নিজের জন্য বাঁচা শেখাটা অত্যন্ত জরুরি।(It is very essential to concede to live for yourself.)
জীবনের বেশ খানিকটা পথ পেরিয়ে আসার পরে এবং বিভিন্ন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাবার পর এছাড়াও নিঃস্বার্থ ভাবে সকলের মঙ্গল চেয়ে আজ কোথাও গিয়ে শিখেছি;
সবাইকে ভালো রাখতে গিয়ে, সকলের কাছে ভালো হতে গিয়ে কোথাও আমার মনে হয়েছে নিজের সত্ত্বা আমরা হারিয়ে ফেলি।
আমিও মানুষ, আমার ভালো লাগা, মন্দ লাগা আছে! আমার মন খারাপ আছে! এগুলো অন্য কেউ বুঝবে এই আশা করাটা সবচাইতে বড়ো বোকামি।
আমি যতক্ষণ নিজেকে ভালো রাখতে না পারবো, নিজেকে ভালোবাসতে না পারবো, ততক্ষণ বোধহয় অন্যদের ভালো রাখা সম্ভব নয়।
এই পৃথিবীতে সকল সম্পর্কের পরিভাষা একটাই, আর সেটা হলো আত্মস্বার্থ, নিজের প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে গেলে, ক্ষমতাহীন হয়ে গেলে সম্পর্কের প্রকৃত রূপ বেরিয়ে আসে।
এটা আমরা পরিস্থিতির স্বীকার না হলে কখনোই বুঝবো না অনুভব করবো না, কারণ তার আগে পর্যন্ত সব কিছু ঠিক, সবাই ভালো এরকমটাই মনে হয়।
কথায় আছে,
এই কথাটা কঠিন বাস্তব এর উৎকৃষ্ট উদাহরণ।
কাজেই, বাকি সম্পর্ক তো সময়ের সাথে সাথে জীবনে আসে, তাহলে সেক্ষেত্রে আত্মকেন্দ্রিকতা থাকবে সেটাই স্বাভাবিক।
আমরা শারীরিক, মানসিক সর্বোপরি যতক্ষণ অর্থের যোগান দেবার কেন্দ্রবিন্দু থাকতে পারবো, ততদিন পর্যন্ত আমাদের কদর।
বিশেষ করে, যদি আমার দ্বারা কেউ আর্থিক লেনদেনের সুবিধা পায়, তাহলেই আমার মূল্য আছে।
ব্যতিক্রমী সম্পর্ক আজ বিলীন! এখন বাস্তবিকতার তুলাযন্ত্রে পরিমাপ করে সম্পর্ক টিকে থাকে।
আর এটা পুরুষ নারী নির্বিশেষে একইরকম। এখন প্রকৃত নীতিকথা ছায়াছবি আর দৈনন্দিন ধারাবাহিকে দেখা গেলেও, বাস্তবে তার অস্তিত্ব বিলীন।
(I am my favourite - আমি আমার সবচাইতে প্রিয়) |
|---|
আর ঠিক সেই কারণে আমি নিজেকে আস্তে আস্তে দূরে সরিয়ে নিয়েছি এবং নিচ্ছি দিন দিন। কারণ, আমি ভান করা, অথবা মন যুগিয়ে পরিস্থিতির অনুকূলে কথা বলা মানুষদের দলে পড়ি না, আর থাকতেও চাই না;
পাশাপশি এই ধরনের মানুষদের আমি পছন্দ করি না।
এখানে কাজ করতে গিয়ে এমন অনেক পরিস্থিতির স্বীকার হয়েছি, যেখানে আমার কোনো দোষ না থাকা সত্বেও আমাকে ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে।
তারমানে কিন্তু একেবারেই নয় আমি অকারণে নতি স্বীকার করে, নিজের আত্মস্বার্থের খাতিরে এগিয়ে গিয়ে হাতে পায়ে ধরে নিজের কাজের পথ মসৃণ করার প্রয়াস করেছি।
বরঞ্চ লড়াই করেছি, আর সৃষ্টিকর্তাকে নিজের হৃদয় এর ব্যথা জানিয়েছি, তার কাছে বিচার চেয়েছি।
টিকে থেকে নিজের কাজ করে গেছি এই বিশ্বাসে যে, সময় সব প্রশ্নের উত্তর সঠিক সময় দিয়ে দেবে।
তবে, আমি একটা বিষয়ে পরিষ্কার নিজের অন্তরাত্মার কাছে, আর সেটা হলো, অকারণে অনেকেই আমার ক্ষতি সাধন করলেও আমি সেই পথে কখনো হাটিনি।
এখন আমি বেশ বুঝতে পারি কোন কোন মানুষ কি কি কারণে আমার সাথে সম্পৃক্ত এবং কতক্ষন তারা আমার সাথে সম্পৃক্ত থাকবে।
আর এই কথাটা এখন যারা বোঝে, তারা জানে আমি উপার্জন অথবা অর্থের লোভে সম্পর্ক রাখার দলে সামিল নই।
কারণ, আমার কিছু খারাপ লাগলে তাদেরকেও স্পষ্ট করে বিষয়টি জানিয়ে দিয়ে থাকি।
এই বিশ্বাসে যে, তারা বুঝবে ক্ষমতার লোভে আমি চুপ থাকা অথবা তেল দেবার বা নেবার শ্রেণীতে পড়ি না।
আমার শুভাকাঙ্ক্ষী আজ আর কেউ নেই!
যা কিছু প্রকৃত সম্পর্ক ছিল সবটাই শেষ, কাজেই আর যতদিন এই ধরায় আছি নিজের দিক থেকে সৎ থাকার প্রয়াস অব্যাহত রাখার চেষ্টা করে যাবো।
জীবনটা আমার দুঃখের হলের মৃত্যুটা যাতে শান্তির হয় এটাই এখন আমার একমাত্র কামনা।
দ্বিচারিতা এই জীবনে আমার শেখা হয়নি আর পারবো ও না শিখতে আর কোনোদিন।
এগুলো তাদের জন্য যারা সত্যের পরিবর্তে সুবিধার হাত ধরে জীবন অতিবাহিত করতে বিশ্বাসী।
সম্পর্ক যত আপন হোক না কেনো, এই পৃথিবীর মায়া ত্যাগের পরে দু'দিন একটু দুঃখ প্রকাশ করে, আবার যে যার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়বে এটাই স্বাভাবিক আর বাস্তব।
তাই, এখন থেকে শুধু নিজেকে ভালো আর খুশি রাখার চেষ্টা করে যাবো, অন্যের থেকে কিছুই আশা নেই আজ আমার।
সম্পর্কের অহঙ্কারের দর্প আমার অনেক বছর আগেই চূর্ণ হয়েছে, কাজেই এটাই মেনে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ, এই পৃথিবীতে আমি একাই এসেছি আর একাই যাবো।
নিজেকে ভালো রাখা আর নিজের কথা এখন থেকে শুধু ভাববো! কারণ আমার কষ্ট যখন আমার, আমার ব্যথা যখন আমার, আমার চোখের জল যখন আমার তাহলে অন্যের মধ্যে নিজের খুশি খুঁজতে যাবো কেনো?
Upvoted. Thank You for sending some of your rewards to @null. It will make Steem stronger.
Your post has been successfully curated by @kouba01 at 45%.
Thanks for setting your post to 25% for @null.
We invite you to continue publishing quality content. In this way you could have the option of being selected in the weekly Top of our curation team.
মাঝে মাঝেই আমরা দেখি অনেকেই তাদের দুঃখের কথা আমাদের সামনে প্রকাশ করে। তখন আমরা মনে করি এটা কিছুই না, এটা হতেই পারে জীবনে। কিন্তু যখন আমরা সেই পরিস্থিতির শিকার হই। এবং সেই পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে দিন যাপন করি। তখন বুঝতে পারি, আসলে এটা আমাদের জীবনের জন্য অনেক বড় একটা বোঝা।
আপনার এই কথার সাথে আমি সহমত পোষণ করছি। কারো কাছে নিজে অন্যায় করিনি, কিন্তু সে অন্যায়ের স্বীকার করতে হবে এমন তো কোন কথা নেই। বরং সত্যের সাথে লড়ে যেতে হবে এবং সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করতে হবে। যে মানুষগুলো আমার ক্ষতি করেছে তারা যেন নিজেদেরকে শুধরে নিতে পারে। সৃষ্টিকর্তা যে বিচার করবে, তার উপরে হয়তোবা আর কোন বিচার হতে পারে না।
সর্বোপরি আপনার পোস্ট পরিদর্শন করে জানতে পারলাম। আপনি নিজেকে ভালোবাসার কথা বলেছেন। কিন্তু মাঝে মাঝে দেখা যায় পরিবার সন্তান সবাইকে ভালো রাখতে গিয়ে। নিজে কতটা ভালো আছি। সে কথাটা আমরা ভুলে যাই। আমরা ভুলে যাই আমরা কখনো নাস্তা খেয়েছি। আমরা ভুলে যাই আমরা কবে মাথায় তেল দিয়েছি। এসব কথা মনেই থাকে না।
বাস্তবতার সাথে জড়িত চমৎকার বিষয় উপস্থাপন করার জন্য, আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। সব সময় ভালো থাকুন এই কামনা করি।
ঠিক এই কথাটাই দিনদুয়েক আগে বৃদ্ধাশ্রমে বাস করা এক সময় জাতিসংঘে কাজ করা এক ভদ্রমহিলার কাছ থেকে শুনেছিলাম।তাকে সাংবাদিক প্রশ্ন করেছিলেন যে, সবার জন্য একটা উপদেশ দিতে হলে কি দিবেন।তার উত্তরে বলেছিলেন যে, সবার আাগে নিজের জন্য বাচো।অন্যকে দেখ কিন্তু নিজে নিঃস হয়ে না।
একি কথা আপনার কাছ থেকেও পেলাম।পাশাপাশি এটাও ঠিক যে, চলার পথে আমরা অনেক তেলবাজ মানুষেরই দেখা পাই। এদেরকে দেখলে হাসি পায়। আর এদের অস্তিত্ব একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্তই।তাদের চাহিদা আাদায় হয়ে গেলে কিংবা হবে না এটা বুঝতে না পারলে আর তাদেরকে খুজে পাওয়া যায় না।এর মাঝে কিছু সম্পর্ক থাকে যেগুলো আসলেই সত্যিকারের সম্পর্ক।
কিন্তু অনেক সময় তেলবাজদের আড়ালে হারিয়ে যায় তারা অনেকটাই।
একটা সময় আমিও অনেক কিছুই করেছি আমার নিজের দিকে না তাকিয়ে কিন্তু স্বার্থ উদ্ধার হয়ে যাওয়ার পরে তাদের কাছ থেকে পেয়েছি অকৃতজ্ঞতা আর অবহেলা। এখন নিজেকে সরিয়ে এনেছি অনেকটাই। এ নিয়েও অভিযোগ পেয়েছি অনেক খুব কাছের মানুষের কাছ থেকেই।
আমিও আমার অভিজ্ঞতা থেকে এই কথাটাই শিখেছি যে,নিজের জন্য বাঁচো আর যে সম্পর্কগুলো স্বার্থের উর্ধ্বে তাদের জন্য করো।
চমৎকার এই বিষয়টা নিয়ে লেখার জন্য ধন্যবাদ। ভালো থাকবেন সবসময়।