পোস্তদানা (poppy seeds)
Hello,
Everyone,
আশা করি আপনারা সকলে ভালো আছেন, সুস্থ আছেন এবং আপনাদের প্রত্যেকের আজকের দিনটি অনেক ভালো কেটেছে।
এতদিনে আমি আপনাদের সাথে মাঝে মধ্যেই বেশ কিছু রান্নার রেসিপি শেয়ার করেছি এবং সেই রেসিপিতে ব্যবহৃত উপাদান গুলি পরিমাণ সহ আমি উল্লেখ করার চেষ্টাও করেছি।
তবে আজকে আমি আপনাদের সাথে রান্নার কোনো রেসিপি শেয়ার করব না। আজকে আপনাদের সাথে শেয়ার করব বিভিন্ন রান্নায় ব্যবহৃত একটি উপকরণ সম্পর্কে। যেটির নাম হয়তো আপনারা সকলেই শুনেছেন, আজকে আমি কথা বলব "পোস্ত দানা"সম্পর্কে। ইংরেজিতে যাতে "পপি সীড" বলে।
বাঙালির ঘরে নিরামিষ রান্না মানে পোস্ত দানা দিয়ে কোনো না কোনো পদ অবশ্যই তৈরি হবে। তবে পোস্ত দানা শুধুমাত্র নিরামিষ রান্নায় নয়, বিভিন্ন আমিষ রান্নাতেও স্বাদ বৃদ্ধির জন্য ব্যবহার করা হয়ে থাকে। বিশেষ করে বিভিন্ন অনুষ্ঠান বাড়িতে এই পোস্ত দানার ব্যবহার বেশি লক্ষ্য করা যায়।
পোস্ত দানা রান্নায় ব্যবহৃত বিভিন্ন দামি উপকরণের মধ্যে একটি। আমরা নিত্যদিন রান্না করতে যে উপকরণ গুলো ব্যবহার করি, তার থেকে পোস্তদানার দাম অনেকটাই বেশি।
ব্যক্তিগতভাবে আমি পোস্ত খেতে খুব বেশি পছন্দ করতাম না। তবে চাকরির সূত্রে দিদি যখন মুর্শিদাবাদের ছিল, তখন সেখানে গিয়ে পোস্ত দিয়ে রান্না করা কোনো পদের প্রতি আমার ভালোলাগা তৈরি হয়।
আসলে আমাদের এই দিকে নিত্যদিনের রান্নাতে পোস্ত খুব বেশি ব্যবহার করা হয় না। কিন্তু মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, বাঁকুড়া এই সব জায়গাতে পোস্তদানা সেখানকার মানুষদের নিত্য দিনের একটি রেসিপির মধ্যে পড়ে।
যদি হিসেব করে দেখা যায় তাহলে দেখা যাবে, তারা প্রতিদিনই পোস্ত দিয়ে কোনো একটি পদ রান্না করে। সেটা হতে পারে পটল পোস্ত, আলু পোস্ত, পোস্তর বড়া, পিঁয়াজ পোস্ত, ইত্যাদি আরও বিভিন্ন পদ।
মুর্শিদাবাদে থাকার সময় থেকে আমার দিদিরও পোস্ত অনেক প্রিয় হয়ে গেছে। এই কারণে আজকাল ও বাড়িতে প্রায়ই পোস্তর পদ রান্না করে। কিন্তু আমাদের বাড়িতে পোস্ত খুব একটা ব্যবহৃত হয় না। মাঝে মধ্যে বিশেষ কোনো রান্নাতে হয়ত আমি ব্যবহার করি। একটি মূলত কোনো রেসিপির ঘনত্ব এবং স্বাদ বৃদ্ধিতে ব্যবহার করা হয়।
আপনারা অনেকেই হয়তো পোস্ত দানা চেনেন আবার অনেকের কাছে এটি অচেনাও হতে পারে। পোস্ত হলো আসলে এক ধরনের তেল জাতীয় বীজ। যেগুলো সাধারণত আফিম গাছ থেকে পাওয়া যায়।
আপনারা হয়তো জানেন যে বহু বছর ধরে মানুষ এই পোস্তদানা চাষ করে আসছে। এটি অন্যান্য যে সকল বীজ বা শস্য জাতীয় বীজ রয়েছে,সেগুলোর থেকে বেশি উপকারী, দামী এবং এর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া অনেকটাই কম।
- পোস্তদানার মধ্যে প্রচুর পরিমাণে জিঙ্ক থাকে। ফলে পোস্ত খেলে আমাদের হারের ঘনত্ব অনেকটা বৃদ্ধি পায়। এই কারণে নিয়মিত পোস্ত খেলে যাদের হাড়ের সমস্যা রয়েছে, তারা অনেকটাই উপকৃত হবেন।
মানব শরীরে লোহিত রক্তকণিকা তৈরি করতে হলে লোহা এবং তামার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এই কারণে যদি লোহিত রক্ত কণিকার অভাব দেখা দেয়, তাহলে কিন্তু নিয়মিত পোস্ত খাওয়া উচিৎ, এতে শরীরে লোহিত রক্তকণিকা সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে।
পোস্ত তৈল জাতীয় দানা হলেও, শরীর ঠান্ডা রাখতে পোস্ত অনেক উপকারী। তাই বেশিরভাগ সময় গরমকালে যদি আপনারা কাঁচা পোস্ত বাটা দিয়ে ভাত খেতে পারেন, তাহলে কিন্তু শরীর অনেক ঠান্ডা থাকে।
পোস্টের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেশিয়াম থাকে,যার কারণে এটি আমাদের শরীরের কান্তি দূর করে এবং যাদের ঘুমের সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য অনেকটা উপকারী ভূমিকা পালন করে।
এছাড়াও পোস্ত দানা আমাদের শরীরের রক্তের হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে। কারণ এতে প্রচুর পরিমাণে আয়রন রয়েছে।
আন্টি অক্সিডেন্ট হিসেবে পোস্ত দানা ব্যবহার করা যেতে পারে। কারণ এতে ম্যাঙ্গানিজ রয়েছে যা অ্যান্টঅক্সিডেন্ট প্রতিরক্ষায় সাহায্য করে।
এছাড়াও যাদের কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা রয়েছে, তারা যদি নিয়মিত পোস্তদানা খান, তাহলে হজমের সমস্যা দূর হয় যার ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি পেতে পারেন।
এছাড়াও পোস্ত দানার আরও অন্যের উপকারিতে রয়েছে। যাইহোক আজকের লেখা আমি এখানেই শেষ করছি, আপনাদের সকলের কেমন লাগলো কমেন্টের মাধ্যমে নিশ্চয়ই জানাবেন। ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। শুভ রাত্রি।