জেনারেল রাইটিং- দান করলে সম্পদের ক্ষয় হয় না আরো বৃদ্ধি পায়।
শুভ সকাল সবাইকে প্রিয় বন্ধুরা।
আমি সামশুন নাহার হিরা। আমার ইউজার আইডি @samhunnahar। আপনাদের সাথে যুক্ত আছি বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণাঞ্চল কক্সবাজার শহর থেকে। তো বন্ধুরা ব্লগিং এমন একটি নেশায় পরিণত হয়ে গেছে প্রতিদিন করতে না পারলে মনে হয় কাজের মধ্যে অনেক বেশি গ্যাপ থেকে যায় মনে হয়। তাছাড়া মানসিকভাবে একটুও শান্তি পায় না। তো যতটুকু সম্ভব চেষ্টা করি প্রতিনিয়ত নিজের ভালো মন্দ গুলো আপনাদের সাথে শেয়ার করার। পোস্ট করা নেশা এবং পেশায় পরিণত হয়ে গেছে। আজকে সকালটা খুব ভালোই যাচ্ছে খুব সুন্দর ঝলমলে রোদ দেখা যাচ্ছে। সেই সাথে উপস্থিত হয়ে গেলাম আপনাদের সাথে ভালো মন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়ার জন্য। আজকে নতুন একটি টপিক্স আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করব।
দান করলে সম্পদের ক্ষয় হয় না আরো বৃদ্ধি পায়।
আসলেই আমাদের চারপাশের অনেক সম্পদশালী মানুষ আছেন। তারাই মনে করেন যে দান করলে তাদের সম্পদের ক্ষয় হয়ে যাবে। কিন্তু বাস্তব পক্ষে তা নয়। অনেক দানবীর মানুষ আছেন তারা প্রতিনিয়ত মানুষকে দান করেন। সেটা মানুষের বিপদ আপদে হোক কিংবা মসজিদ মাদ্রাসায় বা মন্দিরে হোক। কিংবা অন্যান্য কাজের ক্ষেত্রে হোক। এছাড়াও কোন গরীব মেয়েদের বিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে যদি সহযোগিতা করা হয় সে ক্ষেত্রে আমার অনেক বেশি ভালো লাগে। অনেক মানুষ আছেন দেখবেন তারা অনেক বেশি দান করেন। আসলেই তাদের সম্পদের কোন ঘাটতি হয় না। আবার এমন এক শ্রেণীর মানুষ আছেন যারা কিন্তু এত বেশি মানুষকে দান করতে পছন্দ করেন না।
কিন্তু আবার তাদের সম্পদের ও প্রচুর প্রাচুর্য থাকে। তো আমি মনে করি মানুষকে যত বেশি দেওয়া হবে, যত বেশি দান করা হবে ততই আল্লাহর সন্তুষ্টি পাওয়া যাবে। সেই সাথে মানুষ প্রাণভরে দোয়া করবেন। যার কারণে মানুষের বিপদ আপদ মুক্ত হয়। অসুখ-বিসুখ থেকে অনেক রেহাই পাওয়া যায়। এবং সম্পদের কোন ঘাটতি হয় না কিংবা কমতি হয় না। আসলেই বাস্তব একটা অভিজ্ঞতা আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করব। আমাদের ঘরে একটা দান বক্স আছে। তো দুই এক মাস পরপর সেটা দান বক্স থেকে টাকা গুলো নিতে আসেন। কিন্তু মাঝেমধ্যে দেখা যায় ভুলবশত কারণে ওই দান বক্সে তেমন টাকা দেওয়া হয় না। তবে মাঝেমধ্যে নিয়ম মাফিক দেওয়া হয় কিন্তু মাঝেমধ্যে দেওয়া হয় না।
অবশ্যই এই দান বক্সটা আমার হাজব্যান্ড তার একটি প্রিয় মাদ্রাসা থেকে নিয়েছিল। এই মাদ্রাসার থেকে একজন লোক এসে দু এক মাস পরপর টাকাগুলো নিয়ে যাই। একদিন হলো কি দানবক্স খুললে তেমন বেশি টাকা ছিল না। তো আমিও স্বাভাবিক ছিলাম টাকাগুলো নিয়ে চলে গেল লোকটি। এখন যখন আমার হাসবেন্ড ঘরে ফিরল কাজ অফিস থেকে তখন আমি ওনাকে বললাম যে টাকা নিতে আসছিল দানবক্স থেকে। তখন উনি আমাকে জিজ্ঞেস করল ওই দান বক্স থেকে কত টাকা পেল? তখন আমি টাকার পরিমাণটা বললাম উনাকে।
উনি তো রীতিমতো আমার সাথে রাগারাগি শুরু করে দিল। বলল যে তুমি এত কম টাকা দিয়ে কেন পাঠালে। হয়তো আমাদের ভুলবশত কারণে টাকা দেওয়া হয়নি। কিন্তু তোমার হাত থেকে তো কিছু বাড়তি টাকা দিতে পারতে তাই না? মাদ্রাসার কর্তৃপক্ষ ওনাকে চিনে। যদি বলে আমাদের ঘরের দান বক্স থেকে এত কম টাকা নিয়ে গেছে তাহলে আমার মুখ দেখানোর কোন জায়গা থাকবে বলো। এই কথা বলতে আমিও চিন্তায় পড়ে গেলাম কেন আমি এই কাজটা করলাম। টাকার পরিমান কম ছিল এটা জেনে উনার খুব খারাপ লেগেছে। তবে আমার বিষয়টা চিন্তা করে আমিও খুবই চিন্তায় পড়ে গেলাম। এরপর থেকে যখন দানবক্স থেকে টাকা নিতে আসে তখন আমি ওই ছেলেটাকে বলে রাখি আমাকে একটু জানাবেন টাক কত হলো। তখন উনি আমাকে টাকার সংখ্যা উল্লেখ করলে আমি আরো বাড়তি কিছু টাকা দিয়ে দিই।
সত্যি বলতে এতই ভালো লাগে বলার মতই না। কারণ আমি একটা প্রতিষ্ঠানের জন্য কিছু টাকা দিতে পারতেছি। হইতো ওই টাকা দিয়ে একটা এতিমখানার বাচ্চারা খেতে পারবে। অথবা কোন একটি মসজিদ মাদ্রাসা নির্মাণের ক্ষেত্রে টাকাগুলো যোগ হবে। অথবা কারো এতিম বাচ্চার পড়ালেখার ক্ষেত্রে কাজে আসবে। তো বন্ধুরা তিন দিন আগে আবারো দান বক্স থেকে টাকা নিতে আসলো। দেখি টাকার পরিমান কম। কিন্তু আমার হাতেও টাকা তেমন ছিল না। তারপরও আমি দিয়ে দিলাম বেশ ভালো একটা অ্যামাউন্টের টাকা। বিশ্বাস করবেন এরপরে যখন আমি আমার ব্যাগে হাত দিই একটা ভিন্ন ধরণের ঘটনা ঘটে গেলো। বাড়তি কিছু টাকা আমি পেয়ে গেছি ব্যাগের ভিতর। হয়তো সৃষ্টিকর্তা এটা আমার জন্য রেখেছিল। আমি মুক্ত হস্তে দান করেছি আমার মধ্যে কোন দ্বিধা ছিল না।
তাই আমার পকেট একদম ভরাই দিছে। আমি যত গুণ দিছি তার তিনগুণ আমি ফেরত পেয়ে গেছি। অনেক খুশি হলাম অনেক সেই সাথে চোখে জল চলে আসলো। আসলে এই দাম জিনিসটা এভাবে উল্লেখ করতে হয় না। কেন আমি আপনাদের সাথে সরাসরি উল্লেখ করে দিলাম সেটা অবশ্যই বুঝতে পারছেন। তার মানে হচ্ছে আপনারাও দান করুন সম্পদের মধ্যে কিংবা টাকার মধ্যে বরকত নিয়ে আসেন। সেটা যদি হয় নিজের অন্তর থেকে কোন অস্বস্তি না রেখে তাহলে সৃষ্টিকর্তা নিজেই আপনার টাকার মধ্যে কিংবা সম্পদের মধ্যে দ্বিগুণ বরকত দিয়ে দেবেন।
আশা করি বন্ধুরা সকলে আমার বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন। আমি অনেক খুশি আমি আসলেই দান করতে চাই সব সময়। তাছাড়া আমার হাজবেন্ড একজন অনেক ভালো মনের মানুষ। সেই যে কোন সময় যে কাউকে অনেক অনেক বেশি দান করেন। যা আমাকে অনেক বেশি অনুপ্রাণিত করে। আলহামদুলিল্লাহ সম্পদের কোন ঘাটতি নেই। সৃষ্টিকর্তা যা দিয়েছেন তাতে অনেক বেশি খুশি। তার জন্য অনেক বেশি শুকরিয়া আদায় করি। তো বন্ধুরা আশা করি আপনারা সকলেই আমার পোস্টটি পড়বেন। আশা করি আপনাদের ভাল লাগবে।
| লেখার উৎস | নিজের অনুভূতি থেকে |
|---|---|
| ইমেজ সোর্স | কেনভা দিয়ে তৈরি |
| অবস্থান | কক্সবাজার, বাংলাদেশ |
| রাইটিং ক্রিয়েটিভিটি | @samhunnahar |
| ক্যাটাগরি | জেনারেল রাইটিং |
সবাইকে অনেক ধন্যবাদ সময় দিয়ে আমার ব্লগটি ভিজিট করার জন্য।
🥀আল্লাহ হাফেজ সবাইকে🥀
আমি সামশুন নাহার হিরা। আমার ইউজার আইডি @samhunnahar। আমি আমার বাংলা ব্লগে কাজ করছি বাংলাদেশের কক্সবাজার থেকে। আমি বাংলা ভাষায় লিখতে-পড়তে অনেক ভালবাসি। রান্না করতে আমি অনেক পছন্দ করি। তাছাড়া সময় পেলে ভ্রমণ করি আর প্রকৃতিকে অনুভব করি। ফটোগ্রাফি করতে আমার ভীষণ ভাল লাগে। আমি মাঝে মাঝে মনের আবেগ দিয়ে কবিতা লেখার চেষ্টা করি। আমার প্রিয় শখের মধ্যে তো গান গাওয়া অন্যতম। আমার মনের ভাব বাংলায় প্রাকাশ করতে পেরে অনেক আনন্দিত। তার জন্য আমার প্রাণের/ভালবাসার কমিউনিটি "আমার বাংলা ব্লগ"কে অনেক ভালবাসি।
#generalwriting #donatetopeople #creativity #amarbanglablog #steemit #wealthincreases #resourcesarenotdepleted
Twitter
অনেক সুন্দর একটি পোস্ট করলেন আজ। ধানে হয় দানবীর। আর কৃপণে হয় বখিল। দান করলে যেমন সম্পদ বাড়ে তেমনি করে মনের প্রশান্তি অনেক বৃদ্ধি পায়। আসলে সম্ভশালী মানুষগুলোর প্রতিনিয়ত ই উচিত তাদের সম্পদ হতে কিছু অসহায় মানুষগুলোর জন্য ব্যয় করা। কিন্তু আমরা কি তা করি। আমরা তো আমাদের সম্পদের পাহাড় বানাই। ধন্যবাদ এত সুন্দর একটি পোস্ট আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য।
কিছু কিছু মানুষ আছেন যারা এই মর্ম বুঝে না আপু। দান করলে আমাদের সম্পদের বরকত হয়।
আসলে বেশিরভাগ মানুষ এই বিষয়টা মনে করে। তারা মনে করে তারা যদি দান করে তাহলে তাদের সম্পদ ক্ষয় হয়ে যাবে। আসলে এরকম কোন কিছুই হয় না অন্যদিকে তাদের সম্পদ আরো বেশি বৃদ্ধি পায়। আমরা যদি নিজেদের কিছু সম্পদ তাদেরকে দান করি তাহলে তারা কিছুটা সাহায্য পাবে এবং আমাদের ও ভালো হয়। আপনি অনেক সুন্দর করে আজকের এই পোস্টটা লিখেছেন যা আমার কাছে অনেক ভালো লেগেছে।
একজন মানুষের দান করা অর্থ সম্পদ দিয়ে অন্য একজন মানুষের মঙ্গল হয় তাতে সৃষ্টিকর্তাও খুশি হন।
ইসলাম ধর্মে দান করা সম্পর্কে অনেক গুরুত্বপূর্ণ গুরুত্বপূর্ণ হাদিস এবং কোরআনের আয়াত রয়েছে।
যা পড়ে এবং শুনে আসলে আমরা বুঝতে পারি দান করলে কখনো সম্পদ কমে না বরং আরো বৃদ্ধি পায়।
এবং সৃষ্টিকর্তার পক্ষ থেকে রহমত এবং ক্ষমা পাওয়া যায় সেই সাথে অনেক সওয়াবের মালিক হওয়া যায়।
আপনি অনেক গুরুত্বপূর্ণ এবং তথ্যবহুল পোস্ট লিখেছেন খুবই ভালো লাগলো পড়ে।
অনেক ভালো লাগলো ভাইয়া আপনার এত সুন্দর গঠনমূলক মন্তব্য পেয়ে।
আসলে দান করা বেশ ভালো একটি কাজ। আলহামদুলিল্লাহ এই দান করার বিষয়টা আমাদের ধর্মে বেশ উৎসাহিত করা হয়েছে। আর দান করলে সত্যি অনেকের দোয়া পাওয়া যায় তার সাথে অনেক সওয়াব পাওয়া যায়। আর দান করলে সম্পদের মধ্যে আলাদা একটা বরকত চলে আসে। তবে সেই দানটা অবশ্যই মন থেকে হতে হবে লোক দেখানো দান হলে চলবে না। আপনি আজকে দান করা নিয়ে দারুণ একটি পোস্ট শেয়ার করেছেন। আপনার হাসবেন্ড আপনাকে দান করার জন্য উৎসাহিত করে যেন ভালো লাগলো। আর সেটা শেয়ার করার মাধ্যমে আমাদেরকে দান করার জন্য উৎসাহিত করলেন তার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। অবশ্যই আমরা চেষ্টা করব সুযোগ পেলেই কিছু না কিছু দান করার।
জি ভাইয়া আপনার ভাই অনেক বেশি দান করেন তাতে আমার অনেক বেশি ভালো লাগে। সে সাথে আমিও চেষ্টা করি।
https://steemit.com/hive-129948/@samhunnahar/2qokkx
দান করলে সম্পদের অনেকটাই বৃদ্ধি হয়।অনেকেই ভাবেন দান করলে কমে যায়। আসলে সবকিছুতেই মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বহুগুন বাড়িয়ে দেন। এটা অনেকেই জানেন না।আমাদের ইসলাম ধর্মে ও দান করার জন্য অনেক হাদিস আছে।যা পাঠ করলে এই বিষয়ে অনেক কিছুই জানা যায়। সুন্দর একটি বিষয় নিয়ে পোস্ট শেয়ার করলেন। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
জি আপু বাস্তবে আমি প্রমাণিত দান করলে যে সম্পদের বরকত হয় সেটা। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
দান এমন এক জিনিস, যা দেয়া হয় তার দশগুণ বেশি আসতে পারে। অথচ আমরা দান করতেই চায় না। আমাদের প্রিয় নবী সঃ স্বয়ং বলেছেন বেশি বেশি দান করার জন্য। যাক, আপনার ব্যাপারটা খুব ভালো লাগলো আপু। আপনার দানকে আল্লাহ তায়ালা কবুল করুক, আমিন 🌼।
হ্যাঁ ভাইয়া কত টাকা কত দিকে খরচ করে ফেলি। কিন্তু দান করতে কেন জানি হাতে আটকায় সবার ক্ষেত্রে।
একটা বিষয় কি জানেন আপু পৃথিবীর মানুষ বড়ই আজব। যেখানে সম্পদ বাড়বে সেখানে খরচ করবে না। কিন্তু যেখানে খরচ করলে মানুষ নিঃস্ব হয়ে যাবে সেখানে খরচ করবে। জানেন তো অনেক সময় ২ টাকা দান করতে ইচ্ছুক নয় কিন্তু বিশ হাজার টাকা দিয়ে নিজের শখ মেটাতে ইচ্ছুক। আসলে আমরা ক্ষনিকের পিছনে ছুটছি। যেটা আদৌ আমাদের কাজে লাগবে না। চমৎকার লিখেছেন পরে ভীষণ ভালো লেগেছে ধন্যবাদ আপনাকে।
কথাগুলো বাস্তবতার সাথে যথেষ্ট মিল আছে ভাইয়া ধন্যবাদ।
আজকাল কার দিনে মানুষ খুব অর্থ লোভী হয়ে গিয়েছে। অর্থ উপার্জন করতে ভালো লাগে কিন্তু কিক্সহু টাকা গরিব মানুষকে দান করতে ইচ্ছা করে না। মানুষ বুঝতে চেষ্টা করে না যে দান করলে একদিকে যেমন আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করা করা যায় অন্যদিকে সম্পদের পরিমানও বৃদ্ধি পায়। ধন্যবাদ আপু খুব সুন্দর একটি বিষয় আমাদের মাঝে আলোচনা করার জন্য।
সবচেয়ে বেশি খারাপ মানুষ তারা যাদের বেশি অর্থ সম্পদ আছে তারাই।
সবচেয়ে খারাপ মানুষ তারাই যাদের সুন্দর মন নেই। ধন্যবাদ আপু