আর্থিক সংকটে দিন অতিক্রম | Days Are In Money Crisis

in LifeStyle5 years ago (edited)

image.png
Photo Credit

আজকে নিজেকে একটু হালকা অনুভব করছি ; আজকের পর থেকে আমি পৃথিবীর সমস্ত প্রকারের ঋণ(টাকার অঙ্কে) থেকে মুক্ত। ঋণের ভারে এতদিন চাপ অনুভব করতাম।সবসময় চিন্তা করতাম,আল্লাহ এত টাকা শোধ করব কবে?

ঢাকাতে শেষের দিকে টিউশনি করাতে মোটেও ভালো লাগত না;টিউশনি না করানোর কারণে শেষের দিকে ভালো রকমের Economic Crisis এ পড়ে যাই।তাই ঋণ হয়ে গিয়েছিল অনেক। অবশ্য বড়ো ভাই, মঈন ভাইয়ার কাছে যখনই টাকা চেয়েছি,তিনি কখনো না শব্দটি উচ্চারণ করেননি, ভাইয়ার কাছে টাকা চাইলে ভীষণ রকমের হীনম্মন্যতায় ভুগতাম।লজ্জায় একেবারে মাথা কাটা যেত।

কোনো মাসে রবিবার টাকা শেষ,অথবা সোম,মঙ্গল Whatever যে বারই হউক--শুক্রবার অথবা শনিবার ছাড়া মঈন ভাইয়ার কাছে টাকা চাইতাম না।অথচ পকেটে ১০০ বা তারও কম আছে।কী কষ্টের দিন ছিল তা লিখে বোঝানো সম্ভব নয়।বই লাগবে
শহীদবাগ/শাহজাহানপুর থেকে নীলক্ষেত হেঁটে হেঁটে কতদিন যে গিয়েছি তার কোনো ইয়ত্তা নেই।অথচ,আমার কোনো আত্মীয়-স্বজন আর্থিক ব্যাপারে আমার কোনোদিন খোঁজ-খবর পর্যন্ত নেয়নি,কোন হাল-হাকীকতে আছি--কিছু টাকা লাগবে কি না।চলতে পারছি কি না।আর এ বিষয়গুলো আমাকে একান্তভাবে কষ্ট দিয়েছে।

যারা অফিস করে,তাদের মন-মেজাজ স্বাভাবিকভাবে একটু রুক্ষ থাকে--তাই অফিস
ডে-তে কখনো টাকা চেয়ে ভাইয়াকে পেরেশানিতে ফেলতে চাইতাম না।অফিসের প্রেশার আবার আমিও টাকা চাইব--দুটো প্রেশার একসাথে দেওয়াকে আমি সমীচীন মনে করতাম না।

ঠিক একইভাবে ঢাকার শুরুর দিকে যখন ঢাকা থেকে বাড়িতে বেড়াতে আসতাম;টাকা লাগলে আব্বুকে সাথে সাথে বলতাম না।বাড়িতে এক সপ্তাহ থাকলে ঠিক পাঁচ অথবা ছয়দিনের মাথায় সকাল বেলায় বলতাম--আব্বু আমার এত টাকা লাগবে!
ঢাকা থেকে এসেই সাথে সাথে চেয়ে ফেলে দীর্ঘ এক সপ্তাহ আব্বুকে পেরেশানিতে রাখব,এ শিক্ষা আমি কখনো শিখিনি;আর আমি কখনো আব্বুর কাছে রাতের বেলায় টাকাই চাইতাম না।আমার মনে হতো,রাতে টাকা চাইলে,আব্বু পেরেশানিতে পড়ে যাবে আর এ পেরেশানির কারণে আব্বুর ঘুম না হলে আল্লাহর সামনে আমি দাঁড়াব কোন সাহসে!

আমি এ পৃথিবীতে মঈন ভাইয়া ছাড়া কারও কাছে ঋণী হয়ে থাকতে চাইনি।যত প্রকারের আর্থিক কষ্ট-ই হউক না কেন--মঈন ভাইয়া ছাড়া কারও কাছ থেকে আমি আর্থিক সহযোগিতা গ্রহণ করিনি।আত্মীয়-স্বজন অথবা কারও কাছে টাকা চাওয়া বা আর্থিক সহযোগিতা নেওয়া,আমার এথিকসের মধ্যেই ছিল না।মঈন ভাইয়া ছাড়া আমি কারও বলার সুযোগ রাখিনি যে ইকরামকে আমি/আমরা আর্থিক সহযোগিতা করেছি।

আমার কষ্টগুলো একান্ত-ই আমার।ঈসা (আ.)-এর
জীবনীতে একবার পড়েছিলাম,'আমি মানুষের কষ্ট লাঘবের জন্য পৃথিবীতে এসেছি;কাউকে কষ্ট দেওয়ার জন্য নয়। প্রণয়াসক্ত হওয়ার মতোই একটা বাক্য।

এ পৃথিবীতে মানুষের কষ্ট-ই লাঘব করে যেতে পারলাম না;আপনার এ টাকার উপর আমি চরম ঘৃণা প্রদর্শন করছি।মানুষ পেরেশানিতে আছে--তার পেরেশানি লাঘবের জন্য তোমার-আমার কোনো চিন্তাই নেই,কী ভয়ানক আফসোসের ব্যাপার, একান্ত ব্যক্তিগত এ বিষয়টা আমি কেন শেয়ার করলাম?

আমার মতো অনেকেই এখন আর্থিক সংকটে দিন অতিক্রম করছেন।বিশ্বাস রাখুন,আপনার এ সংকট বেশিদিন স্থায়ী থাকবে না।কারও কাছ থেকে আর্থিক সহযোগিতা পাচ্ছেন না কিচ্ছু চিন্তা করবেন না,প্রয়োজনে কিছুদিন সকালের আর বিকালের নাস্তার টাকা বাঁচিয়ে(আমিও এমনটা করেছি) কিছু বই কিনে পড়তে থাকুন--অচিরেই হতাশার অমানিশা অবশ্যই আলোয় ভরে দেবে আপনার সোনালি জীবন।

আপনার বন্ধু-বান্ধবদের এখন চিল করার সময়।আর এ বয়সটাই চিল করার।আপনারও চিল করতে মন চায়;কিন্তু পারছেন না।পেরেশান হবেন না--এমন ক্যারিয়ার করুন,যেন চিল করা বন্ধুরা আপনাকে দেখে আজকের রোদের তাপদায়ের মতো পুড়ে যায়। কি পারবেন না?

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.082
BTC 61656.65
ETH 1638.79
USDT 1.00
SBD 0.41