হাই বন্ধুরা!
আমার গল্পের রাজ্যে আপনাদের সকলকে জানাই স্বাগতম। পূর্বসপ্তার ন্যায় আজকে উপস্থিত হয়ে গেলাম সুন্দর একটি গল্প নিয়ে। আমাদের ছোট্ট এই জীবন ঘটনা বহুল, প্রতিনিয়ত কমবেশি ঘটনার সম্মুখীন হচ্ছি আমরা। একজনের জানা ঘটনা দশজনের মাঝে লেখা অথবা বলে প্রকাশ করার মধ্য দিয়েই প্রকাশ বিস্তার লাভ করে। ঠিক তেমনি আমার জানা একটি ঘটনা আপনাদের মাঝে উপস্থাপন করতে আসলাম। আশা করি এরই মধ্য দিয়ে অনেকেই ঘটনাটি সম্পর্কে ধারণা অর্জন করবেন। আর এমন গল্প পড়ার মধ্য দিয়ে কিন্তু অনেক কিছু সম্পর্কে জানা যায় এবং সজাগ সচেতন হওয়া যায়।

Photography device: Infinix Hot 11s
অনেকদিন আগের ঘটনা। আমাদের এক বড় আন্টির বাড়িতে বেশ কয়েকটা নারিকেল গাছ রয়েছে। তবে গাছগুলোতে বেশি ডাব নারিকেল হয় না। সামনে ঈদের দিন আসছে। আত্মীয়-স্বজনদের দাওয়াত করেছেন। তবে তার মধ্যে আমাদের এক ছোট আন্টি আসার কথা ছিল বড় আন্টির বাসায়। তবে উনি বায়না করেছিলেন পুলি পিঠা খাওয়ার। শত হলেও বড় বোন ছোট বোনের আবদার পূরণ করবে। তাই গাছের দিকে চেয়ে দেখলেন বেশ কয়েকটা নারিকেল রয়েছে। আমরা সকলেই জানি পুলি পিটাতে নারিকেল লাগে। উনি নারিকেল গুলো তাদের এক নাতি ছেলের মাধ্যমে পড়ালেন। আশা করেছিলেন দশটার বেশি নারিকেল হবে। কিন্তু নষ্ট থাকায় মাত্র ছয়টা নারিকেল ভালো হলো। এরপর অনেক খুশি থাকলেন ছয়টা তো ভালো পাওয়া গেছে। নারিকেল গুলো পেড়ে দেওয়ার জন্য নাতি ছেলেকে একটা দিলেন। তাই তার হাতে পাঁচটা নারিকেল থাকলো।

Photography device: Infinix Hot 11s
দুই তিন দিন পরে আন্টিদের বাড়িতে নারিকেল পেড়েছিল সেই নাতি ছেলেটা আসলো,নারিকেল কেনার উদ্দেশ্যে। আমার আন্টি তাকে বলল আমার পাঁচটা কিনে এনে দে। কারন আমার এই পাঁচটায় তো হবেনা ভালো করেই জানিস বরঞ্চ যদি বোনটা নারিকেল নিয়ে যেতে চাই তাহলে আমাকেই পাড়ার মধ্যে খুঁজতে যেতে হবে কার বাড়িতে নারিকেল আছে। তবে ছেলেটা বাড়ির পজিশন দেখে গেল। বড় আন্টি নারিকেল গুলো রেখেছিল উঠানে থাকা গোলা ঘর এর মধ্যে। এটাও সে জানে, কারণ গাছ থেকে পাড়ার পর তার মাধ্যমেই গোলা ঘর এর মধ্যে রাখা হয়েছে।

Photography device: Infinix Hot 11s
আগের ঘরবাড়ি এখনকার মতো পাঁচিল গেট দিয়ে ঘেরাও করা থাকতো না। ছেলেটা আন্টিদের পাড়ার মধ্যে খেলা করত। এর পরের দিন ছেলেটার লক্ষ্য করলো আমার আন্টি রাস্তা দিয়ে বাড়ি থেকে একটু দূরে দোকানের দিকে যাচ্ছে। এই মুহূর্তে সে আন্টিদের বাড়ির আশেপাশে ঘুরঘুর করতে শুরু করল। দেখল কোন মানুষজন তাদের বাড়িতে নেই। সে গোলার মধ্যে প্রবেশ করল এবং তিনটা নারিকেল বের করে আনলো। এরপর তার সুবিধা মত নারিকেলের উপরের খোসা তুলে একসাথে বেঁধে পাশের ধানের জমি দিয়ে সট পথে বাড়ির দিকে রওনা দিল। তার এমন নারিকেল নিয়ে যাওয়াটা অনেকেই লক্ষ্য করেছে। তবে বেশ অনেক জন জানে সে গতকাল নারিকেল কেনার জন্য পাড়ার মধ্যে এসেছিল। তবে কারোর বাড়িতে নারিকেল কেনার উদ্দেশ্যে যায়নি শুধু আমার বড় আন্টির বাড়িতেই বলেছিল।এরপর কাঙ্খিত দিন আসলো। আমার ছোট আন্টিরা বড় আন্টির বাসায় এসেছে। পুলি পিঠা তৈরি করবে নারকেল বের করতে গেল গোলা ঘরের মধ্যে থেকে। কিন্তু সেখানে মাত্র দুইটা নারিকেল রয়েছে। তিনটা নারিকেল গেল কোথায়? তখনই আমার আন্টির মাথায় আসলো, নিশ্চয়ই তার ওই নাতি ছেলের কাজ হতে পারে। কারন সে একটু চোর টাইপের রয়েছে পাড়াগাঁয়ের অনেকেই জানে।

Photography device: Infinix Hot 11s
এরপর নারিকেল নিয়ে কথা বলতে অনেক জন দেখেছিল তারা বলল ছেলেটার কথা। ছেলেটা তিনটা নারিকেল নিয়ে সেদিন মাঠ দিয়ে গিয়েছিল। তাই তখনই বড় আন্টি মানুষের মুখের কথা শুনে তাদের বাড়িতে উপস্থিত হলো। ছেলেটার মা কে প্রশ্ন করা হলো এই বিষয়ে। ছেলেটার মা উত্তর দিল তার ছেলে কয়েকদিন আগে তিনটা নারিকেল এনেছে। আমার বড় আন্টি সে নারিকেল গুলো দেখেই চিনে ফেলেছে এই তার নিজের বাড়ির নারিকেল। এরপর সেই ছেলেটাকে ডাকা হল। সে বলল আমি নারিকেল গুলো কিনে এনেছি। এবার আন্টি বলল কার বাড়ি থেকে কিনে এনেছিস চল তার বাড়িতে যাব। সে বলল অন্য এক পাড়া থেকে কিনে এনেছি ওদের নাম জানিনা। আন্টি বলল তার বাড়ি চিনলে হবে, তার বাড়িতে নিয়ে চল আমাকে, আমি সেই বাড়িতে জানবো। এরপর যে নারিকেল চুরি করেছিল সে শিকার খেলো। মূলত নারিকেল গুলো দেখে তার মাথায় কাজ করেছিল না। ফাঁকা একলা বাড়ি, লোকজন কম তাই চান্স নেওয়ার চেষ্টা করেছিল নারকেলগুলো চুরি করবো। আর সে সুযোগ বুঝে চুরি করে ফেলল। তবে সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই এর মাধ্যমে ধরা পড়লো। এভাবেই নারিকেল তিনটা উদ্ধার হল।

Photography device: Infinix Hot 11s
গল্পটি পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

| পুনরায় ফিরে আসবো নতুন কোন গল্প নিয়ে। ততক্ষণ ভালো থাকুন সবাই, সবার জন্য শুভকামনা রইল। আল্লাহ হাফেজ। |

You've got a free upvote from witness fuli.
Peace & Love!
যাক অবশেষে নারিকেল তিনটি উদ্ধার হয়েছে।চোরের অনেক সাহস বলতে হবে।সাহস না থাকলে অবশ্য চুড়ি করতে পারতো না।চোর নারিকেল পেড়ে দিয়ে যে একটি নারিকেল পেয়েছিল তা খেয়ে মনে হয় খুব মজা পেয়েছে আর সেজন্য নারিকেল কিনতে এসেছে।এদিকে আপনার আন্টি বিক্রি করবে না বোনের জন্য রেখেছে। কথায় বলে ঘিরায় ক্ষেত খায়।আপনার আন্টিকে বাইরে যেতে দেখে নাতি ছেলেটি নারিকেল চুড়ি করতে বাড়িতে ঢুকেছে কারণ ছেলেটিকে দিয়েই তো নারকেল গুলো রেখেছিলো আর চোর ছেলেটি ভালো করেই জানতো কোথায় আছে।গল্পটি চোরের হলেও কিন্তুু মজা আছে।ধন্যবাদ ভাইয়া সুন্দর গল্পটি শেয়ার করার জন্য।
কোথায় আসে না আপনজন চুরি করে এখানেও ঠিক তেমন
অনেকের আছে নিজের গাছের ফল এবং অন্যান্য কিছু দেখলে চিনে যায়। তবে কিছু কিছু চুরি আছে খুব সহজে ধরা পড়ে যায়। কেউ না কেউ দেখে যায়। তবে এটি ঠিক বলেছেন পুলি পিটাতে নারিকেল লাগে। ছোটবেলা আমরাও কম বেশি নারিকেল চুরি করেছিলাম কখনো ধরা খাই নাই। আর ছেলেটির মাও সত্য বললো তার ছেলে তিনটি নারিকেল এনেছে কিছুদিন আগে। তবে নারিকেল চুরির গল্পটি খুব সুন্দর করে আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন ।
এখানেও ঠিক তেমনি হয়েছে ভাই