে শেয়ার করবো । আপনার ছোটবেলার গল্প শুনে খুব মজা পেলাম ।আপনার জন্য শুভকামনা রইল।
সোনালী শৈশব।
অনেক মজার একটি ঘটনা শেয়ার করেছেন আমাদের সাথে। সুন্দর গুছিয়ে উপস্থাপন করেছেন। শুভ কামনা রইলো।
আপনি খুব সুন্দরভাবে আপনার ছোটবেলার গল্প আমাদের মাঝে শেয়ার করছেন।
ধন্যবাদ আপনাকে সাথে করে আপনার জন্য শুভ কামনা রইল।
হুম, আমরাও এই রকম একটা কথা বলতাম এলাকার কিছু পেড়ে খেলে চুরি হবে কেন হি হি হি। আর নিজের গাছের চেয়ে অন্যের গাছের ফল বেশী মিষ্টি লাগে।
আপনেও চোর🤣🤣🤣
আপনার গল্প পড়ে অনেক মজা পাইছি।আসলে ছোট বেলায় সবাই এমন কাজ করে ।আমিও করেছি অনেক তবে আপনাদের মত না।আমরা বান্ধবীরা মিলে সেই গল্প বলব আপনাদের সাথে।আপনি ফল চুরি করতেছিলেন তখন মালিকের পাখি ভেবে হুস হুস করা বেশ মজা লেগেছে ।আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ এত সুন্দর একটি গল্প শেয়ার করার জন্য।
আসলে অনেক বুদ্ধি থাকে। তা না হলে চুরি করা যায়না। চারদিক থেকে ঢিল মারার একটা ইউনিক বুদ্ধি বের করেছিলেন আপনারা। অনেক ভালো লাগলো গল্পটি পড়ে। শুভকামনা রইল আপনার জন্য
হে ভাইয়া আপনি অনেক সুন্দর করে গল্প লিখেছেন। যেখানে গ্রামের পরিবেশটা ঠিক এরকমি থাকে। ছোট বেলার সব দুষ্টুমি আজ মনে পরে গেলো আপনার গল্পের কথার মাঝে। অনেক সুন্দর করে লিখেছেন সব কিছু যেন আমার সামনে স্মৃতি হয়ে ঘুর পাক খাচ্ছে। শুভকামনা
হাহা আপনার আম আর লিচু চুরির ঘটনা পড়ে মজা পেলাম অনেক। খুব সুন্দর করে গুছিয়ে লিখেছেন সব। চমৎকার হয়েছে ভাই। শুভেচ্ছা রইলো আপনার জন্য।
পুলিশ.......শ। হা হা হা। আপনি যে খাটি ফল পাকুড় চোর তা বোঝা গেল আপনার বর্ননায়। হা হা হা। সুন্দর ছিল গল্পটি। আপনার সাথে সাগরেদ গুলোও তো সেই রকম । হাতে তেতুল নিয়ে দাড়িয়ে। তার মানে এই তেতুল ও চুরি করে এনেছেন। আপনার গ্রামে আমি থাকলে আমিও আপনাদের দলে যোগ দিতাম। ভাল থাকবেন। শুভেচ্ছা।
একদম ভাই তেতুল গুলাও চুরির মাল😁😁😁দিনি দুপুরে করেছিলাম ঝোপ ঝার থেকে😁😁😁আসেন আবার হবে অস্ত্র জমা দিসি মাগার ট্রেনিং না।
গ্রামের পরিবেশে বন্ধুরা মিলে আসলে অনেক মজা করে গৃষ্ম কালীন ফলমূল খাওয়া হয়ে থাকে। গল্পটি পড়ে আমার অনেক ভালো লেগেছে। আপনারা বন্ধুরা মিলে অনেক মজা মাস্তি করে গ্রীষ্মকালীন ফল খেয়েছেন এবং তা আমাদের সাথে শেয়ার করেছেন। ধন্যবাদ আপনাকে আপনার আগামীর জন্য অনেক অনেক শুভকামনা রইল।