এ ধরনের দুই নাম্বারি কাজ কিভাবে করে মানুষ ফেসবুকে
বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন ? আশা করি ভালোই আছেন, আমিও আলহামদুল্লিাহ ভালো আছি।
ফটো ফেসবুক থেকে নেয়া
ছোট্ট শিশু আছিয়ার সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি আমরা বাংলাদেশের প্রায় সকলেই জানি।সেটা নিয়ে এখন Social media তে চলছে নানন ধরনের রিপোর্ট ও প্রতিবাদ।এই দুদিন ধরে শুধু আছিয়াকে নিয়েই সকলে নানান ধরনের ভিডিও ও লেখালেখি করছে।আছিয়া কে নিয়ে ফেসবুকে যতগুলো ভিডিও তৈরি করা হয়েছে, যেগুলো আমরা চোখের সামনে এসেছে সব গুলোই আমি দেখার চেষ্টা করেছি। আর ভেতরে ভেতরে প্রচন্ড ব্যথা অনুভব করছিলাম স্পেশালি যখন আছিয়ার বাবা কান্না করছিল। আসিয়ার বাবা মানসিক প্রতিবন্ধী, তারপরও যেভাবে কান্না করছিল দেখে খুবই কষ্ট হচ্ছিল। আর কষ্ট হওয়ারই কথা, এই ভিডিওগুলো যে দেখবে তাকেই কাঁদাবে।আছিয়ার মেঝ বোন আছিয়ার থেকে মাত্র এক বছরের বড়।একসাথে তারা স্কুলে যেত, একসাথে খেলাধুলা করতো, একসাথে ঘুমাতো। পিঠা পিঠি ভাইবোন হলে যা হয় আরকি।তার বোনটি যখন চিৎকার করে আছিয়ার জন্য কান্না করছিল সত্যিই এক হৃদয়বিদারক ঘটনা, ভিডিওটি দেখে খুবই কষ্ট লেগেছে।
এবার চলে যাচ্ছি আসল কথায়। মানুষ আসলে ফেসবুকে কিছু ভিউ ও লাইক পাওয়ার জন্য কত ধরনের মিথ্যার আশ্রয় নিতে পারে, ধোঁকা দিতে পারে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।আছিয়ার ঘটনাকে পুঁজি করে, ভুল ভাল নানান ধরনের ভিডিও ও তথ্য দিয়ে সাধারণ জনগণের মন নিয়ে করছে খেলা।হ্যাঁ বন্ধুরা, ওই ধরনের খেলার ফাঁদে আজকে আমিও পড়ে গিয়েছিলাম।উপরের ফটোটি দেখুন।ওটা একটি ভিডিও ছিল, একটি কষ্টের কান্নার গান দিয়ে ওই ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছে। ওই মেয়েটিকে বানানো হয়েছে আছিয়া ও ছেলেটিকে বানানো হয়েছে তার ভাই।টাইটেলটি ছিল আছিয়ার সাথে তার ভাইয়ের জীবনের শেষ দেখা।এমন একটি ভিডিও চোখের সামনে এসে গেলে কে ভিডিও অন করবে না বলুন? ভিডিওটি দেখছিলাম আর খুব কষ্ট হচ্ছিল, চোখে পানি চলে এসেছিল আর সাথে সাথে সেটি শেয়ার করে দিয়েছিলাম।শেয়ার করার সাথে সাথে আমার দুই ফ্রেন্ডস কমেন্টস করে এটি নাকি আছিয়া না।এটা অন্য কেউ, তখন কেমন লাগে বলুন? মানুষ কিভাবে পারে এ ধরনের কাজ করতে? ছোট্ট মেয়েটি কিভাবে তার জীবন দিয়ে দিল আর অন্যেরা তাকে নিয়ে নাটক তৈরি করছে।
যাইহোক আছিয়ার আত্মার শান্তি কামনা করছি। আল্লাহ যেন তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করেন।আর ঘাতক খুনির যেন দ্রুত ফাঁসি কার্যকর করা হয় এটিই একমাত্র কাম্য।আর আছিয়াকে কেন্দ্র করে যে সমস্ত সুবিধাবাদী লোকজন ইনকামের নেশায় মগ্ন আছে, জনগণকে ইমোশনালি ব্লাকমেইল করছে তাদেরও যেন শুভ বুদ্ধি উদয় হয়।আমার শেয়ার করা পোস্টটি এররপর ডিলিট করে দিয়েছি কারণ আমার পোস্ট দেখে আমার মত অনেকেরই হতে পারে।
বন্ধুরা এটিই ছিল আমার আজকের আয়োজন।আশা করি আপনাদের ভালো লেগেছে।
ধন্যবাদ,
👉 আমাদের discord চ্যানেল এ JOIN করুন :
VOTE @bangla.witness as witness
OR
[
বর্তমান কিছু মানুষের লক্ষ্য থাকে যেকোনো কাজের মাধ্যমেই হোক যেন কিছু ভিডিও ফেসবুকে আপলোড করে সেটার ভিউ বাড়াতে পারে। দুঃখের বিষয় এই ভিউ বাড়াতে গিয়ে যে সমস্ত কাজগুলো হয় আসলে সেটা পুরোপুরি বেমানান। একটা ভুল ভিডিও ফেসবুকে আপলোড করে সেটাকে আসিয়া আর আছিয়ার ভাইয়ের শেষ দেখা বলে চালিয়ে দেওয়া আর ভিউ বাড়ানো এটা আসলেই লজ্জাজনক।
এরকম একটা দৃশ্য আমিও দেখেছিলাম। আমারও মনে হয়েছিল এটা সেই ছোট্ট আছিয়া। পরে আমিও জানতে পেরেছিলাম এটা আছিয়া নয়। আসলে মানুষ শুধুমাত্র ভিউ বাড়ানোর জন্য এসব করে। তারা এরকমটা কেন করে এটা আসলেই বুঝতে পারিনা। শুধুমাত্র ভিউ বাড়ানোর জন্য এটা করেছে, এটা আসলে অনেক লজ্জাজনক। আছিয়াকে নিয়ে যতগুলো ভিডিও সামনে এসেছিল, আমি নিজেও দেখার জন্য চেষ্টা করেছি। এগুলো দেখে চোখের পানি ধরে রাখা যায় না। সত্যি অনেক কষ্টদায়ক একটা বিষয়। আর এরকম মানুষ নামই পশুগুলোর শাস্তি আমরা সবাই কামনা করি। আছিয়ার আত্মার শান্তি কামনা করছি সব সময়।
আপু আপনার পোস্টটি সত্যিই মর্মস্পর্শী এবং এক ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা। আছিয়ার মতো নিষ্পাপ শিশুদের এমন ঘটনা আমাদের সবাইকে নাড়া দেয়। তবে, যেমনটি আপনি বলেছেন, সোশ্যাল মিডিয়াতে কিছু মানুষ নিছক ভিউ এবং লাইক পাওয়ার জন্য মানবিক অনুভূতি ও ঘটনাগুলোর অপব্যবহার করছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। এই ধরনের সুযোগসন্ধানীদের জন্য আমাদের সচেতন হওয়া জরুরি। আপনি যে ভিডিওটি শেয়ার করেছিলেন এবং পরে সেটি ভুল ছিল বুঝে তা ডিলিট করেছেন, সেটি একটি সুন্দর উদাহরণ। আমাদের সবাইকে উচিত সোশ্যাল মিডিয়াতে আসল এবং সঠিক তথ্য শেয়ার করা এবং নিজের এবং অন্যদের আবেগের সাথে খেলা না করা। আছিয়ার আত্মার শান্তি কামনা করছি এবং আশা করি তার ন্যায়ের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কিছু কিছু মানুষ ফেসবুকের মাধ্যমে ইনকাম করার জন্য যেকোনো কাজ করতে পারে। এতে করে কার কেমন লাগবে, তারা সেটা একবারও ভাবে না। এমন একটি হৃদয়বিদারক ঘটনাকে কেন্দ্র করে মানুষ কিভাবে পারে এই ধরনের কাজ করতে,সেটা আমার বোধগম্য হয় না। যাইহোক সবার শুভবুদ্ধির উদয় হোক সেই কামনা করছি। তাছাড়া আছিয়া যাতে জান্নাতবাসী হয়,সেই দোয়া করছি। পোস্টটি আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপু।