ছোটবেলার স্মৃতি "মহাভারত"
আশা করি, সকলে অনেক বেশি ভালো আছেন। আজ ছোটবেলার একটা স্মৃতি নিয়ে কথা বলবো। প্রতি ধর্মের মানুষের কাছে তার নিজ নিজ ধর্মগ্রন্থ তথা ধর্মের কথা শুনতে ও জানতে অনেক বেশি ভালো লাগে। স্বাভাবিকভাবে আমিও তার ব্যতিক্রম নই।
বরং ছোটবেলা থেকেই আমার ধর্মের কাহিনীগুলো শুনতে অনেক বেশি ভালো লাগলো। আমি যখন একদম ছোট ছিলাম তখন বাবা আমার জন্য মহাভারতের বই কিনে এনেছিলো।
বইটার নাম ছিলো ছবিতে মহাভারত
যেহেতু বইটা ছিলো ছোটদের জন্য। তাই বইয়ে ছবির মাধ্যমে মহাভারত কাহিনিগুলো বুঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে এবং সংক্ষেপে আলোচনাও করা হয়েছে। এই বইটা আমি জীবনে কতবার পড়েছি তার কোনো হিসাব নেই। এখনও পূজার ঘরে বইটা রাখা আছে।
তার পাশাপাশি প্রতিদিন সন্ধ্যায় পূজা দেওয়ার সময় আমার মা ধর্মীয় গ্রন্থ পড়তো তার মধ্যে ব্রাহ্মণ্য বৈবর্ত্য পূরাণ, রামায়ণ, মহাভারতও ছিলো। বইগুলো যেহেতু সংস্কৃতিতে লেখা ছিলো তা ছোটবেলায় আমি বুঝতে পারতাম না। তাই মা পড়ার সাথে সাথে আমাকে বাংলায় অনুবাদ করে বুঝিয়ে দিতো। এটা ছিলো আমার প্রতিদিনের রুটিন।
আমি যখন ৫ম শ্রেণীতে পড়ি তখন আমাদের গ্রামে বৈদ্যুতিক লাইন চালু হয়। তারপর অনেকের বাড়িতে অথবা দোকানে টেলিভিশন ছিলো এবং ডিস লাইনও ছিলো। আমি যখন ষষ্ঠ শ্রেণিতে উঠলাম তার কিছু দিন পর স্টার জলসা চ্যানেলে মহাভারতের একটা ধারাবাহিক অনুষ্ঠান চালু হয়।
যদিও আমি খেলাধুলা বাদে অন্য কিছুই তেমন একটা দেখতাম না তবে মহাভারতের এই পর্বগুলো আমার নজর এড়ায় নি। সন্ধ্যার দিকে মহাভারত হলো টিভিতে। এটা দেখার জন্য অন্যদের বাড়িতে চলে যেতাম কারন আমাদের বাড়িতে তখন টেলিভিশন ছিলো না।
এই ধারাবাহিক নাটক যেখানে মহাভারতে প্রতিটা চরিত্র ও ঘটনাগুলো বাস্তবের মতো তুলে ধরা হয়েছে তাই সকলের মাঝে অনেক জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। আমি তো কোনো ভাবেই মিস দিতাম না একটা পর্বও।
মনে হতো, এত দিন মায়ের কাছ থেকে যেগুলো গল্প আকারে শুনেছি, সেগুলো আজ চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছি।
তবে, মহাভারত থেকে আমার অনেক কিছু শিক্ষা নিতে পারি।
জীবনে অহংকার আর হিংসাত্মক মনোভাব নিয়ে কোনো লাভ হয় না। অন্যায়ের পথে থেকে যতই পরিকল্পনা করা হোক না কেন কখনওই সৎ ব্যক্তিকে পরাজিত করা যায় না। হয়ত সাময়িক ভাবে লাভবান হওয়া যায়।
আমরা এখন অনায়সে অন্যকে ঠকানো বা কথা দিয়ে কথা না রাখা এসব করতে পারি, তবে এগুলো মোটেও উচিত না। মহাভারতে দেখানো হয়েছে, নিজের দেওয়া কথা রাখতে নিজের প্রাণ দিতেও তারা দ্বিধাবোধ করতো না আর এটাই তফাত ধর্মের সাথে আমাদের।
ছোটবেলা আমাদের হিন্দু ধর্ম নামে একটা সাবজেক্ট ছিলো। যেখানে দাতা কর্ণের গল্প পড়ছিলাম। কিভাবে নিজের জীবনের কথা না ভেবে নিজের শরীর থেকে কবজ ও কুন্ডল দান করে দেয়। এটাই ছিলো তাদের প্রতিজ্ঞার মাহাত্ম্য।
তবে কর্ণের থেকে আরও একটা জিনিস শিখতে পারি -
কেউ নিজে যতই জ্ঞানী হোক না কেন জীবনে সঠিক বন্ধু বান্ধবের সাথে না থাকলে সেগুলোর কোনো মূল্য থাকে না। নিজে উচিত - অনুচিতের তফাত বুঝতে পারার স্বত্ত্বে সেগুলো পালন করা সম্ভব হয় না। যেমনটা হয়েছে কর্ণের সাথে। দিনশেষে নিজের অপরাধের শাস্তি পেতেই হয়।
আর যারা ধৈর্য্য ধরে এবং সত্যের পথে থাকে তারা একদিন না একদিন তাদের জীবনে ভালো সময় আসে। স্বয়ং সৃষ্টিকর্তাই তাদের পুরস্কার দেন। জীবনে কখনও মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে লাভবান হওয়ার চেষ্টা করা উচিত নয়। লড়াই করে বাঁচার চেষ্টা করে যে মানুষ তাদের জীবনে অবশ্যই সূর্যের আলো ফোটে!
| পোস্টে ব্যবহৃত প্রতিটা ছবি স্টার জলসা চ্যানেলে মহাভারত চলাকালীন সময়ে স্ক্রিনশট নেওয়া হয়েছে |
|---|
আপনাদের ধর্মে মহাভারত নিয়ে অনেক ধরনের অনেক নাটক ধারাবাহিক সিরিজ রয়েছে আসলে এগুলো আমি কখনো দেখিনি তবে মাঝে মাঝে যখন স্টার প্লাস এর মধ্যে বিভিন্ন নাটক সার্চ করতাম তখন সামনে আসতো আজকে আপনি মহাভারত সম্পর্কে আপনার মনের অনুভূতি আমাদের সাথে শেয়ার করেছেন। যেটা দেখে বেশ ভালো লাগলো ছোটবেলায় এটা আপনাদের সবচাইতে প্রিয় সিরিয়াল ছিল জানতে পেরে ভালো লাগলো অসংখ্য ধন্যবাদ ভাল থাকবেন।।
আপনার পোস্টটি পড়ে খুব ভালো লাগলো। সত্যিই আমাদের মহাভারতের প্রত্যেকটি কাহিনী আমাদের জীবনে বিশেষ শিক্ষা দেয়। এবং আমরা যদি নিজেদের জীবনে মহাভারতের থেকে পাওয়া শিক্ষাগুলি সঠিকভাবে গ্রহণ করি তবে জীবন আরো সুন্দর হয়ে উঠতে পারে। মহাভারতে সত্যের কথা উল্লেখ রয়েছে। সত্যিই সত্যের জন্য সবকিছুকে ত্যাগ করা যায় কিন্তু কোন কিছুর জন্য সত্যকে ত্যাগ করা উচিত নয়। আমাদের ধর্মগ্রন্থে সত্যই ঈশ্বর এ কথা বলা হয়েছে। ভালো থাকবেন ও আরো ভালো ভালো লেখা আমাদের উপহার দেবেন।