নিঃসঙ্গতা মানুষকে ধ্বংস করে দেয়
আসসালামু আলাইকুম। শুভ রাত্রি
হ্যালো বন্ধুরা,আপনারা সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। আমিও আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি।
একটা সময় ছিল যখন বিকেলে আড্ডা মানেই ছাদে বসে গল্প, চায়ের কাপ হাতে প্রাণখোলা হাসি। কিন্তু এখন সবাই ব্যস্ত। কেউ অফিসের কাজে, কেউ ফোনে, কেউ সোশ্যাল মিডিয়ায় অথচ এই ভিড়ের মাঝেই কেউ কেউ নিঃসঙ্গ হয়ে পড়ে। বাইরের কোলাহলের ভেতরেও কেউ কেউ চুপচাপ কাঁদে—অদৃশ্য সেই অশ্রুগুলো দেখে না কেউ। নিঃসঙ্গতা মানুষের জীবনে এক নীরব ঘাতকের মতো। বাইরে থেকে সব কিছু স্বাভাবিক মনে হলেও, অন্তরের গভীরে তা এক বিষণ্ণতা আর মানসিক চাপের জন্ম দেয়, যা ধীরে ধীরে মানুষকে ভেঙে দেয়।
আমরা একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে আছি—যেখানে প্রযুক্তির উৎকর্ষের কারণে পুরো পৃথিবী আজ হাতের মুঠোয়। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপসহ—সব কিছুই যেন আমাদের একসূত্রে বেঁধে রেখেছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এত সংযুক্তির মাঝেও আমরা কি সত্যিই সংযুক্ত? নাকি ভিড়ের মাঝেও আমরা নিঃসঙ্গ? আপনি যখন প্রযুক্তি থেকে এক সেকেন্ডের জন্য দূরে থাকবেন তখন বুঝতে পারবেন আপনি একাকিত্ব অনুভব করছেন কিনা?
নিঃসঙ্গতা কোনো সাধারণ অনুভূতি নয়। এটি ধীরে ধীরে একজন মানুষকে মানসিকভাবে ভেঙে ফেলে। অনেকে দেখবেন বলে,"আমি ভালো আছি"—এই কথাটার ভেতরে কতটা কান্না লুকানো থাকে, জানেন? না,আমরা কেউ তা বুঝতে পারিনা। কারণ একজন মানুষ যখন কাউকে নিজের অনুভূতির কথা বলতে পারে না, যখন তার পাশে দাঁড়ানোর মতো কেউ থাকে না, তখন সেই চুপচাপ মানুষটার ভেতরে জন্ম নেয় হতাশা, উদ্বেগ এবং আত্মবিশ্বাসহীনতা। সেই অনেকে নিজেকে ভালো দেখানোর জন্য এই কথা বলে থাকে।
গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘমেয়াদী নিঃসঙ্গতা ডিপ্রেশন, অ্যাংজাইটি এমনকি আত্মহত্যার প্রবণতার মতো সমস্যার জন্ম দেয়। একজন মানুষ বাইরে থেকে হাসিখুশি দেখালেও, ভেতরে সে কতটা ভেঙে পড়েছে তা আমরা অনেক সময় বুঝতেই পারি না। অনেক সময় এমন হয়—একজন মানুষ সারাদিন মানুষের সঙ্গে থেকেও একাকী বোধ করে। কারো সঙ্গে মন খুলে কথা বলার সুযোগ নেই, কেউ নেই যাকে বলা যায়, “আজ খুব খারাপ লাগছে।” এই নিঃসঙ্গতাই ধীরে ধীরে আত্মবিশ্বাস কেড়ে নেয়, হাসিটা মলিন করে দেয়, জীবনটাকে যেন ধোঁয়াটে করে তোলে।
নিঃসঙ্গতা মানে আপনি দুর্বল, এমনটা নয়। বরং আপনি হয়তো এমন একজন, যাকে কেউ সত্যিকার অর্থে বোঝার চেষ্টা করেনি। নিঃসঙ্গতা মানেই আপনি একা পড়ে গেছেন, এমন নয়—আপনার পাশে দাঁড়ানোর মতো মানুষটা হয়তো এখনো আপনাকে খুঁজে পায়নি। তাই নিজেকে সবার মাঝে মেলে ধরুন, কখনও নিঃসঙ্গতাকে অনুভব করবেন না। কারণ নিঃসঙ্গতা নিঃশব্দে আমাদের ধ্বংস করতে চায়। আমাদের উচিত নিজে ভালো থাকা এবং অন্যদের খেয়াল রাখা। হয়তো আপনার একটি ফোন কল, একটি বার্তা বা শুধুমাত্র একটু সময়ই কাউকে সেই ধ্বংসের হাত থেকে ফিরিয়ে আনতে পারে। আপনার চারপাশে তাকান। কেউ যদি নিঃসঙ্গ থাকে, তার পাশে দাঁড়ান। কারণ, মানুষ একা ভালো থাকতে পারে না।
নিজকে ভালো রাখতে হলে নিঃসঙ্গতা থেকে দূরে থাকতে হলে আমাদের নিজস্ব সময়ের প্রয়োজন। তাছাড়া এমন কাউকে খুঁজে বের করা প্রয়োজন যার কাছে আপনার মনের সব কথা শেয়ার করতে পারবেন। যদিও একান্তই কাউকে নিজের কথা বলা না যায় তাহলে বিভিন্ন কাজের মধ্যে ব্যস্ত রাখা আর সময় পেলেই পছন্দের কাজ কিংবা ডায়রিতে নিজের মনের কথা গুলো তুলে ধরা। তাহলেই অন্তত নিঃসঙ্গতা কাটিয়ে উঠতে পারবেন। যাই হোক অনেক কথা বলেছি আজ আর নয় আবার দেখা হবে নতুন কোনো পোস্টের মাধ্যমে। ধন্যবাদ।
আমি তানজিমা। আমি একজন বাংলাদেশী। আমার মাতৃভাষা বাংলা বলে আমি নিজেকে নিয়ে অনেক গর্ববোধ করি। আমি ফিন্যান্স বিভাগ থেকে বিবিএ শেষ করেছি।
আমি ছবি আঁকতে, পড়তে, লিখতে ফটোগ্রাফি, রেসিপি এবং ডাই বানাতে খুব পছন্দ করি। আবার আমি ভ্রমণ বা ঘুরাঘুরি করতে খুব পছন্দ করি। এছাড়াও আমি বিভিন্ন ধরনের রেসিপি তৈরি করতে খুব পছন্দ করি। আমি চেষ্টা করি সব সময় যেন নতুন কোনো কিছু করা যায়।
Comment link
Comment link
Comment link
Comment link
Comment link
Comment link
Comment link
Comment link
Comment link