জলের নিচে অন্য আমি – মালভানে প্রথম স্কুবা ডাইভিং-এর অভিজ্ঞতা (ভিডিও গ্রাফি)
প্রিয় আমার বাংলা ব্লগের বন্ধুরা,
সমস্ত ভারতবাসী এবং বাংলাদেশের বাঙালি সহযাত্রীদের আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
আশা করি আপনারা ঈশ্বরের কৃপায় সুস্থ আছেন, সব দিক থেকে ভালোও আছেন। আপনাদের সবার ভালো থাকা কামনা করে শুরু করছি আজকের ব্লগ।
বরাবরই সমুদ্রের থেকে আমার পাহাড়ে চিরকালীন টান। কিন্তু কপাল এমনই যে ছুটির দিনগুলোতে ঘুরে ফিরে সেই সমুদ্রেই যাই। আপনারা তো জানেনই এই কয়েকদিন আগেই আমি কেরালা ঘুরে এলাম। তারপর গতমাসে গোয়া। গত সপ্তাহে হঠাৎ করেই মালভান বীচ চলে গিয়েছিলাম৷ পশ্চিমে থাকার ফলে আরব সাগরের বীচগুলোই বেশি ঘোরা হয়। তবে কোনদিনই সমুদ্রের কোন অ্যাক্টিভিটি করিনি। আমি অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় হলেও ভিতু মানুষ। তাই জলের গভীরে নামার সাহস কোনওদিন ছিল না। তাছাড়া গোয়াতে সব কিছুই ভীষণ কস্টলি আর স্কুবা ডাইভিং এর সুযোগও নেই৷ মালভান বীচে এই সব কিছুই হাতের মুঠোয় যেন। কিভাবে গেলাম কেমন খরচা হল সেই সব আমার ভ্রমণ ব্লগে লিখব। আজ শুধু জলের নিচে থাকার অভিজ্ঞতাটুকু শেয়ার করব।
একটা ছোট্ট স্পিডবোটে চড়ে আমরা পৌঁছালাম সিন্ধুদুর্গের ঠিক ধারে, যেখানে নীল জল স্বচ্ছ কাঁচের মতো, আর নিচে স্পষ্ট দেখা যায় বালি আর ছড়িয়ে থাকা কোরালের ছায়া।
প্রথম যখন অক্সিজেন সিলিন্ডার বেঁধে, মুখে রেগুলেটর পরে জলে মুখ ডোবালাম, বুক ধড়ফড় করছিল। বার বারই মনে হচ্ছিল আমি আর শ্বাস নিতে পারব। এই বুঝি দম আটকে মারা পড়ছি। আসলে আমাদের নাক দিয়েই শ্বাস নেওয়ার অভ্যেস৷ কিন্তু প্রশিক্ষক ছেলেটি বেশ সাহস দিল। তার হাত ধরেই প্রথম পা রাখা এক নতুন জগতে। জলের নিচে প্রথম শ্বাস—সে এক অন্যরকম অনুভূতি। শব্দ নেই, শব্দ আছে শুধু নিজের নিঃশ্বাসের, আর চারপাশে যেন ভেসে থাকা স্বপ্ন।
নিচে নেমে এলাম, একটা বাদামী পাথর ধরে ভেসে থাকার কথা আগেই বলে দেওয়া হয়েছিল। নিচে আসার সাথে সাথেই এক ঝাঁক রঙিন মাছ আমাদের চারপাশে ঘুরে বেড়াতে লাগল। যেন কোনো জলজ রাজ্যে ঢুকে পড়েছি। কোন মাছই চিনি না। নিচে নেমেছিলাম অনেক জলজ উদ্ভিদের মাঝখান দিয়ে। অদ্ভুত অনুভূতি৷ খানিকটা ভয়। খানিকটা উত্তেজনা। নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন।
বুঝলাম, আমি পৃথিবীর এক অজানা অংশকে ছুঁয়ে ফেলেছি। হঠাৎ মুখের সামনে ক্যামেরা ম্যান আসতে আমি ভয়ই পেয়েছিলাম। ভাবলাম সিনেমার মতো কেউ আমায় অ্যাটাক করল! কিন্তু কয়েক সেকেন্ডেই ধাতস্থ হলাম। বেশ কিছুক্ষণ থাকার পর কানে অসম্ভব চাপ অনুভব করছিলাম। সাথে নাকের ব্লকেও জল ঢুকে যাচ্ছিল। ফলে আনকম্ফোফোর্টেবল সাইন দেখিয়ে ওপরে উঠে এলাম।
আসার পর মনে হচ্ছিল, আমি আর আগের আমি নেই। এই ডাইভ যেন শুধু সমুদ্রের জলে নয়, নিজের ভেতরের গভীরতাতেও একবার ডুব দিয়ে আসা। অদ্ভুত সুন্দর অভিজ্ঞতা। হয়তো আবারও যাবো মালভান। আবারও করব৷ সেদিনই ইচ্ছে করছিল আরও একবার করতে৷ কিন্তু সময় ছিল না বেশি৷
আমার স্কুবা ডাইভিং-এর ভিডিও টি ওই টিমেরই তোলা যারা আমাদের নিয়ে গেছিল। আর ভিডিওটি আমরা টাকা দিয়ে কিনে নিয়েছিলাম। ওনাদের সম্পূর্ণ মত আছে যে কোথাও পোস্ট করার। আর সেই কারণেই আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম। নিচে রইল তার লিংকটি।
| পোস্টের ধরণ | ভিডিও গ্রাফি | |
|---|---|---|
| ছবিওয়ালা | নীলম সামন্ত | |
| ভিডিওওয়ালা | লোক | |
| মাধ্যম | স্যামসাং এফ৫৪ | |
| লোকেশন | মালভান,মহারাষ্ট্র ( | https://what3words.com/considerations.shivers.ওইন্নিংল্য) |
| ব্যবহৃত অ্যাপ | ক্যানভা, অনুলিপি |
১০% বেনেফিশিয়ারি লাজুকখ্যাঁককে
~লেখক পরিচিতি~
আমি নীলম সামন্ত। বেশ কিছু বছর কবিতা যাপনের পর মুক্তগদ্য, মুক্তপদ্য, পত্রসাহিত্য ইত্যাদিতে মনোনিবেশ করেছি৷ বর্তমানে 'কবিতার আলো' নামক ট্যাবলয়েডের ব্লগজিন ও প্রিন্টেড উভয় জায়গাতেই সহসম্পাদনার কাজে নিজের শাখা-প্রশাখা মেলে ধরেছি। কিছু গবেষণাধর্মী প্রবন্ধেরও কাজ করছি। পশ্চিমবঙ্গের নানান লিটিল ম্যাগাজিনে লিখে কবিতা জীবন এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি৷ ভারতবর্ষের পুনে-তে থাকি৷ যেখানে বাংলার কোন ছোঁয়াই নেই৷ তাও মনে প্রাণে বাংলাকে ধরে আনন্দেই বাঁচি৷ আমার প্রকাশিত একক কাব্যগ্রন্থ হল মোমবাতির কার্ণিশ ও ইক্যুয়াল টু অ্যাপল আর প্রকাশিত গদ্য সিরিজ জোনাক সভ্যতা।
কমিউনিটি : আমার বাংলা ব্লগ
আমার বাংলা ব্লগ পরিবারের সব্বাইকে আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন৷ ভালো থাকুন বন্ধুরা। সৃষ্টিতে থাকুন।
https://x.com/neelamsama92551/status/1915026193788645601?t=FE_u1kadCWJj8pXfISLTjQ&s=19
মালভানে গিয়ে প্রথম স্কুবা ডাইভিং-এর অভিজ্ঞতা সত্যি অসাধারণ। দারুন ভাবে ভিডিওগ্রাফি করেছে। আপনার পোস্ট পড়ে জানলাম এই ভিডিওটা আপনারা টাকা দিয়ে কিনে নিয়েছেন। আর এত সুন্দর অভিজ্ঞতা ছিল যে আবারও সময় থাকলে আপনি আর একবার ড্রাইভিং করতেন। আসলে পানির উপরে এবং পানির নিচে দুটা জায়গা সম্পূর্ণ আলাদা। খুবই ভালো লাগলো খুব ভিডিওটা দেখে। শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ আপু।
ঠিকই। জলের ওপরে ও নিচে একেবারেই অন্যরকম দৃশ্য। বড় শান্ত আর নির্মল সব কিছু।
ধন্যবাদ আপু, পোস্ট পড়লেন, অনেক অনেক ভালোলাগা জানাই।
স্কুবা ডাইভিং এর ভিডিওটি দেখেই আমার দম বন্ধ হয়ে আসছে। আপনি যে কিভাবে ছিলেন তাই ভাবছি। তবে নতুন কোন অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারলে বেশ ভালো লাগে।তবে আমি কখনই এই স্কুবা ডাইভিং করতে পারবো না। আপনার অনেক সাহস। ভিডিওটি দেখে বেশ ভালো লাগলো।
ডোবার সময় আমারও মনে হচ্ছিল এই এখুনি মরে যাবো৷ বেশ কিছুটা সময় জলে মুখ ডুবিয়েছি আর উঠেছি। আমার প্রশিক্ষককে বললাম এমন অনুভূতি হচ্ছে। উনিই বললেন এটা সবারই হয়। তারপর আমাকেও বেশ সাহস দিলেন। সব থেকে মজার হল, আমি যখন নেমে গেলাম তখন বার বার মনে হচ্ছে এই বোধহয় দম আটকে গেল। ফলে দরকারের থেকে অনেক বেশি অক্সিজেন টানছিলাম আর সেটা বারবার।। হা হা হা। কিন্তু জলজ উদ্ভিদ সাথে মাছ সব ভুলিয়ে দিল। কী অপূর্ব সেই দৃশ্য।