রেসিপি"ঔষধী গুণে গুণান্বিত কালোজিরার ভর্তা"১০ শতাংশ লাজুক শেয়ালের জন্য।
আসসালামু আলাইকুম, সবাই কেমন আছেন ? আশা করি আল্লাহর অশেষ রহমতে সবাই ভাল আছেন।আলহামদুলিল্লাহ আমিও ভাল আছি আপনাদের দোয়ায়।
আজকে আমি আপনাদের সাথে আমার খুব পছন্দের একটি রেসিপি শেয়ার করতে এসেছি। আমার রেসিপিটির নাম হচ্ছে "কালোজিরার ভর্তা"।
যদিও এটি একটি রেসিপি তবুও আমি বলব এটি নানা প্রকার ঔষধি গুণে গুণান্বিত একটি মহৌষধ। বিশেষ করে এই করোনাকালীন মুহূর্তে রেসিপিটি আমাদের রোগ প্রতিরোধে বিশেষ কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকে।
এছাড়াও যারা সর্দি কাশি জনিত সমস্যায় ভুগছেন তাদের জন্য বিশেষ উপকারী আমার এই রেসিপিটি।কারণ সকল রোগের মহৌষধ হিসেবে আমরা কালোজিরা ব্যবহার করে থাকি।যদিও কালোজিরা আমরা বিভিন্নভাবে সেবন করে থাকি,কিন্তু ছোটবেলা থেকে দেখে এসেছি আমাদের পরিবারের ঠাণ্ডাজাতীয় কোন রোগ-ব্যাধি হলে সব সময় এই কালোজিরার ভর্তা তৈরি করা হতো।
কিছুদিন যাবত আমার পরিবারের অনেকেই ঠান্ডা জাতীয় সমস্যায় ভুগছে এজন্য আজ আমি বাসায় কালোজিরার"ভর্তা রেসিপিটি" তৈরি করেছি।
তাহলে চলুন কথা না বাড়িয়ে আমি কিভাবে ঔষধিগুণে গুণান্বিত রেসিপিটি তৈরি করেছি তা আপনাদের সাথে শেয়ার করছি।
| উপকরন সমুহ |
|---|
| কালো জিরা আধা কাপ |
| পেঁয়াজ কুচি ৪ টি |
| রসুন বাটা ১ চামচ |
| হলুদ গুঁড়া ১ চামচ |
| কাঁচামরিচ ৬/৭ টি |
| ধনেপাতা পরিমান মত |
| লবণ পরিমাণমতো |
| তেল পরিমানমতো |
| প্রথম ধাপ |
| --- |
কালোজিরার ভর্তা তৈরি করার জন্য প্রথমে আধা কাপ কালোজিরা নিয়ে একটি ছাঁকনিতে ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে।
| দ্বিতীয় ধাপ |
|---|
এ পর্যায়ে আমি ধুয়ে নেওয়া কালোজিরা গুলোকে শিল-পাটার মাধ্যমে মিহি করে বেটে নেব। আমি এখানে শিল পাটার সাহায্য নিয়েছি এগুলো মিহি করে বাটার জন্য, আপনারা চাইলে ব্লেন্ডারে ও করতে পারেন।
| তৃতীয় ধাপ |
|---|
এ পর্যায়ে আমি সবগুলো উপকরণ একটি ছোট ট্রেতে নিয়েছি। এখানে দু'টো পেঁয়াজ কুচি,বেটে নেওয়া কালোজিরা,এক চামচ হলুদ গুঁড়া, পরিমাণমতো লবণ,রসুন বাটা ও চিরে নেওয়া কাঁচামরিচ রয়েছে।
| চতুর্থ ধাপ |
|---|
এ পর্যায়ে আমি একটি কড়াই চুলায় বসিয়ে তারমধ্যে পেঁয়াজ কুচি ও পরিমাণমতো তেল দেব,পেঁয়াজ গুলো ভালো করে ভাজা হওয়ার জন্য।
| পঞ্চম ধাপ |
|---|
এখন আমার পেঁয়াজগুলো কিছুটা বাদামি রং হয়ে গিয়েছে তাই এরমধ্যে রসুন বাটা দিয়ে ভালো করে নেড়ে চেড়ে মিশিয়ে নেব, আর কিছুক্ষণ ভাজবো রসুন বাটা একটু ভাজাভাজা হওয়ার জন্য।
| ষষ্ঠ ধাপ |
|---|
রসুন বাটা পেঁয়াজ এর সাথে এখন কিছুটা ভাজা হয়েছে তাই বাকি সব মশলা গুলো কড়াইয়ে দিয়ে দেব।
| সপ্তম ধাপ |
|---|
আগে থেকে বেটে রাখা কালোজিরা গুলো কড়াইয়ে বাকি সব মসলার সাথে দিয়ে ভালো করে নেড়ে চেড়ে মিশিয়ে নেব।
| অষ্টম ধাপ |
|---|
এ পর্যায়ে কিছুক্ষণ নেড়েচেড়ে আবার ঢাকনা দিয়ে ঢেকে এই কালোজিরার ভর্তা মৃদু আঁচে রান্না করতে হবে। যেহেতু এর মধ্যে কোন পানি ব্যবহার করা হয়নি তাই, কিছুক্ষণ পরপর নাড়তে হবে যেন কড়াইয়ে লেগে না যায়।
| নবম ধাপ |
|---|
এ পর্যায়ে আমার কালোজিরার ভর্তা অনেকটা হয়ে গিয়েছে।
| দশম ধাপ |
|---|
এখন আমি কিছু ধনেপাতা দিয়ে ভালো করে নেড়ে চেড়ে মিশিয়ে নেব এবং আরো দু' মিনিটের মত চুলোর আচেঁ রাখব।
| শেষ ধাপ |
|---|
রেসিপি " কালোজিরার ভর্তা"
" এবার গরম গরম ভাতের সাথে পরিবেশনর পালা।
মুখরোচক আমার এই রেসিপিটি আশা করি আপনাদের সকলের ভাল লাগবে।আপনারা একবার হলেও অবশ্যই বাসায় ট্রাই করে দেখবেন কেমন হয়েছে আমার এই রেসিপিটি। এই করোনাকালীন মহামারীর মুহূর্তে আমার এই রেসিপিটি আপনাদের সামান্য উপকারে ও যদি আসে তাহলে আমার লেখাটা সার্থক হবে বলে আমি মনে করি।
তাহলে আজকের মত এখানেই শেষ করলাম। অসংখ্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি এতক্ষণ কষ্ট করে আপনাদের মূল্যবান সময় ব্যয় করে লেখাটি পড়ার জন্য। আপনাদের মূল্যবান দিক-নির্দেশনা দিয়ে আমাকে অনুপ্রাণিত ও উৎসাহিত করবেন। আপনাদের অনুপ্রেরণা পেলে পরবর্তীতে আরো নতুন কিছু নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হব ইনশাআল্লাহ।
ভুল ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।🌹🌹🌹
আমি @hseema" আমার বাংলা ব্লগের --- level- ৩ এর একজন সদস্য। আমি একজন বাংলাদেশী ও ঐতিহ্যবাহী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সন্তান হিসেবে নিজেকে নিয়ে গর্ববোধ করি। আমি লিখতে, পড়তে, ছবি আঁকতে, নতুন নতুন রান্না করতে ও শিখতে ভালোবাসি। সর্বোপরি নিজেকে একজন আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সর্বদা সচেষ্ট থাকার চেষ্টা করি। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।🌹🌹
কালোজিরা দিয়ে এতো সুন্দর ভরতা বানানো যায় জানা ছিলো না খুবই দারুন একট রেসিপি উপস্থাপন করেছেন।ধন্যবাদ শুভ কামনা রইলো।
আপনাকেও অসংখ্য ধন্যবাদ।
আপনার তৈরি করা কালোজিরার ভর্তা রেসিপি খুবই পুষ্টিকর হবে। আমি ভর্তা রেসিপি অনেকবার খেয়েছি তবে কালোজিরার ভর্তা রেসিপি কখনোই খাইনি আমার কাছে এটি একেবারেই নতুন ।আপনি অনেক পুষ্টিকর একটি রেসিপি আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন ধন্যবাদ আপনাকে এমন সুন্দর একটি পোস্ট আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
আসলে ভাইয়া, এটা যেমন পুষ্টিকর তেমনি ঔষধি গুণে ভরপুর একটি রেসিপি, বিশেষ করে করোনা কালীন সময়ের জন্য। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ এত সুন্দর মন্তব্যের জন্য।
কালোজিরার ভর্তা আমার খুবই প্রিয় আপু। আপনার রেসিপিটি সত্যি খুব সুন্দর হয়েছে। দেখে আমার খুব খেতে ইচ্ছে করছে। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ আপু এত সুন্দর একটি রেসিপি আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য আপনার জন্য অনেক অনেক শুভকামনা রইল।
আপনাকেও অসংখ্য ধন্যবাদ এত সুন্দর করে মন্তব্য করার জন্য।
কালো জিরার ভর্তা আমার কাছে অসাধারন লাগে। বিশেষ করে ভাতের সাথে বা পাতলা খিচুড়ির সাথে বেশি ভালো লাগে। ঠান্ডা লাগলে খুবই উপকারী ভর্তা এটি। খুব সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করেছেন। শুভকামনা রইলো আপনার জন্য আপু।
আপনি যথার্থই বলেছেন। ঠান্ডা জনিত সমস্যায় এর বিশেষ উপকারিতা রয়েছে। ধন্যবাদ আপনার সুন্দর মতামতের জন্য।আপনার জন্যও শুভকামনা রইল।
কালিজিরা আমাদের জীবনের জন্য অনেক ভাল একটি জিনিস। আমরা দৈনন্দিন জীবনের কালিজিরা অনেক ক্ষেত্রেই ব্যবহার করে থাকি আমার সঙ্গে দেখা হয়ে থাকে। ধন্যবাদ এত সুন্দর একটি শিক্ষামুলক পোস্ট শেয়ার করার জন্য।
আসলেই এটি খুব উপকারী একটি শস্যদানা,ধন্যবাদ আপনার এত সুন্দর মন্তব্যের জন্য ভাইয়া।
ঔষধী গুণে গুণান্বিত কালোজিরার ভর্তা রেসিপি দেখে তো খেতে ইচ্ছা করছে আপু। ইউনিক রেসিপি ছিলো অনেক সুন্দর করে রেসিপি তৈরি করেছেন দারুন হয়েছে আপনার জন্য শুভকামনা রইলো
আপনাকেও অনেক অনেক ধন্যবাদ এত সুন্দর ভাবে মন্তব্যটি উপস্থাপন করার জন্য ভাইয়া।
ঔষধ গুণে গুণান্বিত কালোজিরা ভর্তা আর অনেক মজাদার একটি রেসিপি আপনি আমাদের মাঝে উপস্থাপন করেছেন আপু। কালোজিরা ভর্তা স্বাস্থ্যের পক্ষে অনেক উপকার সেটা আমরা সকলেই জানি। তবে অনেকেই আছে যারা কালোজিরা কিছুতেই খেতে পারে না যেমন আমি। তবে আপনার এই ভর্তা রেসিপি ঠিক আছে একদম ইউনিক লেগেছে। ধন্যবাদ এরকম একটি ভর্তার রেসিপি আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
আমিও কিন্তু আপনার মত কালোজিরা খেতে পারিনা, কিন্তু যখন এভাবে ভর্তা তৈরি করি তখন কিন্তু ভাতের সাথে আবার খেতে পারি, ধন্যবাদ ভালো থাকবেন।
কালিজিরা আমাদের জন্য খুবই উপকারী একটি খাবার। এর মধ্যে সকল রোগের ওষুধ আছে। আপনার কালিজিরা ভর্তা দেখে মনে হচ্ছে যে খুবই মজাদার হয়েছে। আপনার ভর্তাটি একটু অন্যরকম পদ্ধতিতে করেছেন। এভাবে কখনো কালিজিরা ভর্তা করা হয়নি। একবার বাসায় করে দেখতে হবে। কিন্তু দেখে মনে হচ্ছে যে খুবই সুস্বাদু হয়েছে।
আসলেই আপু এই পদ্ধতিতে ভর্তাটা করলে যারা কালোজিরার ভর্তা পছন্দ করেনা তাদের ও ভালো লাগে। কি বলবো আপু, এইভাবে ভর্তা তৈরি করলে আমার খুবই ভালো লাগে খেতে।ধন্যবাদ আপু আপনার সুন্দর মন্তব্যের জন্য।
কালোজিরার ভর্তা আমি একবার খেয়েছিলাম। তেমনি আপনার রেসিপি টা দেখে আমার খুবই ভালো লাগলো। মনে হয় আপনার তৈরি করা কালোজিরার ভর্তা রেসিপি টা অনেক সুস্বাদু হয়েছে। এমনিতেই কালোজিরা অনেক উপকারী একটা জিনিস। তেমনি আপনার রেসিপি টা অসাধারণ ছিল। আপনার জন্য অনেক অনেক শুভকামনা রইল।
আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ,আর অবশ্যই আপু বাসায় এক বার তৈরি করবেন এই রেসিপিটি,ভালো থাকবেন।
https://twitter.com/hseema1993/status/1487078922067927045?t=4VqkjpLZs7vl2AG1B6Qe7w&s=19