শিশুকে সারাদিনই কি ডায়াপার পরাবেন?

in Incredible India2 years ago
হ্যালো বন্ধুরা
IMG_20231220_231333.jpg

অনেক বাবা-মা শিশুকে কাপড়ের ডায়াপার বা অন্য কিছু পরাবেন তা নিয়ে বিভ্রান্তিতে পড়েন। আবার অনেক অভিভাবক মনে করেন, শিশুর প্যান্টের ভেতরে ডায়াপার পরা মানে নিরাপদ থাকা। কিন্তু ছোট বাচ্চাদের জন্য, ডায়াপার হোক বা পোশাক, সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি একই। শিশুদের ডায়াপার পরানো এখন একটা নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে। কর্মজীবী মায়েদের জন্য ডায়াপার একটা যুগান্তকারী সৃষ্টি কারণ এটা তাদের সময় বাচিয়ে দেই একই সাথে এটা ঘর কিংবা কাপড় নোংরা করা থেকে মুক্তি দেয়। কিন্তু ব্যবহার করতে গিয়ে নিয়ম-কানুন না জানার কারণে শিশুর অস্বস্তিতে ভোগে, তা ছাড়া ভুল ভাবে পরালে তা শিশুর ত্বকে নানা সমস্যার সৃষ্টি করে। ভেজা ডায়াপার শিশুকে অসুস্থ করে তোলে।ডায়াপারজনিত যত সমস্যা আছে তার ভিতর বেশি দেখা যায় ফুসকুড়ি।এটা শিশুর জন্য কষ্টদায়ক ও অস্বস্তিকর।

IMG_20231220_231428.jpg

আর তাই ডায়াপার কেনার সময় অবশ্যই এর শোষণক্ষমতা আরামদায়ক এবং লিকপ্রুফ কিনা সেগুলো দেখে নিতে হবে।
আমরা যখন ভ্রমণে যায় বা শিশু যখন ঘুমিয়ে থাকে তখন অবশ্যই খেয়াল করতে হবে। আপনি যখনই এটা পরান না কেন, একটি জিনিস মনে রাখবেন যে প্রতি চার থেকে ছয় ঘণ্টা অন্তর ডায়াপার অবশ্যই পরিবর্তন করা উচিত। শিশু যদি প্রস্রাব বা পায়খানা করে তাহলে তখনি ডায়াপার পরিবর্তন করে দিতে হবে।

শিশুর ডায়াপার র‌্যাশ কি ও এটা হলে করণীয়:

যখন শিশুর সূক্ষ্ম সংবেদনশীল ত্বক দীর্ঘক্ষণ বা বারবার প্রস্রাব এবং মলের সংস্পর্শে আসে, তখন আর্দ্রতা ত্বকে জ্বালা সৃষ্টি করে। ত্বকের তৈলাক্ত ভাব নষ্ট হয়ে যায়। এতে ত্বক লাল চাকার মতো ফুলে যায়, অর্থাৎ ত্বকে ফুসকুড়ির মতো দেখায়।র‌্যাশ বা ফুসকুড়ি অতটা বিপদজনক না হলেও যদি শিশুর এলার্জি হয় অথবা প্রস্রাবের নালিতে সংক্রমণ হয় তখন তা বিপদ বয়ে আনে।

IMG_20231220_231402__01.jpg

যতবার প্রয়োজন ডায়াপার পরিবর্তন করুন। কোনোটিই দীর্ঘ সময়ের জন্য ভেজা রাখা উচিত নয়। ভিজে গেলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ডায়াপার পরিবর্তন করতে হবে।শিশুকে নিয়ে বাইরে বের হলে অতিরিক্ত ডায়াপার কাছে রাখুন।

অনেকে ডায়াপারের উপর প্লাস্টিকজাতীয় প্যান্ট পরান এতে বাচ্চার অনেক ক্ষতি হয়। কারণ প্লাস্টিক আর্দ্রতা আটকে রাখবে যা ফুসকুড়ি বা র‌্যাশকে আরও তীব্র করবে।

IMG_20231220_231319.jpg

যদি শিশুদের ডায়াপার ঘন ঘন পরিবর্তন করা হয়, তাহলে ডায়াপার নিচে পাউডার ব্যবহার করার প্রয়োজন নেই। অনেকে ডায়াপার খোলার পর লোশন অথবা পাউডার লাগান,কিন্তু এগুলো ফুসকুড়ি প্রতিরোধ করেনা বরং তা ক্ষতি করে।লোশন বা পাউডারে থাকা রাসায়নিক পদার্থ ত্বকে র‌্যাশ ওঠাতে পারে।

ডায়াপার বদলানোর পর শিশুর নিম্নদেশ সাবানের সাহায্য আলতো ধুয়ে দিতে হবে।অনেকে বাচ্চাকে সব সময় ডায়াপার পরাতে চান।কিন্তু যদি র‌্যাশ ওঠে তাহলে একটা ডায়াপার পরিবর্তন করে কিছুক্ষণ বাচ্চার আক্রান্ত স্থানে বাতাস লাগানোর ব্যবস্থা করতে হবে।যদি র‌্যাশ বেশি ওঠে সেক্ষেত্রে কয়েকদিন ডায়াপার না পরানো ভালো। বেশি সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

তো বন্ধুরা আজ এ পর্যন্তই।আমার পোস্টটি পড়ে কেমন লাগল তা কমেন্টে জানাবেন।

ধন্যবাদ
Device Name:One Plus
Camera:48 Megapixel
Shot by:saha10
location:Bangladesh🇧🇩
Sort:  
 2 years ago 

আপনার এই পোস্টটি পড়ে অনেকেই উপকারে আসবে।
যদি নিময় মেনে ডায়াপার পরানো হয় তবে তেমন একটা সমস্যা হয় না,তবে যদি নিমন না মেনে রেগুলার পরানো হয় তবপ অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।
ধন্যবাদ আপনাকে সচেতন মূলক একটি পোস্ট আমাের মাঝপ শেয়ার করে জানার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য।

রেগুলার পরানোর থেকে জরুরি হলো বাচ্চা দীর্ঘক্ষন ভেজা ডায়াপার পরে আছে কিনা সেটা খেয়াল রাখা।আর শিশুদের যেমন ঔষধ খাওয়ানোর ব্যাপারে আমরা প্রত্যেকে সিরিয়াস থাকি,এসব ব্যাপারেও সিরিয়াস হতে হবে। তাহলেই এর থেকে উদ্ভূত সমস্যা সমাধান করা সম্ভব।

Loading...
 2 years ago 

আপনি শিশুদের ডায়াপার নিয়ে খুব সুন্দর একটি পোস্ট শেয়ার করেছেন। আপনার পোস্টটা থেকে শিক্ষা পেয়েছি যে শিশুরই যদি সারাক্ষণ ডায়াপার পড়ানো হয় কি ক্ষতিকর সেটা আমাদের সাথে শেয়ার করলেন। ডায়াপারজনিত যত সমস্যা আছে তার ভিতর বেশি দেখা যায় ফুসকুড়ি।এটা শিশুর জন্য কষ্টদায়ক ও অস্বস্তিকর।

আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ খুব শিক্ষানীয় একটি টপিক আমাদের সাথে শেয়ার করলেন থ্যাঙ্ক ইউ।

শিশুরা নিজের সমস্যা আমাদের কাছে প্রকাশ করতে পারে না।ফুসকুড়ি ওঠা সমস্যা প্রায়ই দেখা যায় বাচ্চাদের ক্ষেত্রে। ডায়াপার দীর্ঘক্ষন ভেজা অবস্থায় পরিয়ে রাখলে এরকম সমস্যা বেশি হওয়ার চান্স থাকে।তাই এটা ব্যবহারে সচেতন হতেই হবে।
ধন্যবাদ আপনাকে পোস্টটি পড়ে সুন্দর মন্তব্য করার জন্য।

 2 years ago (edited)

ঘআপনি খুবই প্রয়োজনীয় একটি পোস্ট আমাদের সাথে শেয়ার করেছেন সেজন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আসলে আমরা মা-বাবা সময় বাঁচানোর জন্য এবং অতিরিক্ত কাপড় নোংরা করার হাত থেকে বাঁচানোর জন্য শিশুকে ডায়াপার পরিয়ে থাকি। তবে ডাযাপার পরানোর সময মায়েদেরকে সচেতন থাকাতে হবে। ডায়পার নির্বাচন করার সময় অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে থাকবেন। ডায়াপার বাচ্চাদের বয়স অনুযায়ী কিনতে হয়। শীতের দিনে অনেক মা-বাবা বাচ্চাদের ডায়পার পড়িয়ে থাকেন। আশা করি তিন থেকে ঘন্টা পর পর ডাইপার চেঞ্জ করাটা অনেক ভালো। নতুন পোস্টের অপেক্ষায় রইলাম।

আপনার কমেন্ট পড়েই বুঝতে পারছি আপনি খুবই সচেতন একজন মা।আপনার এসব ব্যাপারে জ্ঞানও অনেক ভালো। এখনকার মায়েরা ভুলবসত হোক আর আলসেমির কারনে হোক দীর্ঘক্ষন ভেজা প্যাম্পার্স পরিয়ে রাখে যার ফলে যত বিপত্তি ঘটে।
ধন্যবাদ আপনাকে আমার পোষ্টটি যত্নসহকারে পড়ে সুন্দর মন্তব্য করার জন্য। ভালো থাকবেন।

 2 years ago 

বাইরের দেশগুলোতে সারাক্ষণই ডায়াপার পরিয়ে রাখা হয়।ঠান্ডা দেশগুলোতে এতে তেমন কোন সমস্যা না হলেও আমাদের দেশের মতো গরম দেশগুলোতে র ্যাশ উঠে অনেক সময়ই।এছাড়াও সমস্যা হয়।
তবে শীতের দেশেও যে সমস্যা হয় না এমন না। আমার লন্ডনো বসবাসকারী কাজিনের ছেলের পেনিসে মারাত্মক রকমের ইনফেকশন হয়েছিলো সারাক্ষণ ডায়াপার পরিয়ে রাখার কারনে।
ধন্যবাদ এত গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয় নিয়ে লেখার জন্য। শুভকামনা রইলো আপনার জন্য।

Posted using SteemPro Mobile

ধন্যবাদ আপনাকেও আমার পোষ্টটির এত সুন্দর রিপ্লাই দেয়ার জন্য। আসলে আমরা অনেক সময় বাইরের দেশকে ফলো করি। কিন্তু এটা বিবেচনা করে না যে সেখানে ভিন্ন আবহাওয়ার সাথে আমার দেশের আবহাওয়ার তুলনা করা চলে না।
কাজেই সব জিনিস জেনে বুঝে ব্যবহার করাই ভালো।

 2 years ago 

খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি পোস্ট আমাদের মাঝে উপস্থাপন করার জন্য ধন্যবাদ। শিশুদের জন্য ডায়পার একটি নিত্যপ্রয়োজনীয় বস্তু৷ যার ব্যবহার বিধি জানা আমাদের সবার জন্য আবশ্যক। এটি ব্যবহারে হতে হবে সচেতন।

ধন্যবাদ আপনাকে আমার পোষ্টটি যত্নসহকারে পড়ে এত সুন্দর মন্তব্য করার জন্য। আসলে এই ব্যাপারটা নিয়ে তেমন কোনো সচেতনতামূলক আয়োজন চোখে পড়েনি।ডায়াপারের বিজ্ঞাপনের সাথে সাথে এর খারাপ দিক ও জনসমক্ষে তুলে আনা উচিৎ।
আমাদের প্রতিবেশীদেরও আমাদের সচেতন করে তোলা উচিৎ।

 2 years ago 

আসলে অনেক মহিলা আছে। যারা কিনা তাদের সময় বাঁচানোর জন্য বিশেষ করে এই শীতের সময় তাদের সন্তানদেরকে দীর্ঘ সময় ধরে ডায়পার পরিয়ে রাখে। কিন্তু আমার কাছে মনে হয় ডায়পার খুবই মারাত্মক একটা জিনিস। যেটা একটা শিশুর শরীরের ত্বককে খুব তাড়াতাড়ি অসুস্থ বানিয়ে ফেলে।

আজকে আপনি আমাদের সাথে ডায়াপার অতিরিক্ত সময় ধরে পড়া থাকলে। শিশুদের কি কি ক্ষতি হতে পারে সেই বিষয়টা নিয়ে আলোচনা করেছেন। অবশ্যই সবাইকে সচেতন থাকা উচিত। কিন্তু সময়ের সাপেক্ষে আমাদের কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত। তবে সেটা শিশুর স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে করা উত্তম। ধন্যবাদ আপনাকে অজানা তথ্যগুলো আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য। আপনার জন্য অনেক অনেক শুভকামনা রইল ভাল থাকবেন।

ধন্যবাদ আপনাকে আমার পোষ্টটি পড়ে এত সুন্দর মন্তব্য করার জন্য। আসলে আমরা সহজেই পটে যায়।আমাদের উচিৎ কেনো কিছু সম্পর্কে ভালমতো জেনে।আর বর্তমান মায়েরা আলসেমির কারনে দীর্ঘ সময় ডায়াপার পরিয়ে রাখে।ধন্যবাদ আপনাকে।

 2 years ago 

আপনি একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন,, আমার ছেলের বয়স যখন ১ বছর,, শীতের সময় রাতে প্যামপাস পরাতাম সব মিলায়ে ১৫ ঘন্টার মতো বেশ কয়েক দিন পরে তার সমস্যা হয় প্রসার হচ্ছিলো না, ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেছিলাম,, ডাক্তার তো আমাদের খুব বকা দিলো,, এটা ক্ষতি কর একটা জিনিস, কিন্তু সামইক এর জন্য পরানো ভালো, শীতের দিনে অনেক মা-বাবা বাচ্চাদের ডায়পার পড়িয়ে থাকেন।এটা শিশুর জন্য কষ্টদায়ক ও অস্বস্তিকর।

ধন্যবাদ আপনাকে আমার পোস্টটি পড়ে এত সুন্দর মন্তব্য করার জন্য। আসলেই সত্যি কথা বলেছেন আপনি, স্বল্প সময়ের জন্য এটার ব্যাবহার সত্যিই চমকপ্রদ।
দীর্ঘ সময় ভেজা যেকোন কিছু পরা থাকলে সেটা সমস্যা করবেই।

 2 years ago 

শিশুদের ডায়াপার নিয়ে আপনার লেখা আসলে চমৎকার হয়েছে এ থেকে আমরা শিক্ষা নিতে পেরেছি আমাদের বাচ্চাদের যদি সারাদিন ডায়াপার পরিয়ে রাখি তাহলে কি কি সমস্যা সম্মুখীন হতে পারি। ডায়াপারজনিত যত সমস্যা আছে তার ভিতর বেশি দেখা যায় ফুসকুড়ি।এটা শিশুর জন্য কষ্টদায়ক ও অস্বস্তিকর।

ভাই আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ একটি শিক্ষার বিষয়ে আমাদের কাছে উপস্থাপনা করার জন্য।

ধন্যবাদ আপনাকে আমার পোস্টটি যত্নসহকারে পড়ে এত সুন্দর মন্তব্য করার জন্য। আসলে শিশুদের ব্যাপারে আমাদের বেশি সচেতন হতে হবে।ওরা তো বলতেও পারে না সমস্যা। তাই কি করলে কোন ধরনের সমসা হতে পারে তা আগে জেনে সেটার ব্যবহার করাই উত্তম।
ধন্যবাদ আপনাকে।

 2 years ago 

শিশুকে সারাক্ষণ ডায়াপার পরিয়ে রাখা যেতেই পারে কিন্তু সময় সময় মত সেটার পরিবর্তন করা অত্যন্ত জরুরি। সঠিক সময়ে ডায়াপার পরিবর্তন না করলে শিশুর শরীরে র‍্যাশ, ফুসকুড়ি এবং সংক্রমণ জাতীয় জটিল রোগ দেখা দেয়। স্বামী এবং স্ত্রী যেসব ক্ষেত্রে দুজনেই চাকরির কারণে বাইরে বেরিয়ে যান সে ক্ষেত্রে বাড়িতে তাদের সন্তানকে যে দেখভাল করছে সে নিজের আত্মীয়ই হোক বা কোনো আয়া মাসী, তাকে যেন পরিষ্কার করে বুঝিয়ে বলা হয় যে শিশুর ডায়াপার কখন কখন পাল্টাতে হবে এবং কিভাবে পাল্টাতে হবে। ধন্যবাদ এত গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয় আলোকপাত করার জন্য। ভালো থাকবেন।

আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ আমার পোষ্টটি পড়ে এত সুন্দর মন্তব্য করার জন্য। আসলেই আপনি যথার্থ বলেছেন, চাকুরিজীবি পিতা মাতাকে অবশ্যই তাদের শিশু সন্তানের ব্যাপারে সচেতন হতে হবে যাতে তাদের আয়া মাসি তার সন্তানকে দীর্ঘক্ষন ভেজা প্যাম্পার্স পরিয়ে না রাখে।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.084
BTC 64480.79
ETH 1752.58
USDT 1.00
SBD 0.44