বাসাইলে সপ্তাহে ১০ লাখ টাকার মধু সংগ্রহ! উৎপাদনে ব্যস্ত চাষিরা

in #dlive8 years ago

tangailtimes-28-1-18-6-2_jpg.jpg

টাঙ্গাইল বাসাইলে উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলের দিগন্ত বিস্তৃত মাঠ হলুদের সমারোহে ভরে গেছে। এসময় ব্যস্ত হয়ে পড়েছে মৌচাষিরা। সরিষা ক্ষেতে কাঠের বাক্সে মৌমাছি পালন করে মধু উৎপাদন ক্রমেই বেড়ে চলেছে। আর এই মধু দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানসহ ভারত, মালেশিয়া, কুয়েতসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করে মৌ চাষিরা প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে।

tangailtimes-28-1-18-6_jpg.jpg

বেকার যুবকরা এখন নিজের অর্থ উদ্ভাবনী চিন্তা ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে বিনিয়োগ করেছে সরিষা ক্ষেতে মৌমাছি পালন ও মধু উৎপাদন খাতে। ৬টি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ মাঠ ভর্তি সরিষা ফুল। মৌমাছি ফুলে ফুলে করছে পরাগায়ন। সরিষা ক্ষেতের পাশে মৌমাছি পালনের কারণে ক্ষেতে কোনো কীটনাশক ব্যবহার করা লাগে না। এছাড়া সরিষা ফসলের ক্ষেতের পাশে মৌ চাষ করলে কোনো বাধা ছাড়াই ফুলের পরাগায়ন সম্ভব হয়। ফসল তুলনা মূলক বেশি হয়। এছাড়া ক্ষেতের পাশে বাক্সে মৌমাছি পালন করে মধু উৎপাদন ও হচ্ছে নির্বিঘ্নে। প্রতি বছর শীতের এই মৌসুমে মৌমাছির শত শত বাক্স নিয়ে হাজির হয় মৌয়ালরা।

tangailtimes-28-1-18-6-1_jpg.jpg

ওই সব বাক্স থেকে হাজার হাজার মৌমাছি উড়ে গিয়ে মধু সংগ্রহে ঘুরে বেড়াচ্ছে সরিষা ফুলের মাঠে। যুবক-যুবতি, শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে প্রকৃতিপ্রেমী সকল শ্রেণির মানুষ এই অপরূপ দৃশ্য দেখে মুগ্ধ হচ্ছে।সরজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার মাঠে মাঠে এখন সরিষার হলুদ ফুলের অপরূপ দৃশ্য। হলুদে হলুদে ছেয়ে গেছে পুরো মাঠ। সরিষা ফুলের মধু সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন মধু আহরণ কারীরা।বাসাইলে ৬টি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের সরিষা খেতে বাক্স ভর্তি মৌমাছি দিয়ে মধু সংগ্রহে আসা গাজিপুর থেকে আসা মৗ-চাষি ুগয়াস উদ্দিন বলেন, আমি ৭০টি বাক্স বসিয়েছি। আমার এক সপ্তাহে ৭ মণ মধু উৎপাদন হয়েছে।

টাঙ্গাইলের ভূয়াপুর থেকে আসা মৌ-চাষি ঝুমুর আলী বলেন, তার খামারে ৭৫টি বাক্স বসানো হয়েছে।৭৫টি বাক্স থেকে প্রায় ১২ মণ মধু উৎপাদন হয়েছে। প্রতি কেজি মধু পাইকারী দরে আড়াইশ টাকা করে বিক্রি করা যয়। প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও পোষা মৌমাছি নিয়ে মধু সংগ্রহের জন্য বাসাইলে এসেছি। বাসাইল থেকে মধু সংগ্রহ শেষ করে মাদারীপুরে ও গোপালগঞ্জ ধনিয়া ক্ষেতে মৌ-চাষ শেষে সুন্দরবনে যাবো। তবে সারা বছর দেশের বিভিন্ন স্থানে তারা পর্যায়ক্রমে মৌচাষ করেন।

উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুল্লাহ আল ফারুক জানান, গত দুই সপ্তাহে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে প্রায় এক হাজার বাক্স বসিয়ে প্রায় দুইশ’ মণ মধু উৎপাদন করেছে মৌ-চাষিরা। এতে প্রতি কেজি মধু বিক্রি করছে আড়াইশ টাকা করে। দুইশ’ মণ মধুর মূল্য প্রায় ২০ লাখ টাকা বিক্রি করেছে মৌ-চাষিরা। বাসাইল থেকে মৌ-চাষিদের এক মাসে প্রায় ৫শ’ মণ মধু সংগ্রহের সম্ভাবনা রয়েছে। মৌ-চাষ করলে যেমন একদিকে চাষিরা লাভবান হচ্ছে।অন্যদিকে মৌ-মাছি সরিষার পরাগায়ণে পরোক্ষভাবে সহায়তা করে। মৌ-মাছির মাধ্যমে সরিষার ফলনও প্রায় ২০% বেড়ে যায়।

টাঙ্গাইলটাইমস

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.33
JST 0.080
BTC 62544.99
ETH 1664.38
USDT 1.00
SBD 0.42