♥☆꧁::.মেজো আপা ::. ꧂☆♥তোকে উৎসর্গ করে আজকের কবিতা|||~~
সকলকে শুভেচ্ছা। আশা করি সবাই ভাল আছেন। আলহামদুলিল্লাহ আমিও বেশ ভাল আছি। আর আপনারা সবাই সবসময় ভালো থাকবেন, এটাই প্রত্যাশা করি।
বন্ধুরা আজ আবারো স্বরচিত একটি কবিতা নিয়ে আপনাদের মাঝে হাজির হলাম। আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে। কবিতা টি লিখেছি আমার মামাতো বোন শামীমা আক্তার (শিমু) মেজ আপাকে নিয়ে। মেজ আপা বয়সে আমার চেয়ে অনেক বড়।কিন্তু আমরা যখন ছোট ছোট ছিলাম, তখন থেকেই মেজ আপার সাথে আমার অন্তরঙ্গ মিল ছিল। মেজ আপা যখন ক্লাস নাইনে পড়ে, আমি তখন ক্লাস সিক্সে পড়তাম। একই স্কুলে পড়তাম একসাথে যাওয়া আসা করতাম।আমাদের বাড়ি ছিল পাশাপাশি। আমাকে ছেড়ে মেজো আপা কিছুই খেত না। আমার জন্য আলাদা করে লুকিয়ে রাখত। মেজ আপারা পাঁচ ভাই-বোন। চার বোন এক ভাই। সব ভাই বোনের মধ্যে মেজো আপা একটু আলাদা রকমের। মেজ আপা সেই ছোটবেলা থেকে বাবা মাকে নিয়ে প্রচুর ভাবতো। এমনকি ভাইবোনদের নিয়ে ও তার ভাবনার শেষ নেই।
এরপর যখন বিয়ে হল তখন শ্বশুরবাড়ির লোকদের নিয়ে ও তার ভাবনা যেন তাকে তাড়িত করত।মেজ আপা একটি স্কুলের সহকারি শিক্ষক।স্কুলের অন্যান্য সহকারি শিক্ষকদের কোন সমস্যা হলে তাদের ক্লাসগুলো মেজ আপা নিয়ে তাদেরকে সহযোগিতা করতেন। এভাবে মেজো আপা তার জায়গা থেকে সবাইকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতেন। মজার বিষয় হচ্ছে মেজ আপা ওকে খুব পছন্দ করত জামাই হিসেবে।কারণ ছোটবেলায় সিয়ামের চোখ গুলো অসাধারন মায়াবী ছিল।মেজ আপা সিয়ামকে কোলে নিত। গোসল করাতো। ফিডার খাওয়াতো। আর বলতো ওকে আমি জামাই বানাবো।কিন্তু মেজ আপার বিয়ে হয় অনেক দেরিতে আর সে কারণেই তার বেবি হচ্ছিল না দীর্ঘদিন। অনেক চিকিৎসা অনেক সাধনার পর পর পর দুটো ছেলে হয়।বড় ছেলের বয়স ছয় আর ছোট ছেলের বয়স পাঁচ। দু'বছর আগে দুলাভাই মারা যান।ছোট ছোট বাচ্চা দুটোকে নিয়ে আপা জীবন যুদ্ধে যুদ্ধ করে যাচ্ছিল।হঠাৎ করে শুনতে পেলাম মেজ আপার ক্যান্সার হয়েছে।গতকাল তাকে দেখতে গিয়েছিলাম।মেজ আপার বুকফাটা কান্না আর আর্তনাদ আমাকে অনেক বেশি আহত করেছে। গতকাল সারারাত একটুও ঘুমাতে পারিনি।মেজ আপার একটি স্বপ্ন একটি আশা মহান আল্লাহ তায়ালা যেন তার মৃত্যু টা আরেকটু দেরি করে করেন। বাচ্চা গুলো একটু বড় হয়ে যাওয়ার পর। বাচ্চা দুটোর মুখের দিকে তাকানো যাচ্ছে না। বাচ্চা গুলো ঠিক এভাবে বলতেছে - মা তুমি যদি না থাকো আমাদের গোসল করাবে। আমাদের খাওয়াবে। কে আমাদের স্কুলের বেতন দেবে। কে কে আমাদেরকে আদর করবে ? মা বলতো !! আমাদের বাবা ও নাই। আমাদের মা ও যদি চলে যায়,, তাহলে আমরা কিভাবে বেঁচে থাকব মা। যারা বাসায় যাচ্ছে তাদের সবাইকে বলতেছে, তোমরা সবাই আমার মায়ের জন্য দোয়া করবে। আমার মা যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে। কাল আমাকে জড়িয়ে ধরে কান্না করতে করতে এসব বলছিল বাচ্চা দুটো।প্রতিটি ক্ষণ শুধু মেজ আপার কথা ভাবতেছি।যেদিকে তাকাই সেদিকেই শুধু মেজ আপা আর মেজ আপা। সব স্মৃতি গুলো চোখের সামনে ভেসে উঠছে বারবার।তাই মেজ আপাকে সঙ্গে খুবই একটি কবিতা লিখতে চলেছি আজ।আপনারা সকলে মিলে মেজ আপার জন্য দোয়া করবেন। ও যেন ওর বাচ্চাদের জন্য হলেও বেঁচে থাকে। আল্লাহ যেন তাকে ভালো করে দেন। এবং সুস্থ করার তৌফিক দান করেন। আমিন।
♥☆꧁::.মেজো আপা ::. ꧂☆♥
♥☆꧁::. সেলিনা সাথী .::. ꧂☆♥
বলছি তোকে ওরে,
সুস্থ হয়ে ফিরবিরে তুই
আবার আপন ঘরে।
আপন যারা ছিল যে তোর
থাকবি তাদের সাথে,
মা মা বলে ডাকবে ওরা
সারা দিন ও রাতে।
চোখের মনি ওরা যে তোর
হবে একদিন বড়,
ওরাই একদিন শিক্ষক হয়ে
বলবে তোকে পড়।
সেদিনের কথা ভেবে ভেবে
আর কাঁদিস না তুই,
শত সাধনার পরে যে তুই
বাবা পেলি দুই।
তুই যে ওদের মা ও বাবা
তুই যে ওদের সব,
সবার দোয়া কবুল জানি
করবে মোদের রব।
হে বিধাতা মেজ আপার
জীবন করো দান,
দয়ালু তুমি দয়ার সাগর
রহিম রহমান।
১৩ মে ২০২৩
সময় রাত ১১:১৫
কবিতা কুটির নীলফামারী।
আমি সেলিনা সাথী। আমার প্রফেশন, প্রেজেন্টার, ট্রেইনার ও মোটিভেটর। আমি একজন সমাজ কর্মি ও সংগঠক। এছারা ও তৃনমূল নারী নেতৃত্ব সংঘের নির্বাচিত সভাপতি বাংলাদেশ। আমি "নারীসংসদ"
এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, ও প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি "সাথী পাঠাগার"। আমার লেখা মোট ১০ টি একক ও যৌথ কাব্য গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। একুশে বই মেলায় প্রতি বছর একটি করে কাব্য গ্রন্থ প্রকাশের চেস্টা করি। আমার লেখা কাব্যগ্রন্থের মধ্যে "মিস্টি প্রেম" (উপন্যাস), "অশ্রু ভেজা রাত" (কবিতা), "জীবন যখন যেমন" (কবিতা), "একুশের বুকে প্রেম" (কবিতা), "নারীকন্ঠ" (ম্যাগাজিন) অন্যতম।
আপু আপনার কবিতা পড়ে অনেক খারাপ লাগল। দোয়া করি মহান আল্লাহতাআলা আপনার মেজ আপার বাচ্চার জন্য হলেও একটু দেরিতে মৃত্যু দেয়।আসলে আপু জীব মৃত্যু বরণ করবে তবে কে কখন মৃত্যু বরণ করবে একমাত্র আল্লাহ জানেন।যাইহোক আপু আপনার মেঝো আপাকে নিয়ে দারুণ একটা কবিতা লিখেছেন। কবিতার প্রতিটি লাইন চমৎকার হয়েছে, তারপরে ও কিছু লাইন মন কেড়ে নেই
তুই যে ওদের মা ও বাবা
তুই যে ওদের সব,
সবার দোয়া কবুল জানি
করবে মোদের রব।
যেদিন শুনেছি মেজ আপার ক্যান্সার হয়েছে। এবং ডক্টর বলেছেন আর 6 মাস বাঁচবে। সেদিন থেকেই খুব মর্মাহত অবস্থায় আছি। এবং আকুল প্রার্থনা করছি, আল্লাহ যেন বাচ্চা দুটোর উসিলায় ওকে সুস্থ করে দেন। আমিন
আপু আপনার কবিতা পোস্টের প্রথম অংশে লেখা গুলো পড়ে খুবই কষ্ট পেলাম আমি। আসলে আপু রোগের ক্ষেত্রে মানুষের কোন হাত নেই। আমি সৃষ্টিকর্তার নিকট প্রার্থনা করি যেন, মহান সৃষ্টিকর্তা আপনার মেজ আপার ছোট নাবালক দুই বাচ্চার মুখের দিকে তাকিয়ে আপনার মেজ আপার আয়ু বৃদ্ধি করে দেয়। এমনিতেই বাচ্চা দুটি এতিম, তারপরও যদি মা মারা যায় তাহলে সত্যিই বাচ্চা দুটি পৃথিবীর বুকে খুবই অসহায় হয়ে যাবে। মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ যেহেতু সর্বজ্ঞানী এবং সবকিছুই জানেন, তাই নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ আপনার মেজ আপার আয়ু বৃদ্ধি করে দিবেন। আপনার মেজ আপা সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরে আসুক এমনটাই আমি আন্তরিকতার সাথেই প্রত্যাশা করি।
আপনি ঠিকই বলেছেন ভাইয়া । মহান আল্লাহতায়ালা যেন বাচ্চাদের ওসিলায় মেজ আপার জীবন দান করেন। এবং তাকে সুস্থ করে দেন। আমীন।
এই লেখাটা যে কেউ পড়লেই তার বুকে গিয়ে একটা ধাক্কা লাগবে আপু। আসলে কি বলা উচিত নিজেই বুঝতে পারছি না। কখনো কখনো হয়তো চুপ হয়ে যেতে হয়। ঈশ্বরের হাতে সব কিছু। উনি যেন মেজো আপু আর তার বাচ্চাদের জন্য সব চেয়ে ভালো কিছুই করেন এটাই প্রার্থনা করি।
একদম ঠিক বলেছেন।কখনো কখনো সব দেখে শুনে বুঝে নীরব থাকা ছাড়া, আর কিছুই করার থাকেনা।নিশ্চয়ই মহান সৃষ্টিকর্তা পরম দয়ালু। তিনি যা করবেন মঙ্গলের জন্যই করবেন।