অনুগল্প// "গোধূলির শেষ চিঠি"
আসসালামু আলাইকুম,শুভ রাত্রি
হ্যালো বন্ধুরা,আপনারা সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। আমিও আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি।
আজ আবারও একটি গল্প নিয়ে চলে আসলাম। চলো শুরু করি----শ্রাবণের এক বিকেলে মেঘে ঢাকা আকাশের নিচে প্রথম দেখা হয়েছিল আয়ান আর মেহুলির। নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে কাঁদছিল মেহুলি—সেই কষ্টের উৎস জানার আগেই আয়ান তার পাশে দাঁড়িয়ে বলেছিল, “ভালোবাসা হারালে কান্না আসে, কিন্তু কেউ পাশে থাকলে তা সহ্য করা যায়।” সেই কথা থেকে তাদের গল্প শুরু হয়েছিল। আয়ান ছিল এক সাধারণ মুচি পরিবারের ছেলে—অভাবের সংসারে মানুষ, কিন্তু হৃদয় ছিল স্বচ্ছ কাঁচের মতো। মেহুলি ছিল জমিদারের নাতনী, শহর থেকে পড়তে এসেছে গ্রামে, দাদুর কাছে। দুইজনের জীবন, সমাজ আর শ্রেণি ছিল দুই মেরুতে, তবু ভালোবাসা যখন আসে, বিভাজন মানে না।
গ্রামের পথ ধরে নদীর পাড়ে, তালগাছের ছায়ায় বসে তারা স্বপ্ন বুনত। মেহুলি বলত, “আমি যদি চিরকাল এখানে থেকে যেতাম?” আয়ান হেসে বলত, “তুমি থাকলেই তো আমার পৃথিবী। কিন্তু সমাজ যে বড় নিষ্ঠুর। একদিন তাদের দেখে ফেলে গ্রামপ্রধান। খবর ছড়িয়ে পড়ে, আর জমিদারবাড়িতে শুরু হয় ঝড়। মেহুলির বিয়ে ঠিক হয় এক উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে। মেহুলি প্রতিবাদ করে, কাঁদে, অনশন করে, কিন্তু কেউ শোনে না তার হৃদয়ের কথা।
বিয়ের আগের রাতে সে পালিয়ে আসে আয়ানের কাছে। “চলো, কোথাও চলে যাই,” মেহুলি বলে। কিন্তু আয়ান জানত—তার সঙ্গে গেলে মেহুলির জীবন ধ্বংস হয়ে যাবে। সে নিজেই পিছু হটে। “তোমার জন্য নয়, তোমার ভবিষ্যতের জন্য আমি তোমাকে যেতে দিচ্ছি,” বলে সে। মেহুলি বোবা হয়ে যায়। আয়ান তাকে শেষবারের মতো জড়িয়ে ধরে, তার কপালে চুমু খায়, আর বলে, “ভালো থেকো। আমি তোমার অপেক্ষায় থাকব, যতদিন বাঁচি।”
বিয়ের দিন সকালে নদীর পাড়ে পাওয়া যায় আয়ানের মৃতদেহ। তার হাতে ধরা ছিল একটি চিঠি—ছেঁড়া, ভেজা, আর রক্তমাখা। চিঠিতে লেখা ছিল: “তুমি সুখে থেকো, এটাই আমার ভালোবাসা। আমার ভালোবাসা বাঁচার নয়, শুধু প্রমাণের। তুমি যেন জানো, কেউ একসময় তোমায় নিঃস্বার্থ ভালোবেসেছিল।”
মেহুলি সেই দিন বিয়ের আসর থেকে উঠে চলে যায় নদীর পাড়ে। আয়ানের পাশে বসে থাকে যতক্ষণ না সূর্য ডুবে যায়। তারপর তাকে আর কেউ দেখে না।কেউ বলে, সে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছিল। কেউ বলে, সে হিমালয়ে চলে গিয়েছিল। কিন্তু গ্রামের বৃদ্ধরা এখনো বলেন, গোধূলিতে নদীর পাড়ে একটা ছায়া দেখা যায়—এক ছেলে আর এক মেয়ে, হাতে হাত ধরে বসে থাকে। সময় তাদের ছুঁতে পারে না।
আমার গল্প আজ এখানেই শেষ করলাম। যদি ভালো লাগে তাহলে সুন্দর মন্তব্যের মাধ্যমে জানিয়ে দেবেন। ধন্যবাদ সবাইকে♥️।
আমি তানজিমা। আমি একজন বাংলাদেশী। আমার মাতৃভাষা বাংলা বলে আমি নিজেকে নিয়ে অনেক গর্ববোধ করি। আমি ফিন্যান্স বিভাগ থেকে বিবিএ শেষ করেছি।
আমি ছবি আঁকতে, পড়তে, লিখতে ফটোগ্রাফি, রেসিপি এবং ডাই বানাতে খুব পছন্দ করি। আবার আমি ভ্রমণ বা ঘুরাঘুরি করতে খুব পছন্দ করি। এছাড়াও আমি বিভিন্ন ধরনের রেসিপি তৈরি করতে খুব পছন্দ করি। আমি চেষ্টা করি সব সময় যেন নতুন কোনো কিছু করা যায়।
Comment link
Comment link