ঘড়ির কাঁটায় আটকে থাকা সময় ( পর্ব ৩ )
| হ্যালো বন্ধুরা, আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি। |
|---|
Image Created by OpenAI
আজকে আপনাদের সাথে "ঘড়ির কাঁটায় আটকে থাকা সময়" গল্পটির তৃতীয় পর্ব শেয়ার করে নেবো। তো নারায়ণ যখন বুঝতে পারে সময়ের চক্রে সবকিছু পরিবর্তন হয়ে গেছে এবং সবকিছুই আবার পুনরায় অর্থাৎ ৬০ বছর আগের মতোই লাগছে। সেই দোকানের মালিকটার বয়সও অনেক কম কম লাগছিলো, যেন ২৬ বছরের যুবক। আর ৬০ বছর আগের বা সেই সময়ের পোশাকের ধরণের সাথে বর্তমানের পোশাকের ধরণের অনেক পার্থক্য রয়েছে। তো নারায়ণ দেখছে দোকানের সমস্ত কাস্টমারদের পোশাকের ধরণ অনেক চেঞ্জ। এরই মধ্যে একটা মহিলা অর্থাৎ নারায়নের চেনা সেই মহিলা, তাদের পাড়াতেই থাকে।
কিন্তু এই মহিলা অনেক বৃদ্ধ ছিল, কিন্তু এখন একদম ইয়ং অবস্থায় দোকানে অর্থাৎ ৩৫-৪০ বছরের মহিলাদের মতোই দেখতে লাগছে। তো দোকানে এসে সেই দোকানদারকে বললো-দাদা! আমার ছেলের ঘড়িটা আবার বন্ধ হয়ে গেছে, কাল রাতেই সময় থেমে গেছিলো। দোকানদার হেসে উঠলেন এবং বললেন-সময় কখনো থেমে থাকে না, সে তার নিজের গতিতে চলতে থাকে। বরং সময় মানুষকে ভুলে যায়। নারায়ণ তো এইসব দেখছে আর হতবাক হয়ে যাচ্ছে যে, আসলে হচ্ছেটা কি, সবকিছু যেন গুলিয়ে যাচ্ছে। পরক্ষণে নারায়ণ এইসব এর অস্থিরতার মধ্যে কাঁপছে আর ভাবছে সবকিছুই তো হলো, কিন্তু আমি এখন এই সময়ের বেড়াজাল থেকে বেরোবো কিভাবে।
নারায়ণ বর্তমান সময়ের থেকে ৬০-৭০ বছর পিছিয়ে আছে এবং সে এখন ২০২৫ সালে ফিরে আসতে চায়। এরই মাঝে এইসব ভাবতে ভাবতে নারায়ণের পকেটে থাকা সেল ফোনটা বেজে উঠলো, নারায়ণ ফোনটা বের করে দেখে, স্ক্রিনে লেখা আছে-নেটওয়ার্ক অনুপলব্ধ। একই সাথে দোকানের সমস্ত ঘড়ি বেজে উঠলো অর্থাৎ যেমন টিক টিক আওয়াজ হয়। আর সেই কালো ঘড়িটার কাঁটাও নড়ে উঠলো আর নারায়ণ আবারো অজ্ঞান হয়ে গেলো। ঘন্টা ৩ এক বাদে নারায়ন এর জ্ঞান ফেরে এবং সে নিজেকে একটা হসপিটালের বেডে শুয়ে থাকা অবস্থায় দেখতে পায়। নারায়নের জ্ঞান ফিরলেও তার চোখে যেন একটা অন্ধকারাচ্ছন্ন ভাব অর্থাৎ আবছা আবছা দেখতে পাচ্ছে সবকিছু।
ওখানে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একজন নার্স নারায়ণকে বললো-বেশি কথা বলবেন না এখন, চুপচাপ থাকুন, অনেকটা সময় অতিবাহিত হয়ে গেছে। নারায়ন কিছুক্ষন পরে নার্সকে জিজ্ঞাসা করলো, আমি কোথায় আছি এখন অর্থাৎ কোন হসপিটালে? নার্স বললো-এটা কলকাতার অতি পরিচিত গঙ্গারাম নামের একটি হসপিটালে। কিন্তু নারায়ন যেন দেখতে পাচ্ছে, তার চারিপাশে সবকিছু সাজসজ্জা থেকে শুরু করে সবকিছু পুরোনো আমলের অর্থাৎ যেন আগে যেখানে ছিলাম, সেইরকম। হসপিটালের একটা ক্যালেন্ডারে সাল লেখা আছে ১৯৬২।......
শুভেচ্ছান্তে, @winkles
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |


