ক্রিয়েটিভ রাইটিং : ছেঁড়া চটি আর স্বপ্নের হাঁটা।

in আমার বাংলা ব্লগlast year
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু /আদাব

🌿আমি তানহা তানজিল তরসা। আমি বাংলাদেশ 🇧🇩 থেকে বলছি। আমার স্টিমিট আইডির নাম @tanha001


আজ ১২ মে রোজ সোমবার ২০২৫ ইং:।

বাংলায় ২৯ বৈশাখ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ।

হ্যালো আমার বাংলা ব্লগবাসী......

কেমন আছেন সবাই? আশা করি সবাই ভালো আছেন। আমিও আল্লাহর অশেষ রহমতে অনেক ভালো আছি।প্রতিদিনের মতো আজ আমি আপনাদের মাঝে নতুন একটি পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছে। আমি সপ্তাহে সাতটি ভিন্ন ভিন্ন পোস্ট শেয়ার করার চেষ্টা করি। সেই ধারাবাহিকতায় আজ একটি ক্রিয়েটিভ রাইটিং পোস্ট লিখে শেয়ার করব। আশা করছি আমার লেখা পোস্ট আপনাদের কাছে ভালো লাগবে। চলুন তাহলে শুরু করা যাক।

child-8966218_1280.png

Source

রোদটা তখন মাথার উপর দাঁড়িয়ে। ঢাকার ব্যস্ততম মোড়ে, গাড়ির শব্দ, মানুষের হাঁকডাক, হকারদের আওয়াজে চারপাশ গমগম করছে। এর মাঝেই রাস্তার এক কোণে, একটি ছেঁড়া পলিথিন বিছানো ফুটপাথে বসে আছে ছোট্ট একটা ছেলে শুভ।তাঁর বয়স বেশি না, হবে নয় কি দশ। গায়ে ধুলোমাখা ছেঁড়া জামা, পায়ে এক পাটি ছেঁড়া চটি। অন্য পাটি হয়তো হারিয়ে গেছে কোনো যানবাহনের চাকার তলায় কিংবা কোনো ডাস্টবিনে। সে বসে আছে কিছু খবরের কাগজ হাতে নিয়ে। পকেটে কিছু চুইংগাম, মাঝে মাঝে কেউ কিনে নেয়, বেশিরভাগই ফিরিয়ে দেয়।রাস্তার উল্টোদিকে একটি বড় বিলবোর্ডে লেখা “সবার জন্য শিক্ষা জাতির অঙ্গীকার”শুভ ওই বিলবোর্ডের দিকে তাকিয়ে থাকে মাঝেমধ্যে। ও জানে ওর জন্য হয়তো এই অঙ্গীকারটা কাগজেই সীমাবদ্ধ।শুভ একসময় স্কুলে গিয়েছিল। মা মারা যাওয়ার আগ পর্যন্ত পড়ত তৃতীয় শ্রেণিতে। বাবা রিকশাচালক ছিলেন। চা-শ্রমিক পাড়ার মানুষ। শহরে এসে ঘর বাঁধতে চেয়েছিলেন দু'বেলা খেতে পেলেই যেন আকাশ ছোঁয়া সুখ। কিন্তু হৃদরোগের কাছে হার মানলেন। আর শুভর স্কুলজীবন তখনই গুটিয়ে গেল। খাবারের লড়াইয়ে নামা শুরু।ভিক্ষা সে চায় না। বলে, আমি কিছু না কিছু বিক্রি করব, কিন্তু হাত পেতে নেব না।এই বয়সে এমন আত্মসম্মান ক'জন দেখাতে পারে?একদিন বিকেলে, শুভ এক গাছতলায় বসে খবরের কাগজ পড়ার ভান করছিল। পড়তে ভুলে গেছে অনেক কিছু, কিন্তু চেষ্টাটা ছাড়েনি। এমন সময় একটি মাঝবয়সী নারী তার সামনে দাঁড়ালেন চোখে চশমা, হাতে কয়েকটি বই। দেখতে একেবারে শিক্ষিকা মনে হয়।শুভ কে জিজ্ঞাসা করলো....
“তুমি কি পড়তে পারো?”
“একটু পারতাম, এখন ভুলে গেছি।”
“পড়তে ইচ্ছে করে?”
“পেট খালি থাকলে বইয়ের অক্ষরও ঘুরে যায়, বুঝলেন?”

নারীটির চোখে জল এসে গেল। মুখে কিছু বললেন না। শুধু বললেন, “কাল বিকেলে আবার দেখা হবে।”পরদিন তিনি এলেন হাতে একটি ছোট খাতা, একটি পেনসিল, আর একটি ছোট্ট খাবারের প্যাকেট। বসে পড়লেন শুভর পাশে। বললেন, “আজ থেকে আমরা দুজন একসাথে পড়ব। তুমি আমাকে শেখাবে সাহস, আমি তোমাকে শেখাবো অক্ষর।”শুভ প্রথমে হাসেনি, কিন্তু পরের দিন তার চোখে ঝিলিক দেখা গেল। এরপর প্রতি বিকেলেই ওই শিক্ষিকা আসতেন। পনেরো দিন পর শুভ আবার বাংলা পড়তে শিখল। এক মাসে সে নিজের নাম ইংরেজিতে লিখতে পারল।ছয় মাস পর সেই শিক্ষিকার সহযোগিতায় শুভ ভর্তি হলো এক অস্থায়ী স্কুলে এনজিওর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত। শুভর নামের পাশে যোগ হলো আরেকটি পরিচয় ‘ছাত্র’।শুভ এখন জানে, জীবন মানেই কেবল বেঁচে থাকা নয় জীবন মানে লড়াই করে নিজের স্বপ্নকে ছুঁয়ে ফেলা। সে স্বপ্ন দেখে বড় হলে সে পুলিশ হবে। যেন কেউ তাকে জিজ্ঞেস না করে, “তোর বাবার নাম কি?” কিংবা “ফুটপাথে থাকিস কেন?”

মূলভাব:

শুভর গল্পটা কি কেবল একটা ছেলের? না, এটা হাজারো শিশুর প্রতিচ্ছবি যারা শহরের অলিগলি, রেলস্টেশন, ফেরিঘাট, কিংবা মার্কেটের পেছনের কোণে হারিয়ে আছে। তারা আমাদের সমাজের "অদৃশ্য মানুষ"যাদের আমরা দেখি, কিন্তু স্বীকার করি না।কিন্তু একটু সহানুভূতি, একটু মনোযোগ, একটু মানবিকতা এই ছোট ছোট কণাগুলোই একদিন বদলে দিতে পারে একটি জীবনের ভাগ্য।আমরা কি পারি না, একেকজন একটা করে শুভ খুঁজে বের করতে?আমরা কি পারি না, একটু ভালোবাসা দিয়ে সমাজের সেই ছায়া-মানুষদের আলোতে ফিরিয়ে আনতে?প্রতিটি শুভ যেন বুঝতে পারে,"স্বপ্ন কখনো ছেঁড়া চটির নিচে চাপা পড়ে না, বরং স্বপ্নই একদিন পায়ে নতুন জুতো পরায়।"


পোস্টের বিষয়ক্রিয়েটিভ রাইটিং
পোস্টকারীতানহা তানজিল তরসা
ডিভাইসরেডমি নোট ১১
লোকেশনপাবনা
আজ এখানেই শেষ করছি সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন। আর লেখার অমিল ও ভূল ত্রুটি হলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখেবেন।


১০% প্রিয় লাজুক খ্যাঁক এর জন্য।


আমার সংক্ষিপ্ত পরিচয়

আমি তানহা তানজিল তরসা। আমার স্টিম আইডির নাম @tanha001। আমি বাংলাদেশের একজন নাগরিক। আমি বিবাহিতা। আমার একটা ছেলে সন্তান আছে। আমি ফটোগ্রাফি, গান গাইতে,রান্না করতে ও বাইকে ঘুরতে অনেক পছন্দ করি। আমার জন্ম স্থান কালিগঞ্জ থানা ঝিনাইদহ জেলায়। আমি পেশায় এক গৃহিনী। পাশাপাশি আমি আমার পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছি। আমি অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী। আমি আমার হাসবেন্ড এর চাকরির সূত্রে পাবনা চাটমোহর এ বসবাস করছি।


সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ আমার পোস্টটি দেখার জন্য ও সুন্দর মতামত শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। স্পেশালি ধন্যবাদ জানাচ্ছি আমার বাংলা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা, এডমিন ও মডারেটরদের যারা আমাকে এত সুন্দর একটা কমিউনিটিতে কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছে এবং আমাকে প্রতিনিয়ত সাপোর্ট করছেন।


১০%প্রিয় লাজুক খ্যাঁক এর জন্য।


Logo.png

Banner.png

20250510_210435.jpg

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.33
JST 0.079
BTC 63100.12
ETH 1669.66
USDT 1.00
SBD 0.41