রেসিপি ||| টক ঝাল মিষ্টি ইয়াম্মি আমসত্ত্ব।
আসসালামু আলাইকুম। আমার বাংলা ব্লগের সকল ভাই ও বোনেরা আশা করছি সকলে পরিবারকে নিয়ে সুস্থভাবে দিনযাপন করছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় ভালো আছি।
আমি আজ আপনাদের মাঝে আরেকটি নতুন পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি। আমি আপনাদের মাঝে "টক ঝাল মিষ্টি ইয়াম্মি আমসত্ত্ব" নিয়ে হাজির হয়েছি । আম খেতে কার ভালো লাগে না।আম ফলটি আমার মনে হয় প্রত্যেকটি মানুষেরই ফেভারেট একটি ফল। আম দিয়ে আমরা নানান রকমের রেসিপি তৈরি করতে পারি। তবে আমের আচার, টেস্টি টেস্টি আমসত্ত্ব এই রেসিপি গুলো প্রচন্ড লোভনীয়।আমগাছকে জাতীয় গাছ হিসেবেই আমরা চিনে থাকি।নিজের গাছের ফল দিয়ে নিজের হাতে রেসিপি তৈরি করে খাওয়ার মজাই আলাদা। তাই তো আমার বাড়ির গাছের আম দিয়ে ঝটপট কাঁচা আমের "টক ঝাল মিষ্টি ইয়াম্মি আমসত্ত্ব" তৈরি করে ফেললাম।আমসত্ত্ব অনেকদিন বাসায় রেখে খাওয়া যায়। নষ্ট বা এর ভিতরে কোন ফাঙ্গাস হয়ে যাওয়ার ভয় থাকে না।যদি প্রচন্ড রোদ থাকে তাহলে আমসত্ত্ব তৈরি করতে তেমন ঝামেলা পোহাতে হয় না। আমারও সেরকম ঝামেলা পোহাতে হয়নি।দুইদিনের ভিতরেই "টক ঝাল মিষ্টি ইয়াম্মি আমসত্ত্ব" টি হয়ে গেছে। এত সুন্দর হয়েছে যা বলার বাইরে। চলুন আর কথা না বাড়িয়ে আমার এই "টক ঝাল মিষ্টি ইয়াম্মি আমসত্ত্ব" কিভাবে তৈরি করেছি তার সমস্ত প্রস্তুত প্রণালী দেখে নেওয়া যাক।
উপকরণসমূহঃ-
১। আম।
২। চিনি।
৩। মরিচের গুঁড়ো।
৪। লবণ ।
কাঁচা আমের খোসা ছাড়িয়ে নিয়েছি এবং আমগুলো সুন্দর করে কেটে নিয়েছি।
এবার আমগুলো পানিতে ভিজিয়ে রেখেছি কিছুক্ষণ।
সুন্দর করে কেটে নেওয়া আমগুলো পানি থেকে অন্য একটি পাত্রে পানি ঝরনার জন্য কিছুক্ষণ রেখে দিয়েছি।
এবার প্রেসার কুকারে সেই আমগুলো সিদ্ধ করে নিয়েছি।
পেশার কুকারে সেদ্ধ করার পর ঘুটনি দিয়ে অনেকক্ষণ সেই আমগুলো ব্লান্ড করে নিয়েছি।
এবার অন্য একটি পাতিলে সেই ব্লান্ড করা আম গুলোর ভিতরে চিনি দিয়ে অনেকক্ষণ নেড়েছি।
আমের সঙ্গে যখন চিনি গুলো মিশে গিয়েছে তখন সামান্য পরিমাণ মরিচের গুঁড়ো দিয়ে দিয়েছি।
আমের সঙ্গে চিনি মরিচের গুঁড়ো হয়ে গেলে লাস্ট মুহূর্তে সামান্য পরিমাণ লবণ দিয়ে আবার অনেকক্ষণ নেরেছি এবং ঘন হওয়ার মুহূর্তে নামিয়ে নিয়েছি।
একটি বড় প্লেটে সামান্য পরিমাণ সরিষার তৈল দিয়ে প্লেটের গা সম্পূর্ণ মেখে নিয়েছি।
এবার সরিষার তৈল দিয়ে মেখে নেওয়া প্লেটে গরম সেই আমের পেস্ট দিয়ে সমস্ত প্লেটে সুন্দর করে ঢেলে দিয়েছি। খেয়াল রাখতে হবে আমের পেস্ট গুলো সব জায়গায় যেন সমান ভাবে দেওয়া হয়।
এবার সেই প্লেট গুলো অনেক রোদে নেরে দিয়েছি ।
একদিনে প্রায় অনেকটা শুকিয়ে গিয়েছিল এবং দ্বিতীয় দিন আরেকটু রোদে দিয়েছি দুইদিনেই আমার "টক ঝাল মিষ্টি ইয়াম্মি আমসত্ত্ব" হয়ে গিয়েছে।এবার এই "টক ঝাল মিষ্টি ইয়াম্মি আমসত্ত্ব" এর একটি ছবি আপনাদের সামনে উপস্থাপন করলাম।
আমি মোছাঃ সায়মা আক্তার। আমি একজন ব্লগার, উদ্যোক্তা এবং শিক্ষিকা।কবিতা লিখতে, নতুন কোনো রেসিপি তৈরি করতে এবং নতুন নতুন ডিজাইন সৃষ্টি করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি।সব সময় অবহেলিত মানুষের পাশে থাকতে এবং অবহেলিত মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পারলে খুব ভালো লাগে।তাই সব সময় অবহেলিত মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করি।
বিষয়ঃ- রেসিপি পোস্ট "টক ঝাল মিষ্টি ইয়াম্মি আমসত্ত্ব"।
কমিউনিটিঃ- আমার বাংলা ব্লগ।
আপনার মূল্যবান সময় নষ্ট করে সুন্দর মন্তব্য করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ..........
নিজের গাছের আম দিয়ে এরকম আমসত্ত্ব হলে আসলেই খেতে আপু অসাধারণ টেস্ট হওয়ার কথা। আপনার আমসত্ত্ব দেখে তো আমারই খেতে মন চাইছে। কালারটাও দারুন এসেছে মনেই হচ্ছে না যে এগুলো আপনি কাঁচা আম দিয়ে তৈরি করেছেন। খেতে নিশ্চয়ই অনেক মজা হয়েছিল আপু।
জি আপু আমসত্ত্ব টি অনেক মজার এবং টেস্টি ছিল।
অসাধারণ রেসিপি তৈরি করেছেন। আমসত্ত্ব আমার খুবই প্রিয়। তাই আজকে আপনাদের রেসিপির পরিবেশন দেখে আমিও শিখে নিলাম, পরবর্তীদের তৈরি করবো ইনশাআল্লাহ।
আমার এই রেসিপিটি আপনার পছন্দের জেনে অনেক ভালো লাগলো।
আম দিয়ে এরকম কিছু বানানো যায় তা আমি কল্পনা করিনি। আপনি তো খুব চমৎকার ভাবে মিষ্টি ইয়াম্মি আমসত্ত্ব বানিয়েছেন। তবে আম দিয়ে বিভিন্ন ধরনের আচার দেখেছি কখনো আমসত্ত্ব দেখিনি। সত্যি বলতে আপনার রেসিপিটি দেখে আমার জিভে জল এসে গেল। রেসিপিটি অনেক সুন্দর করে আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন।
আপনার মন্তব্যটি পড়ে মনটা ভাল হয়ে গেল।
আপনি তো খুব চমৎকারভাবে টক ঝাল মিষ্টি স্বাদে ইয়াম্মি আমসত্ত্ব বানিয়েছেন। আপনি একদম আমের ভিন্ন রকম রেসিপি বানিয়েছেন। তবে আম দিয়ে অনেক কিছু বানানো যায়। আমের সব ধরনের রেসিপি খেতে আমার কাছে ভালো লাগে। সত্যি বলতে আপনার রেসিপি দেখে আমার জিভে জল এসে গেল। এবং অনেক সুন্দর করে রেসিপিটি আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন।
আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ সুন্দর মন্তব্য করে উৎসাহ দেওয়ার জন্য।
আম দিয়ে তৈরি করা যেকোনো জিনিস আমার খুব পছন্দ। টক ঝাল মিষ্টি আমসত্ত্ব দেখে তো জিভে পানি চলে এলো আপু। আমার তো দেখেই খেতে ইচ্ছে করছে। আপনার বাসা কাছে হলে তো এক দৌড় দিয়ে গিয়ে আমসত্ত্ব খেয়ে আসতাম। এই রেসিপিটা অনেকদিন আগে দোকান থেকে কিনে খেয়েছিলাম। তবে বাসায় কখনো তৈরি করা হয়নি। যাইহোক এতো লোভনীয় একটি রেসিপি শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।
তাহলে দৌড় দিয়ে আসার দরকার নেই।বাসে চলে আসেন বোনের বাসায়।