মুন্সিগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী কাঠের ঘর
'কাঠের ঘর' শব্দ দুটি শুনলে আপনার জাপানের কথা মনে পরতে পারে। তবে আজ আমরা সুদুর জাপানের কাঠের ঘরের পরিবর্তে বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে প্রচলিত কাঠে ঘর’ শব্দ দুটি শুনেই সকাঠর ঘর এবং কাঠের হাট সম্মন্ধে জানব।কেমন দেখতে এই ঘর? কোথায় বসে এই ঘরের হাঁট? এই রকম প্রশ্ন হয়ত আপনাদের মনে জেগেছে। আর এ সকল প্রশ্নের উত্তর নিয়েই আজকের লেখা।
যেভাবে বানানো হয় কাঠের ঘর
ঠের ঘর বানানোর মুল উপাদান হল টিন আর কাঠ। তবে এর পাশাপাশি মাতি,খর,বাঁশ ও প্লেইন শিটও ব্যাবহার করা হয়। এরপর অংশগুলিকে পৃথক পৃথকভভাবে বানিয়ে ,সেগুলিকে জোড়া লাগানো হয়।ঘরের ভেতর থাকে ‘কেবিন’। অসম্ভব সুন্দরকরে বানানো হয় ঘরগুলিকে।সাধারনত এই ঘরগুলি বানানোর জন্য কাঠ আনা হয় চট্টগ্রাম থেকে। একটি ঘর বানাতে ১০৫ থেকে ১১০ কেজি কাঠের দরকার হয় ।
কাঠের ঘরের বহুল প্রচলন ও বহুল ব্যাবহারের কারন
কবে থেকে মুন্সিগঞ্জে এই ধরনের কাঠের ঘরের প্রচলন হয় তার সঠিক কোন ইতিহাস জানা যায়নি । তবে এ ধরনের ঘরের প্রচুর ব্যাবহার ও জনপ্রিয়তার অনেক কারন রয়েছে । এই ধরনের ঘরের প্রচলনের কথা বলা যাক । এ ধরনের ঘরের প্রচলন মুলত জাপানের বাংলাদেশি প্রবাসীদের হাত ধরেই । মুন্সিগঞ্জের একটি বড় অংশের মানুষ জীবিকার জন্য জাপান,দক্ষিন কোরিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থান করতো ।ফলে তারা এসব দেশ থেকে ফিরে এসে ,তাদের নিজেদের বসবাসের জন্য জাপান ও দক্ষিন কোরিয়ার মত কাঠের ঘর তৈরি করতে থাকে এবং এভাবেই মুন্সিগঞ্জের কাঠের ঘরের প্রচলন হয়।
তবে এর জনপ্রিয়তার পেছনে আরো কিছু কারন রয়েছেো
। মুন্সিগঞ্জ জেলাটি মুলত খরস্রোতা পদ্মা নদীর তীরে অবস্থিত ।ফলে প্রায় প্রতিবছরই এখানকার অনেক ঘরবাড়ি ,জমিজমা,নদী ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে যায় ।আর খুব সহজেই এই ঘরগুলি প্রতিটি জোড়া খুলে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নেয়া যায় ।ঠিক এ কারনেই দালানের পরিবর্তে কাঠের ঘর বেশি পছন্দ এই এলাকার মানুষদের । তাছাড়া এই ঘর গুলি পরে বিক্রি ও করা যায় ।একটি পুরাতন ঘর বিক্রি করলে প্রায় বানানোর সমান দাম পাওয়া যায়।
মুন্সিগঞ্জের বিখ্যাত ঘরের হাট
কাঠের ঘর নিয়ে অনেক আলোচনা হল ।এবার মুন্সিগঞ্জের বিখ্যাত ঘরের হাট সম্পর্কে জানা যাক ।
সাধারনত আমরা গরু,ছাগল,ভেড়া,মুরগিও সব্জির হাট বসার কথা শুনে থাকি ।কিন্তু মুন্সিগঞ্জ জেলার কাতাখালি,হাতিমারা,টুঙ্গিবাড়ি উপজেলার পাইকপাড়া,বেতকা,সিরাজদিখানের মালখানগর ,লৌহজং এর কাঠপট্টি এলাকায় গেলে মজার একটি দৃশ্য চোখে পড়বে ।সেখানে গেলে দেখা যাবে বিভিন্ন ধরনের কারুকাজ খচিত নতুন নতুন ঘর ।
নকশা,কাঠের ধরন ও আকার ভেদে ঘরের দাম ২ থেকে ১৫ লাখ হয়ে থাকে । মুন্সিগঞ্জের যেসব জায়গায় নতুন ঘর বানিয়ে রাখা হয়,মুলত সেই সকল জায়গাকে ঘরের হাট বলা হয় । ক্রেতারা এসে সেখান থেকে পছন্দ অনুযায়ী ঘর কিনে নিয়ে যায় ।একটি রেডিমেট ঘর বাড়িতে নিয়ে সেট করতে তিন থেকে চার দিন সময় লাগে ।
মুন্সিগঞ্জের মানুষের যে টিনের ঘরের প্রতি দুর্বলতা তা
যে কেউ ওই এলাকায় গেলেই বূঝতে পারবে ।এলাকার ধনি,গরিব প্রায় সবার বাড়িতেই দেখা মিলবে টিনের ঘরের ।
ঘরগুলির যত্ন এরা বছর বছর কাঠে তেল,কাঁচা গাব ও রং ব্যবহার করে ।এতে করে ঘরগুলি সুন্দর থাকে বছরের পর বছর
great post
Outstanding.