নমস্কার বন্ধুরা,
আশা করি সবাই ভালো আছেন।সুস্থ আছেন।আজ আমি আপনাদের সাথে কালীঘাটে পুজো দেওয়া ও তার সাথে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর কিছুটা মুহূর্ত আপনাদের সাথে ভাগ করে নিলাম।
দিনটা ছিল শনিবার ১৫ই জানুয়ারি। অনেকদিন ধরেই আমাদের কালীঘাটে পূজা দেওয়ার কথা ছিল,কিন্তু এই করোনা পরিস্থিতির কারণেই যাবো যাবো বলে আর যাওয়া হয়ে উঠছিল না। আর এদিকে আমার মা এর পূজা দেওয়ার কথা, সেহেতু হঠাৎ করেই ঠিক হলো কালীঘাট যাবো।জানুয়ারি মাসের প্রথম দিকে লকডাউন ছিল, কিন্তু মন্দির খোলা ছিল, তার সাথে ভিড়ও ছিলনা। তাই আর না করলাম না মাকে। সেদিন সকাল সকাল উঠে স্নান সেরে রেডি হয়ে বেরিয়ে পড়লাম।কাকিমনিরাও আমাদের সাথে গিয়েছিল। বাড়ি থেকে বেরিয়ে বেলগাছিয়া থেকে মেট্রো করে কালীঘাট পৌছালাম,সাড়ে নটার মধ্যে কালীঘাট ঢুকেও গেলাম।

পুজো দিতেও বেশিক্ষণ সময় লাগলো না।যেহেতু ভিড় একেবারেই ছিলনা। কুড়ি মিনিটের মধ্যেই পুজো দেওয়া হয়ে গেল।মন্দিরে মায়ের ফটো তোলা নিষেধ ছিল তাই জন্য কালী মায়ের ফটো আপনাদের সাথে ভাগ করে নিতে পারলাম না।তাই মন্দির এর বাইরে কয়েকটা ফটো তুললাম।



| এবার বলি কালীঘাট মন্দিরের প্রসিদ্ধতা সম্পর্কে |
কালীঘাট মন্দির কলকাতার একটি প্রসিদ্ধ কালী মন্দির। একান্ন শক্তিপীঠ এর অন্যতম হিন্দু তীর্থক্ষেত্র হল এই কালীঘাট মন্দির। এই পীঠস্থানকে কালীঘাট বলা হয়।পৌরানিক কিংবদন্তি অনুসারে সতীর দেহত্যাগের পর তার ডান পায়ের চারটি আঙ্গুল পতিত হয়েছিল। ১৮০৬-০৯সালে বড়িশার জমিদার সাবর্ণ চৌধুরীদের দ্বারা এই মন্দিরটি নির্মিত হয়।ব্রহ্মানন্দ গিরি ও আত্মারাম ব্রহ্মচারী নামে দুই সন্ন্যাসী কষ্টিপাথরের একটি শিলাখণ্ডএ দেবীর রূপদান করেন।

কালীঘাট একটি বহু প্রাচীন কালিক্ষেত্র।কালীঘাটের মন্দিরটি হুগলি নদীর তীরে অবস্থিত। এটি প্রায় ২০০ বছরের পুরনো মন্দির। এই মন্দিরটি নির্মাণ করতে সময় লেগেছিল আট বছর। এই মন্দিরটি আটচালা স্থাপত্য শৈলীতে নির্মিত।



মূল মন্দিরের সংলগ্ন অনেকগুলো ছোটো ছোটো মন্দিরে রাধাকৃষ্ণ, শিব প্রভৃতি দেবতা পূজিত হয়।


মায়ের সাথে
যেহেতু সকাল থেকে না খেয়েই পূজা দিয়েছিলাম তাই পূজা দিয়ে বেরিয়েই সকালের টিফিনটা করে নিলাম সামনের একটি দোকান থেকে। সেখানে কড়াইশুঁটির কচুরি আর তার সাথে ছোলার ডাল খেয়ে নিলাম।দোকানে অনেক ধরনের মিষ্টিও ছিল।খাওয়া-দাওয়া শেষে একটা করে মিষ্টির খেয়ে নিলাম সবাই।





এরপর সাড়ে এগারটার মধ্যে সব কমপ্লিট হয়ে যাবার পর বাড়ি ফেরার পালা। ফেরার পথে একটি ফুলের দোকানে দাঁড়িয়ে কয়েকটা সূর্যমুখী ফুল কিনে নিলাম।কারণ সূর্যমুখী আমার খুব পছন্দের একটি ফুল।


এবার যখন বাড়ি যাবো তখন সব ভাই-বোনরা বলে উঠলো এত তাড়াতাড়ি বাড়ি তারা যাবে না। একটুখানি ময়দানে ঘুরতে যাবে। যেহেতু দুই ঘণ্টার মধ্যে পুজো দেওয়া থেকে শুরু করে খাওয়া-দাওয়া সব কমপ্লিট হয়ে গেছিল। তাই তখন আর বাড়ি না গিয়ে কালীঘাট থেকে ফেরার পথে ময়দানে নেমে পড়লাম।লকডাউনের মধ্যে দর্শনীয় স্থানগুলো যে বন্ধ ছিল সেটা একেবারে ভুলেই গিয়েছিলাম তাই কিছুটা হেঁটে ময়দানে পৌঁছে বাইরে থেকে দেখে,ফটো তুলে,কিছুক্ষন গল্প করে বাড়ি চলে আসলাম।







এই ভাবেই সেই দিনটি পরিবারের সাথে পুজো দিয়ে,ঘুরে-ফিরে ভালো একটা সময় কাটালাম।
ধন্যবাদ
মায়ের পূজো দিয়ে দিনের শুরু এর চাইতে ভালো আর কি বা হতে পারে দিদি। খুব ভালো লাগলো সব টা দেখে । আর আজ প্রথম বার মাসিমা কে দেখলাম । উনি তো তোমার চেয়ে আরো বেশি কিউট গো 🥰🥰। ঠিক যেমন ছবিতে মিষ্টি গুলো লাগছিলো তোমাদের কে একসাথে অমন মিষ্টিই লাগছিলো।
মা সবার মঙ্গল করুন এই প্রার্থনা করি 🙏
মিষ্টি মেয়ের কাছে এই ধরনের মিষ্টি মিষ্টি কমেন্ট গুলো পড়তে ভালোই লাগে। অনেক ভালোবাসা রইল তোমার জন্য।
দিদি পুজো দিতে গিয়ে আপনি অনেক সুন্দর ও আনন্দময় মুহূর্ত কাটিয়েছেন আপনার প্রত্যেকটা ফটোগ্রাফি প্রমাণ। সবচেয়ে বড় বেশি হচ্ছে আপনি প্রার্থনা করতে গিয়েছিলেন এবং সেইসাথে করোনাকালীন সময় খুব অল্প সময়ে আপনি আপনার প্রার্থনা শেষ করতে পেরেছেন। কালী মন্দিরে গিয়ে আপনার প্রতিটি আনন্দঘন মুহূর্তে ফটোগ্রাফি আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
অনেক ধন্যবাদ আপনাকে গঠনমূলক একটি মন্তব্যের জন্য।
কালীঘাট মন্দিরে পরিবারের সাথে ভালো একটি সময় কাটিয়েছেন দিদি । মন্দিরটি অনেক পুরনো এবং কারুকাজ দ্বারা নির্মিত দেখেই বোঝা যাচ্ছে । তুবে করোনার কারণে একটু সাবধানতা অবলম্বন করে বাহিরে চলাফেরা করবেন কারণ নতুন ভেরিয়েন্ট খুবই মারাত্মক মানুষের শরীরের জন্য । ভালো থাকেন ও নিরাপদে থাকেন এই কামনাই করি দিদি
অনেক ধন্যবাদ দাদা আপনাকে।
বিভিন্ন নাটক সিনেমাতে আপনাদের এই কালীঘাটের কথা অনেক শুনেছি। কিন্তু এই সম্পর্কে সেরকম কিছুই জানতাম না। কিন্তু আপনার পোস্টটা অনেক তথ্যবহুল ছিল সেই সাথে অনেক ফটোগ্রাফি ছিল। বেশ ভালো ছিল আপনার পোস্ট টা। এবং মিষ্টি গুলো দেখেই তো আমার খেতে ইচ্ছা করছে।
অনেক ধন্যবাদ দাদা আপনাকে।