বাবাকে হসপিটালে দেখতে যাওয়ার অভিজ্ঞতা

in Incredible India3 years ago
IMG_20230206_001045.jpg
এস.এস.কে.এম. মেইন ব্লক:-

Hello,

Everyone,

কেমন আছেন আপনারা সকলে?
আশাকরি সকলে ভালো আছেন, সুস্থ আছেন এবং আজকের দিনটা অনেক ভালো কেটেছে।

আজকে ১০ দিন হয়ে গেল আমার বাবা হসপিটালে ভর্তি রয়েছেন। অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও বিপদ এখনো পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠতে পারেননি। এখনো পর্যন্ত বাবাকে আই.সি.ইউ তেই রাখতে হয়েছে।

নরমাল বেডে আনার মতন শারীরিক পরিস্থিতি বর্তমানে নেই। তবে আশা করা যাচ্ছে আগামী সপ্তাহের মধ্যে বাবাকে হয়তো নরমাল ওয়ার্ডে সিফট করা সম্ভব হবে। যদি তিনি অক্সিজেন ছাড়া সঠিক ভাবে শ্বাস প্রশ্বাস নিতে পারেন।

দিদি যেহেতু ওই হসপিটালেই চাকরি করে, সেই কারণে প্রতিদিনই বাবার কাছে যায়। আর বাবা ও দিদিকে দেখলে কিছুটা নিশ্চিন্ত হয়। এটা সত্যিই যে আমাদের শরীর যখন দুর্বল থাকে, তখন আমাদের মনের মধ্যে অনেক কিছুই চলতে থাকে। বিশেষ করে আপনজনদের কাছে ফিরে আসতে না পারার ভয়।

আর এই ভয় বর্তমানে বাবাকে চারিদিক থেকে গ্রাস করেছে। আর এই কারনেই শরীরের সাথে সাথে মনের জোরও কমতে শুরু করেছে।

IMG_20230206_001142.jpg

তখন সবে লাইট গুলো জ্বলেছে:-

আমার বাবা নিজে সারা জীবনে কখনো হসপিটালে ভর্তি হননি। সুতরাং এমন একটা মানুষের পক্ষে শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে সোজা আই.সি.ইউতে ভর্তি হওয়া মানেই অনেক বড় ব্যাপার। তাই সেই কারনেই মনের জোর অনেকটাই হারিয়ে ফেলেছিল বাবা।

এই কারণে দিদির কাছেও তিনি বলেছেন যে, দিদি ছাড়া তার হয়তো আর কেউ নেই। কারণ তিনি ভাবছেন যে, অন্য কেউ তার হয়তো কোনো খোঁজ খবর নেয় না। কোথাও একটা আমাদের সকলের প্রতি তার অভিমান কাজ করছে।

দিদির কাছ থেকে এই কথা শোনার পর আমি নিজেই দিদিকে বললাম, সম্ভব হলে আমি একদিন বাবাকে দেখতে যাব। সেই মতো আজ যেহেতু তিতলি ও তাতান কারোরই স্কুল ছিল না, তাই আজকে আমি বাবাকে দেখতে হসপিটালে গিয়েছিলাম।

IMG_20230206_001105.jpg
সামনেই ছোট্ট পুকুরের মধ্যে ঝরনা তৈরি করা রয়েছে:-

সত্যি কথা বলতে হসপিটাল জায়গাটা আমাদের কারোরই পছন্দের জায়গা নয়। চারিদিকে মানুষের মানসিক অবস্থা দেখলে নিজেদেরই খারাপ লাগে। কত মানুষ হয়তো হসপিটালের বাইরে বসে রয়েছে আপনজনের শারীরিক সুস্থতার প্রতীক্ষায়।

আজকে আমি একাই গিয়েছিলাম দিদি যেহেতু হসপিটালেই ছিল,তাই দিদি বলেছিল আমি গিয়ে যেন দিদিকে ফোন করি। বাবা এস.এস কে.এম হসপিটালের মেইন ব্লকে ভর্তি আছেন।আর দিদিরও এই মেইন ব্লকেই ডিউটি চলছে। সুতরাং আমি দু একজনের কাছে জিজ্ঞাসা করে মেইন ব্লকের সামনে পৌঁছে দিদিকে ফোন করলাম।

প্রথমে ও এসে আমাকে নিয়ে ওর ওয়ার্ডে গেল। সেখানে ওর রুমে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার, পর যখন ওর ডিউটি আওয়ার্স শেষ হলো, তারপর ও চেঞ্জ করল এবং আমরা দুজন একসাথে আই.সি.ইউ ওয়ার্ডে গেলাম।

সেখানে দিদির সাথে আমি বাবার রুমে পৌছালাম এবং বাবাকে দেখে আমার বুকের ভেতরে অদ্ভুত একটা কষ্ট অনুভব করলাম। বাবাকে ঐ অবস্থায় দেখে ভেতর থেকে যেন আমার কান্না আসছিল কিন্তু কান্না করার উপায় ছিল না।

যে কোনো উপায়েই হোক না কেন বাবার সামনে নিজেকে শক্ত রাখতেই হত, কারণ বাবা নিজের অনেক ভেঙে পড়েছে ভিতরে ভিতরে। অনেক কিছুই হয়তো বলতে চাইছিল কিন্তু তেমন ভাবেই কিছু বলে উঠতে পারল না। তবুও তার মধ্যে ঠাকুমার খোঁজ নিল।

কিন্তু দুঃখের বিষয় ঠাকুমার নামে বাবার কাছে আমাকে মিথ্যা কথাই বলতে হল যে, ঠাকুরমা ভালো আছে। কিন্তু সত্যি এটাই যে ঠাকুরমা একেবারেই ভালো নেই। কিন্তু বাবাকে ভালো রাখতে গেলে এটুকু মিথ্যে আমাকে বলতেই হত। আমার বিশ্বাস এর জন্য ঈশ্বর আমার উপরে রাগ করবেন না।

বাবার সাথে কথা বলা কালীন হঠাৎ করেই পাশের কোনো একটা মেশিনে একটা আওয়াজ শুরু হলো। সাথে সাথে ডক্টর এবং নার্স দিদিরা ছুটে এলেন।আমি হকচকিয়ে এক পাশে দাঁড়িয়ে রইলাম। কারন আমি কিছুই বুঝে ওঠার আগেই দেখলাম সকলে দৌড়াদৌড়ি করে এসে বাবার অক্সিজেনের মাত্রা বাড়িয়ে দিলেন, প্রেসার চেক করলেন।তখন বুঝলাম আমাকে দেখে হয়তো বাবার মধ্যে অনেক উত্তেজনা বা কষ্ট কাজ করছিল, যে কারণেই হয়তো তার শরীর খারাপ লাগছিল।

সত্যি বলতে আমি একটু ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। সেই কারণে দিদি ও খুব বেশিক্ষণ আমাকে ওখানে রাখেনি। একটু বাদেই বাবার সঙ্গে দেখা করে আমরা নিচে চলে এলাম। সেখানে আমার বড়দির হাজব্যন্ডের সঙ্গে দেখা হল। তিনিও বাবাকে দেখতেই হসপিটালে এসেছিলেন।

IMG_20230206_001157.jpg
বসে বসে বাবা যে বিল্ডিং এ ভর্তি তার ছবি তুলেছি:-

সেখানেই আমরা কিছুক্ষণ বসে কথাবার্তা বললাম। বাবার শরীরটা একটু খারাপ হয়েছিল,বলে দাদা আর ওপরে গেল না। সন্ধ্যার দিকে দিদি গিয়েই বাবার সাথে দেখা করে আসলো। তারপর আমরা একসাথে বাড়ি ফিরলাম।

IMG_20230206_001225.jpg
হসপিটালের বাইরে বসে আমি:-

বাবা ওখানে খুব ভালো ট্রিটমেন্ট পাচ্ছেন। আশা করছি খুব তাড়াতাড়ি ঈশ্বরের কৃপায় তিনি সুস্থ হয়ে উঠবেন। হসপিটালটা বাইরে থেকে দেখতে খুবই সুন্দর। বেশ সাজানো গোছানো। সকলের বসার জন্য বেশ ভালো জায়গা আছে। যেখানে বসে আমরা দিদির জন্য অপেক্ষা করছিলাম।

তখনকার তোলা বেশ কিছু ছবি আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম। কিন্তু হসপিটের ভেতরের কোন ছবি তোলা নিয়মের বাইরে, তাই আপনাদের সাথে সেই সকল ছবিগুলো শেয়ার করতে পারলাম না।

আপনারা সবাই একটু ঠাকুরের কাছে প্রার্থনা করবেন, যাতে খুব তাড়াতাড়ি আমার বাবা সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরে আসতে পারেন।

সকলে ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। শুভ রাত্রি।

Sort:  
 3 years ago 
  • দিদি গত হ্যাংআউটে আপনার বাবার অসুস্থতার কথা জানতে পেরেছিলাম। আর তখন কথাটি শুনে খুব খারাপ লেগেছিল। কেননা বাবা হচ্ছে একটি পরিবারের মাথার উপরে ছাতার সমতুল্য।

  • আপনার বাবা সারা জীবনে কখনো হসপিটালে ভর্তি হননি, এতে করে বোঝা যাচ্ছে আপনার বাবার শরীর স্বাস্থ্য সর্বদাই ভালো থাকতো। আর এখন যখন সরাসরি আই.সি.ইউতে ভর্তি হতে হয়েছে তাহলে তো মনের জোর অনেকটাই হারিয়ে ফেলবে এটাই স্বাভাবিক।

  • তবে ভালো লাগার বিষয় হচ্ছে এই, আপনার বাবার অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে, তিনি যেন খুব দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন এই কামনা করছি।

Loading...

Coin Marketplace

STEEM 0.05
TRX 0.33
JST 0.080
BTC 63445.51
ETH 1688.58
USDT 1.00
SBD 0.42