অতিথি পাখি হত্যা করা ঠিক নয়
শুভ রাত্রি। আসসালামু আলাইকুম। আপনারা সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। আমিও আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি।
গ্ৰামে আসার পর থেকে আমার কাজগুলো এলোমেলো হয়ে গিয়েছে। বিভিন্ন ভাবে ব্যস্ত থাকা হয় বলে পোস্ট করতে অনেক রাত হয়ে যায়। তবে এত ব্যস্ততার মাঝেও পোস্ট করার চেষ্টা করি। আজ একদম ভিন্ন ধরনের একটি পোস্ট নিয়ে চলে এসেছি। শীতের সময়ে বিভিন্ন জায়গা থেকে গ্ৰামে কিংবা শহরে বিভিন্ন ধরনের অতিথি পাখির আগমন হয়। আমি মনে করি তারা আমাদের মেহমান। কারণ তারা এই একটা মাস এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ঘুরতে আসে। তাদের হত্যা করা কিংবা আঘাত করা আমাদের উচিত নয়। বরং তারা যাতে সুন্দর একটি সময় উপভোগ করে আমাদের আনন্দ দিতে পারে সেটাই দেখা উচিত।
এই সময় ধান কেটে ফেলা হয় আর নতুন চারা লাগানোর তোড়জোড় চলে। তাইতো সেসব ক্ষেতে কিংবা বিভিন্ন সবজি বাগান অথবা বিলে-ঝিলে অতিথির পাখির দেখা মিলে। তেমনি আমাদের এখানেও বেশ কিছু অতিথি পাখির দেখা মিলেছে। তবে দু-একটি পাখি রয়েছে যারা সবজি ক্ষেতের ক্ষতি করছে প্রতিনিয়ত। আমাদের বাড়ির পাশেই একটা বড় লাউয়ের মাচা রয়েছে। সেই গাছে প্রচুর লাউ ধরেছে। এই গাছ যে লাগিয়েছে সে খুবই গরীব ছেলে। শীতের সময়ে লাউ খেতে খুব ভালো লাগে। সেজন্য লাউ এর প্রচুর দাম।
এই পর্যন্ত সে অনেক গুলো লাউ বিক্রি করেছে। তবে এবার লাউ সে রাখতে পারছে না। দুটি অতিথি পাখির দেখা মিলেছে। পাখির নাম মদনা টিয়া। এই পাখি দুটি ভোরবেলা এসে লাউ এর মাথা থেকে অর্ধেক খেয়ে ফেলে। তারজন্য ছেলেটির অনেক লাউ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এই নিয়ে সে খুব চিন্তিত হয়ে পড়েছে। এরপর গতকাল সকাল বেলা সে একটা গুলতি দিয়ে পাখি কে আঘাত করে।
নিশানা ঠিক মতো ছিল বলে একদম পাখির গায়ে লাগে এরপর পাখিটা মাটিতে পড়ে যায়। তারপর পাখি কে ধরে জবাই করে ফেলে দিতে যাচ্ছিলো। সেই সময় আমার চোখে এই পাখি পড়ে, পাখি দেখে খুব খারাপ লাগলো। যেহেতু ঐ ছেলেটি আমার চাচাতো ভাই ছিল তাই ওকে বললাম পাখি কে এভাবে না মেরে আমাকে দিয়ে দিতে পারতে। আমি এই পাখি কে পোষ মানাতে পারতাম। আমার কাছে পাখিকে অনেক ভালো লেগেছে। পাখির কালার খুব সুন্দর।
এই ধরনের পাখি এর আগে কখনও দেখা হয়নি। পাখির গায়ের রং খুব সুন্দর। আমাদের এখানে আরও কয়েকটি ক্ষেত রয়েছে। সবার অবস্থা একই কারো ক্ষেতে লাউ ঠিক রাখতে পারছে না। তবে যত যাই হোক এভাবে পাখি ধরে হত্যা করা একদমই ঠিক হয়নি। আমার কাছে পাখিকে দেখে খুব খারাপ লেগেছিল। হয়তো ভালোভাবে তাদের তাড়ানোর চেষ্টা করলেই হতো। এই ধরনের ঘৃণিত কাজ যারা করে তাদের একদমই ভালো লাগে না। যাই হোক অনেক কথা বলেছি আজ আর নয় আবার দেখা হবে নতুন কোনো পোস্টের মাধ্যমে। ধন্যবাদ সবাইকে।
আমি তানজিমা। আমি একজন বাংলাদেশী। আমার মাতৃভাষা বাংলা বলে আমি নিজেকে নিয়ে অনেক গর্ববোধ করি। আমি ফিন্যান্স বিভাগ থেকে বিবিএ শেষ করেছি।
আমি ছবি আঁকতে, পড়তে, লিখতে ফটোগ্রাফি, রেসিপি এবং ডাই বানাতে খুব পছন্দ করি। আবার আমি ভ্রমণ বা ঘুরাঘুরি করতে খুব পছন্দ করি। এছাড়াও আমি বিভিন্ন ধরনের রেসিপি তৈরি করতে খুব পছন্দ করি। আমি চেষ্টা করি সব সময় যেন নতুন কোনো কিছু করা যায়।
আসলে এই পাখি গুলো তাদের জীবন বাঁচাতে আমাদের দেশের মধ্যে চলে আসেন। আমরা যদি এই সুযোগ নিয়ে এই পাখি গুলো কে শিকার করি। তাহলে এটা আমাদের জন্য মোটেও কাম্য নয়। আমাদের দেশের মধ্যে শীতকাল চলে আসলেই বিভিন্ন ধরনের অতিথি পাখির আগমন ঘটে। আসলে এই পাখি গুলোর জীবন বাঁচানোর দায়িত্ব আমাদের সকলের।
আপনার সুন্দর মতামতের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।
পশুপাখি আমাদের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে।তাই পশুপাখির যত্ন নেয়া আমাদের উচিত।পাখি যেমন প্রকৃতির সৌন্দর্যকে ধরে রাখে।তেমনি আমাদের পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখে।কিন্তু এই পাখি আবার ফসলের ও ক্ষতি করে।আপনার চাচাতো ভাইয়ের লাউ গাছের লাউ খেয়ে নষ্ট করে ফেলতো তাই তিনি পাখিটিকে মেরে ফেলে।আপনি আপনার কষ্টের অনুভূতি গুলো শেয়ার করেছেন। সত্যি ই খুব খারাপ লাগলো। ধন্যবাদ আপু অনুভূতি গুলো সুন্দর ভাবে তুলে ধরার জন্য।
আপনার চাচাতো ভাই জঘন্য একটি কাজ করেছে। পাখিটিকে হত্যা করা মোটেই উচিত হয়নি। পাখি শিকার করা কিংবা মেরে ফেলাটাকে আমি কখনোই সমর্থন করি না। যাইহোক সবার শুভবুদ্ধির উদয় হোক সেই কামনা করছি। পোস্টটি আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।
শুধু অতিথি পাখি বলেই নয়। বন্য পাখি হত্যা করাটাই ঠিক নয়। আমি চেষ্টা করলে অনেক ধরতে পারি কিন্তু আমি কখনো এগুলো ধরি না। কারণ এগুলো বনেই সুন্দর সৃষ্টি করে। দারুন একটা বিষয় নিয়ে আপনি আলোচনা করেছেন দেখে ভালো লাগলো।
ঠিক বলেছেন ভাইয়া এরা বনেই সুন্দর,তাই তাদের বন্দি করা কিংবা হত্যা করা আমাদের উচিত নয়। ধন্যবাদ।
এইরকম ঘটনা দেখলে আমার নিজেরও বেশ খারাপ লাগে আপু। কী দরকার একটা প্রাণীকে এইভাবে মেরে ফেলা। প্রাণীটা একেবারে অসহায়। এদের আইনের আওতায় আনা দরকার। বেশ খারাপ লাগল আপনার পোস্ট টা পড়ে। আমাদের উচিত এই ধরনের পাখিগুলো কে সংরক্ষণ করা প্রকৃতির জন্য।।