আসসালামুআলাইকুম সবাইকে।
আমার বাংলা ব্লগের বন্ধুরা কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভাল আছেন। আমিও ভাল আছি আলহামদুলিল্লাহ।
আবারো হাজির হয়ে গেলাম নতুন একটি পোস্ট নিয়ে। আজকে "আমার বাংলা প্রতিযোগিতা-২৬ || শেয়ার করো তোমার বানানো ভিন্ন রকমের কেকের রেসিপি" প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছি। প্রথমে শুভ ভাইয়াকে ধন্যবাদ এত সুন্দর একটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করার জন্য। এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে অনেক সুন্দর সুন্দর কেকের রেসিপি দেখতে পারছি এবং শিখতে পারছি। তাই ভাবলাম যে আমিও আর বসে থাকবো কেন। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেই ফেলি।
পুডিং কেক

বেশ কয়েকদিন ধরে ভাবছিলাম যে কি কেক বানাবো। পরে হঠাৎ করে আজকে মনে হলো যে পুডিং কেক বানাই। যদিও এই কেক আমি আগে কখনো বানায়নি। অনেক কষ্টকর এবং সময় সাপেক্ষ। তাই ভাবছিলাম যে না জানি কেমন হয় এবং বানাতে পারবো কিনা। তারপর সাহস করে বানাতে শুরু করলাম । কিন্তু সবকিছু রেডি করার পর হঠাৎ বেকিং পাউডার বের করে দেখি যে বেকিং পাউডারের ডেট শেষ হয়ে গিয়েছে। তখন তো মাথায় হাত অবস্থা। বাসায় হাজবেন্ডও নেই আবার দুই বাচ্চাকে নিয়ে যাওয়া অনেক ঝামেলা। তখন বড় বাচ্চার টিচার পড়াচ্ছিলো। টিচারের কাছে দুই বাচ্চাকে রেখে আমি চুপিচুপি করে বেকিং পাউডার কেনার জন্য চলে গেলাম। তারপর শুরু হলো আমার কেক বানানো। কেক বানানোর পদ্ধতি গুলো দেখলেই বুঝতে পারবেন যে কতটা জটিল আজকের কেকটি বানানো। যাইহোক সবশেষে খেতে কিন্তু খুবই মজাদার হয়েছিল।

দুধ --১/২ লিটার
ডিম -- ৪ টি
ময়দা-- ১/২ কাপ
চিনি--১ কাপ
গুঁড়া দুধ-- ৩টেবিল চামচ
সয়াবিন তেল-- ১/২ কাপ
বেকিং পাউডার --১ টেবিল চামচ
ভ্যানিলা এসেন্স--১.৫চা চামচ

প্রথমে চুলায় হাফ লিটার দুধ নিয়ে সেই দুধ জ্বাল দিয়ে অর্ধেক করে নিয়েছি। তারপর দুধ ঠান্ডা হওয়ার জন্য রেখে দিয়েছি ।
এখন চুলায় একটি বাটি বসিয়ে তার মধ্যে ১/৪ কাপ চিনি ও সামান্য একটু পানি দিয়ে জ্বাল দিয়েছি ।
কিছুক্ষণ জ্বাল দেয়ার পর চিনি এরকম লাল লাল হতে শুরু করেছে। তারপর চুলা বন্ধ করে দিয়েছি । কিছুক্ষণ পর আমার ক্যারামেল তৈরি হয়ে গিয়েছে।
একটি পাত্রে দুটি ডিম নিয়ে হ্যান্ড বিটার দিয়ে সামান্য বিট করে নিয়েছি। তারপর ঠান্ডা হওয়া দুধ এর মধ্যে দিয়ে আবারো হালকা বিট করেছি।
এখন চিনি দিয়ে আবারো ভালোভাবে বিট করে নিব যাতে সবকিছু মিশে যায় ।
বিট করা শেষ হয়ে গেলে ক্যারামেল এর মধ্যে দুধ ছাঁকনি দিয়ে ছেকে ঢেলে দিব।

বাকি ডিম দুটি নিয়ে ডিম এবং কুসুম আলাদা করে ফেলব। তারপর ডিমের সাদা অংশ বিট করে নিব ।
একটু একটু করে তেল মিশাবো আর সাদা অংশ বিট করতে থাকবো। তারপর চিনি মিশিয়ে আবারও বিট করবো।
এখন ডিমের কুসুম দিয়ে আবারো ভালোভাবে বিট করবো।কেক তৈরীর ক্ষেত্রে এই বিট করাটাই আসল। যত বেশি ভালোভাবে বিট করা যাবে কেকটি তত বেশি নরম হবে ।
এখন একটা ছাঁকনি নিয়ে ময়দা, বেকিং পাউডার এবং গুড়া দুধ ছেঁকে বিট করা ডিমের মধ্যে দিয়ে দিব ।
সবকিছু ছাকা হয়ে গেলে ভ্যানিলা এসেন্স দিয়ে দিব।
তারপর স্প্যাচুলা দিয়ে সবকিছু ভালোভাবে মিশিয়ে নিব। খুবই আলতো হাতে মিশাতে হবে যাতে ফোম ভাবটা চলে না যায়। এখন এই মিক্সড আগে থেকে তৈরি করে রাখা পুডিং মিক্সড এর উপর ঢেলে দিব ।
তারপর হালকা ট্যাপ করে নিবো যাতে উপরটা সমান হয়ে যায়।

এখন চুলায় একটি ফ্রাইপ্যান বসিয়ে দিয়ে তার মধ্যে পরিমাণ মত পানি এবং একটি স্ট্যান্ড বসিয়ে দিয়েছি। পানি ফুটতে শুরু করলে কেকের বাটিটি এর মধ্যে বসিয়ে ঢাকনা দিয়ে ঢেকে মিডিয়াম আঁচে ৪০ মিনিট রান্না করবো।
৪০ মিনিট পর ঢাকনা খুলে দেখি যে আমার কেক তৈরি হয়ে গিয়েছে। একটা টুথ পিক দিয়ে চেক করে নিব।

এখন এই বাটিটির উপর একটি প্লেট রেখে বাটিটি উল্টিয়ে কেকটি ঢেলে নিব ।


ফাইনালি আমি কেকটি বানাতে পেরেছি এবং এটি খেতেও খুব সুস্বাদু হয়েছিল। আশা করি আমার আজকের কেক তৈরিটি আপনাদের ভালো লেগেছে। সময় নিয়ে আমার পোস্টটি দেখার জন্য সকলকে ধন্যবাদ। সবাই ভাল থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। পরবর্তীতে দেখা হবে আবার নতুন কিছু নিয়ে।
ধন্যবাদ
| Photographer | @tania |
| Phone | oppo reno5 |
| আমি তানিয়া তমা। আমি বাংলাদেশে থাকি। ঢাকায় বসবাস করি। আমি বিবাহিত। আমার দুটি ছেলে আছে। আমার শখ রান্না করা, শপিং করা, ঘুরে বেড়ানো। আমি বাংলায় কথা বলতে ভালোবাসি। আমি আমার বাংলাদেশকে ভালবাসি। |



VOTE @bangla.witness as witness
OR SET @rme as your proxy
পুডিং কেক টা দেখে তো মুখ দিয়ে জল গড়াচ্ছে। কিন্তু আফসোস,,কেউ তো আর খাওয়ার জন্য ডাকবে না☹️।
রেসিপি গুলো দেখতে তো অনেক সহজ মনে হয়। কিন্তু আমি করতে গেলে হয় না কেন এটাই বুঝি না। ভাগ্নেদের চোখ কে ভালোই ফাঁকি দিয়েছেন দেখি। অবশ্য ওটুকু ফাঁকি না দিলে এত চমৎকার একটা রেসিপি আমরা পেতাম না। আমার তো ভীষণ ভালো লাগলো আয়োজন টা। আর আমিও শুনেছি ভালো মত বিট না করা হলে নাকি কেক ভালো হয় না। আমাকে একটা বিটার গিফট করেন তো আপু 😀,, হাত দিয়ে কষ্ট করে করা যাবে না।
যাই হোক প্রতিযোগিতার জন্য অনেক শুভকামনা রইলো।
ঠিক বলেছেন ভাইয়া রেসিপি গুলো দেখতে যত সহজ মনে হয় বানাতে গেলে বোঝা যায় যে কতটা কষ্ট। আপনার কেক বানানো লাগলে আমার হ্যান্ড বিটারটা ধার নিয়ে যেয়েন। ধন্যবাদ আপনার সুন্দর মন্তব্যের জন্য।
ওয়াও আপু অসম্ভব সুন্দর ও সুস্বাদু কেকে তৈরি করেছেন। দেখতে সত্যিই খুব লোভনীয় লাগছে আপনার তৈরি করা কেকটি। হরেক রকম কেক খেয়েছি তবে এরকম পুডিং কেক কখনো খাওয়া হয়নি। আপনার রেসিপি দেখে শিখে নিয়েছি অবশ্যই একদিন ট্রাই করবো। এত সুন্দর একটি কেক তৈরির মাধ্যমে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আপনার জন্য অনেক অনেক শুভকামনা রইল।
আমিও এই প্রথম পুডিং কেক বানালাম । খুবই ঝামেলার এই কেক বানাতে। কিন্তু খেতে খুবই মজাদার । আপু আপনিও বাসায় রান্না করে খেয়ে দেখবেন। খুব ভালো লাগবে। ধন্যবাদ আপনাকে।
আপু আপনি খুব সুন্দর করে পুডিং কেক বানিয়েছেন। কেক রেসিপিটি দেখে খুবই লোভনিয় লাগছে। পুডিং কেকের কালার টা জাস্ট অসাধারণ এসেছে আপু। খুবই ভিন্ন ধর্মী একটি কেক ছিল। ধন্যবাদ আপনাকে আপু পুডিং কেকের নতুন রেসিপিটি আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
পুডিং কেক দেখতে যা লোভনীয় হয়েছে আপু তা বলে বোঝানোর মতো না। খেতে যে খুবই সুস্বাদু হয়েছিল তা দেখেই বোঝা যাচ্ছে। আমি আগে কখনো এভাবে পুডিং কেক বানাইনি আশাকরি খুব তাড়াতাড়ি বাসায় ট্রাই করবো। আপু আপনার জন্য অনেক অনেক শুভকামনা রইল।
খেতেও খুবই মজাদার হয়েছিল আপু । দুই রকম ফ্লেভার পাওয়া যাচ্ছিলো পুডিং এরএবং কেকের। মুখে দেওয়ার পরে খুবই ভালো লাগছিল। বাসায় চেষ্টা করে দেখবেন আশা করি ভালো লাগবে। ধন্যবাদ আপনাকে।
এই পুডিং কেক এ কেক এবং পুডিং আলাদাই থাকবে। একসঙ্গে দিলেও দুটি মিলিয়ে যায় না। দুটি লেয়ারের থাকে। এজন্য খেতে খুবই ভালো লাগে। ধন্যবাদ ভাইয়া আপনার সুন্দর মন্তব্যের জন্য।
আপনি খুবই মজাদার কেক রেসিপি তৈরি করলেন। কেক রেসিপি দেখে অনেক সুস্বাদু মনে হচ্ছে। মজাদার কেক রেসিপি সুন্দর ভাবে আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।
পুডিং কেক খেতে অনেক টেস্টি,যদিও অনেক ঝামেলার।অনেক আগে আমি তৈরি করেছিলাম যদিও আনার পুডিং কেক টা তেমন ভালো হয়নি।যাই হোক বাচ্চাদেরকে টিচারের কাছে দিয়ে বেকিং পাউডার এনে অবশেষে বানাতে পারলেন।প্রথম প্রথম হয়ে ও কেকটি ভালোভাবেই বানাতে পারলেন আপু।আপনার জন্য শুভ কামনা রইলো। ধন্যবাদ আপনাকে
ঝামেলার কথা আর বইলেন না আপু। বানাতে গিয়ে তো মাথা খারাপ। এত কষ্ট হয়েছে যে বলে বোঝাতে পারবো না। কিন্তু বানানোর পর খেতে খুব ভালো লেগেছিল। এজন্য কষ্টটা সার্থক মনে হয়েছে। ধন্যবাদ আপনাকে।
আমিও আপনার মাধ্যমে শুভ ভাইকে অনেক ধন্যবাদ জানাই।কারণ প্রতিযোগিতার আয়োজন করলে অনেক সুন্দর সুন্দর ইউনিক রেসিপি দেখতে পাই।আপনিও প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করছেন জেনে ভালো লাগলো।তবে আপনার পুডিং কেক দেখতে অনেক সুন্দর হয়েছে।ধন্যবাদ আপু আপনাকে।
ঠিক বলেছেন আপু রেসিপি প্রতিযোগিতা হলে অনেক সুন্দর সুন্দর রেসিপি শেখা যায়। আজকে তো বিভিন্ন ধরনের কেক তৈরি শিখে নিলাম। ধন্যবাদ আপনার গঠনমূলক মন্তব্যের জন্য।
প্রথমেই আপনার কনটেস্টের জন্য অনেকে শুভ কামনা রইল আপু।আপনি পুডিং কেক এর রেসিপিটি খুব সুন্দরভাবে তৈরি করেছেন এবং ধাপগুলো সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছেন। ধন্যবাদ আপনাকে সুন্দর পুডিং কেকের রেসিপিটি শেয়ার করার জন্য।
বাহ্ আপু, আপনি প্রথম কেক বানিয়েছেন এটা তো মনে হচ্ছে না। তারপর আবার কেক বানাতে গিয়ে বেকিং পাউডারের ডেট শেষ হয়ে গিয়েছে। একেবারে ভালো করেছেন ছেলেদেরকে টিচারের কাছে রেখে চুপিচুপি বেকিং পাউডার নিয়ে আসলেন। পুডিং তার সাথে আবার কেক দুইটা রেসিপি একটার মধ্যে তৈরি করলেন সত্যি অসাধারণ হয়েছে। আমি তো দেখে একেবারে মুগ্ধ হয়ে গেলাম। মনে হচ্ছে খেতেও ভীষণ অসাধারণ লাগবে।
আপু কেক প্রথম বানাইনি । কেক তো অনেক বানিয়েছি, কিন্তু এই পুডিং কেক প্রথম বানালাম। বাচ্চাদের চোখ ফাকি দিয়ে বাইরে যাওয়া খুবই কষ্টকর। যাই হোক ধন্যবাদ আপনার সুন্দর মন্তব্যের জন্য।