The Buffet Stories এ ফ্যামিলি নিয়ে একদিনঃ
আমরা পরিবারে সদস্য সংখ্যা ছিলাম তিন জন। কিন্তু তখন আমার বাসায় আমার ভাগ্নী অবস্থান করছিল, যার কারণে আমি একটু দ্বিধা-দ্বন্দে ছিলাম, ভাগ্নীকে রেখে কিভাবে যাবো, আবার বসের কাছে ভাগ্নী কথাটা বলতে ও কেমন যেন লাগতেছিল। কিন্তু আমার ৫ বছর বয়সী ছেলে নিহান দাওয়াতের কথা শুনে খুশিতে আত্নহারা।
নিহান Buffe সম্পর্কে কিছুই বুঝতো না, কিন্তু দাওয়াতের কথা শুনেই নিহান মহা খুশি। যাই হোক অনেক চিন্তা ভাবনা করে ভাগ্নীর বিষয়টা বসকে বলেই ফেললাম, বস খুব সহজেই আমার প্রস্তাবটাকে পজেটিভলি নিয়ে নিল। আমার মাথা থেকে একটা বোঝা যেন নেমে গেল। কারণ বিষয়টা নিয়ে আমি অনেক টেনশনে ছিলাম।
যাই হোক সেপ্টেম্বরের ১ তারিখ রাত সাড়ে আটটার সময় আমরা প্রোগ্রাম স্থলে হাজির হলাম। আমার বাসা থেকে মাত্র ১০ মিনিটের দূরত্ব ছিলো মিরপুর সাড়ে এগারো। বলে রাখতে হয় যে আমার বাসা ছিলো মিরপুর ১২ নাম্বার কালসি মোড়ে। সরাসরি আমরা লিফটের সাত তলায় চলে চলে গেলাম। রেস্টুরেন্টে গিয়ে দেখি সবাই মোটামুটি চলে এসেছে। আমাদের পরে শুধুমাত্র বাসেত ভাই এসেছিল। যিনি মাত্র কয়েকদিন আগেই জয়েন করেছেন।
আমরা সবাই সবার সাথে কুশলাদি বিনিময় শেষ করে আমাদের ডিনারের জন্য প্রস্তুত হলাম। যথারীতি আমরা খাবার আইটেমগুলো এক এক করে নিয়ে খেতে শুরু করলাম। আমি এর আগে অনেকবার Buffe খেয়েছি, কিন্তু আমি একটা মিষ্টি সমস্যায় পড়ে গেলাম আমার ওয়াইফকে নিয়ে, আর সেটা হলো সে কি আইটেম নিবে, এখানে যত এইটেম আছে সবগুলোই কি তার জন্য লিস্টেট কিনা, কোনটা নিলে আবার কেউ কিছু বলে কি-না ইত্যাদি বিষয়গুলো তার মাথার মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে
কারণ সে এর আগে কখনো বুফে খায় নি। আবার আমার কাছে ও কিছু জিজ্ঞেস করতে ও পারছে না।।
খাবার মাঝখানে একসময় আমিই তাকে জিজ্ঞেস করলাম, কিরে সব আইটেম নিচ্ছতো, ও আমার দিকে তাকিয়ে বললো, আমি কি সব আইটেম ই খেতে পারবো। আমি বললাম অবশ্যই। তখন সে আমাকে বলে তুমি আমাকে আগে বলবে না। আমি দু-একটা আইটেম খেয়েই পেট ভরে ফেলেছি। তার কথা শুনে আমি হাসলাম আর বললাম তুমি আগে বুফেতে খাওনি এবং বুফেতে খাওয়ার নিয়ম জানো না সেটাতো আমি জানি না। আচ্ছা এখন যতটা পারো খেয়ে নাও।
এই বলে আমি আমার ভাগ্নী জেরিনকে জিজ্ঞেস করলাম যে, তার কি অবস্থা। ভাগ্নী বললো সে ঠিক ঠাক মতোই এগিয়ে যাচ্ছে। যাওয়ার ই কথা কারণ সে ছোট বেলা থেকেই শহরে থাকে, সুতরাং তার Buffe বা রেস্টুরেন্টে খাওয়া নতুন কিছু না। সবচেয়ে বড় যে বিষয়টা, সেটা হলো ছেলে নিহানের বিষয়টা, সকাল থেকেই ছেলেটার শরীরটা ভালো লাগতেছিল না, রাতে এসে সেই ভালো না লাগাটা জ্বরে রুপ নিয়েছে। ছেলেটা কিছুই খেতে পারছিলো না, অনেক কষ্ট করে যতটুকু খাওয়ানো হয়েছিল সেটাও বমি করে ফেলে দিয়েছিল।
এখানে আবার একটা মজার বিষয়ও ছিলো সেটা হলো আমি যখন ওয়েটারকে বললাম যে বমিটা পরিস্কার করে দেন, উত্তরে ছেলেটি আমাকে বললো এটা তাদের কাজ না, এটা নাকি আমাকেই পরিস্কার করতে হবে। শুনে আমার মেজাজটা একদম গরম হয়ে গেল। কিছু না বলে আমি নিজেকে সামলে নিলাম। আমার সবচেয়ে বেশি খারাপ লেগেছে আমার ছে নিহানের জন্য। কারণ দাওয়াতের কথা শুনে ওর মধ্যে যে খুশি আমি দেখেছিলাম, হটাৎ অসুস্থ হওয়ার কারণে সেটা নিমিষেই শেষ হয়ে গেছে। ছেলে খেতে পারেনি দেখে আমাদের মনটা ও অনেক খারাপ হয়ে গেল।
ইচ্ছে থাকা সত্বেও আর বেশি দেরি করতে পারলাম না, তাড়াতাড়ি করেই সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে চলে আসলাম কারণ, সময় যতই যাচ্ছে ছেলেটা ততই অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে। তবে সবচেয়ে ভালো লাগলো যে সবাইকে নিয়ে আমি আমার প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করতে পেরেছি। এভাবেই আমি আমার ফ্যামিলি নিয়ে The Buffet Stories এ আমাদের ডিনারের প্রোগ্রাম শেষ করলাম।
আসলে আমাদের প্রত্যেকের উচিৎ নিজেদের পরিবারকে যথাযথ সময় দেওয়া। কোথাও ঘুরতে নিয়ে যাওয়া। কোন ভালো রেস্টুরেন্টে এ খেতে নিয়ে যাওয়া। তাতে করে পরিবারের যারা সবসময় ঘরে থাকতে থাকতে বিরক্ত তারা কিছুটা হলে ও একটু ফ্রেশ মাইন্ডে থাকতে পারবে।
Post Created by-@azizulmiah
বুখে সবসময় মজাদার হয় । আমরা মাঝে মাঝে যাই তবে খুব কম। আপনি পরিবার নিয়ে গেছেন দেখে বেশ ভালো লাগলো। খুব সুন্দর সময় কাটিয়েছেন।
জী ভাইয়া ঠিকই বলেছেন বুফে খাওয়ার মজাটাই অন্যরকম।
আপনার মার্কডাউন এ অনেক ভুল রয়েছে।শুধু শুধু অনেক জায়গায়( |..||| ) এই মার্কডাউনটা অতিরিক্ত ব্যবহার করেছেন।
আপু আমি এইভাবে মার্কডাউনগুলো ব্যবহারের কারণ, আমার কাছে মনে হচ্ছে এই অতিরিক্ত মার্কডাউন ব্যবহারের কারণে ইমেজগুলোতে একটা সুন্দর লুক আসছে। যদি এটা ব্যবহার ঠিক না হয় তাহলে আমি আর ব্যবহার করবো না। ধন্যবাদ আপু।