অনেকদিন পর বন্ধুদের সাথে একটু ঘুরাঘুরি
আসসালামু আলাইকুম,
আমার বাংলা ব্লগের সকল বন্ধুরা ,আপনারা সবাই কেমন আছেন ? আশা করি সবাই খুব ভালো আছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় আল্লাহর রহমতে খুব ভালো আছি।
আজকে আমি আপনাদের সামনে আরো একটি নতুন পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি। বন্ধু বান্ধবদের সাথে আড্ডা দিতে এবং ঘুরাঘুরি করতে আমার খুব ভালো লাগে। কারণ আমি খুব আড্ডা প্রিয় মানুষ এবং ভ্রমণ করতে খুব পছন্দ করি। তবে ব্যস্ততার জন্য আড্ডা এবং ঘুরাঘুরি করার সময় তেমন একটা পাওয়া যায় না। যাইহোক গতকাল বিকেলে আমার দুই বন্ধু আমাকে ফোন করে বললো যে,বীর মুক্তিযোদ্ধা এ, কে, এম নাসিম ওসমান শীতলক্ষ্যা ৩য় সেতুর দিকে ঘুরতে যাবে। সেতুটি উদ্বোধন করা হয়েছে ২০২২ সালের অক্টোবর মাসে।
এর আগে কয়েকবার ঐদিকে গিয়েছিলাম ব্যক্তিগত কাজে,তবে সেতুতে উঠা হয়নি। এই সেতুটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছিল ২০১৮ সালে এবং সেতুটির দৈর্ঘ্য হচ্ছে ১.২৯ কিলোমিটার লম্বা। এই সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে শীতলক্ষ্যা নদীর উপর দিয়ে এবং এই সেতু দিয়ে খুব সহজেই নারায়ণগঞ্জ এবং মুন্সিগঞ্জের মানুষজন আসা যাওয়া করতে পারে নির্দিষ্ট টোল পরিশোধ করে। যাইহোক বন্ধুদের ফোন পেয়ে বাসা থেকে বিকেল ৪টার পর বের হলাম। কারণ বিকেল বেলা সেতুতে দাঁড়িয়ে থাকতে খুব ভালো লাগে আমার কাছে, কারণ ফুরফুরে বাতাস বয়ে যায়।
যদিও গরমের দিনে এই ফুরফুরে বাতাস বেশি ভালো লাগে। বিকেল ৫টার দিকে আমরা সেতুর সামনে পৌছলাম। প্রথমে সেতুতে না উঠে আশেপাশে একটু হাটাহাটি করলাম। তারপর সন্ধ্যা হওয়ার কিছুক্ষণ আগে সেতুতে উঠলাম। সেতুতে উঠার জন্য কয়েক পাশ দিয়ে সিড়ি রয়েছে। যাইহোক সেতুতে উঠে আমরা তিনজন হাঁটতে শুরু করলাম। সেতুতে মানুষজন খুবই কম ছিল এবং গাড়িও খুব কম যাতায়াত করছিল। আমরা হাঁটতে হাঁটতে একটু দূরে যাওয়ার পর দেখলাম যে, একজন হকার চিনি ও বাদাম দিয়ে তৈরি করা গাট্টা এবং নারকেল ও চিনি দিয়ে তৈরি নারিকেলি বিক্রি করছে। তারপর আমরা সেই লোকের কাছ থেকে সেগুলো কিনলাম ৩০ টাকার।
তারপর আমরা হাঁটতে হাঁটতে খেতে লাগলাম এবং ছোটবেলার কথা মনে পড়ে গেল। কারণ ছোটবেলা প্রায়ই এইসব খেতাম। ফুরফুরে বাতাস বয়ে যাচ্ছিল এবং শীতকাল হলেও তাপমাত্রা তেমন ঠান্ডা না হওয়ার কারণে, বাতাস বেশ ভালোই লাগছিল। আসলে বিকেল বেলা এমন জায়গায় হাঁটার মজাই আলাদা। হাঁটার ফাঁকে ফাঁকে আমি কয়েকটি ফটোগ্রাফিও করে নিলাম, আপনাদের সাথে শেয়ার করার জন্য। এরইমধ্যে সন্ধ্যা হয়ে এলো এবং চারিদিকে লাইট জ্বলে উঠলো। হাঁটতে হাঁটতে আরো সামনে যাওয়ার পর দেখলাম একজন লোক ঝালমুড়ি বিক্রি করছে। আর ঝালমুড়ি দেখলে তো আমার লোভ সামলানো কঠিন হয়ে যায়।
তারপর সেই লোকের কাছ থেকে আমরা ৩০ টাকার ঝালমুড়ি কিনে খেলাম। ঝালমুড়িটা খেতে বেশ ভালোই লেগেছিল। আমরা হাঁটতে হাঁটতে সেতুর প্রায় অর্ধেকটা পাড় হয়ে গেলাম। আমরা অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে আড্ডা দিলাম এবং আশেপাশের মনোমুগ্ধকর পরিবেশ উপভোগ করলাম ও কয়েকটি ফটোগ্রাফিও করে নিলাম। কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে উল্টোপথে হাঁটা শুরু করলাম, কারণ বাসায় ফিরতে হবে। সন্ধ্যার পর লাইটিং এর জন্য বেশ ভালো লাগছিল হাঁটতে। এভাবেই হাঁটতে হাঁটতে সেতু থেকে নেমে পড়লাম। অনেকদিন পর অনেকক্ষণ হাঁটলাম। তারপর সেখানেই একটি হোটেলে ঢুকলাম হালিম এবং নান রুটি খাওয়ার জন্য। খাওয়া দাওয়া শেষ করে, হোটেলে বিল পরিশোধ করে, বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। রাত প্রায় ৮ টার দিকে বাসায় পৌছলাম।
বন্ধুরা আজকে এই পর্যন্তই।আমি আমার কিছু ভালো লাগার মুহূর্ত এবং অনুভূতিগুলো আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম। আপনাদের কাছে পোস্টটি কেমন লাগলো, তা কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আবারো ইনশাল্লাহ দেখা হবে অন্য কোন পোস্টে।সেই পর্যন্ত ভালো থাকবেন,সুস্থ থাকবেন আল্লাহ হাফেজ।
| ক্যাটাগরি | ভ্রমণ |
|---|---|
| ফটোগ্রাফার | @mohinahmed |
| ডিভাইস | Samsung Galaxy Note 20 Ultra 5g |
| তারিখ | ৭.২.২০২৩ |
| স্থান | w3w |
আমিও খুব খেয়েছি ভাইয়া ছোটবেলায় চিনি বাদাম নারকেল দিয়ে নারকেলি। বেশ ভালো লাগতো এখন খুব একটা খাওয়া হয় না। ঝালমুড়িয় খেতে আমার কাছে খুবই ভালো লাগে। ঠিক বলেছেন ভাইয়া বিকেল বেলায় ফুরফুর বাতাস বেশ ভালো লাগে। আপনারা বন্ধুরা মিলে খুব সুন্দর একটি সময় উপভোগ করেছেন। রাতের লাইটিং আসলেই বেশ সুন্দর।
জি আপু, সব মিলিয়ে বিকেল বেলা খুব সুন্দর একটা সময় উপভোগ করেছি। সুন্দর মন্তব্যের মাধ্যমে পাশে থাকার জন্য অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
ঘুরোঘুরি করতে ভীষণ ভালোবাসি। ভাইয়া আপনি অনেকদিন পর বন্ধুদের সাথে অনেক সুন্দর সময় পার করেছেন। আমিও আপনার মতো ঘুরতে ভালোবাসি। আমি তো সুযোগ পেলেই ঘুরতে বেরিয়ে পরি। জায়গাটা বেশ চমৎকার। ধন্যবাদ আপনাকে ভাইয়া আমাদের সবার সাথে শেয়ার করার জন্য।
জি ভাইয়া, অনেকদিন পর বন্ধুদের সাথে খুব সুন্দর একটা সময় পার করেছি। জায়গাটাও বেশ ভালো লেগেছিল। এতো সুন্দর মন্তব্য করার জন্য অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।