"ন্যায়-অন্যায়ের বিচারের ক্ষেত্রে দ্বিচারিতা করা সব থেকে বড় অন্যায়"

in Incredible India3 years ago
IMG_20230611_200702.jpg

Hello,

Everyone,

আশাকরি আপনারা সকলে ভালো আছেন, সুস্থ আছেন এবং আপনাদের প্রত্যেকের আজকের দিনটি অনেক ভালো কেটেছে।

আমার দিনটি অন্যান্য দিনের তুলনায় অনেক ব্যস্ততার মধ্য দিয়ে কাটলো। হ্যাঁ যারা সপ্তাহের অন্যান্য দিন নিজেদের কাজে বাড়ির বাইরে বের হন, তাদের জন্য রবিবারের দিনটা ছুটির দিন।

কিন্তু আমার মতো যারা বাড়িতে থেকে সংসারের কাজ করি, তাদের জন্য আসলে নির্দিষ্ট কোনো ছুটির দিন থাকে না। বরং বাড়ির অন্যান্যদের ছুটির দিনগুলোই আমাদের কাছে বেশি ব্যস্ততার দিন।

আজকে আমি আপনাদের সাথে নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে কিছু কথা শেয়ার করতে চলেছি। আপনাদের মধ্যে অনেকেই হয়তো আমার সাথে সহমত পোষণ করবেন না।কিন্তু আমি শুরুতেই জানিয়ে রাখি, কথাগুলো একান্তই আমার ব্যক্তিগত। আর আমার জীবনের সঙ্গে বাকি সকলের জীবনের অভিজ্ঞতা মিলবে না,এটাই স্বাভাবিক।

জীবন কখনো একই সরলরেখায় চলে না,এটা আমরা সকলেই জানি।কিন্তু কখনো কখনো কিছু কিছু পরিবর্তন আমাদের মনকে এমন ভাবে আঘাত করে,যখন আমাদের মনে হয়, জীবনে সকলের সাথে সেইরকম ব্যবহার করা উচিৎ, যেমনটা তারা আমাদের সাথে করে।

তাদেরকে সেই ব্যবহার গুলো ফিরিয়ে দিলে, তবেই হয়তো তারা বুঝতে পারবে যে, তাদের ব্যবহার অন্যদের কতটা কষ্ট দিতে পারে। কিন্তু সত্যি কথা বলতে সেটা অনেকেই পারে না এবং অনেকের মধ্যে আমি নিজেও একজন।

আপনারা এটা মানবেন কিনা জানিনা, তবে আমরা আমাদের জীবনে যে যে জিনিসগুলো অপছন্দ করি, যে যে জিনিসগুলো থেকে দূরত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করি, ঘুরে ফিরে কেন জানিনা ঈশ্বর আমাদেরকে সেই জিনিসগুলোর সম্মুখে এনেই উপস্থিত করেন।

আসলে এটা হয়তো তার আমাদের ধৈর্য ও সহ্য পরীক্ষা নেওয়ার একটা উপায় বলতে পারেন। কিন্তু সত্যিই কখনো কখনো মনে হয় ধৈর্যের বাঁধ ধরে রাখা অনেক কঠিন।

আমি ছোটবেলা থেকেই বড়দের মুখের ওপরে তাদের অন্যায় থাকলেও বলতে পারতাম না। এখনো যে পারি সেরকমটা নয়, কিন্তু সমস্যা হচ্ছে আগে তারা অন্যায় ভাবে আমাকে অনেক কথা বললেও আমি সেটা হয়তো ঠিকঠাক মেনে নিতাম না তবে,তাদের সাথে তর্ক করতাম না।

IMG_20230611_200820.jpg

কিন্তু আজকাল কেন জানি না সেই ধৈর্য্য রাখতে পারি না। আসলে কথায় আছে,-দেওয়ালে যখন পিঠ ঠেকে যায়, তখন আর কোনো কিছু করার উপায় থাকে না। আগে একটা সময় মনে হতো তারা হয়তো নিজেদের ব্যবহার সম্পর্কে একটা সময় নিজেরাই সচেতন হয়ে যাবে।

কিন্তু এখন বুঝতে পারি কিছু মানুষের মধ্যে সচেতনতা নিজের থেকে আসে না। তাদেরকে সচেতন করার জন্য তাদেরকে এটা বোঝানোর প্রয়োজন হয়, কোনটা তারা ঠিক বলছেন আর কোনটা ভুল।

সবথেকে দুঃখের বিষয়, এমন অনেক মানুষ থাকেন, যারা কিন্তু নিজেদের ভুল ধরিয়ে দেওয়ার পরেও ভুলটা কে স্বীকার করতে চায় না। বরং সেই ভুলটাকেও অন্যরকম ভাবে বোঝানোর চেষ্টা করেন। অথচ তারা ভুলে যায় যে আমরাও যথেষ্ট বড় হয়েছি। তাই ঠিক ভুল বিচার করার ক্ষমতা আমাদেরও যথেষ্ট আছে।

আমি বলছি না যে আমরা কখনো ভুল করি না, কিন্তু আমার মধ্যে ভুল করলেও সেই ভুলটাকে স্বীকার করার মতন ক্ষমতা আছে। যেটা অনেকের মধ্যেই নেই।

আসলে কোনো মানুষের বিচার করার সত্যিই যদি ক্ষমতা থাকে, তাহলে সে শুধুমাত্র কোনটা ঠিক এবং কোনটা ভুল সেই বিচার করবেন। কিন্তু সেক্ষেত্রে যদি দ্বিচারিতা চোখে পড়ে, তাহলে সেই মানুষের বিচারকে নির্ভুলভাবে মেনে নেওয়াতে আমার যথেষ্ট আপত্তি আছে। আর এই আপত্তিই আমার খারাপ লাগার মূল কারন।

তবে আমি মনে করি না যে, এটা আমার কোনো খারাপ গুণ। কারন অন্যায়কে অন্যায় এবং ন্যায়কে ন্যায়ের মতন দেখাটাও মানুষের ধর্ম হওয়া উচিত। সেখানে আপন পরের ভেদাভেদ যদি আসে, তাহলে অনেক সময় অনেক আপনজন অন্যায় করার পরেও কিন্তু শাস্তি পায় না। সুতরাং তার অন্যায় করার পরিধি দিনে দিনে বেড়ে যায়।

আর এই ভেদাভেদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া টা কোন অন্যায় নয় আর যেদিন আমরা আমাদের নিরবতার বাঁধ ভেঙে এই অন্যায় গুলির বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে পারব সেদিন এই ধরনের অন্যায়গুলো হয়তো ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যাবে কিন্তু যদি মাথা নত করে এগুলোই আমরা দিনের পর দিন সহ্য করি তাহলে একটা সময় আর ঘুড়ে দাঁড়ানোর ক্ষমতা থাকবে না।

জীবন একটাই। পরজন্ম বলে আদেও কিছু আছে কিনা আমরা কেউই জানিনা। তাই জীবনকে জীবনের মতন করে বাঁচাতে হবে। অন্যের কথায় নিজে কষ্ট পেয়ে লাভ নেই। কারন জীবনে কষ্টের ভাগ কেউ নেয় না।

যাইহোক আমার আজকের লেখা আপনাদের কেমন লাগলো কমেন্টের মাধ্যমে অবশ্যই জানাবেন।সকলে ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। শুভরাত্রি।

Sort:  
Loading...

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.33
JST 0.079
BTC 63264.99
ETH 1671.73
USDT 1.00
SBD 0.42