জেনারেল রাইটিং ||| কতো রকমের মানুষ আছে এই দুনিয়ায়।
আসসালামু আলাইকুম। সবাই কেমন আছেন? আশা করছি এই পবিত্র মাহে রমজানের সবাই সবার পরিবারকে নিয়ে সুস্থ সুন্দরভাবে দিন যাপন করছেন। আমি আলহামদুলিল্লাহ আপনাদের দোয়ায় আল্লাহর রহমতে ভালো আছি।
বরাবরের মতো আবারো হাজির হলাম আপনাদের মাঝে নতুন আরেকটি ব্লগ নিয়ে।আজ আমি আপনাদের মাঝে একটি ভিন্ন ধরনের পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি। "কতো রকমের মানুষ আছে এই দুনিয়ায়" ঠিক এই টপিকের উপর নির্ভর করে আজ আমি ছোট্ট একটি ঘটনা আপনাদের মাঝে তুলে ধরছি। যেটা কিনা আমার সামনে দিয়েই ঘটে যাওয়া ঘটনা। আমার অনেক খারাপ লেগেছে তাই আপনাদের মাঝে শেয়ার করলাম।
আজ কয়েক দিন হল আমিও আমার হাজব্যান্ড দুজনে প্রচন্ড ব্যস্ত। ব্যস্ততার কারণে বাজার করার দরকার ছিল সেটাও করা হয়নি। তাই তো আজ সকল ব্যস্ততা বাদ রেখে চলে গেলাম দুজনসন্ধ্যায় ইফতারের পর বাজার করতে। কারণ দিনের বেলা একদমই সময় পাওয়া যায় না। এমনেতেই রোজার মাস। আর রোজার মাসে প্রচন্ড কাজ থাকে বিশেষ করে নারীদের।মেয়েদের সব দিকটা সামলাতে হয়। আর যারা জব করে তাকে বাইরে কাজ করতে হয়। সব মিলিয়ে সবারই রমজান মাসে অনেক ব্যস্ততায় সময় পার করতে হয়।
ইফতারের পর বাজারে গিয়ে সামান্য কিছু নিজের টুকিটাকি কেনাকাটা ছিল সেটা করে ফেললাম।রমজান মাসে নিজের শরীর স্বাস্থ্যের দিকে খেয়াল রাখতে হয় কি খেলে শরীর ভালো থাকবে এবং শরীরে এনার্জি আসবে সবকিছুই আমাদের খেয়াল রাখতে হয়। নিজের কেনাকাটার পর বাচ্চাদের জন্য কিছু ফল কিনলাম। ফল কেনার পর যখন একটা কনফেকশনারী দোকানে গেলাম সেখান থেকে দুই রকমের বিস্কুট,চানাচুর চা খাওয়ার জন্য একটি ডানো বড় দুধের প্যাকেট নিলাম, এবং বুইন্দা এক কেজির একটি প্যাকেট নেওয়ার পর দোকানদার ভাইটি যখন আমার জিনিসগুলো প্যাকিং করছিল এবং কত টাকা হল হিসাব করছিল তখন সেই মুহূর্তে একটি লোক এসে সেই দোকানদার ভাইটি কে বলল ভাই আমাকে কিছু বিস্কিট বোনদা এগুলো দেন।
তখন ভাইটি বলল দাঁড়ান। উনাকে লিস্টটা দিয়ে দেই এবং টাকাটা উনি দিয়ে চলে গেলে আপনাকে দেই। লোকটা আমার পাশেই দাঁড়ানো ছিল সেই লোকটি দেখতে অনেকটা ভদ্র লোক ছিল। কিন্তু এত ভদ্রলোক একটি লোক যে এরকম একটি কাজ করবে আমি কল্পনাও করতে পারিনি। ভদ্রলোকটি উনার বাজারের বড় ব্যাগের ভেতরে বিস্কুট চানাচুরের প্যাকেট বন্দার দুটো প্যাকেট সুন্দর করে এক সাইট থেকে তার ব্যাগের ভেতরে ঢুকালো।তারপর যখন দোকানদার ভাইদেরকে আমরা টাকা পরিশোধ করলাম তখন দোকানদার ভাইকে দেখলাম ভদ্রলোক যা যা চাইলো সবকিছু আবার নতুন করে প্যাকিং করে তাকে দিচ্ছিল।
প্রথমে ভাবছিলাম লোকটি ফান করছিল কিন্তু দেখলাম সে ব্যাগটি এক সাইডে শক্ত করে ধরে রেখেছে।পাশে আমার হাজব্যান্ড ছিল তখন আমি আস্তে করে ওর কানে বললাম দেখো লোকটি এই ভাইয়েরদোকানের জিনিস গুলো চুরি করেছ। কিন্তু ও আমার কথা বিশ্বাস করছিল না। আমি বললাম আমরা তো এদিক থেকে চলে যাব উনার ব্যাগের দিকে তুমি একটু দেখো। তারপর আমার হাজব্যান্ড সাইট থেকে তার ব্যাগের ভেতরে দেখে সত্যিই তাই। একবার মনে হল সেই ভাইটিকে সবকিছু বলে দেই কিন্তু এই ভরা বাজারের ভেতরে যদি কোন সমস্যা হয় এই ভেবে চলে এলাম। আসলে এই দুনিয়ায় মানুষ যে কত রকমের আছে তা ভাবাই যায় না। এরকম ঘটনা গুলো ফোনে অনেকবার দেখেছি কিন্তু আজ আমার সামনেই হলো।
সামান্য কিছু খাবার চুরি করে সে কয়দিন খেতে পারবে তাকে এই হিসাবগুলো আল্লাহর কাছে তো দিতেই হবে। আমি যখন বাজার করে বাসায় ফিরছিলাম তখন বারবার মনে হচ্ছিল সেই লোকটির কথা এই রোজা রমজান মাসে মানুষ এমন হতে পারে। মানুষের লোভ-লালসা অনেক খারাপ তবে আমার মনে হয় এই লোকটি এরকম চুরি করতে করতে একদিন না একদিন কোথাও পাবলিকের হাতে মার খাবেই। তার এরকম শাস্তি হওয়ার ও দরকার। আজ যাচ্ছি অন্য কোনদিন আবারো হাজির নতুন কোন ব্লগ নিয়ে সে পর্যন্ত সবাই ভাল থাকবেন আল্লাহ হাফেজ।
আমার পরিচয়।
আমি মোছাঃ সায়মা আক্তার।আমি একজন ব্লগার, উদ্যোক্তা।কবিতা লিখতে, নতুন কোনো রেসিপি তৈরি করতে এবং নতুন নতুন ডিজাইন সৃষ্টি করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি।আমি উদ্যোক্তা জীবনে সব সময় গ্রামের অবহেলিত মহিলাদের নিয়ে কাজ করি।আর এই অবহেলিত মহিলাদের কাজ নিয়ে দেশের স্বনামধন্য কিছু প্রতিষ্ঠানে প্রোভাইড করি এবং দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বর্তমানে বিদেশেও রপ্তানি করছি।আর এসব কিছুর পিছনে আমার এই অবহেলিত মহিলাদের উৎসহ এবং উদ্দীপনায় সম্ভব হয়েছে।তাই সব সময় আমি অবহেলিত মানুষের পাশে থাকতে এবং অবহেলিত মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পারলে খুব ভালো লাগে।এজন্যই সব সময় অবহেলিত মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করি এবং তাদের সহযোগিতায় নিজেকে সব সময় সম্পৃক্ত রাখি।আমি ২০২১ সালের আগস্ট মাসে স্টিমিটে যুক্ত হই।আমার বাংলা ব্লগে শুরু থেকে আছি এবং এখন পর্যন্ত আমার বাংলা ব্লগেই ব্লগিং করে যাচ্ছি।
আপনার পোষ্টের বিবরণ পড়ে রীতিমতো অবাক হলাম রমজান মাসেও মানুষ এমন নেককারজন কাজ থেকে নিজেকে দূরে রাখতে পারছে না এটা আসলেই দুঃখজনক।
বিষয়টি দেখে আমার খুব খারাপ লেগেছে।
অনেক মানুষই আছে যারা পাপ পূণ্যের বিচার করে না আর এমন খারাপ কাজ করতেই থাকে। আপনার সামনে হয়তো এমন ঘটনা প্রথম ঘটলো কিন্তু আমি এমন ঘটনা অনেকবারই দেখেছি। আর এইসব মানুষকে যদি ধরিয়ে দেওয়া হয় তাহলে তারা পুরোই মিথ্যা বলে যে তারা এমন কাজ করেনি এটা তার আগে থেকেই কেনা ছিল বা অন্য দোকান থেকে নিয়ে এসেছে। এদের সাথে তর্ক করে পেরে ওঠা যায় না। এইসব মানুষদের কিছু বললে তারা উল্টোই অপরকে দোষারোপ করা শুরু করে দেয়।
ঠিক বলেছেন দাদা এইসব চিন্তা করেই কিছু বলিনি।
https://x.com/mst_akter31610/status/1900064268055462353?t=qJNJHpH_VwrbKeOqbpw6Zg&s=19
ভরা বাজারে আপনারা ঘটনাটি সবার সামনে বললেও পারতেন আবার না বলেও ভালোই করছেন । কেননা এতে আরো বড় রকমের সমস্যা হতো। কিন্তু যদি সঠিক বিচার পেত তাহলে অন্য কেউ এমন কাজ করার কথা ভাবতে গেলেও একটু ভয় পেত। সত্যি আপু পৃথিবীতে কত রকমের মানুষ আছে দেখলে অবাক হয়ে যাবেন। তবে এদের কাছ থেকে যতটা পারা যায় সাবধানে থাকতে হবে। ধন্যবাদ আপু।
মন্তব্য করে উৎসাহ দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ আপু।
এই পোস্টে মানুষের বৈচিত্র্য নিয়ে খুব সুন্দরভাবে আলোচনা করা হয়েছে। আসলেই এই দুনিয়ায় নানা রকমের মানুষ আছে, যাঁরা তাঁদের নিজস্ব চিন্তাভাবনা, সংস্কৃতি এবং অভিজ্ঞতা দিয়ে পৃথিবীকে সমৃদ্ধ করে। এই বৈচিত্র্য আমাদের শেখায় কিভাবে একে অপরের সাথে সহাবস্থান করতে হয় এবং একে অপরকে বুঝতে হয়। আপনি আজকে চমৎকার একটি টপিক নিয়ে আলোচনা করেছেন ভাই ধন্যবাদ আপনাকে।
বিষয়টি দেখে অনেক খারাপ লেগেছে এই জন্য লিখেছি। তবে আপনার কাছে যে ভালো লেগেছে এটি জেনে ভালো লাগলো।
রমজান মাসে এমন ঘটনা সত্যিই মন খারাপ করে। মানুষের নৈতিকতার অভাব সমাজে বিশৃঙ্খলা তৈরি করে। তবে, এ ধরনের পরিস্থিতি থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। আপনার অভিজ্ঞতা শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ আপু।
মন্তব্য করে পাশে থাকার জন্য ধন্যবাদ।
এটা ঠিক বলছেন, এই পৃথিবীতে বিভিন্ন ধরনের লোক রয়েছে তাদেরকে বোঝা বড় মুশকিল।তবে আপনি এই বিষয়টা দেখছেন যে সে চুরি করতাছে। যদি আপনি সেই কথাগুলো বলতে যেতেন তাহলে কিন্তু অনেক বড় সমস্যা হতে পারতো।যাইহোক খুব সুন্দর একটা পোস্ট লিখেছেন আপু। ধন্যবাদ আপনাকে পোস্টটি শেয়ার করার জন্য।
মন্তব্য করে উৎসাহ দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।
দোকানদারেরা যখন ব্যস্ত থাকে,তখন সেই সুযোগে কিছু কাস্টমার এভাবে চুরি করে। এই ধরনের কাজগুলো সত্যিই ঘৃণিত। লোকটাকে ধরিয়ে দিলে বেশি ভালো হতো। তাহলে সেই লোকটা চরম শিক্ষা পেতো। যাইহোক সবার শুভবুদ্ধির উদয় হোক সেই কামনা করছি।
সব সময় সুন্দর সুন্দর মন্তব্য করার জন্য ধন্যবাদ।
আসলে এখনকার এই সময় দোকানদাররা প্রচুর ব্যস্ত থাকে৷ দোকানে অনেক লোক থাকার পরেও কাস্টমারের ভিড়ে দোকানদাররা সবকিছু ভালোভাবে দেখে উঠতে পারেন না৷ আর সেই সুযোগ গ্রহণ করে কিছু অসাধু মানুষ৷ তারা দোকান থেকে কিছু চুরি করে ফেলে৷ যা একেবারে খারাপ৷ আমার মতে যদি তাকে ধরিয়ে দিত তাহলে খুবই ভালো হতো৷ যাই হোক ধন্যবাদ আপনাকে আজকের এই পোস্ট শেয়ার করার জন্য৷
মন্তব্য করে পাশে থাকার জন্য ধন্যবাদ।