শপিং ব্যাগ

in আমার বাংলা ব্লগ2 years ago
আসসালামুআলাইকুম

বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন ? আশা করি ভালোই আছেন, আমিও আলহামদুল্লিাহ ভাল আছি।

IMG_0587.jpeg


আজকে আপনাদের মাঝে একেবারেই একটি ব্যতিক্রমী পোস্ট নিয়ে হাজির হয়ে গেলাম। পোস্টের টাইটেলটি দেখেই বুঝতে পেরেছেন আমার পোস্টটি আজকে কোন বিষয় নিয়ে করা। হ্যাঁ বন্ধুরা শপিং ব্যাগ, এই শপিং ব্যাগ নিয়ে একটি কাহিনী রয়েছে। আজকে তা আপনাদের সাথে শেয়ার করব। ঘটনাটি ঘটেছিল বাংলাদেশে। লাস্ট টাইম যখন বাংলাদেশে গিয়েছিলাম তখন আমার শপিং ব্যাগটি হারিয়ে যায়। আজকে সেই হারিয়ে যাওয়া শপিং ব্যাগের কাহিনী আপনাদের সাথে শেয়ার করব।

আসলে বাংলাদেশে আমাদের অনেক আত্মীয়-স্বজন রয়েছে। তাই যখন বাংলাদেশে যাওয়ার প্ল্যান করি তখন থেকেই আমাদের শপিং শুরু হয়ে যায়। ঠিক তেমনি বাংলাদেশ থেকে আসার সময়ও আবার কেনাকাটার ধুম পড়ে যায়। নিজেদের জন্য কেনাকাটা আর সাথে রয়েছে লন্ডনে আত্মীয়-স্বজনদের জন্য কেনাকাটা। কারণ লন্ডনেও আমাদের অনেক আত্মীয়-স্বজন রয়েছে। লন্ডনে আমার হাজব্যান্ড ও তার আরও দুই ভাই থাকেন।আর বাংলাদেশে থাকে তার বড় ও মেঝ ভাই সহ তার পরিবার।আমার শাশুড়ি তাঁদের সাথেই থাকেন।বাংলাদেশ থেকে ফেরার চার পাঁচ দিন আগে থেকেই শুরু হয়ে যায় আমাদের কেনাকাটা।

আমি আর আমার ভাসুরের তিন ছেলে মেয়ে গিয়েছিলাম শপিংয়ে।সকলেই ছিল এডাল্ট। সাধারণত যখন বাংলাদেশে যাই তখন নিজে ব্যবহারের জন্য অনেকগুলো ড্রেস কিনে আনি। কারণ বাংলাদেশের ড্রেসগুলো অনেক সুন্দর এবং দামেও যথেষ্ট চিপ। যাইহোক অন্যান্য কেনাকাটা শেষ করে আমার পছন্দের ড্রেসগুলো কিনে ফেলি। অনেকগুলো ড্রেস ছিল। প্রায় নয় দশটি ড্রেস হবে। যেহেতু অনেকগুলো ব্যাগ এবং আমরা মানুষ ছিলাম চারজন তাই সকলে ভাগেযোগে ব্যাগগুলো হাতে বহন করি।প্রবলেম হলো সিলেটে বের হওয়া খুবই ঝামেলার।রাস্তায় বের হওয়া যায় না ভিক্ষুকদের কারণে। তবে বেশি খারাপ লাগে ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের ভিক্ষা করা দেখে।চেষ্টা করি সবাইকে টাকা পয়সা দিয়ে হেল্প করতে। একজনকে দিলে মৌমাছির মত আরও ৪-৫ জন এসে ঘিরে ফেলে। তারা যেন কেমন করে বুঝে যায় যে আমরা লন্ডন থেকে গিয়েছি। দেখেই বলে ও লন্ডনী আপা কয়টা টাকা দিয়ে যাও।যখন শপিংয়ে যাই তখন আমার ভাসুরের ছেলেমেয়েরা কাউকে হেল্প করতে আমাকে নিষেধ করে। কারণ ওই সময় অনেক চোর থাকে রাস্তায় যারা ভিক্ষুকের অভিনয় করে এবং সুযোগ পেলে ব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যায়।

যাইহোক শপিং করে যখন বাসায় এলাম তখন বাড়ীর সকলকে দেখানোর জন্য একটি একটি করে আমার ড্রেস বের করি। কিন্তু আমার সবচেয়ে পছন্দের যে ড্রেসটা ছিল সেটি আর খুঁজে পাচ্ছিলাম না। সবগুলো ব্যাগ চেক করি কিন্তু কোথাও খুঁজে পাই নি। ৫০০০ টাকা দিয়ে ওই ড্রেসটি কিনেছিলাম। টাকা বড় কথা নয়, কারণ ওই ড্রেসটি আমার খুবই পছন্দের ছিল। ওই ড্রেসের সাথে আরও তিনটি ড্রেস ছিল, মোট চারটি ড্রেস হারিয়ে যায়। সবগুলো একই ব্যাগে ছিল। ওই ব্যাগটি মিসিং হয়ে গিয়েছিল। আমার ভাসুরের ছেলেকে আবার ওই শপগুলোতে পাঠাই, যদি ব্যাগটি শপে রেখে আসি। কিন্তু আর পাওয়া যায়নি।তখন সকলেই বলছিল রাস্তার পাশে যে ছেলে মেয়েরা ভিক্ষা করতে এসেছিল ওরাই নিয়েছে। কারণ আমাদের সকলের হাতে অনেকগুলো ব্যাগ ছিল। এছাড়া রাস্তায় প্রচুর ভিড় ছিল। ওই ভিড়ের মাঝে হয়তো কেও ব্যাগ টান দিয়ে নিয়ে গিয়েছে আমরা বুঝতেই পারিনি। এ ধরনের ঘটনা নাকি প্রায়ই ঘটে থাকে। যাইহোক শখের ড্রেসটি হারিয়ে ফেলি। পরেরদিন আবার শপে গিয়ে ওই ড্রেসটি খুজি। কিন্তু ওই ধরনের ড্রেস আর শপে ছিল না।তখন অন্য আরেকটি কিনে নিয়ে আসি।

বন্ধুরা এটিই ছিল আমার আজকের আয়োজন। পরবর্তীতে নতুন কিছু নিয়ে হাজির হব।

ধন্যবাদ,

@tangera

1927F0BC-A81B-459C-A2F6-B603E4B2106C.png


👉 আমাদের discord চ্যানেল এ JOIN করুন :

👉 আমাদের discord চ্যানেল এ JOIN করুন :

VOTE @bangla.witness as witness

witness_proxy_vote.png

OR

SET @rme as your proxy


[witness_vote.png](https://steemitwallet.com/~witnesses

Posted using SteemPro Mobile

Sort:  
 2 years ago 

বেশ সুন্দর একটি ব্লগ আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন আপু। আমি অবশ্য এটা জানি যারা বিদেশে থাকে অনেকেই দেশ থেকে পোশাক কিনে নিয়ে যায়। যাইহোক সুন্দর কিছু তথ্য শেয়ার করেছেন অজানা অনেক কিছুই ধারণা পেলাম

 2 years ago 

আপু এমন কথা আমি এর আগেও শুনেছি যে যারা বাংলাদেশে আসে তারা যাওয়ার সময় অনেক শপিং করে নিয়ে যায়। কারন বাংলাদেশী পণ্য নাকি বেশ সুন্দর এবং স্বস্তা। তবে খারাপ লাগলো আপনার এমন পছন্দের ড্রেস হারানোর বিষয়টি শুনে। যাই হোক এরপর থেকে বাংলাদেশে আসলে এসব বিষয় গুলো খেয়াল করে চলবেন আশা করি।

 2 years ago 

আপু আপনার মতো আমার ননদরা ও বাংলাদেশ থেকে ইন্ডিয়ান অনেক কালেকশন সাথে করে নিয়ে যায়।এছাড়া অনেক ড্রেস ওরা কেনাকাটা করে নিয়ে যায়। তবে আপনি আপনার পছন্দের ড্রেস ৫ হাজার টাকার আবার সাথে আরো তিনটা ড্রেস ও নাকি ছিল,সেই শপিং ব্যাগটি হারিয়ে ফেললেন।খুব কষ্ট লাগলো আপু।পছন্দের জিনিস গুলো আসলে হারাতে বা নষ্ট হতে দেখলে খুব খারাপ লাগে।আপনার অনুভূতি গুলো পড়ে আমার ও ভীষণ খারাপ লাগলো।আপনার খুব মন খারাপ হয়েছিল তখন বেশ বুঝতে পারছি। পরে গিয়ে আর ওই রকম ড্রেস দোকানে পেলেন না।আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ আপনাকে।

 2 years ago 

মাঝে মাঝে ভিক্ষুকদের অত্যাচারে সবাই অতিষ্ঠ হয়ে যায়। বিশেষ করে ছোট ছোট বাচ্চাদের দিয়ে যারা ভিক্ষা করায় তারা সত্যি অনেক ঘৃণ্য কাজ করে। কিছু কিছু মানুষ আছে তাদেরকে ইচ্ছে করে ভিক্ষাবৃত্তিতে নামায়। আপু আপনার পছন্দের ড্রেস হারিয়ে গেছে জেনে সত্যিই অনেক কষ্ট লাগলো।

 2 years ago 

আসলে বেশি পছন্দের জামা কাপড় হারিয়ে গেলে বা নষ্ট হয়ে গেলে ভীষণ খারাপ লাগে। কয়েকদিন আগে আমি নিজের জন্য লং স্লিভ ৪ টা টি-শার্ট কিনেছিলাম। তো একটি টি-শার্ট ১ দিন পরেছিলাম, তারপর ওয়াশিং মেশিনে দিয়েছিলাম ওয়াশ করতে। সাথে ওয়াইফ এর নতুন ড্রেস দিয়েছিল ওয়াশিং মেশিনে। ওয়াশ শেষ হওয়ার পর দেখলাম,ওয়াইফ এর নতুন ড্রেস থেকে রং বের হয়ে, আমার টি-শার্টে সেই রং লেগে, টি-শার্টটি একেবারে নষ্ট হয়ে গিয়েছে। মেজাজটা খুব খারাপ হয়ে গিয়েছিল। কারণ টি-শার্টটি ভীষণ পছন্দের ছিলো এবং মাত্র ১ দিন পরতে পেরেছিলাম। যাইহোক সিলেটের শাহজালাল মাজারে গিয়েছিলাম কয়েক বছর আগে। একজন ভিক্ষুককে টাকা দেওয়ার পর নূন্যতম ৯/১০ জন ঘিরে ধরেছিল আমাকে। তারপর সবাইকে টাকা দিতে বাধ্য হয়েছিলাম। আপনার ৪ টি ড্রেস যে ব্যাগে ছিলো, সেই ব্যাগটি হয়তো ভিড়ের মধ্যে ভিক্ষুক টান দিয়ে নিয়ে গিয়েছিল। যাইহোক পোস্টটি আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপু।

Posted using SteemPro Mobile

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.080
BTC 61661.02
ETH 1624.57
USDT 1.00
SBD 0.41