শ্মশান থেকে ফেরা চিঠি ( শেষ পর্ব )

in আমার বাংলা ব্লগ9 months ago
হ্যালো বন্ধুরা, আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি।

Late Night Revelation.png

Image Created by OpenAI

আজকে আপনাদের সাথে "শ্মশান থেকে ফেরা চিঠি" গল্পটির শেষ পর্ব শেয়ার করে নেবো। তো রাহুল ওই ৩ ব্যবসায়ীর সত্য সবার সামনে আনার জন্য অনেক প্রয়াস করতে থাকে। যদিও তাদের স্থান এখন সমাজের দৃষ্টিতে অনেক উপরে, ফলে তাদের মুখোশ খুলতে একটু অসুবিধা হবে। আর একটা চিঠি তো এসেছিলো, সেখানে দ্রুত তাদের সাজা দেওয়ার কথা বলে, না হলে তাকেও তাদের হাতে মরতে হতে পারে। এখন বিষয়টা হলো রাহুল কোনদিকে যাবে, তার যেন এখন উভয় দিকে সংকট। একটা যেন দ্বিধা-দ্বন্দে পড়ে গেছে, এদিকে দ্রুত তাদের সত্যটা প্রকাশ না করলে তাদের হাতেও মৃত্যু হতে পারে আবার যদি তারা জেনেও যায় যে, আমাদের বিরুদ্ধে এই সাংবাদিক ষড়যন্ত্র করছে, তাহলে সেই অবস্থাতেই তাকে মেরে ফেলতে পারে।

যখন এই চিন্তায় সে বিভোর যে, আমি না করলেও মরবো আবার করলেও মরবো, তার থেকে করাই ভালো। এখন এই মুহূর্তে আবার ঘরের ভেতরে আগুন লেগে গেলো, কিন্তু এই আগুন যেন এক অদৃশ্য আগুনের মতো অর্থাৎ এই আগুন ঘরের কোনো কিছু জ্বালাচ্ছে না, শুধুই কাগজপত্র এবং ডায়েরিগুলো পুড়িয়ে দিতে চাইছে। রাহুল এই ডায়েরি বাঁচানোর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করতে থাকে, কারণ এই ডায়েরিই এখন সবকিছু। এই ডায়েরি না থাকলে সেই তিন ব্যবসায়ীকে কোনোমতেই সাজা দেওয়া সম্ভব নয়, এটাই একমাত্র বড়ো প্রমান। অনেক কষ্টে ডায়েরিটা বাঁচাতে পারে, শুধু উপরের কভারটা একটু পুড়ে যায়।

রাহুল এরপরে ফাইনাল সিদ্ধান্ত নেয় যে, এই ঘটনাটা আমি আগামীকালকেই সবার প্রকাশ্যে আনবো। আর সে তার সংবাদপত্রের মাধ্যমে প্রকাশিত করার একটা বড়ো অস্ত্র এর সাহায্য নেয়। কারণ তার হাতেই এমনি একটা সাংবাদিকতার সরকারি ক্ষমতা বা অধিকার আছে। তাই সেই পরেরদিন খবরের কাগজে ডায়েরির সমস্ত ঘটনা ছেপে দিলো। ডায়েরিতে একদম পুরো যা ছিল, হুবহু তাই তুলে দিয়েছে। এখন এই ঘটনা প্রকাশ হওয়ার পরে শহরে যেন একটা হৈচৈ পড়ে যায়, চারিদিকে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি। জনগণ এই তিন ব্যবসায়ীর উপরে মারাত্মক চড়ে যায় এবং শেষমেশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এর জন্য পুলিশ এই তিন ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে। এই ঘটনা ছাপানোর একদিন পরেই এক আশ্চর্য ঘটনা ঘটলো, ডায়েরির পুরো কপি কিভাবে যেন ধংস হয়ে গেলো।

এইরকম পরিস্থিতিতে যে কারো অবাক হওয়ার কথা, রাহুল নিজেও যেন বিষয়টাকে বিশ্বাস করতে পারছে না। এ যেন এক অদৃশ্য ঘটনা, কেউ এসে ডায়েরিটাকে ধংস করে দিয়ে গেছে। রাহুলের মনে হচ্ছিলো যেন সেই আগুনে পুড়ে যাওয়া আত্মাটার কাজ। হয়তো তার কাজ হয়ে গেছে অর্থাৎ তার ইচ্ছাটা পূরণ হয়ে গেছে, তাই সে এটা আর রাখতে চাইলো না। এই ভেবে রাহুল পরেরদিন আবারো স্মশান এর সেই বটতলায় চলে যায় এবং সে দেখতে পায় সেই লোকের ছায়ামূর্তি। যেন তার মুখে একটা পরম শান্তির হাসি ফুটে ওঠে, কারণ সে অবশেষে মুক্তি পেয়েছে এবং সে তার পৃথিবীতে গমন করতে পারবে।

রাতের দিকে স্মশান ঘাটে যে ধোঁয়া ওঠে সেই ধোঁয়ায় যেন ছায়ামূর্তিটি বিলীন হয়ে গেলো আস্তে আস্তে। রাহুল দাঁড়িয়ে থাকার পরে ওখানে আরো একটা কণ্ঠ ভেসে আসলো-সত্যি প্রকাশ করেছো, ভালো কথা। কিন্তু মনে রেখো, সব সত্যি প্রকাশের পরেই আবার একটা নতুন অন্ধকারের জন্ম নেয়। রাহুল পেছনের দিকে তাকিয়ে দেখলো কেউ নেই, নিস্তব্দ স্মশান। আর ওখানেই তার হাতে আবারো একটা নতুন খামের উদয় হলো, তাতে রাহুলের নাম আর ঠিকানা মৃতদের নগর। মনে হলো রাহুলের সাংবাদিকতা জীবনে আবারো একটা নতুন মোড় নিতে চলেছে।


শুভেচ্ছান্তে, @winkles


Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power

250 SP500 SP1000 SP2000 SP5000 SP

Heroism_3rd.png



Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.086
BTC 60080.08
ETH 1572.99
USDT 1.00
SBD 0.42