আজকের সকাল!
টানা দুদিন পর আজ উজ্জ্বল সকালের মুখ দেখতে পেলাম। বিগত কয়েকদিন যাবত সকালটা বৃষ্টিমুখর হচ্ছে তবে আজ আবহাওয়া ভিন্ন।
হয়ত ঘূর্ণিঝড় ডানার মৃত্যু ঘটেছে এজন্য রাতারাতি আবহাওয়ার অনেক পরিবর্তন হয়েছে। আমার বিগত কয়েকটা পোস্টে বলেছিলাম আমার শরীর অসুস্থ। এখন অনেকটাই ভালো। জ্বর সেরে গেছে তবে কাশি রয়েছে হালকা।
সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠেছি এটা বলবো না। তবে ঘুম ভাঙ্গে অনেক সকালে তবে উঠতে ইচ্ছা করে না। বেশ একটু বেলা হলে বিছানা ছেড়ে উঠে ফ্রেশ হয়ে নিলাম।
আজকের পরিবেশে দেখে বেশ ভালো লাগছিলো। অনেক দিন সকালে হাঁটতে যাওয়া হয়নি তাই আজ একটু বাইরে যাবো সকালে। তাছাড়া দাদু বেড়াতে এসেছে আমাদের বাড়ি। তাই দাদুকে নিয়ে সকালে রাস্তায় বেরোলাম।
দাদু, দিদা কাল চলে যাবে আমাদের বাড়ি থেকে। তাই সে কথা ভেবে কিছুটা মন খারাপ করছে। দাদুকে নিয়ে দোকানে গিয়ে চা খেলাম। বিগত দিন চা খেয়ে অনেক উপকার হয়েছে কারন চা খাওয়ার কারনে কাশি অনেকটা কমে গেছে। তাই ভালো না লাগলেও চা খেলাম।
তবে চায়ের দোকানে গিয়ে একটা খারাপ সংবাদ পেলাম। আপনারা খেয়াল করলে দেখবেন যে চায়ের দোকানে সব ধরনের আলোচনা হয়ে থাকে।
তাই সেখানে কিছু সময় বসে চা খেতে খেতে জানতে পারলাম যে, আমাদের পাশের পাড়ার একটা মামা রাতে স্ট্রোক করেছিলো এবং অবস্থা ভীষণ খারাপ হয়ে গেছিলো। স্ট্রোক করার পর মামার শরীর একদম নিথর হয়ে গেছিলো এবং কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছিলো না।
এজন্য রাতেই এম্বুলেন্স কল করা হয়েছিলো। তবে ভালো বিষয় হলো গ্রাম্য ডাক্তারের চিকিৎসায় ঘন্টা খানেক পর তার জ্ঞান ফেরে।
মানুষের জীবনের যে আসলে কোনো মূল্য নেই, এই ঘটনার পর সেটা আবারও ভাবতে বাধ্য হলাম। বিশেষ করে স্ট্রোক এমন একটা খারাপ জিনিস যেটার পূর্ব কোনো আভাস পাওয়া যায় না। সৃষ্টিকর্তা চাইলে মুহুর্তের মধ্যে সব কিছু সম্ভব।
চা খাওয়া শেষ করে দোকান থেকে বেরিয়ে এলাম এবং পায়চারী করছিলাম। তখন দেখলাম রাস্তার পাশের পুকুরে এক দাদা মাছের খাবার দিচ্ছিলো এবং মাছগুলো সাথে সাথে সেগুলো খেয়ে নিচ্ছিলো। যেটা দেখতে বেশ ভালো লাগছিলো।
তবে খাবার দেওয়ার শর্তেও আগের মতো মাছ আসছিলো না। কয়েকদিন আগে বৃষ্টির কারনে পুকুরের কানায় কানায় জল ভরে গেছিলো তখন পুকুর থেকে অনেক মাছ বেরিয়ে গেছে। তখন পুকুরের আশেপাশে অনেকেই বড় মাছ পেয়েছিলো।
যাই হোক, তারপর বাড়িতে চলে আসলাম। বাড়িতেই সময় পার করলাম। দাদু যেহেতু কাল চলে যাবে তাই দাদুর সাথে একটু বেশি সময় দিচ্ছি। সকলে ভালো থাকবেন।
সত্যিই অনেক দিন পরে একটা মেঘমুক্ত ঝলমলে দিন দেখলাম। এই কয়দিন একটানা এত বিশ্রী একটা ওয়েদার ছিল যে মনটাই কেমন যেন সারাদিন বিষন্ন হয়ে থাকত। যদিও এরকম বৃষ্টি মুখর দিন আমার বেশ ভালোই লাগে তবে অসময়ের এই বৃষ্টি একটু বিরক্তিকর লাগে। আর তার সাথে এরকম এক বিধ্বংসী ঝড়ের সংবাদ শুনলে সত্যিই মনটা খারাপ হয়ে যায়। যাইহোক ঝড়ের প্রকোপ কেটে এখন মেঘমুক্ত সুন্দর দিন দেখা দিয়েছে।
আপনি আপনার গত পোস্টে জানিয়ে দিলেন যে আপনি বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ রয়েছেন। এখন আপনি একটু সুস্থ আছেন জেনে বেশ ভালো লাগলো। আপনি সকালবেলায় উঠে একটি সুন্দর দিন উপভোগ করেছেন এবং সকালবেলায় হারিয়ে গেছেন জেনেও খুব খুশি হলাম।
বাড়িতে দাদু দিদা এলে মনটা সত্যিই খুব ভালো লাগে। যদিও আমি আমার দিদাকে কখনো পাইনি। আমার মা যখন ছোট ছিল তখনি মারা যায়। তবে ছোটবেলায় ভাবিকে আমাদের বাড়ি অনেকবার আসতে দেখেছি। দাদু বাড়িতে এলে আমাদের আনন্দের কোন সীমা থাকত না। তবে বেশ কয়েক বছর হল দাদুও মারা গেছেন। এখন সত্যিই অন্য কারোর বাড়িতে দাদু দিতারা ঘুরতে এলে মনটা খুব খারাপ লাগে। মনে হয় আমার দাদাও যদি বেঁচে থাকতেন তাহলে খুব ভালো হতো।
আর চায়ের দোকানের ব্যাপারটা আপনি একদম ঠিক বলেছেন। তাই তখন থেকে পাওয়া যায় না এমন কোন খবর হতেই পারেনা। রাজনীতি থেকে ব্যক্তিগত সমস্ত খবরই চায়ের দোকানে পাওয়া যায়। আপনাদের পাড়ার প্রতি কথা জেনে খারাপ লাগে তবে কোনো আশঙ্কা হয়ে গেলে সস্তি পেলাম।
একদমই তাই বৃষ্টি ভালো লাগে তবে একটানা অনেক দিন বৃষ্টি হলে বিরক্ত লাগে। ঝড়ের সম্পর্কে যতটা জানা যাচ্ছিলো যদিও ততটা মারাত্মকভাবে আঘাত আনে নি। দাদু দিদার ভালোবাসা পাওয়া সত্যি ভাগ্যের ব্যপার। আমার দাদু দিদা এসেছে বেশ কয়েকদিন আগে তবে আজ তারা বাড়িতে চলে গেছে তাই একটা মন খারাপ করছে। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ আপনার মতামত জানানোর জন্য।
গত কয়েকদিন বাংলাদেশে প্রচুর পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে আমার আম্মা আমার বোনেদের বাসায় গিয়েছে সে আর বাড়িতে আসতে পারছে না বৃষ্টির জন্য সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শুধু বৃষ্টি হচ্ছে বৃষ্টির অনবরত।
বৃষ্টি আমার কাছে অনেক ভালো লাগে তবে অতিরিক্ত বৃষ্টি আবার কিছু কিছু সময় বিরক্তর কারণ হয়ে দাঁড়ায় বিশেষ করে গ্রাম অঞ্চলে রাস্তাঘাটে তো একবার চলাফলের অযোগ্য হয়ে ওঠে। যাইহোক সৃষ্টিকর্তার উপরে তো আর হাত নাই।