স্মৃতিচারণঃ ছোটবেলার ঈদ
আসসালামু আলাইকুম। প্রিয় আমার বাংলা ব্লগবাসী, আপনারা কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভাল আছেন এবং ঈদের আনন্দ বেশ ভালোভাবে উপভোগ করছেন। সেই জন্য আমি আমার ছোটবেলার ঈদ স্মৃতি আপনাদের সামনে তুলে ধরার প্রয়াস করছি।
ছোটবেলায় ঈদের দিনের চেয়ে আমাদের মনে ঈদের আগের দিনগুলো বেশ প্রভাব ফেলত। বিশেষ করে ঈদের আগে নতুন জামা কেনার বিষয়টি আমাদের বেশ উৎসাহ দিত। আমাদের ঈদের জামাগুলো মোটামুটি ২০ রমজানের আগেই কেনা হয়ে যেত। আমরা জামা-কাপড়গুলি খুব গোপন জায়গায় লুকিয়ে রাখতাম। আমরা বিশ্বাস করতাম, ঈদের দিনের আগে যদি কেউ ঈদের জামা-কাপড় দেখে ফেলে তাহলে তার ঈদে নষ্ট হয়ে গিয়েছে। এজন্য আমরা বেশ সতর্ক ছিলাম ঈদের জামা-কাপড় যাতে কেউ আগে না দেখে এবং সবার বাসায় গিয়ে খোঁজ নিতাম তার ঈদের জামা-কাপড় কেনা হয়েছে কিনা এবং সেটি কোনটি? কিন্তু সবাই এ বিষয়ে সতর্ক ছিল। যার কারণে কেউ কাউকে ঈদের আগে ঈদের জামা-কাপড় দেখাতে না।
আমাদের ছেলেদের এমনিতেই ঈদের মধ্যে মেহেদির প্রচলন খুব একটা ছিলনা। অর্থাৎ, আমরা হাতে মেহেদি লাগাতাম কিন্তু তাতে কোন ডিজাইন থাকতো না। আমাদের বান্ধবী, বড় বোন, আপু, খালা, ফুফু, মামীরা এবং মায়েরা খুব যত্ন সহকারে হাতে মেহেদী লাগাতেন। তাদের একজনের ডিজাইনের চেয়ে আরেক জনের ডিজাইন ব্যতিক্রম হতো এবং তাদের কার রং বেশি গাঢ় হয়েছে এটা নিয়ে বেশ প্রতিযোগিতা কাজ করতো। কোন কারনে যদি কারো হাতের মেহেদির ডিজাইন নষ্ট হয়েছে তো সে খুব কান্নাকাটি করতে এবং আমাদের মতই মনে করতে পারে ঈদ নষ্ট হয়ে গিয়েছে।
সেই সময় ঈদ কার্ডের খুব প্রচলন ছিল। ঈদ আসলে একজন আরেকজনকে আমরা ঈদ কার্ড বিলি করতাম ঈদ মোবারক লেখা। তাছাড়া আমরা যখন ঈদগা মাঠে যেতাম, আমরা ঈদের নামাজে যেতাম না, কিন্তু আমরা যেখানে ঈদ উপলক্ষে মেলা বসে সেখানে যেতাম। যাওয়ার সময় আমাদের নতুন পাঞ্জাবি কিংবা শার্টে ঈদ মোবারক লেখা একটি কার্ড ঝুলিয়ে দিত বড় ভাইয়েরা। এর বিনিময়ে তারা আমাদের কাছ থেকে কিছু টাকা নিতো। কখনো কখনো সেটা ছিলো এক টাকা, কখনো দশ টাকা। অর্থাৎ কোন নির্ধারিত ফি ছিল না। যার কাছ থেকে যা রাখতে পারে, যে যা দিতে পারে।
ঈদের দিন বিকালে আমরা আমাদের কেনা খেলনাগুলো নিয়ে একসাথে হতাম এবং একজন আরেকজনের খেলনা পরীক্ষা করতাম। আমরা সেগুলো দিয়ে মোটামুটি ঈদের কয়েকদিন পর্যন্ত খেলাধুলা করতাম। বেশ দারুন ছিল ছোটবেলার সেই ঈদের দিনগুলো। আজও মনে পড়লে তা বেশ মিস করি। ঈদ মূলত ছোটদের জন্যই। ঈদের আনন্দ তারাই সবচেয়ে বেশি উপভোগ করতে পারে।
পাঠক, এই ছিল ঈদ উপলক্ষে আমার স্মৃতিচারণা। আশা করি সবার ঈদের দিন বেশ ভালো কেটেছে, দারুনভাবে উপভোগ করেছেন পরিবারের সাথে অথবা যে যেভাবে ঈদ পালন করেছেন। সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা রইল।
god bless you
Task:
No Tweet From Puss and Pussfi Today. Day-Off for us too.
Thank you for sharing on steem! I'm witness fuli, and I've given you a free upvote. If you'd like to support me, please consider voting at https://steemitwallet.com/~witnesses 🌟
ছোটবেলার ঈদকে ঘিরে চমৎকার লিখেছেন ভাইয়া। আমাদের জীবনের শৈশব হলো সব থেকে মধুর সময়। শৈশব কে আমরা সব সময় বড্ড বেশি মিস করি। ছোটবেলায় যে কোন আনন্দ উৎসব আমরা খুব উপভোগ করতাম। বড় হওয়ার পর সেগুলো আর হয়ে ওঠে না। ছোটবেলায় ঈদে কত কিছু করতেন আপনার পোস্ট পড়ে জানতে পারলাম। অনেক ভালো লাগলো আপনার পোস্ট পড়ে। দিনগুলো শুধুই এক টুকরো স্মৃতি।
ধন্যবাদ আপু আপনার সুন্দর মন্তব্যের জন্য।