মিষ্টিমুখ
আকিকা মূলত নাম রাখার একটা অনুষ্ঠান। ইসলাম ধর্মীয় মতে, আনুষ্ঠানিকভাবে পাড়া-প্রতিবেশীদের নিয়ে গরু-ছাগল কুরবানী করে সেই মাংস সকলের মাঝে ভাগ করে দিয়ে নবজাতক সন্তানের নাম রাখা হয়।
যদিও আমার ধর্মীয় জ্ঞান অনেকটাই সীমিত, তাছাড়াও এসব ব্যাপার আমাকে খুব একটা টানে না। থাক সেসব কথা, একেকজনের ব্যক্তিগত বিশ্বাস একেক রকম, সবার বিশ্বাসের প্রতি দিনশেষে আমি শ্রদ্ধাশীল।
আপনারা হয়তো আমাকে অনেকেই চেনেন বা আমার লেখা পড়ে থাকেন, আমি আসলে চেষ্টা করবি সর্বদা সকল শ্রেণী-পেশার মানুষের সঙ্গে মিশে থাকার জন্য। এ তালিকায় অবশ্য বেশি প্রাধান্য পায়, একদম খেটে খাওয়া মানুষরা। এ শহরের কমবেশি সকল রিক্সাওয়ালার সঙ্গেই আমার খুব আন্তরিক একটা সম্পর্ক হয়ে গিয়েছে, এই মানুষগুলোর মধ্যে আমি আহামরি তেমন একটা ঝামেলা দেখি না। এক কথায়, আমি আপনি যত বৃহৎ অর্থে খুশি, এই তুলনায় খেটে খাওয়া মানুষরা খুবই সীমিত অর্থের মাঝে নিজের সুখ খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করে।
বেলাল ভাইয়ের রিক্সায় মাঝে মাঝেই চড়া হয়, খুবই সাম্প্রতিক সময়ে সে দ্বিতীয় বারের মত বাবা হয়েছে। এবার তার ঘরে জন্ম নিয়েছে পুত্র সন্তান। যদিও সরকারি হসপিটালে নরমাল ডেলিভারিতেই তার বাচ্চা হয়েছে, তাও চেষ্টা করেছিলাম নিজের পরিচয় খাটিয়ে সরকারি হসপিটাল থেকে সরকারি ওষুধগুলো তার স্ত্রীর ডেলিভারির বেলায় সংগ্রহ করে দেওয়ার জন্য, এর থেকে আসলে আমার আর বেশি কিছুই করার ছিল না।
তবে বিপত্তিটা সৃষ্টি হয় অন্য জায়গাতে, যেহেতু এই সমাজেই বেলাল ভাই তার পরিবার নিয়ে থাকে, তাই ছেলের নাম রাখা নিয়ে খানিকটা চিন্তিত সে। মূলত তার এই সময়ে হাতে খুব একটা পয়সা নেই আর তাছাড়া ছাগল বা গরু কুরবানী দিয়ে আকিকা করবে, সেই শখ হয়তো তার মনে মনে আছে, তবে তা বাস্তবে রূপান্তর করতে গেলে, তার জন্য সেটা কোনভাবেই এমতাবস্থায় সম্ভব হয়ে উঠবে না।
১৫০ টাকা কেজি দরের মিষ্টির দাম বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৩৫০ টাকা। তাহলে একটা বার চিন্তা করে দেখুন, যদি কুরবানী দেওয়ার জন্য গরু-ছাগল কিনতে হয়, তাহলে হয়তো বেলাল ভাইয়ের চুরি-ডাকাতি করা ছাড়া আর অন্য কোন উপায় থাকবে না। আজ সন্ধ্যেবেলায় যখন তার রিক্সায় ঘুরছিলাম এবং তার ছেলে ও স্ত্রীর খোঁজ-খবর নেওয়ার চেষ্টা করলাম, তখন আসলে বেলাল ভাই আমাকে সেই কথাগুলো বলেই ফেলল।
যেহেতু তার অর্থনৈতিক সমস্যা চলছে বা তাছাড়াও ব্যাপারটা সামাজিক নিয়ম কানুনের ভিতরে পড়ে, মানে সহজ ভাষায় বলতে গেলে সমস্যা এখন অনেকটাই জটিলতা সম্পন্ন। তাও সবকিছু উপেক্ষা করে, তাকে আমি বলেই ফেললাম, বেলাল ভাই এত চিন্তাভাবনা করে লাভ নেই,যদি সম্ভব হয় তাহলে আধা কেজি মিষ্টি কিনে , একদম খুবই নিকট আত্মীয়দের চেষ্টা করিও মিষ্টিমুখ করানোর। এর বেশি আমার মাথায় আর কিছুই ঢুকছে না। আর যে নামটা তোমার বা তোমার স্ত্রীর পছন্দ হবে, সেই নামটাই রেখে দিও।
হয়তো শুরুতেই বেলাল ভাই আমার কথাটা তেমনভাবে বুঝতে পারেনি, তবে এবার তাকে খোলাসা করেই বললাম, তোমার স্ত্রী যখন হসপিটালের বিছানায় প্রসব ব্যথার যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিল বা তুমি যে এই সময় এতোটা অর্থনৈতিক কষ্টে পড়ে আছো, সেই সমস্যা কি তোমার তথাকথিত সমাজ বা অন্য কেউ বোঝার চেষ্টা করছে, এবার বেলাল ভাই সহজ-সরল ভাষায় উত্তর দিল, না । তাহলে ভাই, তোমার এত সমাজ-সামাজিকতা নিয়ে চিন্তাভাবনা করে লাভ নেই।
মুহূর্তেই রিক্সাটা থামিয়ে দিল বেলাল ভাই, দ্রুত পাশের বনফুল হোটেল থেকে আধা কেজি মিষ্টি কিনে নিয়ে আসলো এবং প্রথম মিষ্টিটা আমাকেই খাওয়ানোর চেষ্টা করলো । বেলাল ভাই, কেন এমন করল, তা আমি জানিনা । তবে বেলাল ভাই যে, সহজেই সমাধান পেয়েছে তা আমি বুঝতে পেরেছি। যাইহোক, বেলাল ভাইয়ের নবজাতক সন্তান পৃথিবীতে ভালোভাবে বেড়ে উঠুক, এমনটাই প্রত্যাশা ব্যক্ত করছি।
ডিসকর্ড লিংক
https://discord.gg/VtARrTn6ht
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
VOTE @bangla.witness as witness
OR
https://twitter.com/sharifShuvo11/status/1704384732581261629?t=sBabeqO9lZIkEA-wRdK9sQ&s=19
ভাই আপনার পোস্ট নিয়মিত পড়া হয় আমার, সেজন্য আমি খুব ভালোভাবেই জানি যে,আপনি কমবেশি সব শ্রেণীর মানুষের সাথে মিশে থাকেন। সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে আপনি খেটে খাওয়া মানুষদের সাথে বেশি মিশে থাকেন। এই গুণটা আমি অন্য কারো মধ্যে দেখিনি কখনো। যাইহোক আপনি বেলাল ভাইকে সহজ একটি সমাধানের কথা বলেছেন। এতে করে বেলাল ভাইয়ের মাথা থেকে দুশ্চিন্তা দূর হয়েছে। সমাজের কথা না ভেবে নিজের ভালো মন্দ বিচার করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ সমাজ পারে শুধু মানুষের বদনাম করতে। ভালো কোনো সমাধান দিতে পারে না। যাইহোক এতো চমৎকার একটি পোস্ট আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই।
বেলাল ভাই আসলেই দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পেয়েছে, এটাই আমার কাছে সব থেকে ভালো লাগার ব্যাপার ছিল।
জি ভাইয়া, আপনি সবার সাথে মিশতে চেষ্টা করেন,এটা আপনার পোস্ট থেকে জানি।বেলাল ভাইয়ের সাথে আপনার বেশ ভালো একটা সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।যেহেতু তার রিক্সায় প্রায় উঠে থাকেন।আপনি তাকে বেশ মূল্যবান পরামর্শ দিলেন। এরকম একটা অবস্থাতে আপনার কথাগুলো অনেকটা ভরসা যুগিয়েছে তাকে।তাই দ্বিতীয় বার বাবা হওয়ার আনন্দ টা আপনাকে প্রথম মিষ্টি খাইয়ে সে পেয়েছে।ভালো লেগেছে পোস্টটি।ধন্যবাদ ভাইয়া সুন্দর পোস্টটি শেয়ার করার জন্য।
এটা সত্য, বেলাল ভাই দ্বিতীয়বারের মতো বাবা হয়ে বেশ ভালই খুশি হয়েছে।
এ সমাজের শ্রমজীবী মানুষগুলো আসলে অল্পতেই খুশি। তাদের সুখের দামটাও কম। খুব টাকায়ই তারা সুখ কিনতে পারে, যেখানে বড় বড় অট্রালিকায় বসবাস বসবাস করা মানুষগুলো পারে না। তবে বেলাল ভাইকে যে সহজ সমাধান দিতে পেরেছেন এ ব্যাপারটা ভালো লাগলো ভাইয়া। আধা কেজি মিষ্টি নিয়েই বেলাল ভাই খুশি। প্রথম মিষ্টিটা আপনাকেই দিল, এটা ভালো লাগল!
আমি যদিও অপ্রস্তুত ছিলাম মিষ্টি খাওয়ার সময়, তবে বেলাল ভাই আমাকে খুশি হয়েই খাইয়েছিল।
ভাইয়া আপনি সকল পেশার মানুষের সাথে মিশে গেলেও খেটে খাওয়া মানুষের সাথে বেশি মিশে থাকেন।আপনি বেলাল ভাই কে সহজ সমাধান দিলেন।আর এটাতে বেলাল ভাই দুঃশ্চিন্তা মুক্ত হলেন।আধা কেজি মিষ্টি কিনে বেলাল ভাই প্রথম মিষ্টিটা আপনাকে ই দেওয়ার চেষ্টা করেছিল,জেনে ভীষণ ভালো লাগলো। ধন্যবাদ ভাইয়া আপনাকে অনুভূতি গুলো শেয়ার করার জন্য।
ধন্যবাদ আপু আপনার সাবলীল মন্তব্যের জন্য।