গণতন্ত্রের ‘মিলাদ ও কুলখানি’ চলছে
ঢাকা: বিএনপিকে সমাবেশ করতে না দেয়া সরকারের নোংরা রসিকতা বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সরকার গণতন্ত্রের কবর দিয়েছে এবং এখন মিলাদ ও কুলখানি চলছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রোববার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
সমাবেশ করতে না দিয়ে আওয়ামী লীগ সংবিধান লঙ্ঘন করেছে উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, “আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে গণতন্ত্রকে পুরোপুরিভাবে কবর দেয়া হয়েছে। এখন যেটা চলছে সেটা হচ্ছে, গণতন্ত্রের এক ধরনের মিলাদ মাহফিল ও কুলখানি।”
সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, “আশা করি সময় শেষ হয়ে যাওয়ার আগেই তাদের (সরকার) শুভবুদ্ধির উদয় হবে। আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সৃষ্ট সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নিন।”
ফখরুল বলেন, “বিএনপি একটি নিবন্ধিত সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল। যারা পাঁচবার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। আজকে সেই দল একটি সমাবেশ করতে পারে না। এতে সহজেই বোঝা যায় দেশের গণতন্ত্র কোনো পর্যায়ে রয়েছে।
জরুরি অবস্থা জারি করে সভা-সমাবেশ বন্ধ করে দেয়া হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সমাবেশ করা আমাদের সাংবিধানিক অধিকার। নাগরিক হিসেবে সভা-সমাবেশ করা মৌলিক অধিকার। আওয়ামী লীগ সেই অধিকার লঙ্ঘন করছে, সংবিধান লঙ্ঘন করছে।”
মির্জা ফখরুল বলেন, “স্বেচ্ছাচারিতা এবং বেআইনি ও অবৈধভাবে তারা যে সরকার গঠন করেছে, সেই সরকারকে টিকিয়ে রাখতে দেশের সব গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করা হচ্ছে। বিরোধীদলের ওপর চালানো হচ্ছে জেল, জুলুম ও নির্যাতন। সারা দেশে এমন একটা অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে, যেখানে এখন আইনের শাসন বলতে কিছু নেই। ন্যায়বিচার বলতে কিছু নেই।”
ফখরুল বলেন, “সরকার আইন করে জনসভার অনুমতি বন্ধ না করলেও জনসভা করতে দিচ্ছে না। তারা মানুষের মৌলিক অধিকার হরণ করেছে।”
এসময় সাংবাদিকদের উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “আপনারা নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন বাংলাদেশ কোন দিকে ধাবিত হচ্ছে। এখানে রাজনৈতিক পরিস্থিতি কত ভয়াবহ। বিরোধী দলের গণতান্ত্রিক অধিকার কী বিভৎস নিষ্ঠুরতায় নিষ্পেষিত হচ্ছে, যা দেশবাসী প্রতিদিন প্রতিক্ষণ উপলব্ধি করছেন।”
মির্জা ফখরুল আরো বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ যুদ্ধ করে দেশে স্বাধীন করেছিল। যে চেতনা দিয়ে যুদ্ধ করেছিল সেই চেতনা থেকে আওয়ামী লীগ অনেক দূরে চলে গেছে। আমরা (বিএনপি) বারবার বলেছি এ বিষয়ে আলোচনা করতে চাই। দেশে যে রাজনৈতিক সঙ্কট তৈরি হচ্ছে সেটা মোকাবেলায় সংলাপের প্রয়োজন আছে। কিন্তু সরকার কর্ণপাত করেননি।”
বিএনপি মহাসচিব বলেন, “একটি নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় নির্বাচন ছাড়া বর্তমান সঙ্কট সমাধান নয়। তাই এ বিষয়ে কথা বলা অত্যন্ত জরুরি।”
বিএনপিকে সমাবেশ করার জন্য সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ব্যবহারের অনুমতি প্রসঙ্গে গণপূর্ত অধিদপ্তর থেকে পাঠানো চিঠিকে গণমাধ্যমের কাছে তুলে ধরে দলটির মহাসচিব বলেন, “এই চিঠিতেই প্রমাণিত হয়েছে, এ সরকার জনমত, আইনের শাসন কোনো কিছুতেই বিশ্বাস করে না। কোনো নীতি, বিধিবিধান ও আইনের শাসনসহ কোনো কিছুই তোয়াক্কা করেন না।”
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, আতাউর রহমান ঢালী, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, সহ-সাংগঠনিক আবদুস সালাম আজাদ ও সহ-দপ্তর সম্পাদক মুনির হোসেন প্রমুখ।
Wow political news
I do not know how true the words are
I just hate politics
I'm not a politician so I don't think that I should say something about this topic
news
thik bolse
I am not interesting in politics
Fokrol is right.
nie news
তাই নাকি?