দৌলতপুর পাবলা কালী বাড়ি দর্শন।
নমস্কার বন্ধুরা! কেমন আছে সবাই? আশা করি, সবাই নিজ নিজ সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদে অনেক ভালো আছেন। আমিও অনেক ভালো আছি।যদিও প্রচন্ড শীতে অলসতা অনেকটা বেড়ে গেছে। আমি কিছুদিন আগে দৌলতপুর পাবলা কালী বাড়ি মন্দিরে গিয়েছিলাম সেটাই শেয়ার করার চেষ্টা করবো।
যখন আমি ক্লাস ২ কিংবা ৩ তে পড়ি তখন প্রথমবার বাবার সাথে গিয়েছিলাম দৌলতপুর পাবলা কালী মায়ের মন্দিরে।তখন থেকেই মাঝে মধ্যেই আমাবস্যা পূর্নিমার দিনে বাবার সাথে মন্দিরে যেতাম। এককথায় আমার জীবনের সাথে ওতোপ্রোতোভাবে জড়ীয়ে আছে এই স্থানটি।। তারপর পূজা শেষ হলে, অঞ্জলি শেষ করে তারপর বাড়িতে ফিরে আসতাম।।
আমি যদি কোনো কারনে যেতে না পরি তাহলে আমার বাবা একাই যায়। বলতে পারেন এটা আমাদের পরিবারের রীতি হয়ে গেছে।।
আমার যাওয়া হয়না বেশ অনেদিনই হয়ে গেছে।যেহেতু অনেকদিন যাইনি তাই আগে থেকেই ঠিক করে রেখেছিলাম যে এবার কালীপূজার সময় যাবো। যদিও তখন আমার পরীক্ষা চলছিলো কিন্তু পূজার দিন অবশ্য পরীক্ষা ছিলো না।
আমি ছোটবেলা থেকে আজ পর্যন্ত যতবার গেছি বাবার সাথেই গেছি, তাই ঠিক করলাম যে এবারও বাবার সাথেই যাবো।
আমি তো আগে থেকেই খুলনা তে আছি, তাই বাবা প্রথমে বাড়ি থেকে খুলনাতে আসবে তারপর বাবাকে সাথে নিয়ে মন্দিরে যাবো। যদিও মাকে নিয়ে যেতে ইচ্ছা করছিলো কিন্তু বাড়িতে একজন না থাকলে হবে না এজন্য মা বাড়িতে থেকে আসতে চাইনি।
পূজারদিন মা সকাল সকাল ফোন করে ঘুম থেকে ডেকে দিলো। তারপর আমি স্নান সেরে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে বসেছিলাম এবং বাবার ফোনের জন্য অপেক্ষা করছিলাম।
কিছুসময় পর বাবা ফোন দিয়ে জানালো যে খুলনা চলে আসছে, তখন আমি সাথে সাথে বেরিয়ে পড়লাম। তারপর বাবাকে সাথে নিয়ে মন্দিরের উদ্দেশ্য রওনা হয়েছিলাম।।
আমাদের পৌছাতে ৪৫ মিনিটের মতো সময় লাগলো।যাওয়ার সময় পূজার জন্য ফল, মিষ্টি এগুলো নিয়ে গিয়েছিলাম।।
আমাদের যেতে একটু দেরি হয়ে গিয়েছিলো,তখন ভাবছিলাম যে পূজা শুরু হয়ে গিয়েছে মনে হয় কিন্তু পৌঁছে দেখলাম তখন শুরু হয় নি।
আমরা যাওয়ার কিছুসময় পর পূজা শুরু হয়েছিলো। ওখানে পাশাপাশি কৃষ্ণ মন্দি, শিব মন্দির ও দূর্গা মন্দিরও আছে।। প্রথমে কৃষ্ণ মন্দিরে তারপর শিব মন্দিরে পূজা শেষ করে তারপর কালীমায়ের পূজা শুরু করে।।
এটা খুলনার দৌলতপুরের একটি ঐতিহ্যবাহী জাগ্রত কালী মন্দির । এখানে প্রতিদিনই আমাদের মতো অনেক মানুষই একত্রিত হয় পূজা দেওয়ার জন্য।
মন্দিরে গিয়ে দেখলাম ওখানে আগে যে ব্রাহ্মণ ছিলো তার জায়গায় অন্য একজন। ওখানে অনেকের সাথে কথা বলার পর বুঝতে পারলাম যে উনি অসুস্থ, অবশ্য ওনার অনেক বয়স হয়ে গেছে এজন্য আগের মতো চলাচল করতে পারে না। এটা শুনে মনটা একটু খারাপ হয়ে গেলো।।।।
সেদিন যেহেতু মন্দুরে কালীপূজা ছিলো এজন্য সবাই কাজে খুব ব্যস্ত ছিলো এর মধ্যে ব্রাহ্মণ কৃষ্ণ মন্দিরে পূজা আরম্ভ করেছে। আমরা মন্দিরের সামনে বসে আছি। অনেকক্ষণ পরে এবার কালী মায়ের পূজা আরম্ভ হলো, অনেকক্ষন ধরে পূজা হলো, এবার অঞ্জলি প্রদানের সময় এলো।।
তারপর সকল কার্যক্রম শেষ করে বাড়ি যাওয়ার উদ্দেশ্য বেরিয়ে পড়লাম। আমাদের সকলেরই নিজ নিজ ধর্মস্থানে গেলে মনে একটা অন্যরকম শান্তি কাজ করে। মনের সকল মলিনতা দূর হয়ে যায়। জীবনে যতই দুঃখ- কষ্ট থাকুক না কেন মন অনেকটাই হালকা হয়ে যায় এবং মনে প্রশান্তি কাজ করে।।।
সকল ধর্মের মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা রেখে আজকের মতো এখানেই ইতি টানছি।
দৌলতপুরে আমি অনেকবছর আগে গিয়েছিলাম
আজকে আপনার লেখায় এই নামটা দেখে সেই কথা মনে পরে গেল।আমার শশুর বাড়ি খুলনা, যদিও যাওয়া হয় না।
ভালো লাগলো আপনার কালীবাড়ি দর্শনের কথা পড়ে। ভালো থাকবেন সবসময় এই শুভকামনা রইলো আপনার জন্য।
আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ আপনার মূল্যবান সময় দিয়ে আমার পোস্টটি পড়ার জন্য এবং সুন্দর মতামত করার জন্য।
ভালো লাগল আপনার পোস্ট পড়ে। আপনি খুবই সুন্দর ভাবে সাজিয়ে গুছিয়ে লিখেছেন আপনার পোস্টটা। আপনার পোস্ট পড়ে দৌলতপুর পাবলা কালী বাড়ি সম্পর্কে জানতে পারলাম। ভালো থাকবেন ভাই আপনি। আপনার পরবর্তী আকর্ষণীয় পোস্ট পড়ার জন্য অপেক্ষায় থাকলাম।
আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ আমার পোস্টটি মনোযোগ দিয়ে পড়ার জন্য এবং সুন্দর মতামত জানানোর জন্য।
দৌলতপুর পাবলা কালী বাড়ি দর্শন করেছেন আর সেখানকার বেশ কয়েকটি মূ্তির ছবি তুলে আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন বেশ ভালো লাগলো সেখানকার মূর্তি গুলো ৷
ধন্যবাদ আপনাকে এত সুন্দর একটি পোস্ট আমাদের মাঝে তুলে ধরার জন্য ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন ৷
আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ মূল্যবান সময় দিয়ে আমার পোস্টটি পরিদর্শন করার জন্য। ভালো থাকবেন।
দৌলতপুরের পাবলা কালী মন্দির সম্পর্কে আজকে আপনি আমাদের সাথে আলোচনা করেছেন। যদিও আপনাদের এই মন্দির গুলো সম্পর্কে আমার ধারণা ভালো নেই। কিন্তু আপনার পোস্ট পরিদর্শন করে এবং ফটোগ্রাফি দেখে সামান্য কিছু বুঝতে পেরেছি। আপনি সেখানে গিয়ে অনেক বেশি আনন্দ করেছেন। বর্তমান সময়ের পূজোর সময় তাই সবাই অনেক বেশি ব্যস্ত। ব্রাহ্মণ কৃষ্ণের পূজো শুরু করে দিয়েছে। যেটা আপনার ফটোগ্রাফিতে দেখতে পেলাম। ধন্যবাদ আপনাকে চমৎকার জায়গায় পরিদর্শন করার মুহূর্ত, আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য। ভালো থাকবেন।
ধন্যবাদ আপনাকে আমার পোস্টটি পড়ার জন্য এবং সুন্দর মতামত করার জন্য।
ঠিকই বলেছেন আপনি।আপনার মূল্যবান সময় দিয়ে পোস্টটি পড়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।।