আমার বাংলা ব্লগ। ঢাকার বুকে চির সবুজের গল্প। ১০% পে-আউট লাজুক খ্যাক এর জন্য।
চলুন যাওয়া যাক মূল পর্বে।
ঢাকার বুকে চির সবুজের গল্প।
বন্ধুরা নিশ্চয়ই ভাবছেন ঢাকার বুকে চির সবুজের গল্প মানে কি। তাহলে তো আপনাদেরকে বিষয়টা খুলে বলতে হয়। দিনটি এটি ছিল শুক্রবার, দীর্ঘ এক মাস রমজান মাস কাটিয়ে ঈদের ছুটিতে বাড়িতে গিয়ে এক সপ্তাহ ছুটি করে আসলাম এরপর এক সপ্তাহ অফিস বাসা এভাবে পার করছি সময়। সময় এসে গেলো, বাঁচতে হলে খেতে হবে, খেতে হলে বাজার করতে হবে। শুক্রবারে ডিউটি থেকে সকাল সাতটা নাগাদ বের হলাম, হেলেদুলে কিছু একটা ভাবতে-ভাবতে বাজারের উদ্দেশ্যে যাচ্ছি। তখন শ্যামপুরের কাঁচাবাজারের সাথেই হচ্ছে বিআইডব্লিউটিএ ইকোপার্ক। ইকোপার্ক এর অনেক ফটোগ্রাফি দেখেছেন আমার পুরোনো ফটোগ্রাফি থেকে। ভাবলাম সকালবেলা যখন এসেছি একটু পার্কের ভিতর ঘুরে যাই।
আসলে সত্যি কথা বলতে ইট বালুর ঢাকা শহরে সবুজের দেখা পাওয়াটা অনেকটা হাতে চাঁদ পাওয়ার মতো। দীর্ঘদিন পার্কের না আসায় আমি এতটাই আশ্চর্য হয়ে গেছি যা বলার বাহিরে। কারণ ঈদের ছুটিতে বাড়িতে গিয়ে সবুজের সমাহার এ হারিয়ে গিয়েছিলাম। মনে হয় যেন কেউ আমাকে জোর করে আবার শহরে টেনে নিয়ে আসছে। বাড়ি থেকে আসতে মন চাইছিল না। বাড়ি থেকে আসার পর এরকম একটা পরিবেশ দেখলে কার না অবাক লাগে। ঢাকা শহরে আমাদের ভাই বন্ধু এবং কি অনেক মানুষ আছে যে সাপতা গেলেও মনে হয় যে সূর্য দেখে না। আর যারা ঢাকার আশেপাশে আছে তারা হয়তো কিছুটা উপভোগ করতে পারে।
বিআইডব্লিটিএ ইকোপার্ক এর মেনগেট। প্রবেশ করার আগেই একটা ছবি তুলে নিলাম। গেটের ভিতরে ঢুকেই চোখ মনে হয় যেন আমার কপালে উঠে গেল। শিশু পার্কে শিশু পার্কের মতো লাগছে না। মনে হচ্ছে যেন আমি বান্দারবানের কোন জায়গায় ঘুরতে এসেছি। আসলে বিষয়টা তেমনই, কারণ এই বৈশাখে কয়েক দিনের বৃষ্টিতে গাছগুলো ধুলোবালু পরিষ্কার হয় একেবারেই সতেজতায় ভরে গেছে। এবং কি নতুন পাতায় ভরে গেছে, মনে হচ্ছে যেন একটা পাহাড়ের মতো দেখতে সবুজ আর সবুজ যেদিকে তাকাই শুধু সবুজের সমাহার।
যতই দেখছি মুগ্ধ হচ্ছি, কিন্তু বলার মত আশেপাশে কেউ নেই। তবে যারা আছে কেউ ব্যয়াম করছে কেউ তার নিজের মত হেঁটে বেড়াচ্ছে আবার কেউবা বসে বসে বুড়িগঙ্গা নদীর পরিবেশ উপভোগ করছে। কয়েক দিন আগেও বুড়িগঙ্গার পানি এতটাই দুর্গন্ধযুক্ত ছিল যা না দেখলে বিশ্বাস করার মতো নয়। তবে একটু বৃষ্টির পানি পড়তেই পানি অনেকটা পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে, দূর্গন্দ অনেকটা কমে গেছে।
কিন্তু আমার নজরে সেদিকে নেই, আমার নজর শুধু পুরোটা পার্কের সবুজতা মাঝে। আমি এতটাই মুগ্ধ হয়েছি যা আমি আপনাদেরকে বলে বোঝাতে পারব না। তাই অনেক গুলো ছবি তুলেছিলাম, শুধু আমার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করার জন্য।
গত রমজান মাসে গাছগুলো একবারে লালচে একটা ভাব ছিল। এবং গাছে তেমন একটা পাতা ছিলনা। গাছ গুলো দেখতে অনেকটা মনে হয়েছে যে শুকনো ঝোপঝাড়ের মত লেগেছিল। কিন্তু তখনকার পরিবেশ আর আজকের পরিবেশ আকাশ-পাতাল ডিফারেন্স।
ছবি তুলতে তুলতে হঠাৎ একটা গাছের নিচে গিয়ে দাঁড়ালাম। কিন্তু ফুলের সৌরভ কোথায় থেকে আসছে সেটাই খুঁজে বেড়াচ্ছি কিন্তু কোথাও তেমন কোন আকর্ষণীয় ফুল দেখতে পাচ্ছি না। হঠাৎ দেখলাম পায়ের নিচে ছোট ছোট কিছু ফুল হয়ে আছে। ভাল করে খেয়াল করে দেখি সবচেয়ে প্রিয় বকুল ফুল। বকুল ফুল ঝরে পড়ে আছে গাছেও এতটাই ফুল ধরেছে যা অকল্পনীয়, তখন ছবি তুলতে আর দেরী করলাম না।
যেদিকেই তাকাই শুধু সবুজ আর সবুজ মনে হয় যেন অক্সিজেনের গোডাউনে এসে পড়েছি। খুবই ভালো লাগছে হাঁটছি আর ছবি তুলছি। এরকম একটা অসাধারণ মুহূর্ত এবং সুন্দর সকাল মনে হয় অনেকদিন পর উপভোগ করছি।
পার্কের ভিতর যদি হঠাৎ দেখেন মোটামুটি বড়োসড়ো একটা আম গাছ দাঁড়িয়ে আছে, পাতাগুলো খুবই সুন্দর তেলতেলে একটি ভাব তখন কার না নজর কাঁড়বে ছবি তুলে ফেললাম।
পার্কের অন্য একটা গলিতে গিয়েও দেখি একই অবস্থা। সামনে যতদূর চোখ যায় শুধু সবুজ আর সবুজ । সবুজের সমাহার দেখে নিজের মনে অনেকটা সান্তনার স্বস্তি ফিরে এসেছে। আমার আনমনে ভাবটা চলে গিয়েছে এবং মেজাজটা অনেকটা ফুরফুরে হয়ে গেছে।
আমার করা মাসখানেক আগে একটা পোস্টে এই গাছটির একটা ফটোগ্রাফি আছে। গাছের শুধু কান্ড গুলো দেখা গিয়েছে একটি পাতাও ছিল না। আজ সেই গাছে ফল এসেছে এবং পাতাও ভরপুর। আর এটি হচ্ছে একটা আমড়া গাছ। গাছটিকে দেখে অনেক কিছুই ভাবছিলাম। আসলে পৃথিবীতে যা কিছু আছে সব কিছুই পরিবর্তন শিল,আর এইটা হচ্ছে সৃষ্টিকর্তার লীলা খেলা।
পার্কের ভিতরে যদি একটা বট বৃক্ষ দেখেন তাহলে সে জিনিসটা আরো একটু বেশি ভাবায়, ভাবতে ভাবতেই ছবি তোলা। মোটামুটি বড় বটগাছটি, বটগাছে বিভিন্ন ধরনের পাখি আসছে ভোটের ফল খাচ্ছে এবং কিচির মিচির ডাকছে। নিচে দাঁড়িয়ে ছিলাম অনেকক্ষণ কিছু পাখি উড়ে আসছে কিছু যাচ্ছে দেখতে বেশ ভালোই লাগছে, একটা ছবি তুলে নিলাম।
বন্ধুরা কেমন লেগেছে ঢাকার বুকে চির সবুজের গল্প। আশা করি সকলের কাছেই ভালো লাগবে। ভাল মন্দ কমেন্টে জানাবেন। সাপোর্ট দিয়ে পাশে থাকবেন। আজকের মত বিদায় নিচ্ছি। সবাই ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন। আবারো ফিরে আসবো নতুন কিছু নিয়ে।
আল্লাহ হাফেজ।
সত্যিই আপনা একেবারে মনের কথা বলেছেন। ঢাকা শহরের সবুজের দেখা পাওয়া যেন চাঁদ হাতে পাওয়ার মত একটা ব্যাপার। ঢাকা শহরে ইট পাথরের ভিড়ে কনক্রিটের শহর হয়ে গেছে এখানে প্রাকৃতিক ছোঁয়া নেই বললেই চলে। আপনি শুক্রবার ছুটির দিন ঘুরতে গিয়ে বেশ উপভোগ করেছেন তিনটি তা আপনার ছবিগুলো দেখে বোঝা যাচ্ছে। ধন্যবাদ আপনাকে এত সুন্দর একটি পোস্ট আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য।
ভাই আপনি খুব সুন্দর মন্তব্য করেছেন। তবে শুক্রবার আমার ছুটির দিন ছিল না। আমি ডিউটি রত অবস্থা থেকেই গিয়েছিলাম। সুন্দর গঠনমূলক মন্তব্য করার জন্য শুভেচ্ছা রইল।
ঢাকার ভিতরে সবুজের ছোঁয়া পাওয়া সত্যিই অবিশ্বাস্য ব্যাপার। কিন্তু অবিশ্বাস্য হলেও সত্য আপনি যে ইকোপার্কে গিয়েছেন এবং সেখানকার ফটোগ্রাফি গুলো আমাদের মাঝে উপস্থাপন করেছেন তা সত্যিই অনেক অনেক মনমুগ্ধকর পরিবেশ দেখেই বুঝতে পারছি। এত সুন্দর একটি পরিবেশে ঢাকার বুকে চির সবুজের গল্প আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ।
সুন্দর গঠনমূলক মন্তব্য করার জন্য আপনার প্রতি রইল আন্তরিক অভিনন্দন।
ভাইয়া আপনি দয়া করে একটা কমেন্ট ডিলিট করে দেন। আপনি এক কমেন্ট দুইবার করে ফেলেছেন।
ঢাকার ভিতরে সবুজের ছোঁয়া পাওয়া সত্যিই অবিশ্বাস্য ব্যাপার। কিন্তু অবিশ্বাস্য হলেও সত্য আপনি যে বিআইডব্লিউটিএ ইকোপার্কে গিয়েছেন এবং সেখানকার ফটোগ্রাফি গুলো আমাদের মাঝে উপস্থাপন করেছেন তা সত্যিই অনেক অনেক মনমুগ্ধকর পরিবেশ দেখেই বুঝতে পারছি। এত সুন্দর একটি পরিবেশে ঢাকার বুকে চির সবুজের গল্প আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ।
ঢাকা শহরে সবুজ দিনে দিনে দুর্লভ হয়ে উঠছে। সেখানে দারুন একটি জায়গার সন্ধান দিলেন আপনি। আশা করি সময় পেলে কোন দিন ঘুরে আসবো এখান থেকে। ধন্যবাদ আপনার সুন্দর পোষ্টের জন্য।
অবশ্যই আসবেন কেন নয়। সুন্দর গঠনমূলক মন্তব্য করে সাথে থাকার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।
তবে ভাই যায় বলেন না কেন ঢাকা শহরে কিন্তু এখন অনেক গাছ , আগে সে রকম গাছ ছিল না । কিছুদিন আগেও আমি ঢাকা গিয়েছিলাম আপুর বাসায় বেড়াতে তখন দেখেছি অনেক গাছ হয়েছে চারপাশে । আর ভাই এই ইকো পার্ক টা যাত্রা বাড়ির কোন পাশে পড়ল ?
একেবারে মিথ্যে বলেনি এখন কিছুটা গাছপালা দেখতে পাওয়া যায়। যাত্রাবাড়ী থেকে ১০ টাকার ভাড়া। যাত্রাবাড়ী থেকে নারায়ণগঞ্জের হাইওয়ে রোডের পাশে।
আপনার শখের ফটোগ্রাফি করতে গিয়ে ঢাকার বুকে চির সবুজের গল্প আবিষ্কার চমৎকারভাবে করেছেন। আর ফটোগ্রাফি গুলো খুব সুন্দর হয়েছে। আপনার জন্য শুভকামনা রইল।
গঠনমূলক মন্তব্য করে উৎসাহ দেওয়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।
বিআইডব্লিটিএ ইকোপার্কে আমি গিয়েছিলাম। অসাধারণ একটি পরিবেশ। পরিবার নিয়ে ঘুরতে যাওয়ার মতো সুন্দর একটি জায়গা। আপনার পোস্ট পড়ে খুব ভালো লাগলো ভাই। আপনার জন্য রইলো অনেক অনেক শুভকামনা।
আপনি আমার এত কাছে এসেছেন। আরেকবার আসেন ঘুরে যান। দুই বন্ধু মিলে গল্প করবো ঘুরে বেড়াবো ইচ্ছেমতো খাব। সুন্দর মন্তব্য প্রকাশ করে উৎসাহ দেওয়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।
ভাই আপনি একদম ঠিক বলেছেন ঢাকা শহরে সবুজের দেখা পাওয়া আসলে খুবই কষ্টকর। তবে এভাবে কিছু পার্ক রয়েছে যেখানে গেলে কিন্তু আসলে ভালই লাগে। আপনি ইকোপার্কে ভালো সময় কাটিয়েছেন আরে জায়গাটা আসলেই সুন্দর সবুজ আর সবুজ দেখতে বেশ ভালো লাগছে।
গঠনমূলক মন্তব্য করে উৎসাহ দিয়ে সাথে থাকার জন্য আপনার প্রতি রইল আন্তরিক অভিনন্দন।
পার্টি দেখে মনে হচ্ছে সবুজ প্রকৃতিতে পূর্ণতা পেয়েছে। আসলে পার্কের মধ্যে এমন সবুজ প্রকৃতির দেখা দুষ্কর। আপনার ইকো পার্কে ঘোরাঘুরি গল্পটা পড়ে বেশ ভালো লাগলো ।
শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।
ভাই আপনি খুব সুন্দর মন্তব্য করেছেন এবং অনেক উৎসাহ দিয়েছেন। আর আপনি ঠিকই বলেছেন এরকম সবুজে ঘেরা পার্ক পাওয়া খুব দুষ্কর।
তবে আপনার কমেন্ট এর প্রথম শব্দ টা ভুল আছে, ভাই হিসেবে বললাম একটু সংশোধন করে নিবেন।
এত সুন্দর উৎসাহ দিয়ে সাথে থাকার জন্য শুভেচ্ছা রইল।
জটিল এই শিরোনাম আপনাকে পাঠকের দরবারে সহজে পৌঁছে দিতে পারবে বলে আমার ধারণা। পাথরের মাঝে সবুজের হাতছানি তার সুন্দর সুন্দর ছবি এনে আমাদের মনটা ভরিয়ে দিলেন। আপনার প্রচেষ্টার প্রশংসা করতে হয়।
আপনি খুব অসাধারণ মন্তব্য করেন যা সত্যিই মনে আনন্দের দোলা দিয়ে থাকে। শুভেচ্ছা রইল আপনার জন্য।