নাটক রিভিউ 🎬 || মধ্যবিত্ত || ১০% প্রিয় লাজুক-খ্যাকের🦊 জন্য থাকলো
আসসালামু আলাইকুম
আমি @sajjadsohan from 🇧🇩.
০৪ই- ফেব্রুয়ারি, শুক্রবার।
আ মার বাংলা ব্লগের সকল সদস্যকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা। আশা করি সবাই ভাল আছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় ভাল আছি। আজকে আমি আপনাদের জন্য একটি নাটক রিভিউ করব, আশা করি আপনাদের সকলের ভাল লাগবে।
নাটক রিভিউ 🎬
নাটকের নাম শুনেই আপনারা কিছুটা বুঝে ফেলেছেন এর পেছনের কাহিনী কিরকম হতে পারে। মধ্যবিত্ত, আবেগমাখা একটি শব্দ, যেখানে প্রতিনিয়ত নিজের স্বপ্নকে দিতে হয় বিসর্জন, নিজের শখ দিতে হয় কবর। এই গল্পের নায়ক একজন নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান, তার একটি পরিবার আছে, আছে অসুস্থ বাবা, আছে বিবাহযোগ্য একটি ছোট বোন সুখের সংসারে নেই শুধু পরিবারের বড় ছেলের একটি চাকরি।
এইখানে কিছুটা দেশের পরিস্থিতির কথা তুলে ধরা হয়েছে, বেকারত্ব এখন যেন আমাদের দেশের একটি বড় সমস্যা। পরিবারে অশান্তি, প্রেমিকার বিয়ে, অসুস্থ বাবার ঔষধ ইত্যাদি সব মিলিয়ে একটি বেকার মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলের মানসিক অবস্থা কিরূপ হতে পারে এটি নিয়েই মূলত এই নাটক তৈরি করা হয়েছে।
| রচনা ও পরিচালনা | আওরঙ্গজেব |
|---|---|
| চিত্রগ্রহন | জুয়েল ও সুজন |
| অভিনয়ে | আফরান নিশো এবং তানজিন তিশা |
| প্রযোজক | কচি আহমেদ |
ঘটনা
ঘটনার শুরুতেই দেখতে পাই নাটকের মূল চরিত্র চাকরির ইন্টারভিউ দেয়ার জন্য বের হয়। কিন্তু ইন্টারভিউ বোর্ডে তার পোশাক-আশাক নিয়ে বেশ ছোট করা হয়, তাকে অদ্ভুত ধরনের কিছু প্রশ্ন করা হয়। সে মূলত গিয়েছিল নিম্ন পর্যায় একটি চাকরির জন্য, কিন্তু তাকে নানান রকম প্রশ্ন ধরা হচ্ছে যেগুলোর সাথে তার চাকরির কোন যোগাযোগ নেই।
তার ভাইবা বোর্ডে প্রশ্নগুলো কিছুটা এই রকম ছিল: মরক্কোর রাজধানীর নাম কি? ঘানার মুদ্রার নাম কি ? গরুর গাড়ি সামনে এবং পিছনে মোটা ২টা চাকা থাকে কেন?
এরকম অপ্রাসঙ্গিক প্রশ্ন উত্তর আমাদের নাটকের মূল চরিত্র দিতে পারে। তবুও তাকে চাকরিটা দেয়া হয়নি এবং সে মনের দুঃখে অফিস থেকে বের হয়ে আসে।
কিছু সময় আমরা তাকে অসহায়ের মত এদিক-সেদিন হাটাহাটি করতে দেখলাম। তার অসহায় মাখা মুখ দেখে আমাদের এই সমাজের যে সকল শিক্ষিত বেকার গুলো রয়েছে তাদের কথা স্মরণ হয়। একজন মানুষ ১৬ ১৭ বছর পড়াশোনা করে ও তার যোগ্য চাকরিটি পায়না। প্রয়োজন হয় এক্সপেরিয়েন্স কিংবা ঘুষের।
স্কুল-কলেজে তো আর কোনো জাবের এক্সপেরিয়েন্স শেখানো হয় না। তাই অনেক সময় শিক্ষিত হওয়ার পরেও এক্সপেরিয়েন্স এর অভাবে চাকরি হয় না।
এনারা হচ্ছেন আমাদের মূল চরিত্রের পরিবার, অসুস্থ বাবা, অসহায় মা, বিবাহযোগ্য বোন। সবমিলিয়ে পরিবারের বড় ছেলের উপর কি ধরনের চাপ সৃষ্টি হতে পারে তা আমরা সকলেই বুঝি। পরিবারের এই সময়টায় ছোট মেয়ের পরীক্ষার জন্য কিছু টাকার প্রয়োজন হয় বাবার ওষুধের জন্য কিছু টাকার প্রয়োজন হয়, যার যোগান দিতে গিয়ে আমাদের মূল চরিত্র নায়ক হিমশিম খাচ্ছে।
এরপরে আমরা চলে গেলাম নায়ক এর কল্পনার জগতে, যেখানে সে তার প্রেমিকাকে স্মরণ করছে। নাটকের অদ্ভুত ধরনের একটি প্যার্টান রয়েছে যা আমি বুঝিনা। প্রত্যেকটি মধ্যবিত্ত পরিবারের বেকার ছেলের যেন ওই দেশের সবথেকে সুন্দরী মেয়ের সাথেই প্রেম হয় এবং সেই মেয়েটি হয় অনেক ধনী পরিবারের সন্তান।
হরহামেশাই আমরা এই ঘটনা দেখতে পাই। এখানে তার ব্যতিক্রম নয় পরীর মত দেখতে তার একটি প্রেমিকা যাকে সে দামি কোন রেস্তোরাঁয় খাওয়াতে পারে না হাওয়াই মিঠাই যাদের প্রেম এখনও টিকে রেখেছেন।
এর পরে আমরা দেখতে পাই, নায়ক এর মালিক তাকে বলে তুমি কতদিন ধরে তোমার পরিবারকে দেখনি। জবাবে যখন শুনে ৫ ৬ মাস হয়ে যায় সে তার পরিবারের সাথে দেখা করেনি। তখন তার মালিক তাকে কিছু টাকা দেয় এবং কয়েকদিনের ছুটি দেয় তার পরিবার সাথে দেখা করে আসার জন্য।
এ সময় আমরা দেখতে পাই সে তার পরিবারের সাথে দেখা করার জন্য তার গ্রামের বাড়ি চলে এসেছে। তাকে দেখে তার মা খানিকটা খুশি হলেও পরক্ষনেই তার বাবার অসুস্থতার খবর শুনে সকলের মন আবার খারাপ হয়ে গেল।
আবার নায়ক তার কল্পনায় চলে যায়, নায়িকার সাথে তার একনিষ্ঠ প্রেম সুন্দর পরিবেশ ইত্যাদি জিনিসগুলো সে চিন্তা করতে থাকে। মধ্যবিত্ত বেকার ছেলেদের হয়তো সবথেকে সুন্দর প্রেমিকা হয়। তার গার্লফ্রেন্ড দেখে কিছুটা আফসোস হলো কারণ সামনে আসছে ফেব্রুয়ারি মাস 😅 😂
এর পরে আমরা দেখতে পাই নায়কের বাবা অসুস্থ হয়ে যায়। তাকে বাঁচানো সম্ভব না ছেলে অনেক চেষ্টা করছে আকুতি-মিনতি করছে ডাক্তারের কাছে। সে প্রয়োজনে অনেক টাকা দিতে রাজি কিন্তু তার বাবাকে হারাতে রাজি না। কিন্তু ডাক্তার তাকে নিরাশ করে দিল সে জানালো খুব অল্প কিছুদিন সময় রয়েছে। তাই তারা হাসপাতালে রোগিকে রাখবে না।
এই দুঃসময়ে আবার সে কল্পনার জগতে চলে যায় তার প্রেমিকার কাছে, তার এত সুন্দর একটি প্রেম আজ শেষ হয়ে যাচ্ছে। প্রেমের তিন বছরের মাথায়, প্রেমিক যখন ও বেকার। তখন কোনো প্রতিষ্ঠিত ছেলে খুঁজে নেয়া হয় তো উত্তম। তাই এখানেই তাদের বিচ্ছেদ হয়।
তার কিছুদিন পর যখন নায়ক তার বাবার জন্য কিছু ফলমূল কিনে বাসায় যাচ্ছিলাম, তখন সে তার প্রেমিকাকে আবার দেখলো কিন্তু কল্পনার জগতে নয়, তার হাজবেন্ডের সাথে। তারা যখন রেস্তোরাঁ থেকে বের হয়ে গাড়িতে উঠেছিল ঠিক তখনই তাদের মুখোমুখি দেখা। ঘটনার মূল চরিত্র নায়ক কিছু সময়ের জন্য সে হতবাক হয়ে যায়। চারদিকে শুধু তার বিপদ আর বিপদ।
সে যেদিকেই তাকায় সেদিকেই তার বিপদ। একদিকে তার প্রেমিকার বিয়ে, অন্যদিকে তার ছোট বোনকে বিয়ে দিতে হবে, একপাশে তার অসহায় মা এবং অন্য পাশে তার বাবার মৃতদেহ। সে যেন চিন্তায় অস্থির হয়ে যাচ্ছে, তার সবকিছু যেন ওলটপালট হয়ে যাচ্ছে।
সত্যি এটি একটি সাধারণ নাটক হলেও এর গভীরতা অনেক, এ যেন আমাদের দেশের সকল শিক্ষিত বেকারের জীবনের প্রতিচ্ছবি। এ যেন হাজারো ছেলের আক্ষেপ, বেদনা, অনুভূতি।
আমি সাজ্জাদ সোহান
আমি টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং এর একজন শিক্ষার্থী। আমি ঢাকাতে বসবাস করি। আমি ট্রাভেল করতে অনেক ভালোবাসি, এছাড়া অবসর সময়ে মুভি দেখি, ফটোগ্রাফি করি, গান করি। আমি একটু চাপা স্বভাবের তাই কম কথা বলি কিন্তু আমি একজন ভালো শ্রোতা। ভালোবাসি নতুন জিনিস শিখতে, মানুষকে ভালবাসি তাই মানুষের সহযোগিতায় এগিয়ে আসি।
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |

আপনি অনেক সুন্দর একটি নাটকের ভিডিও শেয়ার করেছেন। এই নাটকটি রিভিউ দেখে সত্যি অনেক ভালো লাগলো। কেনোনা এই নাটকটি আমি দেখেছি নাটক দেখে আমার চোখে জল চলে এসেছিল। এত সুন্দর একটি নাটকের রিভিউ শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।
ভাই আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ আমার পোস্ট দেখার জন্য, জি নাটকটি সত্যিই মন ছুয়ে যায় কারণ আমরা সকলেই মধ্যবিত্ত পরিবারের। তাই কিছুটা হলেও আমরা এর কষ্ট উপলব্ধি করতে পারি। আপনার জন্য রইল শুভকামনা এবং অনেক অনেক ভালোবাসা।