বন্ধুর সাথে বৈচিত্র্যময় গ্রামীণ মেলা ভ্রমণ(শেষ পর্ব)। ১০% প্রিয় লাজুক খ্যাঁক এর জন্য।
গত পর্বে আমি আপনাদের সাথে আমার বন্ধুর সাথে একটি গ্রামীণ মেলা ভ্রমণের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছি। আজ সেই ভ্রমণের আরো কিছু ছবি এবং অভিজ্ঞতা আপনাদের সাথে ভাগ করে নেব। আসলে গ্রামীণ মেলা গুলো হচ্ছে প্রত্যেকটি বাঙালির জীবনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত একটি বিষয়। একসময় বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রামে কোনো না কোনো সময় বিভিন্ন রকমের মেলা অনুষ্ঠিত হতো। এমনকি মফস্বল শহরগুলোতে এই মেলার প্রচলন ছিল। কিন্তু কালের বিবর্তনে এখন বাঙালির প্রিয় এই মেলা হারিয়ে যেতে বসেছে।
আমাদের শহরে একসময় অনেক বড় একটা মেলা হতো একমাসব্যাপী। পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের বাড়ির পাশেই মেলাটি অনুষ্ঠিত হতো। মেলাটির নাম ছিল জসিম মেলা। এই মেলার জন্য আমাদের শহরের প্রতিটি মানুষ সারা বছর অপেক্ষা করে থাকতো। বিগত কয়েক বছর ধরে এই মেলাটি বন্ধ আছে বিভিন্ন কারণে। এভাবেই দেশের বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী মেলা হারিয়ে গিয়েছে। মেলায় গেলেই শৈশবের স্মৃতি গুলো মনে পড়ে যায়। ছোটবেলায় মেলায় যাওয়া মানেই ছিল চরম উত্তেজনাকর একটি মুহূর্ত। অনেক আগে থেকেই পরিকল্পনা করে রাখতাম মেলায় যাওয়ার। সে উপলক্ষে টাকা পয়সা জোগাড় করা, বন্ধুদের সাথে পরিকল্পনা করা বিভিন্ন রকম ব্যাপার জড়িত ছিল। আজ আর যদিও সেই উত্তেজনা নেই। তারপরেও এখনো মেলায় গেলে অনেক ভালো লাগে। তো চলুন আর কথা না বাড়িয়ে শুরু করি আজকের মেলার অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেয়া।
হাতে তৈরি বিভিন্ন রকম কাঠের জিনিস। এই জিনিসগুলো বাংলাদেশের মেলার অন্যতম পরিচিত একটি বিষয়। আমরা ছোটবেলা থেকেই মেলায় এই ধরনের জিনিসপত্র দেখে আসছি। মূলত বাড়ির মহিলারা জিনিসপত্রগুলির ক্রেতা। এই সমস্ত দোকানে যে জিনিস গুলো পাওয়া যায় সেগুলো মূলত রান্নাবান্নার কাজে বেশি ব্যবহৃত হয়।
এই দোকানে লোহার তৈরি বিভিন্ন রকম সামগ্রী পাওয়া যায়। যেগুলো আমাদের দৈনন্দিন জীবনে কাজে লাগে। যেমন দা, বটি, ছুরি আরো বিভিন্ন রকমের জিনিস। এগুলো সাধারণত স্থানীয় কামারেরা তৈরি করে থাকে।
কাঠের তৈরি কিছু হস্তশিল্পজাত পণ্য। এই দোকানের জিনিসপত্রগুলো সাধারণত ঘর সাজানোর কাজে ব্যবহৃত হয়। আবার রান্নাঘরে ব্যবহারের কিছু জিনিসপত্র এখানে পাওয়া যায়। একটা সময় কাঠের ফুলদানি, চুড়ি রাখার স্ট্যান্ড আরও বিভিন্ন রকম জিনিস প্রায় প্রতিটি বাড়িতে দেখা যেত। এখন আর এগুলোর খুব একটা চল নেই।
গ্রামীণ মেলার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ এই মাটির তৈরি বিভিন্ন রকমের খেলনা। একটা সময় বাচ্চাদের মেলার মূল আকর্ষণ ছিল এই মাটির তৈরি খেলনা গুলি। যদিও এখন সেই স্থানটি দখল করে নিয়েছে সস্তা চাইনিজ খেলনা। তাই এখন আর এগুলোর খুব একটা কদর নেই। একসময় বাচ্চারা যখন মেলায় আসতো তখন সবার হাতেই কোন না কোন এই ধরনের একটি খেলনা থাকতো। এখন আর তেমন দেখা যায় না।
এটি আরেকটি বিভিন্ন রকম ব্যবহার্য সামগ্রীর দোকান। এই দোকানের সমস্ত কিছুই কাঠ অথবা লোহা দিয়ে তৈরি। এখনো এসব পণ্যের বেচাকেনা খুব একটা খারাপ না।
এই ব্যাপারটি গ্রামীণ মেলার একদমই নতুন সংযোজন। আগে এই ধরণের ব্যাপার আমরা চিন্তাও করতে পারতাম না। এটি হচ্ছে মোবাইল কোম্পানির সিম কার্ড বিক্রি করার একটি স্টল। এখন সমস্ত রকম মেলায় মোবাইল কোম্পানিগুলোর বিভিন্ন রকম কার্যক্রম লক্ষ্য করা যায়। এই মেলা থেকে আপনি খুব সহজেই অল্প দামে সিম কার্ড কিনতে পারবেন।
এটি একটি চা এর দোকান। এই দোকান বাংলাদেশের সমস্ত জায়গায় আপনি দেখতে পাবেন। মেলা হোক অথবা হাট বাজার যেকোনো জায়গায় বাঙালিরা চা না হলে যেন চলেই না।
গ্রামীণ মেলার আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে এই স্টলটি। আমরা ছোটবেলা থেকেই এই ধরনের স্টল প্রতিটি মেলায় দেখে আসছি। এখানে আপনি এয়ারগান দিয়ে গুলি করে বেলুন গুলি ফাটাতে পারবেন। এটা একটি খুবই মজার খেলা। আমরা যখন খুব ছোট ছিলাম তখন তো এই খেলায় অংশগ্রহণ করতে পারতাম না।তবে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখতাম। একটু বড় হওয়ার পর মেলায় গেলে এই খেলায় অংশগ্রহণ করার চেষ্টা করতাম। যদিও আমার হাতের নিশানা ছিল খুবই খারাপ।
এটি একটি কাঠের আসবাবপত্রের দোকান। গ্রামীণ মেলায় আগে এই ধরনের দোকান খুব একটা দেখা যেত না। এখন অবশ্য সব মেলায়ই এ ধরনের আসবাবপত্রের দোকান দেখা যায়।
এটি বাচ্চাদের খেলনার দোকান। এখানে দেশি প্রযুক্তিতে তৈরি বিভিন্ন রকমের খেলনা পাওয়া যায়। বাচ্চারা এই ধরনের খেলনা খুবই পছন্দ করে।
আজকের মতো এখানেই শেষ করছি।
পরবর্তীতে আপনাদের সাথে দেখা হবে অন্য কোন নতুন লেখা নিয়ে। সে পর্যন্ত সবাই ভাল থাকুন সুস্থ থাকুন।
| ফটোগ্রাফির জন্য ব্যবহৃত যন্ত্র | হুয়াই নোভা ২আই |
|---|---|
| ফটোগ্রাফার | @rupok |
| স্থান | লিংক |
Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
🇧🇩🇧🇩ধন্যবাদ🇧🇩🇧🇩
আমি রূপক। আমি একজন বাংলাদেশী। আমি বাঙালি। আমি বাংলায় মনের ভাব প্রকাশ করতে ভালোবাসি। আমি আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটিকেও ভালোবাসি।
গ্রামের মেলায় যাওয়া হয় না অনেকদিন। গিয়েছি কবে তা ও আমার মনে নেই। আমার কাছে খুব ভালো লাগে এই গ্রামের মেলা গুলো। তবে অনেকদিন পরে দেখে খুব ভালো লাগলো।
মেলা,,,, নামটা শুনতেই যেন একটা ভালো লাগা কাজ করে। ছোট বেলায় অনেক কিছু কিনতে যেতাম এই মেলা থেকে, অনেক আনন্দ লাগতো। তবে এখন আর তেমন ভালো লাগেনা। আগের মতো ভালো লাগা কাজ করেনা। তবে ভাইয়া আপনার প্রতিটি ছবি দেখে অনেক এনজয় করলাম। অনেক ভালো লাগলো।
ভাইয়া গ্রামীণ মেলার শেষ পর্ব নিয়ে লেখা আপনার পোষ্টটি পড়ে খুবই ভালো লেগেছে আমার। মেলার বিভিন্ন ধরনের ফটোগ্রাফি গুলো খুবই সুন্দর হয়েছে। বিশেষ করে হস্তশিল্পজাত কাঠের তৈরি জিনিস গুলো আমার কাছে অনেক অনেক ভালো লেগেছে। ধন্যবাদ ভাইয়া সুন্দর একটি পোষ্ট উপহার দেওয়ার জন্য।
গ্রামের মেলা আমার খুবই ভালো লাগে।জসিম মেলা বেশ জমজমাট মনে হচ্ছে।তাছাড়া কাঠের আসবাবপত্র ,খেলনাগুলি অসম্ভব সুন্দর।দেখেই মনে হচ্ছিল কিছু কিনে নিয়ে আসি।যাইহোক এখন মেলা ও বিলুপ্তির পথে।ধন্যবাদ ভাইয়া।
বাহ, একটি আকর্ষণীয় পোস্ট যা আমার জ্ঞান যোগ করে, শেয়ার করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ